× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ইমেইল থেকে

নিরাপদ সড়কের নিশ্চয়তা চাই

তরিকুল ইসলাম

প্রকাশ : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৪:১৩ পিএম

আপডেট : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৪:১৪ পিএম

সড়ক দুর্ঘটনা বা রোডক্র্যাশ বাংলাদেশে মৃত্যু ও আহত হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ। প্রতীকী ছবি

সড়ক দুর্ঘটনা বা রোডক্র্যাশ বাংলাদেশে মৃত্যু ও আহত হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ। প্রতীকী ছবি

সড়ক দুর্ঘটনা বা রোডক্র্যাশ বাংলাদেশে মৃত্যু ও আহত হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ । সড়ক দুর্ঘটনা দেশের স্বাস্থ্য খাত ও অর্থনীতির ওপর বড় বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু বর্তমানে দেশে এমন কোনো আইন নেই, যা সামগ্রিকভাবে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। সড়ক নিরাপত্তার জন্য একটি আইন প্রণয়নের জরুরি প্রয়োজন রয়েছে, যা সামগ্রিক সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা কভার করবে বিশেষ করে অতিরিক্ত গতি, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো এবং হেলমেট, সিটবেল্ট ও শিশু সুরক্ষা বিষয়ে তথ্য-প্রমাণ নির্ভর মূল আচরণগত ঝুঁকির কারণগুলো নিরসন করবে।

সড়ক দুর্ঘটনায় ২০২৫ সালে দেশে ৫ হাজার ৪৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ তথ্য দেশের সড়ক পরিবহন খাতের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ)। সংস্থাটির হিসাবে দেশের সড়কে সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছে গত বছর। পরিবহন অর্থনীতিবিদদের হিসাব অনুযায়ী, সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিবছর বাংলাদেশের জিডিপি’র প্রায় ৩ শতাংশ ক্ষতি হয়। প্রস্তাবিত আইনে বিদ্যমান আইন ও নীতির ঘাটতি পূরণ করা উচিত। সঠিক আইনের অভাব বা দুর্বল বাস্তবায়নের কারণে পরিবহন খাতের বিশৃঙ্খলা শেষ হচ্ছে না। এতে দেশের সড়কগুলো দিন দিন আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। প্রতি বছর হাজারো মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে বা আহত হচ্ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে, প্রতি বছর বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩১ হাজার ৫৭৮ জনের মৃত্যু হয়। অন্যদিকে বিআরটিএর হিসাব মতে, প্রতিবছর দেশে গড়ে প্রায় ৫ হাজার মানুষ মারা যায় ও ১০ হাজারের বেশি বিভিন্ন মাত্রায় আহত এবং পঙ্গুত্ব বরণ করে।

গত বছরের জানুয়ারিতে ‘রোড সেফটি অ্যাক্ট’ প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর লক্ষ্য জাতিসংঘ অনুমোদিত সেফ সিস্টেমের পাঁচটি স্থম্ভ- নিরাপদ সড়ক, নিরাপদ যানবাহন, নিরাপদ গতি, নিরাপদ সড়ক ব্যবহারকারী এবং দুর্ঘটনার পর কার্যকর সাড়া গ্রহণের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা। প্রস্তাবিত আইনটি এখনো খসড়া পর্যায়ে রয়েছে। বিদ্যমান ২০১৮ সালের সড়ক পরিবহন আইন (আরটিএ) কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সমাধান করতে ব্যর্থ হওয়ায় অংশীজনদের দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী পৃথক সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

২০১৮ সালে ছাত্র আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে আরটিএ প্রণয়ন করা হয়। আইনটি মূলত পরিবহন ও যানবাহন নিয়ন্ত্রণের ওপর কেন্দ্রীভূত। আরটিএ-২০১৮ পথচারী, সাইকেল আরোহী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং শিশুদের মতো ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীর অধিকার যথাযথভাবে সুরক্ষিত করে না। বিদ্যমান আইনে দুর্ঘটনার পর কার্যকর প্রতিক্রিয়ার বিধান নেই, অথচ এটি জাতিসংঘের গ্লোবাল প্ল্যান ফর রোড সেফটির একটি প্রধান কর্মক্ষেত্র। দুর্ঘটনা তদন্তের জন্য মানসম্মত প্রক্রিয়া বা সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সঠিক রেকর্ড রাখার কোনো স্পষ্ট পদ্ধতি নেই। তাই নতুন আইনে এসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) ৩.৬ ও ১১.২ এবং সড়ক দুর্ঘটনা থেকে মৃত্যু ও আহতের সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনতে জাতিসংঘের গ্লোবাল প্ল্যান টার্গেট পূরণের জন্য বাংলাদেশকে দ্রুত সড়ক দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু ও গুরুতর আহতের সংখ্যা কমাতে হবে। বর্তমানে বাংলাদেশে এমন কোনো আইন নেই, যা গ্লোবাল প্ল্যানে সুপারিশ করা পাঁচটি কর্মক্ষেত্র- বহুমাধ্যম পরিবহন ও ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনা, নিরাপদ অবকাঠামো, নিরাপদ যানবাহন, নিরাপদ সড়ক ব্যবহার এবং দুর্ঘটনার পর প্রতিক্রিয়ার বিষয়টি মানা হয়। সরকার এমনভাবে আইন প্রণয়ন করবে যাতে সড়ক দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু ও আহতের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে হ্রাস পায়

নতুন সরকারের কাছে আমার দাবি, দ্রুত সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে হবে। আইনটিতে সেফ সিস্টেম অ্যাপ্রোচের আওতায় তথ্য প্রমাণ-ভিত্তিক ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, যা গ্লোবাল প্ল্যান ফর রোড সেফটিতে সুপারিশ করা পাঁচটি ক্ষেত্রই কভার করবে। নতুন আইন অবশ্যই বৈশ্বিক সেরা চর্চার প্রতিফলন ঘটাবে। সর্বোচ্চ গতি সীমা আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে। আইনটি স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজন অনুযায়ী গতি সীমা কমানোর ক্ষমতা দেবে এবং মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো কমাতে চালকদের রক্তে অ্যালকোহলের ঘনত্বের সীমা (বিএসি) বৈশ্বিক মানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে।


তরিকুল ইসলাম

অ্যাডভোকেসি অফিসার (কমিউনিকেশন), স্বাস্থ্য সেক্টর, ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা