× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ফিরে আসুক আমাদের হারানো নদীরা

সম্পাদকীয়

প্রকাশ : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:৩৮ এএম

শুধু ঢাকার চারপাশের নদনদীই দখল-দূষণের কবলে তা নয়, দেশের অধিকাংশ নদীর একই অবস্থা।

শুধু ঢাকার চারপাশের নদনদীই দখল-দূষণের কবলে তা নয়, দেশের অধিকাংশ নদীর একই অবস্থা।

নদীমেখলা দেশ আমাদের। আমাদের সভ্যতা নদীকেন্দ্রিক। নদী হারিয়ে যাওয়া মানে সভ্যতা ও অস্তিত্ব হারানো। নদী নষ্ট হওয়ার অর্থ আমাদের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়া। আমাদের রাজধানী ঢাকার চারপাশে রয়েছে চারটি নদী- বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, তুরাগ ও বালু। একসময় শহরের ভেতরে সচল ছিল এই নদনদীগুলোর অর্ধশতাধিক খাল। এসব নদী ও খাল মিলে ঢাকা ছিল অপরূপা। অথচ দুঃখজনক বাস্তবতা হলোÑ নদীগুলো দখলে-দূষণে ক্ষীণ হয়ে আসছে আর অনেক খালই আজ নেই। খালগুলো যেন ভাগাড়। শিল্পবর্জ্য, ট্যানারি ও ডাইং কারখানার বিষাক্ত নির্গমন, অপরিশোধিত পয়ঃনিষ্কাশন, প্লাস্টিক বর্জ্য এবং দখল-ভরাটের কারণে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও বাস্তুতন্ত্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যা জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য হুমকি। 

জানা গেছে, নদীগুলোতে চার শতাধিক পয়েন্ট দিয়ে নিয়মিত পড়ছে কঠিন বর্জ্য ও পয়ঃবর্জ্য। অথচ এই নদীগুলো রক্ষার দাবিতে ঢাকাবাসী কয়েক দশক ধরে আন্দোলন করে আসছে। উচ্চ আদালত থেকে দফায় দফায় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এসব নির্দেশনা খুব কমই বাস্তবায়ন করা হয়েছে। মাঝেমধ্যেই নদী দখলদারদের উচ্ছেদ করা হয়। কিছুদিনের মধ্যেই আবার সেগুলো দখল হয়ে যায়। শুধু ঢাকার চারপাশের নদনদীই দখল-দূষণের কবলে তা নয়, দেশের অধিকাংশ নদীর একই অবস্থা।

এমন এক বাস্তবতায় ঢাকা ও আশপাশের এলাকার নদনদী, খাল ও জলাশয়কে নিয়ে গণমাধ্যমে এক ‘সুখবর’ জানা গেল। ক্রমবর্ধমান এই দূষণ রোধ এবং ভেঙেপড়া স্যানিটেশন ব্যবস্থাকে পুনর্গঠনের লক্ষ্যে বাংলাদেশকে ৩৭ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে সংস্থাটির প্রধান কার্যালয়ে নির্বাহী পরিচালকদের সভায় এই অর্থায়ন অনুমোদন করা হয়। ১১ ফেব্রুয়ারি, বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিস থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে নদনদীর দূষণ কমাতে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী উদ্যোগ। 

উল্লেখ্য, ‘মেট্রো ঢাকা ওয়াটার সিকিউরিটি অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স’ শীর্ষক এই কর্মসূচির আওতায় ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, ঢাকা ওয়াসাসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো হবে। প্রকল্পটির লক্ষ্য রাজধানী ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নদী ও খালের পানি দূষণ কমিয়ে আনা, নগরবাসীর জন্য নিরাপদ পানি নিশ্চিত করা এবং আধুনিক স্যানিটেশন ব্যবস্থা গড়ে তোলা। এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ উন্নত স্যানিটেশন সুবিধা পাবে এবং প্রায় ৫ লাখ মানুষ আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সেবার আওতায় আসবে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে সেবা বঞ্চিত ও দূষণপ্রবণ এলাকাগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বলে রাখা ভালো, ঢাকার পানি ও স্যানিটেশন খাতে বিশ্বব্যাংকের এটি প্রথম প্রকল্প নয়। এর আগেও ওয়াসার সক্ষমতা বাড়াতে এবং স্যুয়ারেজ অবকাঠামো উন্নয়নে একাধিক ঋণ ও অনুদান এসেছে। কিন্তু বাস্তবায়নের ধীরগতি, ভূমি জটিলতা, সমন্বয়হীনতা এবং স্থানীয় সরকারের দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে অনেক প্রকল্পই কাঙ্ক্ষিত ফল দিতে পারেনি। এই প্রকল্পের ক্ষেত্রে যেন অতীতের অশুভ ছায়া না পড়ে সেটাই কাম্য।

দেশের কৃষিকাজ, পানি বিদ্যুৎ, পানি সেচ, ব্যবস্থা সুলভ পানিপথ পরিবহন, পানীয় জলের জোগান, মৎস্য উৎপাদন, শহর ও শিল্পকেন্দ্রে এর প্রভাব খুবই বেশি। পদ্মা, মেঘনা, যমুনা থেকে শুরু করে অসংখ্য শাখা-উপ নদী আমাদের অর্থনীতি, কৃষি, নৌ পরিবহন ও জীববৈচিত্র্যের প্রাণস্রোত। আর রাজধানী ঢাকার সঙ্গে নৌপথে সমগ্র দেশের মেলবন্ধন খুবই সুদৃঢ়। জআমরা মনে করি, পানিদূষণ কমলে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষিত হবে। দূষিত পানি থেকে সৃষ্ট ডায়রিয়া, চর্মরোগÑ এমনকি দীর্ঘমেয়াদি ক্যানসারের ঝুঁকিও হ্রাস পাবে। মৎস্য সম্পদ ও জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধার হবে, যা নদীকেন্দ্রিক জীবিকা-নির্ভর মানুষের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের ভাবমূর্তি শক্তিশালী হবে, যা রপ্তানি-নির্ভর অর্থনীতির জন্যও সহায়ক।

তবে অর্থায়নই যে সমাধান তা নয়, কার্যকর বাস্তবায়নই মূল চ্যালেঞ্জ। আমরা অতীতে দেখেছি, অনেক প্রকল্প কাগজে-কলমে সফল হলেও মাঠপর্যায়ে কাঙ্ক্ষিত ফল মেলেনি। কোথাও প্রকল্প ব্যয়ে অস্বচ্ছতা, কোথাও দীর্ঘসূত্রতা, আবার কোথাও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে স্থাপনা অচল হয়ে পড়েছে। নদীদূষণ রোধের প্রকল্পও যদি একই পরিণতির শিকার হয়, তবে তা হবে জাতীয় স্বার্থের অপূরণীয় ক্ষতি। তাই প্রকল্প পরিকল্পনা, দরপত্র প্রক্রিয়া, বাস্তবায়ন ও তদারকিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার, পরিবেশ অধিদপ্তর, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য। পাশাপাশি নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি করাও গুরুত্বপূর্ণ। নদীতে ময়লা ফেলা, প্লাস্টিক ব্যবহার ও অবৈধ দখল রোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

এ কথা সত্য যে, বিশ্বব্যাংকের এই অর্থায়ন একটি সুযোগ, কিন্তু এটি শেষ ভরসা নয়। আমাদের নিজেদের রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রশাসনিক দক্ষতা ও নাগরিক দায়িত্ববোধ ছাড়া নদী রক্ষা সম্ভব নয়। নদী বাঁচলে দেশ বাঁচবেÑ এই বোধ সামনে রেখে অর্থায়নকে টেকসই ফলাফলে রূপ দিতে হবে। আজকের এই উদ্যোগ যেন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পরিচ্ছন্ন ও প্রবহমান নদীর নিশ্চয়তা হয়ে ওঠেÑ এটাই হোক প্রত্যাশা। আমরা চাই, আমাদের নষ্ট হওয়া, হারিয়ে যেতে বসা নদীগুলো উজ্জ্বল হয়ে ফিরে আসুক। আমাদের জীবনধারা হোক প্রাণবন্ত।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা