× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সম্পাদকের ডেস্ক থেকে

‘টিম তারেক’ এবং সময়ের দাবি

মারুফ কামাল খান

প্রকাশ : ৬০ মিনিট আগে

মারুফ কামাল খান। ফাইল ছবি

মারুফ কামাল খান। ফাইল ছবি

ফিলহাল ভাবছিলাম, ‘টিম তারেক’ নিয়ে কিছু লিখব, লেখা দরকার। লিখতে বসেই মনে পড়ে গেল একটা ঘটনা। সেটা ২০১৪ সালের জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহ। বেগম খালেদা জিয়া সৌদি বাদশাহর বিশেষ আমন্ত্রণে রাজকীয় মেহমান হিসেবে গিয়েছিলেন ওমরাহ পালন করতে। লন্ডনপ্রবাসী তারেক রহমানও তার স্ত্রী-কন্যাসহ সৌদি আরবে এসেছিলেন রয়্যাল গেস্ট হয়ে ম্যাডামের অনটুরাজ মেম্বার হিসেবে। সেটা ছিল দীর্ঘ প্রায় ৬ বছর পর মা-ছেলের প্রথম দেখা।

২০০৭ সালে ফখরুদ্দিন-মঈনুদ্দিনের জরুরি সরকার তারেক রহমানকে গ্রেপ্তার করে। বন্দি অবস্থায় কাস্টোডিয়াল টর্চারে তিনি পঙ্গু হয়ে যান। ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে আদালত থেকে জামিন পেলে উন্নত চিকিৎসার জন্য স্ত্রী ও কন্যাকে নিয়ে লন্ডনে যান তিনি। এরপর ওমরাহ পালন উপলক্ষে মা-ছেলের ওই দেখা। সফরটি সঙ্গত কারণেই পরিবারটির জন্য ছিল প্রবল আবেগ-সঞ্জাত উপলক্ষ। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের পাশাপাশি তারেক রহমান, তার পত্নী ডা. জুবাইদা রহমান এবং তাদের একমাত্র সন্তান জাইমা রহমান কয়েক দিন ধরে বেগম খালেদা জিয়ার নিবিড় সান্নিধ্যে কাটান। এরপর আসে বিদায়ের পালা। তারেক রহমান তার স্ত্রী-কন্যা নিয়ে লন্ডনে ফেরেন। তার দুদিন বাদে ম্যাডাম জিয়াও দেশে ফিরে আসেন। আমার মনে পড়া ঘটনাটা সেই বিদায়লগ্নের।

আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটা বিশেষ গুণের কথা হয়তো অনেকের জানা নেই। তার সেন্স অব হিউমার বা রসবোধ প্রখর। তিনি হিউমার পছন্দ করেন। তারেক রহমানদের বিদায়ের সময় ম্যাডাম জিয়া সশরীরে নিচতলা পর্যন্ত নেমে গিয়ে পুত্র-পুত্রবধূ-নাতনিকে ‘সি-অফ’ করার প্রস্তুতি নিলেন। রয়্যাল প্যালেসের বিশাল লিফটে তাদের সঙ্গে আমিও উঠেছিলাম। লিফটের ভেতরে তারেক-পত্নী অশ্রুসজল চোখে তার শাশুড়িকে জড়িয়ে ধরে বিদায় নিচ্ছিলেন। এ সময় তারেক রহমান নিজের পকেট থেকে একটা টিস্যু পেপার বের করে স্ত্রীর দিকে বাড়িয়ে দিলেন। বললেন, ‘আহা বেচারি! টিস্যুটাও আনতে ভুলে গেছো।’ তারপর হাসিটা আরেকটু বিস্তৃত করে বললেন, ‘তুমি পারবে। তোমাকে দিয়ে হবে। শেখ হাসিনার মতো একদম পাক্কা অভিনয় শিখে গেছো।’

জুবাইদা রহমান লজ্জা পেলেন। ম্যাডাম ছেলেকে একটু ধমক দিয়ে বললেন : ‘যাহ্‌! সবকিছু নিয়েই ফাজলামো।’ বেদনাবিধুর ভারাক্রান্ত পরিবেশ নিমিষেই হালকা হয়ে গেল।

নিচতলায় বিদায় নেওয়ার সময় তারেক রহমান আমাকে উদ্দেশ করে বললেন, ‘খালি কাজ করলে হবে? নিজের দিকেও একটু নজর দেন। যেভাবে ওয়েট গেইন করছেন, ভুঁড়ি বাড়াচ্ছেন, তাতে তো ক’দিন পর অচল হয়ে যাবেন।’ এরপর ম্যাডামের দিকে চেয়ে বললেন, ‘আম্মু! তোমার টিমের চাইতে আমার টিম কিন্তু অনেক বেশি স্মার্ট।’ ম্যাডাম হেসে বললেন, ‘তাই নাকি? আমি তো সেটাই চাই। যত স্মার্ট অ্যান্ড এফিশিয়েন্ট টিম হবে, দ্রুত তত বেশি সাফল্য আসবে।’ ছেলে বললেন, ‘তুমি শুধু দোয়া কোরো আম্মু!’

আমি যে ঘটনাটির উল্লেখ করলাম, সেটার প্রথম পর্বে তারেক রহমান তার স্ত্রীর সঙ্গে হিউমার করলেও দ্বিতীয় পর্বে তার উচ্চারিত উক্তিটিকে আমার কাছে হিউমার মনে হয়নি। তিনি কথাটি তার অন্তর্গত বিশ্বাস থেকেই উচ্চারণ করেছেন। হি মিন্‌স ইট। তার সেদিনের ওই মন্তব্য থেকে আমার মধ্যে এই প্রতীতী জন্মেছে যে, তিনি যোগ্য-দক্ষ টিম গড়ার ব্যাপারটাকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেন এবং তার গড়া টিম অনেক সাফল্য বয়ে আনবে।

তারেক রহমানের বাবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মধ্যে এই কোয়ালিটি ছিল। তিনি ছিলেন কাজের লোক, উপযুক্ত লোক চিনতেন। দক্ষ জহুরির মতো বিভিন্ন সেক্টর থেকে খুঁজে খুঁজে বেছে বেছে তিনি যোগ্য-দক্ষ-মেধাবী মানুষ বের করে এনে নিজের দল ও সরকারকে এমনভাবে সাজিয়েছিলেন, যাকে লোকে বলত গ্যালাক্সি অব স্টার্‌স বা নক্ষত্রপুঞ্জ। তারাদের সেই মিলনমেলা সাজাবার ডিভিডেন্ট তিনি পেয়েছিলেন বিপুল সাফল্য অর্জনের মাধ্যমে। জিয়াউর রহমান যাদেরকে তার টিমে নিয়েছিলেন, তাদের কেউ কেউ ছিলেন তার বাবার বয়সী, কারও কারও দৈহিক সামর্থ্য সীমিত হয়ে পড়েছিল। মেধা ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগাবার উদ্দেশ্যেই তাদেরকে টিমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। বেগম খালেদা জিয়া তার স্বামীর অভিজ্ঞ সহকর্মীদের একটা অংশ পেয়েছিলেন। একই সঙ্গে আন্দোলনের পথ ধরে একদল তরুণ তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল। স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রাম ও ১৯৯১-৯৬ পর্বের সরকার পরিচালনায় ওই টিমকে সফল বলা চলে। তবে ২০০১ সালে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার পর দল ও সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে ম্যাডাম জিয়ার টিম তার আগের টিমের তুলনায় অনেক বেশি অযোগ্য ও ব্যর্থ প্রমাণিত হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, শেষের দিকে এই টিমের অনেকেই প্রকাশ্যে কিংবা গোপনে বিদ্রোহ ও বিশ্বাসঘাতকতা করেন। বিএনপির বিপর্যয়কালজুড়ে এই বিশ্বাসহন্তাদের সক্রিয়তা বহাল ছিল।

ম্যাডাম জিয়ার প্রয়াণের আগে থেকেই বিএনপিতে এবং এরপর সরকারেরও নেতৃত্বে প্রজন্মান্তর বা ‘জেনারেশন চেঞ্জ’ ঘটে গেছে। এখন দল-সরকারের শীর্ষনেতা তারেক রহমান। আমি মনে করি, টিম বাছাইয়ের ক্ষেত্রে যে পূর্ণ এখতিয়ার ও কর্তৃত্ব থাকা উচিত, তারেক রহমানের সেটা পুরোপুরি রয়েছে। কাজ করতে গিয়ে শীর্ষ নেতার বিন্দুমাত্র অস্বস্তি বোধ হয় এমন কাউকে টিমে রাখার প্রশ্ন ওঠে না। আমার নিজের ধারণা, তারুণ্যের প্রতি তারেক রহমানের বিশেষ পক্ষপাত আছে। টিমকে গতিসম্পন্ন ও দ্রুতিশীল করতে এই পক্ষপাতিত্ব সুবিধা এনে দেবে।

আমি ‘টিম তারেক’ বলতে বুঝি তার দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃত্বের বলয়, তার সরকারের ক্যাবিনেট, উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীবৃন্দ এবং প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয় ও তার নিজের ব্যক্তিগত স্টাফদের। এই নিয়োগগুলো বেশ আগেই হয়ে গেছে। তাদের পারফরম্যান্সে তারেক রহমান কতটা তুষ্ট, সেটা তিনিই জানেন। আর সময় বলে দেবে সাফল্য-ব্যর্থতার খতিয়ান। আমি টিম তারেকের সার্বিক সাফল্য কামনা করি।

বিশ্বের সব সফল নেতারই থাকে একটা দক্ষ টিম। এদের কেউ প্রকাশ্যে থাকেন। আবার অনেকে নেপথ্যে গ্রিনরুমে দায়িত্ব পালন করেন, কখনও মঞ্চে আবির্ভূত বা দৃশ্যমান হন না। এই ‘আনসাং হিরো’রা কম গুরুত্বপূর্ণ নন। আমরা আরেকটা বিষয় জানি যে, শীর্ষ নেতার ছবির দৃশ্যপট হচ্ছে খুব গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ভাষ্য বা পলিটিক্যাল স্টেটমেন্ট। নেতা কার কথায় চলেন, কার পরামর্শ নেন, নেতার কাছে কে গুরুত্বপূর্ণ সেটা আমজনতা ধরে নেয় নেতার ছবিতে কারা ফ্রেমবন্দি থাকেন, কাদেরকে ভিডিও ও স্থিরচিত্রে নেতার আশপাশে দেখা যায় তাদেরকে দেখে। দক্ষ ও যোগ্য লোক আশপাশে থাকলে মানুষ খুশি হয়, নেতার মর্যাদা বাড়ে। এর অন্যথা হলে অযোগ্য সহচরেরা নেতার সান্নিধ্যে ক্ষমতাশালী হয়, আর নেতার ভাবমর্যাদা নামতে থাকে নিচে। টিমের কেউ অনিয়ম, দুর্নীতি ও অসদাচরণে জড়ালে নেতাকেই দিন শেষে বইতে হয় তার দায়। বিপর্যয়কর অতীত থেকে তারেক রহমান সেই তিক্ত অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। সবদিক মিলিয়ে সতর্ক বিবেচনায় তিনি তার টিম নির্বাচন করেছেন এবং কোনো ক্ষেত্রে ভুলচুক হয়ে থাকলে তিনি তা অতি দ্রুত শুধরে নেবেন বলেই আমরা আশা করি। এক্ষেত্রে ‘ট্রায়াল অ্যান্ড এরর মেথড’ মেনে এগোনো ভালো। 

একটি সরকার সাজাতে দুই ধরনের লোকের কথা বিবেচনা করা হয়। এক. যাদের ত্যাগ, তিতিক্ষা, ভূমিকা ও অবদানে সরকারটি ক্ষমতাসীন হয়। এবং দুই. যাদের মেধা, যোগ্যতা, দক্ষতা, জ্ঞান, প্রজ্ঞা, দূরদর্শিতা ও কর্মক্ষমতা ছাড়া সরকার সঠিকভাবে চালানো সম্ভব নয়। 

তারেক রহমান তার টিম নির্বাচনে এই দুই শর্তের কথা নিশ্চয়ই বিবেচনায় রেখেছিলেন। কেননা তার ব্যর্থ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই এবং নেই কাউকেই কৃপা, করুণা ও আনুকূল্য বিতরণের অবকাশ। জাতীয় ইতিহাসের এই সন্ধিক্ষণে এটাই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয়তাবাদী দলের প্রধান তারেক রহমানের কাছে সময়ের দাবি।

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা