ইমেইল থেকে
অনিরুদ্ধ সূত্রধর
প্রকাশ : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৪:০৭ পিএম
প্র্যাকটিক্যাল বা ব্যবহারিক কারিকুলাম বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় চাহিদা। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন আজ সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়। স্বাধীনতার পর থেকে শিক্ষা খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও বিশ্বায়ন ও প্রযুক্তিনির্ভর যুগের চাহিদা পূরণে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করা প্রয়োজন। বর্তমান বিশ্বে শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞান নয়, বরং দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও সমস্যা সমাধানের সক্ষমতাই একজন শিক্ষার্থীর প্রকৃত সম্পদ। আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা বলতে বোঝায় প্রযুক্তিনির্ভর, শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক এবং দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা। ডিজিটাল ক্লাসরুম, মাল্টিমিডিয়া উপস্থাপনা, অনলাইন রিসোর্স এবং ই-লার্নিং প্ল্যাটফর্ম শিক্ষাকে আরও সহজ ও আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে। তথ্যপ্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার শিক্ষার্থীদের বিশ্বমানের জ্ঞান অর্জনে সহায়তা করবে এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রাখবে।
অন্যদিকে, প্র্যাকটিক্যাল বা ব্যবহারিক কারিকুলাম বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় চাহিদা। শুধু বইভিত্তিক শিক্ষা কর্মক্ষেত্রে সফলতার জন্য যথেষ্ট নয়। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল, কৃষি ও কারিগরি শিক্ষায় হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ বাড়াতে হবে। ইন্টার্নশিপ, প্রকল্পভিত্তিক কাজ এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় শিক্ষার্থীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনে সহায়তা করবে। এতে শিক্ষিত বেকারত্ব কমবে এবং উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগ বাড়বে। শিক্ষক প্রশিক্ষণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং মানসম্মত মূল্যায়ন পদ্ধতি নিশ্চিত করাও জরুরি। সরকার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অভিভাবকদের সমন্বিত উদ্যোগে আধুনিক ও প্র্যাকটিক্যাল কারিকুলাম বাস্তবায়ন করা সম্ভব। একটি দক্ষ, সৃজনশীল ও প্রযুক্তিবান্ধব প্রজন্ম গড়ে তুলতে শিক্ষা ব্যবস্থার এই রূপান্তর অপরিহার্য।
অনিরুদ্ধ সূত্রধর
নরসিংদী সরকারি কলেজ, নরসিংদী