× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সড়ক-মহাসড়ক

চাঁদাবাজি বন্ধে স্থায়ী পদক্ষেপ নিন

সম্পাদকীয়

প্রকাশ : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:১৫ এএম

চাঁদাবাজি বন্ধে স্থায়ী পদক্ষেপ নিন

দেশের পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি নতুন কিছু নয়। বরং রাজধানীসহ দেশের জেলা-উপজেলা পর্যায়েও চাঁদাবাজি যেন একটি নিয়মিত ঘটনা। নানা সময়ে এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা কম হয়নি। বিস্তর লেখালেখিও হয়েছে সংবাদমাধ্যমে। কিন্তু এতে অবস্থার যে আদৌ পরিবর্তন হয়েছে তা বলা যাবে না। বরং পরিবহন খাতে যে চরম নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি বিরাজমান তাকে এক কথায় ভয়াবহ বললে অত্যুক্তি হবে না। সহজ করে বললে, দেশে পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি বেপরোয়া রূপ নিয়েছে।

যাত্রী কিংবা পণ্য পরিবহন সব ক্ষেত্রেই চাঁদা ছাড়া যেন গাড়ির চাকা ঘোরে না। বরাবরের অভিযোগ, সরকারদলীয় শ্রমিক সংগঠনসহ রাজনৈতিক দলের সহযোগী বিভিন্ন সংগঠনের একশ্রেণির নেতাকর্মী দুর্বল শাসনব্যবস্থার সুযোগে এই চাঁদাবাজি করে থাকে। যদিও ক্ষমতাধররা সব সময় চাঁদাবাজদের আইনের আওতায় আনা ও প্রতিহত করার কথা বলে থাকেন। 

সাম্প্রতিক সময়ে এটি আবারও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, বাস এমনকি ছোট পরিবহন থেকেও প্রকাশ্যে টাকা আদায়ের অভিযোগ বাড়ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া কয়েকটি ভিডিও, পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের বক্তব্য এবং প্রশাসনের সাম্প্রতিক অভিযানের খবর সব মিলিয়ে বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। তবে এবার অভিযোগটির আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে সদ্য গঠিত নির্বাচিত সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর ‘চাঁদা আদায়’ সম্পর্কিত বক্তব্যকে কেন্দ্র করে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, পরিবহন সেক্টরে চাঁদাবাজির মতো স্পর্শকাতর ইস্যুতে ‘নমনীয় ব্যাখ্যা’ দিয়ে মন্ত্রী রাজনৈতিক বিরোধীদের হাতে ‘সমালোচনার অস্ত্র’ তুলে দিয়েছেন। তারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী যেখানে দুর্নীতির বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছেন, সেখানে এমন বক্তব্য সাংঘর্ষিক। প্রশ্ন ক্ষমতার পালাবদলে কেন এই পুরনো ব্যাধি বার বার ফিরে আসে?

চাঁদার কারণে পরিবহন মালিক-শ্রমিক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। আর এই খরচ সমন্বয় করতে গিয়ে দাম বাড়ছে নিত্যপণ্যের। সরাসরি এর প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের ওপর। তাই চাঁদাবাজদের হাতে জিম্মি হওয়া সাধারণ মানুষকে উদ্ধারে সরকারকে কঠোর হতে হবে। টিআইবির এক গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা যায়, দেশে ব্যক্তিমালিকানাধীন পরিবহন খাত থেকে বছরে ১ হাজার ৫৯ কোটি টাকা চাঁদাবাজি হয়। অনেকের সঙ্গে এই চাঁদার ভাগ পান দলীয় পরিচয়ধারী ব্যক্তি বা গোষ্ঠী, মালিক-শ্রমিক সংগঠন প্রতিনিধিরা। এই প্রতিবেদন মতে, টানা দেড় দশক পতিত সরকারি দল পরিবহন খাতের চাঁদার নিয়ন্ত্রণ করলেও ২০২৪-এর পটপরিবর্তন ও সংসদ নির্বাচনের পর সময়ে এ খাত নিয়ন্ত্রণ করছেন বর্তমান সরকারপন্থী পরিবহন নেতারা। 

২৩ ফেব্রুয়ারি প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এ “সড়কে-মহাসড়কে ‘চাঁদা’ হঠাৎ আলোচনায়” শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। বলা বাহুল্য, বাংলাদেশের মহাসড়ক নেটওয়ার্ক বিশেষ করে, ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-খুলনা বা উত্তরাঞ্চলগামী রুটগুলো দেশের অর্থনীতির প্রাণস্রোত। রাজধানী ঢাকায় প্রবেশের প্রধান প্রবেশপথ যেমন ঢাকা এবং বন্দরনগরী চট্টগ্রামের সঙ্গে সংযোগকারী সড়কগুলোতে প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে।

এই চলাচল ঘিরেই গড়ে উঠেছে বিভিন্ন অঘোষিত ‘টোল পয়েন্ট’। এসব সড়কে চলাচলকারী রাজধানীমুখী পণ্য পরিবহনকারী যানবাহনে নিয়মিত চাঁদা তোলার কারণে ঢাকার সব বাজারে শাকসবজির দাম ‘আকাশছোঁয়া’। এসব অভিযোগ সাধারণত বরাবরই সরকার সমর্থক রাজনৈতিক ও শ্রমিক সংগঠনের বিরুদ্ধে উঠে থাকে। সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলো কখনও কখনও এসব ক্ষেত্রে সাংগঠনিক পদক্ষেপ নিলেও কিছুদিন পর একই অবস্থার পুনরাবৃত্তি ঘটতে দেখা গেছে। কারণ, সরকারদলীয় সমর্থক কেউ না কেউ সেই শূন্য জায়গা পূরণ করে। ফলে শুরু হয় আবারও চাঁদাবাজি। 

এটা মানতেই হবে, দেশের অর্থনীতি বড় হচ্ছে সড়ক পথের ওপর ভর করে। ৬০ শতাংশের বেশি মানুষের যাতায়াত ও ব্যবসা নির্ভরশীল সড়কপথের ওপর। তাই যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে বাড়ছে বাস-ট্রাকের চাহিদা। এই খাতের ব্যবসায়ীরা পরিবহন নিবন্ধন শুরু করেন উৎকোচ দেওয়ার মাধ্যমে। অফিসের উৎকোচ সড়কে নেমে হয়ে যায় চাঁদা। পরিবহনের চাকা ঘুরলেই নেতা, পুলিশ, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, শ্রমিক-মালিক সংগঠন টাকার ভাগ যায় সব টেবিলে। আর চালকরা বাধ্য হয়ে যে অতিরিক্ত টাকা দেন, যা শেষ পর্যন্ত ভোক্তার ঘাড়েই চাপে। 

অবশ্য, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঝেমধ্যে অভিযান চালায়, কিছু চাঁদাবাজ গ্রেপ্তারও হয়। কিন্তু স্থায়ী সমাধান দেখা যায় না। এর পেছনে রয়েছে কয়েকটি কাঠামোগত দুর্বলতা। এখন সমাধান কোথায়? প্রথমত, মহাসড়কে চাঁদা আদায়ের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন করতে হবে। নিয়মিত মোবাইল কোর্ট ও পুলিশি টহল জোরদার করা প্রয়োজন। দ্বিতীয়ত, পরিবহন খাতে ডিজিটাল মনিটরিং-সিসিটিভি, হটলাইন ও অভিযোগ ব্যবস্থাকে কার্যকর করতে হবে।

তৃতীয়ত, বৈধ টোল ও ফি কাঠামো স্বচ্ছ করতে হবে, যাতে অবৈধ আদায়ের সুযোগ কমে। পাশাপাশি পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো রাজনৈতিক সদিচ্ছা। যদি প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো একসঙ্গে অবস্থান নেয় যে সড়ক-মহাসড়কে কোনো অবৈধ আদায় চলবে না তবে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব। 

সড়ক-মহাসড়ক দেশের অর্থনীতির রক্তধারা। সেখানে চাঁদাবাজির কালো ছায়া থাকলে উন্নয়ন ও বিনিয়োগের ইতিবাচক বার্তা ম্লান হয়ে যায়। তাই এখনই কঠোর ও ধারাবাহিক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি, যাতে পরিবহন খাত স্বস্তি পায়, বাজার স্থিতিশীল থাকে এবং সাধারণ মানুষ অযাচিত বোঝা থেকে মুক্তি পায়। আমরা চাই, সড়ক-মহাসড়কে চাঁদাবাজি বন্ধে স্থায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হোক। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন আশা করি।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা