× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

পর্যবেক্ষণ

গণতন্ত্রের নবযাত্রার প্রাক্কালে

মহিউদ্দিন খান মোহন

প্রকাশ : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:০৬ পিএম

গণতন্ত্রের নবযাত্রার প্রাক্কালে

এ কথা বলা বোধ করি অসংগত হবে না, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্র নবযাত্রা শুরু করেছে। নির্বাচনটি ছিল আক্ষরিক অর্থেই সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ। দুয়েক জায়গায় কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া তেমন কোনো বড় ধরনের সংঘাত-সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি। ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছেন। নতুন ভোটাররা তো বটেই, নবতিপর বৃদ্ধ-বৃদ্ধারাও কষ্টকে উপেক্ষা করে কেন্দ্রে এসে ভোট দিয়েছেন। আমি যে কেন্দ্রে ভোট দিয়েছি, সেটি মুন্সীগঞ্জ জেলার শ্রীনগর উপজেলার বাসাইলভোগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। সেখানে দেখা হলো, আমাদের গ্রামের এক মুরুব্বি শেখ কামালউদ্দিনের সঙ্গে। তার বয়স এখন ৯৫ বছর। লাঠিতে ভর দিয়ে এসেছিলেন তিনি। জিজ্ঞেস করলাম, ‘কেন এলেন এত কষ্ট করে?’ বললেন, ‘সতর বছর পরে ভোট দেওনের সুযোগ পাইলাম। আমার বয়স এখন পাঁচানব্বই। আরেকটা ইলেকশন পামু কিনা আল্লাহ জানে। তাই আইলাম।’ তিনি এও জানালেন, ‘ভোট দিতে পেরে তার খুব ভালো লাগছে।’ শেখ কামালউদ্দিন রাজনীতি, নাগরিক দায়িত্ব এসব সম্বন্ধে বিজ্ঞ কোনো ব্যক্তি নন। তবে তিনি এটা বোঝেন, সরকারে এলাকার একজন প্রতিনিধি নির্বাচিত করার জন্য তাকে ভোট দিতে হবে। এটা তার দায়িত্ব। সে দায়িত্ব তিনি পালন করেছেন বৃদ্ধ বয়সে কষ্ট স্বীকার করে। 

যারা ভোট দেন, দলীয় কর্মী-সমর্থক ছাড়া সাধারণ ভোটারদের সবার প্রত্যাশা আমার গ্রামের শেখ কামালউদ্দিনের মতোই। তাদেরও প্রত্যাশা ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত নতুন সরকার তাদের কল্যাণ সাধন ও গণতন্ত্রকে সুপ্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে কাজ করবে। তারা অবশ্য জানেন না, তাদের সে প্রত্যাশা কতটা পূরণ হবে, কিংবা আদৌ পূরণ হবে কি না। কারণ তারা দেখেছেন, জনগণের ভোট নিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়ার পর সংশ্লিষ্টরা কীভাবে জনগণকে ভুলে যান। তারা এও দেখেছেন, ভোটের আগে কথার ফুলঝুরি সাজিয়ে জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রাজনৈতিক নেতারা কত দ্রুত বিস্মৃত হন। গণতন্ত্রের কথা বলে রাষ্ট্রক্ষমতায় গিয়ে গণতন্ত্রকে গলা টিপে হত্যার সাক্ষীও তারাই। এতসব নেতিবাচক অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও এদেশের মানুষ নির্বাচনকে উৎসবের মতো উদযাপন করে থাকে। ভোট এলে তারা ‘ভালো কিছু হবে’Ñ এ ভেবে আশান্বিত হয়ে ওঠে। 

যে নির্বাচন এদেশে উৎসবের আমেজ নিয়ে আসত সব সময়, সে নির্বাচন নির্বাসিত ছিল প্রায় দেড় যুগ। সর্বশেষ ২০০৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এদেশে আর কোনো অর্থবহ নির্বাচন হয়নি। এই পুরোটা সময় বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ নির্বাচনকে পরিণত করেছিল প্রহসনে। জাতীয় সংসদ থেকে শুরু করে উপজেলা, জেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, এমনকি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও মানুষ ভোট দিতে পারেননি। দলীয় ক্যাডাররাই দিনে-রাতে ভোটের বাক্স ভরে ফেলত। গণতন্ত্রের এই হতচ্ছিরি দশা গণতন্ত্রপ্রিয় নাগরিকদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটালেও করার কিছুই ছিল না তাদের। কারণ ওই সরকার রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করেছে লাঠিয়াল বাহিনীর মতো। সে দম বন্ধকরা পরিস্থিতিতে মানুষ প্রহর গুনছিল মুক্তির। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সে মাহেন্দ্রক্ষণ এসে উপস্থিত হয়। ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটে ব্যাপক গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে। অবশ্য এজন্য জাতিকে দিয়ে হয়েছে চড়া মূল্য। হাজার হাজার মানুষ হতাহত হয়েছে সে আন্দোলনে। তাই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে যদি রক্তনদী পেরিয়ে তীরে পৌঁছানো বলে আখ্যায়িত করা হয়, তাহলে বোধ করি তা অসংগত হবে না। 

এবারের নির্বাচনটি ছিল নানা কারণেই ব্যতিক্রম। প্রথমত, দেশের অন্যতম রাজনৈতিক শক্তি আওয়ামী লীগ এ নির্বাচনে অনুপস্থিত ছিল। যে কারণে নির্বাচনটি যতটা জমজমাট হয়ে ওঠার কথা ছিল তা হয়নি। বস্তুত বিগত চার দশকের নির্বাচনের ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, আওয়ামী লীগ-বিএনপির যেকোনো একটি অনুপস্থিত থাকলে নির্বাচনী আমেজ সেভাবে পরিলক্ষিত হয় না। এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি ছিল অনিবার্য। বলা যায়, অতীত কৃতকর্মের ফলই তারা ভোগ করেছে, আরও হয়তো করবে। গণতন্ত্রের নামাবলি গায়ে দিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে গণতন্ত্রকে গিলে খাওয়ার যে ন্যক্কারজনক দৃষ্টান্ত আওয়ামী লীগ স্থাপন করেছে, তার নজির নিকট ইতিহাসে বিরল। জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী দল ও সংগঠনসমূহের দাবির প্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে। তবে নিষিদ্ধ না করলেও দলটি নির্বাচনে অংশ নিতে সাহস পেত কি না সন্দেহ। কেননা, প্রচণ্ড জনরোষের মুখে সভাপতি শেখ হাসিনাসহ শীর্ষস্থানীয় নেতাদের দেশ থেকে পলায়ন এবং বাকিদের গ্রেপ্তার বা আত্মগোপন দলটিকে স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ সংকটে ফেলেছে। তা ছাড়া ২০০৯ থেকে ২০২৪ মুদ্দতে দলটির কার্যকলাপ এখনও দেশবাসীর স্মৃতিতে তরতাজা। ফলে আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে নির্বাচনী মাঠে আসতে পারলেও জনগণ নৌকা প্রতীকে ছাপ মারত কি না সন্দেহ। 

দ্বিতীয়ত, স্বাধীনতার পর পঞ্চান্ন বছরের ইতিহাসে জামায়াতে ইসলামী এবার সর্বোচ্চ সংখ্যক আসনে জয়লাভ করেছে। তাদের এই বিশাল বিজয়ের ব্যাখ্যা নানাজন নানাভাবে দিচ্ছেন। অনেকে বলছেন, জামায়াতের এ অভাবনীয় সাফল্য তাদের দীর্ঘদিনের প্রস্তুতির ফসল। কারও কারও মতে, জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বিএনপির কতিপয় নেতাকর্মীর চাাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্ম জামায়াতকে বাড়তি সুবিধা দিয়েছে। দলটি তাদের কৌশলী প্রাচারণায় বিএপিকে সাধারণ মানুষের কাছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের প্রতিরূপ হিসেবে উপস্থাপন করেছে। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে যারা এতদিন বিএনপিকে ভোট দিত, তাদের একটি অংশ জামায়াতের দিকে ঝুঁকে পড়েছে। শুধু আসন প্রাপ্তি নয়, বিভিন্ন আসনে জামায়াত প্রার্থীদের প্রাপ্ত ভোটের অঙ্কও সে কথাই বলে।

তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিকটি হলো, বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ আসন লাভ। তারা পেয়েছে ২০৯টি আসন। এটাও সম্ভব হয়েছে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ না থাকায়। আওয়ামী লীগ মাঠে থাকলে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা (অর্ধেকের বেশি আসন) পেলেও দুই-তৃতীয়াংশের ‘ব্রুট মেজরিটি’ পাওয়া হয়তো সম্ভব হতো না। ইংরেজি ‘ব্রুট মেজরিটি’র আভিধানিক অর্থ ‘নৃশংস সংখ্যাগরিষ্ঠতা’। অর্থাৎ এমন সংখ্যাগরিষ্ঠতাপ্রাপ্ত দল সহজেই নৃশংস হয়ে উঠতে পারে। এর প্রমাণ তো আমাদের দেশেই রয়েছে। এটা এমন এক সংখ্যাগরিষ্ঠতা, যা একটি দলকে পার্লামেন্টে যা খুশি করার ক্ষমতা দেয়। সংবিধান সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ কিংবা জাতীয় নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে অন্য কোনো দল বা পক্ষের মুখাপেক্ষী হতে হয় না। জনগণ এবার বিএনপিকে সে ক্ষমতা দিয়েছে। ক্ষমতার সঙ্গে দায়িত্ববোধের একটি নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। ক্ষমতাবানদের সব সময় কর্তব্য সম্পাদনে দায়িত্বশীল হতে হয়। তাদের সজাগ থাকতে হয়, ক্ষমতা প্রয়োগ করতে গিয়ে অপরের অধিকার ক্ষুণ্ন করছেন কি না। দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি এ ক্ষেত্রে সতর্ক থাকবেÑ এটা আশা করা যায়।

আমাদের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধের অন্যতম লক্ষ্য ছিল বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা। কিন্তু স্বাধীনতার পর সে গণতন্ত্রের ওপরই আঘাত এসেছে সবার আগে এবং সবচেয়ে বেশি। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে (১৯৭৩) ভোটকেন্দ্র দখল, ব্যালট পেপারে পাইকারি সিল মারা ও ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছিল। সে সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের সামনে দাঁড়ানোর মতো দল না থাকা সত্ত্বেও ব্যাপক অনিয়ম ও ভোট ছিনতাইয়ের মাধ্যমে বিজয় নিশ্চিত করতে গিয়ে ন্যক্কারজনক দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হয়। সে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দখল করেছিল ২৯৩টি আসন। তারপর ওই ব্রুট মেজরিটির অপব্যবহার করে কায়েম করা হয়েছিল একদলীয় স্বৈরশাসন। পঁচাত্তরের মধ্য আগস্টের রক্তাক্ত সামরিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সে স্বৈরশাসনের অবসান ও গণতন্ত্রের দ্বার পুনরায় অর্গলমুক্ত হয়েছিল। তারপর অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে এদেশের গণতন্ত্র এগিয়েছে শ্লথগতিতে। সেই শ্লথগতির গণতন্ত্র স্থবির হয়ে পড়েছিল বিগত আওয়ামী লীগের হাতে। সে স্থবির গণতন্ত্র পুনরায় গতি ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে চব্বিশের অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। 

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মধ্য দিয়ে এদেশে গণতন্ত্রের যে নবযাত্রা শুরু হলো, তাকে অব্যাহত রাখা এবং প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার দায়িত্ব এখন বিএনপির ওপর। যে ব্রুট মেজরিটি তারা পেয়েছে, গণতন্ত্রকে স্থায়ী রূপ দিতে তারা তার সদ্ব্যবহার করবে এটা দেশবাসীর প্রত্যাশা। ব্রুট মেজরিটির একটি খারাপ দিক হলো, এটা ক্ষমতাসীনদের অনেক সময় কর্তৃত্ববাদী করে তোলে। যেমনটি করেছিল শেখ হাসিনার সরকারকে। তারা সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সবার মতামতকে উপেক্ষা করে সংবিধান থেকে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিলুপ্তি ঘটিয়েছিল। তবে বিএনপি সে ধরনের কাজ করবে বলে মনে হয় না। অন্তত তাদের অতীত ইতিহাস তাই বলে। ১৯৭৯ সালের নির্বাচনে বিএনপি ২০৭ আসন পেয়ে সরকার গঠন করলেও তারা গণতন্ত্র বিধ্বংসী কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। ২০০১ সালে বিএনপি জোট দুই-তৃতীয়াংশ আসন নিয়ে ক্ষমতায় গেলেও কর্তৃত্ববাদী হওয়ার চেষ্টা করেনি। 

ব্রুট মেজরিটিকে রাজনৈতিক বোদ্ধারা তুলনা করে থাকেন তীক্ষ্ণধার চাকুর সঙ্গে। সে চাকু একজন শল্যবিদের হাতে থাকলে তা ব্যবহার হয় অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মানুষের জীবন বাঁচানোর কাজে। আর সে একই চাকু যদি কোনো দুর্বৃত্তের হাতে পড়ে, তাহলে তা মানুষের প্রাণ সংহারের কারণ হতে পারে। দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার চাকুটিকে বিএনপি এদেশকে সুস্থ করে তুলতে শল্যবিদদের ন্যায় ব্যহার করবে, জনগণের প্রত্যাশা সেটাই।


মহিউদ্দিন খান মোহন

সাংবাদিক ও কলাম লেখক

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা