× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ইমেইল থেকে

বিএনপির বিজয় ও জনপ্রত্যাশা

মোস্তাকিম ভূঞা

প্রকাশ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:২৬ এএম

সারাদেশে বৃহস্পতিবার উৎসবমূখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ছবিটি চাপাইনবাগঞ্জ আংগাড়িয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে তোলা। ছবি: ফোকাস বাংলা

সারাদেশে বৃহস্পতিবার উৎসবমূখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ছবিটি চাপাইনবাগঞ্জ আংগাড়িয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে তোলা। ছবি: ফোকাস বাংলা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বিশাল বিজয় দেশের রাজনীতিতে একটি তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা করেছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং আস্থাহীনতার পর এই স্পষ্ট জনরায়Ñ দেশের গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতার জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে। এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন : সরকার গঠন ও রাষ্ট্র পরিচালনায় এই বিজয় কীভাবে রূপ নেবে এবং আগামীর বাংলাদেশ কেমন হবে?

এ কথা সত্য যে, বড় ধরনের  জয়ের ফলে সরকার গঠনে সাংবিধানিক জটিলতা কম থাকে। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা যত বড়ই হোক, কার্যকর শাসনের জন্য দরকার দক্ষ মন্ত্রিসভা, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং নীতিগত স্বচ্ছতা। সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশ্ন, দলীয় কাঠামোর পুনর্বিন্যাস এবং জোট-রাজনীতির ভবিষ্যৎÑ সবই এখন আলোচ্য।

বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে নানা চাপে রয়েছেÑ উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট, জ্বালানি ব্যয় এবং রপ্তানি প্রতিযোগিতা। নতুন সরকারের জন্য প্রথম চ্যালেঞ্জ হবে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা। বাজেট শৃঙ্খলা, ব্যাংকিং খাতের সংস্কার এবং দুর্নীতি দমনÑ এই তিনটি বিষয়ে দ্রুত ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ প্রত্যাশিত। পোশাক খাত, প্রবাসী আয় ও কৃষিÑ এই তিন স্তম্ভকে শক্তিশালী করা জরুরি। একই সঙ্গে প্রযুক্তি, তথ্যপ্রযুক্তি সেবা ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে আস্থা পুনর্গঠনও গুরুত্বপূর্ণ, যাতে বৈদেশিক বিনিয়োগ প্রবাহ অব্যাহত থাকে। অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদার করে রপ্তানি বাজার বৈচিত্র্য করা নতুন সরকারের দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের চাবিকাঠি হতে পারে।

তাই আমি মনে করি, সরকার গঠনের প্রথম ধাপ হওয়া উচিত একটি সুসংগঠিত নীতিপ্রস্তাবনা প্রকাশ, যেখানে অর্থনীতি, জ্বালানি, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের স্পষ্ট রূপরেখা থাকবে। এই ক্ষেত্রে নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোকে সময়সীমা ও সূচকভিত্তিক কর্মপরিকল্পনায় রূপান্তর করা জরুরি। পাশাপাশি প্রশাসনে রাজনৈতিক প্রভাব কমিয়ে পেশাদারত্ব নিশ্চিত করা নতুন সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়বে।

এই বিজয় যেমন শক্তিশালী ম্যান্ডেট দিয়েছে, তেমনি বিরোধী কণ্ঠকে সম্মান করার দায়িত্বও বাড়িয়েছে। সংসদকে কার্যকর বিতর্কের মঞ্চে পরিণত করা, স্থায়ী কমিটিগুলোকে সক্রিয় করা এবং নির্বাচন কমিশন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা গণতন্ত্রের স্বাস্থ্য রক্ষায় অপরিহার্য। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা যেকোনো সরকারের নৈতিক ভিত্তি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পেশাদারত্ব, মানবাধিকার মানদণ্ডের প্রতি শ্রদ্ধা এবং স্বচ্ছ তদন্তপ্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি ভাঙতে হলে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দ্রুত বিচারব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা, নারী ও শিশুর সুরক্ষা এবং ডিজিটাল নিরাপত্তাÑ এসব ক্ষেত্রে ভারসাম্যপূর্ণ নীতি প্রয়োজন। রাষ্ট্রের শক্তি প্রদর্শনের চেয়ে নাগরিকের আস্থা অর্জনই বেশি কার্যকর।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে গুণগত উন্নয়ন ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। পাঠ্যক্রম আধুনিকীকরণ, কারিগরি শিক্ষায় জোর এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার প্রসারÑ এসব পদক্ষেপ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে শক্তিশালী করবে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলোকে লক্ষ্যভিত্তিক ও স্বচ্ছ করতে হবে, যাতে প্রকৃত সুবিধাভোগীরা উপকৃত হন। ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা করা নতুন সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা বহন করবে। বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক, বাণিজ্য ও নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং প্রবাসী স্বার্থ রক্ষাÑ এসব বিষয়ে বাস্তববাদী কূটনীতি দরকার। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়ে বহুমুখী অংশীদারত্ব গড়ে তোলা হবে বুদ্ধিমানের কাজ।

আসলে যেকোনো বিজয় জনতার উচ্চপ্রত্যাশা তৈরি করে। দ্রুত ফল দেখানোর চাপ যেমন থাকবে, তেমনি প্রশাসনিক জড়তা ও রাজনৈতিক প্রতিরোধও সামনে আসতে পারে। তাই সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতা, অংশীজনদের সঙ্গে পরামর্শ এবং ধাপে ধাপে সংস্কার বাস্তবায়নের কৌশল গ্রহণযোগ্যতা বাড়াবে।

মনে রাখতে হবে, বিজয় কেবল শুরু; প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে শাসনের মানের ওপর। যদি নতুন সরকার জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও অন্তর্ভুক্তির নীতিতে অটল থাকে, তবে আগামীর বাংলাদেশ হতে পারে স্থিতিশীল, বিনিয়োগবান্ধব ও মানবিক এক রাষ্ট্র। আর যদি ম্যান্ডেটকে একচ্ছত্র ক্ষমতার লাইসেন্স হিসেবে দেখা হয়, তবে সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার ঝুঁকিও থাকবে। বাংলাদেশের জনগণ স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। এখন দায়িত্ব নতুন সরকারেরÑ সেই বার্তাকে নীতি ও কর্মে রূপ দেওয়া। গণতন্ত্রের সৌন্দর্য এখানেই : জনগণই চূড়ান্ত বিচারক।


মোস্তাকিম ভূঞা

জনসংযোগ কর্মকর্তা, বিআরটিসি

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা