× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

পর্যবেক্ষণ

বেকারত্ব ও নীতিনির্ধারকদের ব্যর্থতার গল্প

ড. মো. আইনুল ইসলাম

প্রকাশ : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:০২ এএম

আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২০:৪০ পিএম

ড. মো. আইনুল ইসলাম।

ড. মো. আইনুল ইসলাম।

বাংলাদেশ আজ তার ইতিহাসের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় জনমিতিক পর্যায়ে দাঁড়িয়ে আছে। মোট জনসংখ্যার একটি বিশাল অংশ তরুণ, কর্মক্ষম এবং নতুন জীবন গড়ার স্বপ্নে বিভোর। এই জনমিতিক লভ্যাংশকে কাজে লাগানোর কথা ছিল অর্থনীতির চাকাকে দ্রুততর গতিতে ঘোরানোর ইন্ধনে। কিন্তু বাস্তবতা তার ঠিক বিপরীত। প্রতিবছর শ্রমবাজারে প্রবেশ করা লাখো শিক্ষিত যুবক হতাশায় ফিরছে, উচ্চাশা ভেঙে চুরমার হচ্ছে, আর একটি পুরো প্রজন্ম নিজেকে প্রশ্ন করছে : ‘সব শিক্ষার শেষে এই কি হওয়ার কথা ছিল?’ দেশের অর্থনীতির মৌলিক কাঠামোগত দুর্বলতা, শিক্ষা ও শ্রমবাজারের মধ্যে সুস্পষ্ট বিচ্ছিন্নতা এবং নীতিনির্ধারণের দায়িত্বে থাকাদের চরম স্বার্থপরতা, সমন্বয়হীনতা ও দূরদর্শিতার অভাব আজ দেশকে এক ভয়াবহ কর্মসংস্থান সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছে, যেখানে জনমিতিক লভ্যাংশ ‘জনমিতিক অভিশাপে’ রূপ নেওয়ার উপক্রম হয়েছে।

সর্বশেষ শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৪-এর তথ্য একটি নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি করে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০২৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত শ্রমশক্তি জরিপের (এলএফএস) চূড়ান্ত প্রতিবেদনে দেশে এক বছরের ব্যবধানে বেকারের সংখ্যা বেড়েছে এক লাখ ৬০ হাজার। ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বেকারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৬ লাখ ২০ হাজারে, যা ২০২৩ সালে ছিল ২৪ লাখ ৬০ হাজার। একই সঙ্গে ২০২৪ সালে স্নাতক ডিগ্রিধারীদের মধ্যে বেকারত্বের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ দশমিক ৫০ শতাংশে, যা আগের বছর ছিল ১৩ দশমিক ১১ শতাংশ। এ সময়ে স্নাতক পাস বেকারের প্রকৃত সংখ্যা ছিল ৮ লাখ ৮৫ হাজার, যা আগের বছরের তুলনায় ২০ হাজার কম। এর মধ্যে নারীর সংখ্যা ২০ শতাংশের বেশি। ২০২৪ সালে সার্বিক জাতীয় বেকারত্বের হার ছিল ৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ। অন্যদিকে গত বছর মাধ্যমিকের নিচে পড়াশোনা করা বেকারের সংখ্যা ১ লাখের বেশি বেড়ে হয়েছে ৫ লাখ ৭ হাজার। শতকরা হিসেবে তাদের বেকারত্ব বেড়েছে ০ দশমিক ৫১ শতাংশ পয়েন্ট। শিক্ষিত নারী তরুণীদের অবস্থা আরও শোচনীয়, ২০ শতাংশের বেশি। প্রতিবছর দেশের শ্রমবাজারে প্রায় ১৪ লাখ নতুন মানুষ যোগ দিচ্ছে, কিন্তু অর্থনীতি সেই গতিতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারছে না। ফলাফল, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ বা কর্মসংস্থানÑ যেকোনোটির বাইরে থাকা যুবকের সংখ্যা (নিট) ৮৫ লাখে পৌঁছেছে, যার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই নারী। এসবই সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভাষ্য, যারা নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে সদাই ব্যস্ত। এমনতর প্রবণতা অত্যন্ত বিপজ্জনক ও উল্টো সমীকরণ, যেখানে বেশি শিক্ষা বেশি বেকারত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত। এই সংখ্যাগুলো কেবল পরিসংখ্যান নয়Ñ এটি হারিয়ে যাওয়া সম্ভাবনা, ভঙ্গুর আশা এবং একটি জাতির অসম্পূর্ণ ভবিষ্যতের করুণ চিত্র।

এই সংকটের কেন্দ্রে রয়েছে শিক্ষাব্যবস্থা ও শ্রমবাজারের মধ্যে চরম বৈপরীত্য এবং গভীর ও ক্রমবর্ধমান ফাটল। দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলো প্রচুর সংখ্যায় স্নাতক উৎপাদন করছে, কিন্তু এই শিক্ষার্থীরা বাস্তব জীবনের চাকরির বাজারে কী চায়, তার সঙ্গে তাদের পাঠ্যক্রমের সামঞ্জস্য খুবই কম। শিক্ষাব্যবস্থা এখনও বহুলাংশে তত্ত্বনির্ভর, সনদকেন্দ্রিক এবং গতানুগতিক পেশার প্রতি প্রবণ। অন্যদিকে শিল্প ও সেবা খাত দিন দিন প্রযুক্তি-নির্ভর, গতিশীল ও বিশেষায়িত দক্ষতার দিকে এগোচ্ছে। যোগাযোগ দক্ষতা, সমালোচনামূলক চিন্তা, ডিজিটাল সাক্ষরতা এবং প্রায়োগিক সমস্যা সমাধানের মতো গুণাবলির বড় অভাব নিয়ে স্নাতকরা শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। ফলস্বরূপ, চাকরিদাতারা যোগ্য প্রার্থীর সন্ধান পান না, আর শিক্ষিত যুবকরা নিজেদের অযোগ্য মনে করে হতাশায় ডুবে যায়। এটি একটি ‘দক্ষতার সংকট’ যা নীতিনির্ধারকদের অবহেলায় কাঠামোগত সমস্যায় পরিণত হয়েছে। অর্থনীতির মৌলিক কাঠামোয় বিদ্যমান দুর্বলতাগুলোও এই সংকটকে তীব্রতর করেছে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি গত এক দশক ধরে চোখে পড়ার মতো হলেও, এই প্রবৃদ্ধি ‘কর্মসংস্থান-সৃষ্টিকারী’ নয়, বরং ‘কর্মসংস্থানবিহীন’প্রবৃদ্ধির চরিত্র ধারণ করেছে।

কৃষি খাত এখনও মোট শ্রমশক্তির প্রায় ৪৫ শতাংশকে নিয়োজিত রেখেছে, যদিও এর জিডিপিতে অবদান তুলনামূলক কম। শিল্প খাত, যা উৎপাদনশীল ও ভালো মানের চাকরি সৃষ্টির মূল হাতিয়ার হতে পারত, তা মাত্র ১৭ শতাংশ কর্মসংস্থানের জোগান দিচ্ছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, উৎপাদনশীল খাত, বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্পে কর্মসংস্থান গত একদশকে স্থবির বা হ্রাস পেয়েছে। অন্যদিকে শ্রমবাজারে অনানুষ্ঠানিকতার চিত্র ভয়াবহ; ৮৪ শতাংশ কর্মসংস্থান অনানুষ্ঠানিক খাতে, যেখানে চুক্তি, সামাজিক সুরক্ষা বা ক্যারিয়ার উন্নয়নের সুযোগ নামমাত্র। শহরাঞ্চলেও মাত্র এক-চতুর্থাংশ শ্রমিক আনুষ্ঠানিক চাকরিতে নিয়োজিত। অর্থাৎ, যুবকরা চাকরি পেলেও তা প্রায়শই অনিশ্চিত, অরক্ষিত এবং ভবিষ্যতের জন্য কোনো সুযোগ তৈরি করে না।

নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সমন্বয়হীনতা ও স্বল্পদৃষ্টি এই সংকটকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে। শিক্ষা, শিল্প, বাণিজ্য, যুব ও ক্রীড়াসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়ন নিয়ে কার্যকর সমন্বয়ের অভাব প্রকট। ফলাফল হলো বিচ্ছিন্ন ও কখনও কখনও পরস্পরবিরোধী প্রকল্প ও নীতি। শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতা উন্নয়নের জন্য কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ (টিভিইটি) খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা থাকলেও, সামাজিকভাবে এটি এখনও ‘দ্বিতীয় পছন্দ’হিসেবে বিবেচিত এবং প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ ও মানোন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। অন্যদিকে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ, যা নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির মূল চালিকাশক্তি, তা নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে। জ্বালানি সংকট, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, ঋণের উচ্চ সুদ, ব্যাংকিং খাতের অস্থিরতা এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের মনোবল ভেঙে দিয়েছে। গত কয়েক বছরে শত শত কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং হাজার হাজার শ্রমিকের চাকরি চলে যাওয়ার ঘটনা এই উদ্বেগকেই ঘনীভূত করেছে।

নারী তরুণ-বয়সীদের জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল ও নাজুক। সামাজিক রীতিনীতি, নিরাপত্তাহীনতা, পরিবহন সংকট এবং সন্তান পালনের দায়িত্বÑ এসব বিষয় নারীদের শ্রমবাজারে প্রবেশ ও টিকে থাকাকে দুরূহ করে তুলেছে। উচ্চশিক্ষিত নারীরাও একইভাবে বেকারত্বের উচ্চ হারের শিকার। কর্মক্ষেত্রে নারীবান্ধব পরিবেশ, যেমন কাজের সময়, শিশুযত্ন সুবিধা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি নীতিনির্ধারকদের এজেন্ডায় এখনও ততটা গুরুত্ব পায়নি। ফলে দেশ তার অর্ধেক জনশক্তির সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারছে না, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক উৎপাদনশীলতা ও প্রবৃদ্ধির জন্য একটি বড় ক্ষতি। আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটও এই সংকটকে আরও তীব্র করছে। বৈশ্বিক মন্দা, সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন এবং প্রতিযোগিতামূলক বাজারের চাপ বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাতকে প্রভাবিত করেছে। এতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি সীমিত হয়েছে। প্রযুক্তি ও আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স বাংলাদেশে নতুন চাকরিপ্রার্থীদের কপালে বলা যায়, প্রতিনিয়ত পেরেক ঠুকে দিচ্ছে। আসন্ন স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) উত্তরণের পর রপ্তানি বাজারে বিশেষ সুবিধা হারানোরও ঝুঁকি রয়েছে, যা উৎপাদন ও কর্মসংস্থান উভয়ের জন্যই নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।

বাংলাদেশের বর্তমান কর্মসংস্থান সংকটকে কেবল একটি অস্থায়ী অর্থনৈতিক মন্দা হিসেবে দেখা চরম ভুল হবে; বরং এটি একটি গভীর কাঠামোগত ব্যর্থতা, যা একাধিক প্রতিষ্ঠিত অর্থনৈতিক তত্ত্বের আলোকেই স্পষ্ট হয়। প্রথমত, আর্থার লুইসের ‘দ্বৈত-অর্থনীতি মডেল’-এর প্রিজমে দেখলে, বাংলাদেশে কৃষি থেকে উচ্চ-উৎপাদনশীল শিল্প ও সেবা খাতে শ্রমশক্তির স্থানান্তর আশানুরূপ গতিতে ঘটেনি। যদিও কৃষির জিডিপি অংশ কমেছে, তবু এখানে ৪৫ শতাংশ শ্রমশক্তি আটকে আছে, যা নিম্ন উৎপাদনশীলতা ও আয়ের প্রতিফলন। শিল্প খাত, বিশেষত উৎপাদন খাত, পর্যাপ্ত শোষণক্ষমতা তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে ‘সীমাহীন শ্রম সরবরাহ’-এর সেই সম্ভাবনাময় পর্যায় কখনোই পূর্ণ উৎপাদনশীল রূপান্তরের দিকে যায়নি। দ্বিতীয়ত, মানবপুঁজি তত্ত্ব অনুযায়ী, শিক্ষায় বিনিয়োগ স্বয়ংক্রিয়ভাবে উচ্চ উৎপাদনশীলতা ও আয় তৈরি করে না; বিনিয়োগটিকে কার্যকর ও চাহিদাসংগত হতে হয়। বাংলাদেশে শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে শ্রমবাজারের চাহিদার বিস্তর ফারাক এই তত্ত্বের ব্যর্থ প্রয়োগকেই নির্দেশ করে, যার ফলাফল শিক্ষিত বেকারত্ব। তৃতীয়ত, আর্থার ওকুনের সূত্র অনুসারে, জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও বেকারত্বের হারের মধ্যে একটি স্থিতিশীল বিপরীতমুখী সম্পর্ক থাকে। কিন্তু বাংলাদেশের ‘কর্মসংস্থানবিহীন প্রবৃদ্ধি’এই সম্পর্ককে দুর্বল ও ভঙ্গুর করেছে, যার অর্থ প্রবৃদ্ধি মূলধন নিবিড় বা কম উৎপাদনশীল খাতে কেন্দ্রীভূত হচ্ছে, যা শ্রমশক্তিকে পর্যাপ্তভাবে শোষণ করতে পারছে না। চতুর্থত, কাঠামোগত বেকারত্ব তত্ত্ব সরাসরি এখানে প্রযোজ্য, যেখানে শ্রমের জোগান ও চাহিদার মধ্যে দক্ষতা, ভৌগোলিক অবস্থান বা তথ্যের অসমতার কারণে বেমানান সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশে শিক্ষা কারিকুলাম ও শিল্পের চাহিদার বিশাল ব্যবধান, নারী শ্রমিকদের গতিশীলতায় সামাজিক-অবকাঠামোগত বাধা এবং শহর-গ্রামের সুযোগের বৈষম্যÑ সবই এই কাঠামোগত বেকারত্বকে তীব্র করে তুলেছে। সর্বোপরি, জনমিতিক রূপান্তর তত্ত্ব সতর্ক করে যে, জনমিতিক লভ্যাংশ স্বয়ংক্রিয় সুবিধা নয়; এর জন্য প্রয়োজন গুণগত শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও উপযুক্ত অর্থনৈতিক নীতি-কাঠামো। নীতিনির্ধারকদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের অভাব, মানবপুঁজিতে যথাযথ বিনিয়োগ না করা এবং একটি প্রগতিশীল শিল্পনীতি না গ্রহণ করায় বাংলাদেশ জনমিতিক সুবিধাকে পূর্ণাঙ্গভাবে কাজে লাগানোর সুযোগ হাতছাড়া করছে, যা অর্থনৈতিক উন্নয়নের তত্ত্বীয় ভিত্তির সঙ্গে স্পষ্ট সাংঘর্ষিক ও জনগণের সঙ্গে সামাজিক চুক্তির বরখেলাপ।

এই সংকট থেকে উত্তরণের পথ সহজ নয়, কিন্তু অসম্ভবও নয়। প্রথম ও প্রধান শর্ত হলো, স্বজনতুষ্টি চিন্তা-ভাবনা ও স্বার্থপর মানসিকতা ত্যাগ করে নীতিনির্ধারকদের এই সমস্যাটির গভীরতা ও জরুরিত্ব স্বীকার করে একটি সমন্বিত, দীর্ঘমেয়াদি ও বাস্তবায়নযোগ্য জাতীয় কর্মসংস্থান কৌশল প্রণয়ন করা। এই কৌশল অবশ্যই শিক্ষাব্যবস্থার আমূল সংস্কারের মাধ্যমে শুরু হতে হবে। শিক্ষার পাঠ্যক্রম ও পদ্ধতিকে শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে মর্যাদাপূর্ণ ও আধুনিকায়ন করতে হবে এবং শিল্প ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সরাসরি সংযোগ তৈরি করতে হবে। দ্বিতীয়ত, উৎপাদনশীল খাত, বিশেষ করে উচ্চ-উৎপাদনশীলতাসম্পন্ন শিল্প ও আধুনিক সেবা খাতের বিকাশে সব ধরনের নীতি-সহায়তা দিতে হবে, যাতে বেশিসংখ্যক ভালো মানের চাকরি সৃষ্টি হয়। তৃতীয়ত, যুব উদ্যোক্তা সৃষ্টির পরিবেশ গড়ে তুলতে সহজ শর্তে ঋণ-সুবিধা, প্রশিক্ষণ, বাজার সংযোগ এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। চতুর্থত, নারীর অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়াতে সামাজিক নিরাপত্তা, কর্মক্ষেত্রের সুযোগ-সুবিধা এবং গণপরিবহনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

প্রবীণ ও নিজেদের আখের গুছিয়ে নেওয়ায় সদাব্যস্ত দেশের কর্ণধারদের স্বাধীনতার অর্ধশতক পরে এসে অন্তত অনুধাবন করা উচিত, জনমিতিক লভ্যাংশের এই ঐতিহাসিক একটি সময়সীমা সীমাবদ্ধ ও শত বছর পরে পাওয়া এক সুযোগ। বাংলাদেশ বর্তমানে এই সুযোগের মাঝামাঝি পর্যায়ে রয়েছে। এই সোনালি সময়ে যদি দেশ তার যুবশক্তিকে শিক্ষিত, দক্ষ ও উৎপাদনশীল কর্মীতে রূপান্তরিত করতে ব্যর্থ হয়, তবে এই লভ্যাংশ দ্রুত একটি বিরাট জনসংখ্যাগত বোঝায় পরিণত হবে, যার অর্থনৈতিক ও সামাজিক মূল্য হবে ভয়াবহ। নীতিনির্ধারকদের এখনই জাগ্রত হতে হবে, দায়িত্ব নিতে হবে এবং পরবর্তী কয়েকটি প্রজন্মকে হতাশা থেকে রক্ষা করে দেশের উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করার জন্য কার্যকর ও সাহসী পদক্ষেপ নিতে হবে। সময় দ্রুতই ফুরিয়ে আসছে।


 

ড. মো. আইনুল ইসলাম

অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা