× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

কৃষক কার্ড

কৃষকের স্বস্তির নতুন দিগন্ত

সম্পাদকীয়

প্রকাশ : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৮:৫৭ পিএম

কৃষক কার্ড। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ।

কৃষক কার্ড। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ।

কৃষিনির্ভর বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কৃষকই মূল চালিকাশক্তি। অথচ বছরের পর বছর ধরে তারা সার, বীজ ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ সংগ্রহে নানা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। কখনও কৃত্রিম সংকট, কখনও চড়া দামে বিক্রি, আবার কখনও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যÑ সব মিলিয়ে প্রকৃত কৃষক তার প্রাপ্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছেন। বিভিন্ন সময় তারা ন্যায্যতার দাবিতে আন্দোলন করেছেন। দাবি আদায়ে হামলা-মামলা এবং প্রাণহানির মতো দৃষ্টান্তও রয়েছে। এমন বাস্তবতায় ফ্যামিলি কার্ডের মতো দ্রুততম সময়ের মধ্যে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণের উদ্যোগ নিচ্ছে বর্তমান সরকার। ২৩ ফেব্রুয়ারি এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন সাংবাদিকদের এ কথা জানান। 

সরকারের এই উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। আমরা মনে করি, সরকারঘোষিত ‘কৃষক কার্ড’ চালুর উদ্যোগ কৃষকদের জন্য একটি সম্ভাবনাময় পদক্ষেপ। এই কার্ড ব্যবহার করে কৃষক সরাসরি নির্ধারিত ডিলারের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত দামে সার ও মানসম্মত বীজ সংগ্রহ করতে পারবেন। এতে একদিকে যেমন বাজারে স্বচ্ছতা বাড়বে, তেমনি কৃষি উপকরণ বিতরণে অনিয়ম কমবে। ফলে কৃষি উপকরণ সংগ্রহে মধ্যস্বত্বভোগী, কালোবাজারি ও মজুদদারদের দৌরাত্ম্য কমবে। কৃষক কার্ড ব্যবস্থার মাধ্যমে সময়মতো সারসহ উন্নতমানের বীজ কৃষকের হাতে পৌঁছলে উৎপাদনশীলতা বাড়বে, ফলন বৃদ্ধি পাবে এবং কৃষকের আয়ও বাড়বে।

২৪ ফেব্রুয়ারি প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এ ‘আসছে কৃষক কার্ড মিলবে সার-বীজসহ আবহাওয়ার খবর’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কৃষিপণ্য উৎপাদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা এ কার্ডের আওতায় থাকবে। কৃষকরা কৃষিজ্ঞান, সার, কীটনাশক ও বীজসহ বিভিন্ন কৃষি উপকরণে সরকারি সহায়তা সরাসরি পাবেন। পাশাপাশি স্মার্ট প্রযুক্তির মাধ্যমে বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি, উৎপাদনের পূর্বাভাস ও আবহাওয়ার বার্তা সহজেই তাদের হাতের নাগালে পৌঁছে যাবে। এতে রাষ্ট্রও কৃষি খাতে আরও সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারবে। প্রাথমিক পর্যায়ে পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে শুরু করে পর্যায়ক্রমে সারা দেশে এটি বাস্তবায়ন করা হবে। ক্রমান্বয়ে দেশের সকল কৃষককে এই কার্ডের আওতায় আনা হবে। 

উল্লেখ করা প্রয়োজন, কৃষিকে ডিজিটাল তথ্যভিত্তিক ব্যবস্থায় রূপান্তরে এবং প্রকৃত কৃষকের হাতে সরাসরি সরকারি ভর্তুকি পৌঁছে দিতে ২০২৩ সালের ১১ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছিল কৃষি খাতের সবচেয়ে বড় প্রকল্প ‘পার্টনার’(প্রোগ্রাম অন অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড রেসিলিয়েন্স)। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয় ৬ হাজার ৯১০ কোটি টাকা। তাতে বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়ন ১ হাজার ১৫১ কোটি টাকা, বিশ্বব্যাংকের পাঁচ হাজার ৩০০ কোটি টাকা এবং ইফাদের ৫০০ কোটি টাকা। দেশের ৬৪ জেলার ৪৯৫ উপজেলায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরসহ কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন ৭টি সংস্থা প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পটির অন্যতম বড় প্রতিশ্রুতি ছিলÑ প্রায় দুই কোটি ২৭ লাখ কৃষক পরিবারকে ‘কৃষক স্মার্টকার্ড’ প্রদান। এজন্য আলাদা করে প্রায় ৭২১ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়। পরিকল্পনা ছিলÑ জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) সঙ্গে কৃষকের তথ্য যুক্ত করে একটি কেন্দ্রীয় ডেটাবেজ গড়ে তোলা। 

কৃষক কার্ডের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা। যদি কার্ডটি জাতীয় পরিচয়পত্র ও ভূমি তথ্যের সঙ্গে সমন্বিত করা যায়, তাহলে প্রকৃত সুবিধাভোগী চিহ্নিত করা সহজ হবে। ভর্তুকির অর্থ সরাসরি কৃষকের কার্ডের সঙ্গে সংযুক্ত থাকলে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে। এতে কার্যক্রম আরও কার্যকর ও জবাবদিহিতামূলক হবে।

তবে শুধু কার্ড চালু করলেই হবে না, বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া হতে হবে দুর্নীতিমুক্ত ও সহজলভ্য। অনেক সময় দেখা যায়, ভালো উদ্যোগ মাঠপর্যায়ে গিয়ে আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আটকে যায়। ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে কৃষি অফিসগুলোকে আরও সক্রিয় ও দায়িত্বশীল হতে হবে। কৃষকদের সচেতন করাও জরুরিÑ কার্ডের সঠিক ব্যবহার, নির্ধারিত দামে ক্রয় এবং অভিযোগ জানানোর পদ্ধতি সম্পর্কে তাদের স্পষ্ট ধারণা দিতে হবে। আরেকটি বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা দরকারÑ ভূমিহীন ও বর্গাচাষিদের অন্তর্ভুক্তি। অনেক প্রকৃত চাষি নিজের জমির মালিক নন। তারা যেন এই সুবিধা থেকে বাদ না পড়েন, সেদিকে নীতিনির্ধারকদের বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে। অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতিই পারে প্রকৃত অর্থে কৃষকের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে।

স্বীকার করতেই হবে, বাংলাদেশ আজ খাদ্যে প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ। এই অর্জনের পেছনে কৃষকের ঘাম ও পরিশ্রম রয়েছে। তাদের প্রাপ্য সুবিধা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কৃষক কার্ড যদি সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে এটি কৃষি খাতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। কৃষক পাবেন সার ও বীজÑ সময়ে, ন্যায্যমূল্যে ও হয়রানিমুক্তভাবে। এর মাধ্যমে শুধু কৃষকেরই নয়, সমগ্র দেশের অর্থনীতি উপকৃত হবে। কৃষকের হাতে যদি নিশ্চিত উপকরণ পৌঁছে যায়, তবে দেশের খাদ্যনিরাপত্তা আরও মজবুত হবে। তাই কৃষক কার্ড বিতরণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হোক।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা