× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

জনপ্রত্যাশা পূরণে নবগঠিত সরকারের দায়বদ্ধতা

ড. আলা উদ্দিন

প্রকাশ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:৩৭ এএম

ড. আলা উদ্দিন; অধ্যাপক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

ড. আলা উদ্দিন; অধ্যাপক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের পর সাধারণ মানুষের মনে এক ধরনের গণ-আকাঙ্ক্ষা এবং প্রত্যাশার জন্ম হয়েছিল। দীর্ঘদিনের কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসানের পর মানুষ আশা করেছিল যে নতুন শাসনব্যবস্থা তাদের জীবনে পরিবর্তন আনবে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি হ্রাস, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং সুশাসন নিশ্চিত করার প্রত্যাশা ছিল জনগণের। কিন্তু প্রায় দেড় বছর ক্ষমতায় থাকার পর অন্তর্বর্তী সরকার সেই প্রত্যাশা পূরণে ন্যূনতম সফলতা প্রদর্শন করতে পারেনি। ফলে ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণ তাদের রায় দিয়েছে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত রাজনৈতিক দল এবং জোটকে প্রত্যাখ্যান করেছে। এখন বিএনপির নেতৃত্বাধীন যে সরকার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলো- তাদের কাছে জনগণের চাওয়া এবং প্রত্যাশা অনেক ব্যাপক এবং তাদের জবাবদিহিতামূলক রাষ্ট্র পরিচালনা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।

অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতা থেকে নবগঠিত বিএনপি সরকারকে শিক্ষা নিতে হবে। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় এসে জনগণের প্রত্যাশা পূরণের পরিবর্তে নিজেদের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে ব্যস্ত ছিল। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন ধ্বংস করা, প্রতিহিংসামূলক রাজনীতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি তাদের শাসনামলের বৈশিষ্ট্য ছিল। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে তারা কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি। বরং মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচ বেড়ে গেছে। বেকারত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়েছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে জনগণ নির্বাচনে অন্তর্বর্তী সরকারের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক শক্তির বদলে এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও অসাম্প্রদায়িকতার স্বপক্ষে দৃঢ় অবস্থানের কারণে বিএনপি জোটকে নিরঙ্কুশ সমর্থন দিয়ে বিজয়ী করেছে। নবগঠিত সরকারকে এই শিক্ষা মনে রাখতে হবে যে জনগণ এখন সজাগ এবং তারা ফলাফল দেখতে চায়।

নির্বাচনে বিএনপি এবং তার মিত্রদের নিয়ে গঠিত জোট নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। এই বিজয় জনগণের আস্থা এবং প্রত্যাশার প্রতিফলন। জনগণ বিএনপিকে ভোট দিয়েছে এই বিশ্বাসে যে- তারা দেশে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনবে এবং জনগণের সমস্যার সমাধান করবে। নির্বাচনী প্রচারণায় বিএনপি যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সেগুলো বাস্তবায়ন করা এখন তাদের নৈতিক এবং রাজনৈতিক দায়িত্ব। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দুর্নীতি দমন এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি তারা দিয়েছে। এখন সময় এসেছে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের। জনগণ আর কথার ফুলঝুরি নয় বরং বাস্তব পরিবর্তন দেখতে চায়। নবগঠিত সরকারকে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমেই তাদের কৃত অঙ্গীকার বাস্তবায়নের প্রতি জোর দিতে হবে।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ সাধারণ মানুষের প্রধান দাবি। বিগত দেড় বছরে চাল, ডাল, তেল, চিনি এবং অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। নিম্ন এবং মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণে হিমশিম খাচ্ছে। অনেক পরিবার তিন বেলা পেট ভরে খেতে পারছে না। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা জরুরি। নবগঠিত সরকারকে বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। মজুদদারি এবং কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। খাদ্য আমদানিতে শুল্ক কমিয়ে দাম নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নিতে হবে। সরকারি মূল্যে খাদ্য সরবরাহের ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। এই পদক্ষেপগুলো নিলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে এবং সরকারের প্রতি আস্থা বৃদ্ধি পাবে।

কর্মসংস্থান সৃষ্টি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশে প্রতিবছর লাখ লাখ তরুণ শিক্ষা শেষ করে শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে কিন্তু তাদের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ নেই। বেকারত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং হতাশা ছড়িয়ে পড়ছে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিদেশি বিনিয়োগ হ্রাস পেয়েছে এবং দেশীয় শিল্প সংকটে পড়েছে। নবগঠিত সরকারকে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে, যাতে নতুন শিল্প স্থাপিত হয় এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। তৈরি পোশাক শিল্প, কৃষি এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে। তরুণদের জন্য দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি চালু করতে হবে, যাতে তারা যোগ্য জনশক্তি হিসেবে গড়ে ওঠে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি হলে দেশের অর্থনীতি চাঙ্গা হবে এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে।

দুর্নীতি দমন সুশাসন প্রতিষ্ঠার পূর্বশর্ত। বাংলাদেশে দুর্নীতি একটি দীর্ঘদিনের সমস্যা, যা দেশের উন্নয়নের পথে প্রধান বাধা। সরকারি অফিস থেকে শুরু করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সর্বত্র দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। সাধারণ মানুষকে সামান্য সেবা পেতেও ঘুষ দিতে হয়। নবগঠিত সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার নীতি ঘোষণা করেছে। কিন্তু শুধু ঘোষণা নয়, বাস্তব পদক্ষেপ প্রয়োজন। দুর্নীতি দমন কমিশনকে শক্তিশালী করতে হবে এবং তাদের স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি চাকরিতে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ করলে দুর্নীতি কমবে কারণ মানুষ এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সরাসরি যোগাযোগ কমবে। দুর্নীতি দমন হলে দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে এবং উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা একটি সভ্য সমাজের মূল ভিত্তি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। পুলিশ বাহিনী দুর্বল হয়ে পড়েছিল এবং অপরাধীরা প্রায় অবাধে কার্যক্রম চালিয়েছে। চুরি, ডাকাতি, অপহরণ এবং খুনের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগেছে। নবগঠিত সরকারকে আইনশৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে। পুলিশ বাহিনীকে পুনর্গঠন করতে হবে এবং তাদের আধুনিক প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জাম দিতে হবে। বিচারব্যবস্থাকে দ্রুততর এবং কার্যকর করতে হবে। আইনের চোখে সবাই সমান এই নীতি বাস্তবায়ন করতে হবে। প্রভাবশালীরা যাতে আইনের ঊর্ধ্বে না থাকতে পারে তা নিশ্চিত করতে হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে জনগণ নিরাপদ বোধ করবে এবং দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে।

সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নবগঠিত সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। বিগত সময়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণ এবং তাদের ধর্মীয় স্থাপনা ধ্বংসের ঘটনা ঘটেছে। এই সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী অসাম্প্রদায়িক চেতনার পরিপন্থী। নির্বাচনে জনগণ জামায়াতে ইসলামীকে প্রত্যাশিত সমর্থন না দিয়ে প্রমাণ করেছে যে তারা অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ চায়। নবগঠিত সরকারকে এই জনরায়ের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তাদের ধর্মীয় স্থাপনা এবং সম্পত্তি রক্ষা করতে হবে। সাম্প্রদায়িক উস্কানিদাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। সব ধর্মের মানুষ যাতে সমান অধিকার নিয়ে বাস করতে পারে তা নিশ্চিত করতে হবে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা হলে দেশের ভাবমূর্তি উন্নত হবে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থা অর্জন করা সহজ হবে।

জবাবদিহিতামূলক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা নবগঠিত সরকারের জন্য অপরিহার্য। জনগণ এখন আর কথার ওয়াদায় সন্তুষ্ট নয় বরং তারা ফলাফল দেখতে চায়। সরকারকে স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিতামূলকভাবে কাজ করতে হবে। সরকারি সিদ্ধান্ত এবং কার্যক্রম জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে তারা সরকারের কাজের সমালোচনা এবং পর্যালোচনা করতে পারে। সংসদকে কার্যকর রাখতে হবে এবং বিরোধী দলের ভূমিকা স্বীকার করতে হবে। নাগরিক সমাজের সঙ্গে সংলাপ বজায় রাখতে হবে। নিয়মিত জনগণের মতামত নিতে হবে এবং তাদের অভিযোগের সমাধান করতে হবে। ডিজিটাল প্লাটফর্মের মাধ্যমে সরকারের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ সহজ করতে হবে। জবাবদিহিতামূলক শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে জনগণের আস্থা বৃদ্ধি পাবে এবং সরকার জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে।

প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করা নবগঠিত সরকারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রতিহিংসামূলক রাজনীতি দেখা গেছে, যা দেশের জন্য ক্ষতিকর ছিল। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বাড়িঘর আক্রমণ এবং ধ্বংস করা হয়েছে। হাজার হাজার মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই প্রতিহিংসার সংস্কৃতি দেশে স্থিতিশীলতা নষ্ট করে এবং উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করে। নবগঠিত সরকারকে এই পথে না গিয়ে সমন্বয়ের রাজনীতি করতে হবে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে শত্রু নয় বরং বিরোধী দল হিসেবে দেখতে হবে। যারা অপরাধ করেছে তাদের বিচার হবে কিন্তু তা হতে হবে আইনের মাধ্যমে এবং ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে। ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মামলা দায়ের করা যাবে না। জাতীয় ঐকমত্য তৈরি করতে হবে এবং সব রাজনৈতিক দলকে নিয়ে দেশ পরিচালনার চেষ্টা করতে হবে। প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করলে দেশে শান্তি ফিরবে এবং উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত হবে।

নবগঠিত বিএনপি সরকারকে মনে রাখতে হবে যে, জনগণ তাদের একটি সুযোগ দিয়েছে এবং এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে হবে। নবগঠিত সরকারকে তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে হবে এবং জনগণের সেবায় নিয়োজিত থাকতে হবে। জনগণ এখন সচেতন এবং তারা ভোটের মাধ্যমে তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ করতে জানে। যদি সরকার তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয় তাহলে জনগণ আবারও তাদের ক্ষমতার চর্চা করবে পরবর্তী নির্বাচনে। কাজেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী জবাবদিহিতামূলক রাষ্ট্র পরিচালনার কোনো বিকল্প নেই নবগঠিত বিএনপি সরকারের। জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারলেই তারা ইতিহাসে একটি সফল সরকার হিসেবে স্বীকৃতি পাবে এবং দেশকে সমৃদ্ধির পথে নিয়ে যেতে পারবে।


ড. আলা উদ্দিন 

অধ্যাপক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা