× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

গণতান্ত্রিক সরকারের আশু করণীয় ও জনপ্রত্যাশা

মো. শেখাবুর রহমান

প্রকাশ : ০১ মার্চ ২০২৬ ১৬:০৪ পিএম

মো. শেখাবুর রহমান।

মো. শেখাবুর রহমান।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ৩৬ দিনের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান হয় এবং শেখ হাসিনা দলবলসহ ভারতে পালিয়ে যায়। সফল জুলাই অভ্যুত্থানের পর নোবেল জয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে। নানা চড়াই-ওতরাই পেরিয়ে প্রায় দেড় বছর পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি প্রত্যাশিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। অতঃপর ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তারেক রহমান। জাতির বহুল কাঙ্ক্ষিত এই ঐতিহাসিক নির্বাচনের মাধ্যমে একটা নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়। আর এই নির্বাচিত সরকার দেশ পরিচালনার মাধ্যমে বাংলাদেশে গণতন্ত্র উত্তরণের প্রথম ধাপ অতিক্রান্ত হয়। কেননা প্রায় দীর্ঘ দুই দশক ধরে বাংলাদেশের মানুষ গণতান্ত্রিক শাসন ও সংস্কৃতি থেকে বঞ্চিত ছিল এবং এবারই সাধারণ মানুষ তাদের পছন্দের প্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ পেয়েছে। অনেকের মতে, এই নির্বাচন কেবলমাত্র সরকার পরিবর্তন নয়, বরং রাষ্ট্রের সিস্টেম ও কাঠামোর গুণগত পরিবর্তনের একটা গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। যা কিনা রাষ্ট্রের নিরপেক্ষতা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনয়নের পথকে আরো সুগম করবে। 

নতুন সরকারের পথচলা শুরু হয়েছে মাত্র কয়েকদিন। এই অল্প সময়ে প্রধানমন্ত্রী তার ব্যক্তিগত উদ্যোগে এমন কিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন যা সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে। তিনি সরকারি গাড়ির পরিবর্তে নিজের গাড়ি ব্যবহার করছেন। প্রটোকলে গাড়ির সংখ্যা কমিয়ে এনেছেন। চলাচলের সময় রাস্তায় এবং মোড়ে মোড়ে পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের দাঁড়িয়ে থাকার রেওয়াজ ভেঙে দিয়েছেন। গাড়িতে রাষ্ট্রীয় ও জাতীয় পতাকা ব্যবহার করছেন না। সরকারি জ্বালানি ব্যবহার করছেন না। তার নির্বাচনি মেনুফেস্টোতে উল্লিখিত ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, বৃক্ষরোপণ, খাল-নদী খনন কর্মসূচি সংক্রান্ত কাজ ইতোমধ্যে শুরু করেছেন। মন্ত্রী-এমপিদের সরকারি প্লট ও শুল্কবিহীন গাড়ি না নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও তার চমৎকার শুভসূচনা। প্রশাসনে কর্মচাঞ্চল্য ও গতি ফিরিয়ে আনার জন্য তিনি নিয়মিত সচিবালয়ে অফিস করছেন। একটা ন্যায়পরায়ণতা নীতি অনুসরণের চেষ্টা করছেন। আশা করি সফল হবেন তিনি। তারপরও কিছু কথা না বললেই নয়। আগামী দিনের রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য তাকে উপযুক্ত একটা টিম গঠন করতে হবে। নির্মোহ থেকে সৎ, যোগ্য, দক্ষ ও মেধা সম্পন্ন কয়েকজনকে বাছাই করে সেই টিম গঠন করা প্রয়োজন। যা তার বাবা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান করেছিলেন। রাষ্ট্রের সার্বিক উন্নয়নে এই টিমের ভূমিকা থাকবে অতুলনীয়। কেননা পূর্ববর্তী ফ্যাসিস্ট সরকারের ব্যাপক দুর্নীতির মাধ্যমে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার বা বাংলাদেশি মূদ্রায় ২৮ লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার, ২৩ লক্ষ ৮৫ হাজার কোটি টাকার ঋণের বোঝাসহ দুর্নীতির টুটি চেপে ধরা, ন্যায় ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা, মূল্যস্ফীতি রোধ, চাঁদাবাজি বন্ধ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, পরিবেশ দূষণ রোধ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের অব্যবস্থাপনা-অনিয়ম রোধসহ ব্যাপক বড় বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

বলা বাহুল্য, ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী স্বৈরশাসনের বিদায়ের দেড় বছর পরও প্রশাসনের শৃঙ্খলা ফিরে আসেনি। অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, ক্ষমতার অপব্যবহার, দায়িত্ব পালনে গাফিলতি যেন স্থায়ী সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। প্রশাসনকে একটি প্রমিত কাঠামোতে আনার পরিবর্তে উলটো প্রশাসনকে লন্ডভন্ড করা হয়েছে। আওয়ামী আমলের নষ্ট-ভ্রষ্ট হওয়া প্রশাসন বহাল থাকার কারণেই মূলত এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। গত দেড় বছরে প্রশাসনের বিভিন্ন ঘটনা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, নিয়োগ, পদোন্নতি, পদায়ন, অধ্যাদেশ প্রণয়ন, ভূতাপেক্ষ পদোন্নতিসহ নানা পদক্ষেপে বছর জুড়েই ছিল সমালোচনার ঝড়। এর মধ্যে জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগে ফ্যাসিবাদের দোসরদের পুনর্বাসন ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ ছিল। এ ব্যাপারে অভিযোগ উঠেছিল খোদ জনপ্রশাসন সচিব জনাব মোখলেসুর রহমানের বিরুদ্ধেও বিরুদ্ধেও। ২০২৪ এর ৫ আগস্টের পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রশাসনে স্থিতিশীলতা আসেনি। উপদেষ্টাদের ব্যাপক অনভিজ্ঞতা, অদক্ষতা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে দুর্বলতার কারণে সার্বিক প্রশাসনের এক ভঙ্গুর অবস্থার মধ্যে নিপতিত হয়েছে। তাছাড়া উপদেষ্টাদের মধ্যে অনেকেই দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছিল বলে শোনা যায় এবং যা ব্যাপকভাবে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। কেননা উপদেষ্টাদের দুর্নীতি নিছক কোন অপরাধ নয় বরং রক্তাক্ত ’৩৬ জুলাইয়ের সাথে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।

পক্ষান্তরে অন্তর্বর্তী সরকারের মদদে আওয়ামী আমলের সুবিধাভোগী, আস্থাভাজন কর্মকর্তারাই পুরো প্রশাসনের শীর্ষপদ দখল করে দেশ পরিচালনা করেছে ও করছে। প্রশাসন সংস্কারের নামে আন্তঃক্যাডার দ্বদ্ব, সরকারি চাকরি অধ্যাদেশ ও বিধিমালা প্রণয়নের ফলে কর্মচারীদের মনে ব্যাপক অসন্তুষ্টি, চারদিকে মব জাস্টিসের নামে অরাজকতা, চাঁদাবাজি, রাজনৈতিক কারণে হত্যা-খুন, সামাজিক অস্থিরতা, আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, ঢাকাসহ বড় বড় জেলা শহরগুলোতে মারাত্মক ট্রাফিক জ্যামসহ ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগীদের দ্রæত গ্রেপ্তার এবং বিচারের আওতায় না আনার ব্যর্থতার বিষয়গুলো প্রধান উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও তিনি কার্যকরী কোন পদক্ষেপ বা উদ্যোগ নিতে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছেন। 

এখন সময় এসেছে এই ব্যর্থতার গ্লানি মুছে দিয়ে আপনাকেই (প্রধানমন্ত্রী) সম্মুখপানে এগিয়ে যেতে হবে। জনগণ আপনাকে সেই ম্যান্ডেট দিয়েছে। ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ও বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের অগ্রযাত্রায় পুরো দেশবাসীসহ সমস্ত ক্যাডারের বঞ্চিত কর্মকর্তারাও আশায় বুক বেঁধেছেন যে, এবার নিশ্চয় তাদের বঞ্চনার অবসান ঘটবে। সরকারের সিভিল প্রশাসনের প্রত্যেকটি স্তর দুঃশাসন-দুর্বৃত্তায়নের করাল গ্রাস থেকে মুক্ত হবে। প্রশাসনে আওয়ামী দুর্বৃত্তায়নের সাথে জড়িত সমস্ত সুবিধাভোগীদের অপসারণ ঘটবে এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতামূলক প্রশাসনযন্ত্র গড়ে উঠবে।

আরও অবাক হওয়ার বিষয় যে, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা পালিয়ে গেলেও তার অনুগতরা এখনো নিয়ন্ত্রণ করছে দেশের আর্থিক খাত। এস আলম, সালমান এফ রহমানসহ মুষ্টিমেয় কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর হাতে আর্থিক খাতকে তুলে দিয়ে যারা দেশে ‘চোরতন্ত্র’ ও ‘লুটপাটতন্ত্র’ কায়েমে সহায়তা করেছিল, তারাই প্রশাসনসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে বহাল তবিয়তে রয়েছেন। ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পরও শেখ হাসিনার আস্থাভাজন, সুবিধাভোগী ও অনুগত ওইসব প্রভাবশালী আমলার ক্ষমতার প্রভাব মোটেও কমেনি। বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ ও পদোন্নতিতে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তারা এখনো বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার কিংবা গুরুত্বপূর্ণ পদে নিযুক্ত রয়েছেন। দ্রæত এগুলো অবসান করে সৎ, পরীক্ষিত ও পেশাদার লোকদের নিয়োগ প্রদান করা প্রয়োজন।

স্মর্তব্য যে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সহস্র শহিদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত এই নতুন বাংলাদেশে বৈষম্যহীন ও বঞ্চনামুক্ত দেশ গড়ার প্রত্যয়ে এবং জন আকাঙ্ক্ষা পুরণে রাষ্ট্রীয় সংস্কার কার্যক্রম, আইনের শাসন ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কাঠামো বির্নিমানের জন্য অচিরেই নিম্নলিখিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। 

১. ফ্যাসিস্ট আমলে গুম-খুনের সাথে সংশ্লিষ্টদের গ্রেপ্তার ও বিচার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখাসহ গুম-খুনের শিকার হওয়া পরিবারদের পুনর্বাসন করা। 

২. জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী নিহত ছাত্র-জনতাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি প্রদানসহ নিহত ও আহতদের পুনর্বাসন করা। 

৩. ফ্যাসিস্ট ও অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে দুর্নীতির মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠনে যারা জড়িত তাদের দ্রæত বিচারের আওতায় আনাসহ ‘ট্রুথ কমিশন’ গঠনকরে লুণ্ঠনকারীদের সম্পদ উদ্ধার করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করা। 

৪. ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪-এ অনুষ্ঠিত অবৈধ নির্বাচনে যারা সহযোগিতা করেছিল তাদের বিচারের আওতায় আনা 

৫. ২৭ তম বিসিএস থেকে ৪২ তম বিসিএস-এর বিষয়ে তদন্তের জন্য একটি তদন্ত কমিশন গঠন করা। (এই বিসিএস পরীক্ষাগুলোতে প্রশ্ন ফাঁসসহ ব্যাপক অনিয়মের কথা শোনা যায়) 

৬. আর্থিক ও ব্যাংকিংখাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য একটি তদন্ত কমিশন গঠন করে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনা।

৭.সামগ্রিক প্রশাসনের (সিভিল প্রশাসন, পুলিশ, সামরিক বাহিনী) পুর্নবিন্যাসের মাধ্যমে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা।

৮. সাংবিধানিক সংস্থাগুলো যেমন- দুর্নীতি দমন কমিশন, পাবলিক সার্ভিস কমিশন, নির্বাচন কমিশনসহ অন্যান্য কমিশনকে শক্তিশালী করাসহ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার জন্য পুর্নবিন্যাস করা।

৯. স্থানীয় প্রশাসন (ইউনিয়ন, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন) দ্রæত পুর্নবিন্যাস করার জন্য স্বচ্ছ নির্বাচনের মাধ্যমে এ সব প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতা জনপ্রতিনিধিদের হাতে হস্তান্তর করা এবং জবাবদিহিতার আওতায় আনা এবং বিশেষ করে ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনদ্বয়কে পরিবেশ দূষণমুক্ত করাসহ পরিচ্ছন্ন নগরী হিসেবে গড়ে তোলা। প্রয়োজনে নগর পরিচ্ছন্নের জন্য নগরকে কয়েকটি জোনে ভাগ করে পিপিআর অনুযায়ী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নের দায়িত্ব বেসরকারি খাতে হস্তান্তর করা।

১০. বিচার বিভাগের (উচ্চ আদালতসহ নিম্ন আদালত পর্যন্ত) দুষ্টু চক্র ভেঙে ও ব্যাপক পুর্নবিন্যাসের মাধ্যমে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠা করা। বিগত স্বৈরাচারী আমলে বিচার বিভাগে কর্মরত থেকে যারা দলদাস, আস্থাভাজন ও সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন তাদেরকে দ্রæত আইনের আওতায় আনা।

১১. বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি হয় বিভিন্ন পরিষেবা খাতে এবং জনগণকে দুর্ভোগ পোহাতে হয় এই খাতগুলোতে সেবা নিতে গিয়ে। যেমন ভূমি রেজিস্ট্রেশন, নামজারি, খাজনা পরিশোধ, আয়কর, আইনি সেবা, পুলিশ সেবা, ভোটার নিবন্ধন, জন্ম নিবন্ধন, পাসপোর্ট, বিভিন্ন কর্পোরেশন সেবা ইত্যাদি। এ সব সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আধুনিকায়নের মাধ্যমে সেবা সহজীকরণের উপায় বের করাসহ দুর্নীতিতে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা। 

পরিশেষে বলা যায়, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের উন্নয়ন ও পরিবর্তন সাধিত হয়েছে রাজনৈতিক নেতৃত্বের মাধ্যমে। কোনো একটি রাজনৈতিক দল ও নেতাই পারে সেই দেশকে উন্নয়ন ও অগ্রগতির সোপানে নিয়ে যেতে। আমাদের অতি সন্নিকটে অবস্থিত সিঙ্গাপুরের লি কুয়ান ইউদ এবং মালয়েশিয়ার মাহাথীর মোহাম্মদের কথা আমরা জানি। কীভাবে তারা তাদের রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও দর্শনের মাধ্যমে একটি দরিদ্র রাষ্ট্রকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করেছেন। মানুষের জীবন আচরণে মৌলিক পরিবর্তন এনেছেন। শিক্ষা-দীক্ষা, জ্ঞানচর্চায় এনেছেন আধুনিকতা। সমগ্র জাতির মধ্যে প্রতিষ্ঠিত করেছেন শৃঙ্খলা। আর এসব করতে গিয়ে তারা অনেক সময় কঠোরভাবে আইনের প্রয়োগ করেছেন। আমাদের বিশ্বাস, দীর্ঘ ১৭ বছর ব্রিটেনে নির্বাসিত জীবনে সেখানকার গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ও জীবন আচরণে বেড়ে ওঠা তারেক রহমান সত্যিকার অর্থে অনন্য এক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে সম্মুখ পানে এগিয়ে যাবেন, রাষ্ট্রের প্রতিটি ক্ষেত্রে মৌলিক পরিবর্তন আনবেন এটাই আমাদের প্রত্যাশা। 

লেখক: অবসরপ্রাপ্ত সচিব (গ্রেড-১, পদমর্যাদা) 


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা