× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

নতুন সরকার

ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রত্যাশা

সম্পাদকীয়

প্রকাশ : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:৪১ পিএম

আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:৪৪ পিএম

শপথের পর আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন ৫০ জনের মন্ত্রিসভা।

শপথের পর আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন ৫০ জনের মন্ত্রিসভা।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর নির্বাচিত নতুন সরকার ও জাতীয় সংসদ পেয়েছে যাচ্ছে দেশ। অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ের মধ্য দিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে। অস্থায়ী সরকারের দায়িত্ব অর্পণের মাধ্যমে নতুন সরকারের পথচলা শুরু হলো। শপথের পর আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন ৫০ জনের মন্ত্রিসভা। এদের মধ্যে রয়েছেন ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী। সরকারপ্রধান তথা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আগামী ৫ বছরের জন্য দেশ পরিচালনা করবেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ সন্তান এবং আদর্শের উত্তরাধিকার তারেক রহমান। 

গতকাল ১৭ ফেব্রুয়ারি, সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ মঞ্চে উচ্চারিত সংবিধান রক্ষার অঙ্গীকার শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রতিশ্রুতি। ওই মুহূর্ত থেকেই নতুন সরকারের ওপর ন্যস্ত হলো দেশের অর্থনীতি, আইনশৃঙ্খলা, প্রশাসন ও কূটনীতির ভারী দায়িত্ব। বলা চলে, নির্বাচন-পরবর্তী প্রত্যাশা এখন বাস্তবতার পরীক্ষায়। জনগণ চায় স্থিতিশীলতা, দ্রব্যমূল্যের স্বস্তি, কর্মসংস্থান এবং নিরাপদ সামাজিক পরিবেশ। শপথের সেই অঙ্গীকারের মূল কথাই হলোÑ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এবং সুশাসন নিশ্চিত করা। আমরা মনে করি, শুরুর দিন থেকেই কার্যকর পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিতে পারলে আস্থা আরও দৃঢ় হবে।

শান্তিপূর্ণ এই ক্ষমতা হস্তান্তর রাষ্ট্রের প্রাতিষ্ঠানিক শক্তিরই প্রতিফলন। অন্তর্বর্তী সরকার সাধারণত একটি সেতুবন্ধ সময়ের প্রতীক। তাদের মূল দায়িত্ব ছিল নির্বাচনকালীন পরিবেশ নিশ্চিত করা, প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং রাষ্ট্রযন্ত্রকে নিরপেক্ষভাবে পরিচালনা করা। এ সময় দেশে অর্থনৈতিক চাপ, আইনশৃঙ্খলার টানাপড়েন এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা ছিল দৃশ্যমান। তবুও একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া রাষ্ট্রের জন্য স্বস্তির বিষয়। 

উল্লেখ্য, ৫ আগস্ট, ২০২৪ তীব্র গণ-আন্দোলনে সরকার পতনের পর দেশে এক ধরনের শাসন-শূন্যতা সৃষ্টি হয়। তখন সহিংসতা, প্রশাসনিক অচলাবস্থা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার বিষয়গুলো সামনে আসে। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে সংবিধানসম্মত উপায়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্বভার গ্রহণ করে। সরকারের মূল লক্ষ্য ছিল দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা, প্রশাসন সচল রাখা এবং একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি করা। দেড় বছরেরও বেশি সময় দায়িত্ব পালনের পর গত ১২ ফেরুয়ারি জাতীয় সংসদ ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপিসহ ১২-দলীয় জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। সেই ধারাবাহিকতারই অংশ আজকের এই প্রেক্ষাপট। 

আমরা নতুন সরকার এবং নতুন মন্ত্রিসভার সকল সদস্যকে অভিনন্দন ও স্বাগত জানাই। এ কথা সত্য যে, নতুন সরকারের পথচলা শুরু নতুন প্রত্যাশা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে। আমাদের বিশ্লেষণ সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ অর্থনীতি। বিশেষ করে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান এবং বিনিয়োগÑ সব খাতেই দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় সাধারণ মানুষের সহনশীলতার সীমা ছুঁয়ে ফেলেছে। কাজেই প্রথম একশ দিনেই অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার স্পষ্ট রূপরেখা দিতে হবে। জনগণ এখন শুধু রাজনৈতিক স্লোগান নয়, বাস্তব ফলাফল দেখতে চায়।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এই দেড় বছরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতায় ছিল সশস্ত্র বাহিনী বিশেষ করে সেনাবাহিনী। সশস্ত্র বাহিনী ব্যারাকে ফিরে গেলে আইনশৃঙ্খলা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সহিংসতা বা প্রতিশোধপরায়ণ আচরণ দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে। বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে ভাবতে হবে। তাই প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ও পেশাদার ভূমিকা রাখতে হবে। একই সঙ্গে দুর্নীতির বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও নিরপেক্ষ অভিযান চালাতে হবেÑ দলীয় পরিচয় নয়, অপরাধই যেন বিচারের একমাত্র মানদণ্ড হয়।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নতুন সরকারের জন্য কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, ভূ-রাজনৈতিক টানাপড়েন এবং বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতার এই সময়ে দক্ষ কূটনীতি অপরিহার্য। উন্নয়ন সহযোগী দেশ ও সংস্থাগুলোর সঙ্গে আস্থার সম্পর্ক জোরদার করতে হবে, যাতে বিনিয়োগ ও রপ্তানি প্রবাহ অব্যাহত থাকে। তরুণ সমাজ, নারী উদ্যোক্তা, কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের জন্য সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রয়োজন। প্রযুক্তি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ বাড়িয়ে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের ভিত্তি শক্ত করতে হবে।

রাজনৈতিক সংস্কৃতিতেও ইতিবাচক পরিবর্তন জরুরি। রাজনৈতিক সহনশীলতা প্রতিষ্ঠাও সময়ের দাবি। প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গঠনমূলক পরিবেশ তৈরি করতে হবে। বিরোধী মতকে সম্মান জানিয়ে সংসদ ও রাজনীতিতে ইতিবাচক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে পারলেই গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে। গণতন্ত্রের সৌন্দর্য মতভেদে, বিভাজনে নয়। বিরোধী মতকে সম্মান জানিয়ে সংসদ ও রাজপথে গঠনমূলক বিতর্কের চর্চা বাড়াতে হবে। তবেই জনগণের আস্থা পুনর্গঠিত হবে।

সবচেয়ে বড় কথা, নতুন সরকারকে মনে রাখতে হবে, ক্ষমতা জনগণের অর্পিত আমানত। নির্বাচনী অঙ্গীকারগুলো কেবল কাগজে নয়, বাস্তব নীতিমালায় প্রতিফলিত হতে হবে। মনে রাখতে হবে, নতুন সরকারের শুরু শুধু ক্ষমতার পালাবদল নয়; এটি জনগণের প্রত্যাশা পূরণের এক কঠিন পরীক্ষা। এখন সময় ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিকে বাস্তবে রূপ দেওয়া। জনগণ অপেক্ষা করছেÑ এই নতুন সূচনা কতটা ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা