× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

নির্বাচনি যাত্রা

ভালো হোক শেষটা

সম্পাদকীয়

প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:২২ এএম

ভালো হোক শেষটা

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে একযোগে অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। এ উপলক্ষে দেশব্যাপী বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনায় চলছে নির্বাচনি প্রচার। পরিবেশ এখনও সৌহার্দ্যপূর্ণ রয়েছে, যা দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত। রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীরা পরস্পর-পরস্পরের প্রতি আক্রমণাত্মক বাক্যবাণ ছুড়লেও তা মূলত রাজনৈতিক প্রচারণারই কৌশল। কারণ এই আক্রমণাত্মক বাক্যবাণে নেই ঘৃণা ও বিদ্বেষ ছড়ানোর অপচেষ্টা। ফলে এখনও পর্যন্ত ভোটের মাঠে যে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রয়েছে তা স্বস্তিদায়ক এবং নির্বাচনকে প্রকৃত প্রস্তাবেই উৎসবমুখর করে তোলার অনুকূল। 

এই প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘সারা দেশে উৎসবমুখর ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচনী প্রচারণা চলছে, যা দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।’ প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এ প্রকাশিত ‘ভোট নিখুঁত করাটাই এখন প্রধান লক্ষ্য’ শিরোনামের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় নির্বাচন প্রস্তুতি সংক্রান্ত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, ‘এখন পর্যন্ত কোথাও কটু বক্তব্য, অশালীন আচরণ বা প্রতিপক্ষের প্রতি অবমাননাকর ভাষার ব্যবহার লক্ষ করা যায়নি। প্রস্তুতির এই ধাপটি অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং এ নিয়ে সরকারও সন্তুষ্ট।’ তার মতে, এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করা, যাতে ভোটটি সত্যিকার অর্থেই ‘পারফেক্ট’ হয়। আমরাও সেই প্রত্যাশাই করছি। কারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ক্ষণ গণনায় এখন ভোটাররা অধীর আগ্রহে নির্ধারিত সময়ের অপেক্ষা করছেনÑ যাতে তারা উৎসবমুখর পরিবেশে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ও আনন্দের সঙ্গে ভোট দিতে পারেন। মানুষের এই প্রত্যাশার প্রতি সাড়া দিয়ে প্রধান উপদেষ্টাও আশা প্রকাশ করেছেন, এই নির্বাচন দেশের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’

আমরাও ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকার সেই মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষা করছি। পুরো জাতি দীর্ঘদিন পর ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য উন্মুখ হয়ে আছেন। তাদের সেই আকাঙ্ক্ষা যাতে কোনোভাবেই ব্যর্থ না হয়, তা নিশ্চিত করার দায় সরকার ও নির্বাচন কমিশনের। রাজনৈতিক দলগুলোরও এক্ষেত্রে দায়িত্ব এড়ানোর সুযোগ নেই। এজন্য ভয়ভীতিহীন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনে কোনো ছাড় দেয়ার অবকাশ নেই। যদিও নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে নানা অপকর্মও থেমে নেই। অভিযোগ রয়েছে, একটি মহল উদ্দেশ্যমূলকভাবে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করছে। অস্বীকার করার সুযোগ নেই যে, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর বিচ্ছিন্নভাবে দেশের নানা স্থানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নাজুক করে তোলার অপচেষ্টা হয়েছিল। তবে আশার কথা, সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তা অনেকাংশেই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তারপরও নির্বাচনের আগে কোনো অপশক্তিই যেন আইনশৃঙ্খলাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে না পারে, জনমনে যেন ভীতির সঞ্চার না হয়, সেদিকে সতর্ক থাকা জরুরি।

আমরা মনে করি, নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও যথাযথ দায়িত্ব পালনের মাধ্যমেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা সম্ভবÑ যার মাধ্যমেই নিশ্চিত হতে পারে ভোটের সুষ্ঠু ও স্বাভাবিক পরিবেশ, যা একই সঙ্গে ভোটারদেরও নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে সহায়ক। আমরা প্রত্যাশা করি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীগুলো তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের মাধ্যমে একটি অবাধ-নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দেবে, যা দেশের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকার উদাহরণ তৈরি করবে। ফল প্রকাশের পর নির্বাচনোত্তর পরিবেশ সুষ্ঠু, স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ রাখাটাও খুবই জরুরি বিষয়। সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। 

আমাদের সবারই মনে রাখা প্রয়োজন কোনো কারণে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হলে তার মাশুল পুরো জাতিকেই দিতে হবে। তাই নির্বাচনকে অবাধ-নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু করতে নির্বাচন কমিশন, সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর যেমন ভূমিকা রয়েছে, তেমনি ছোট-বড় সব রাজনৈতিক দলকেও সহনশীলতার পরিচয় দিতে হবে। তাদের দায়িত্বশীল আচরণই সব প্রার্থীর জন্য ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ তৈরি করতে নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করবে। 

সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারেরও মহিমান্বিত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। কারও দায়িত্বহীনতায় অতীতের মতো প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে তা বর্তমান সরকারকেও ইতিহাসের আঁস্তাকুড়ে নিক্ষেপ করতে পারে। আমরা মনে করি, সুযোগ বারবার আসে না। তাই প্রাপ্ত সুযোগের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে কেউই দ্বিধান্বিত হবেন না। সব ষড়যন্ত্র ও শঙ্কা কাটিয়ে আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু, সুন্দর, নিরপেক্ষ এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য হোক, এটাই প্রত্যাশা।

আমরা মোটামুটি সুষ্ঠুভাবেই নির্বাচনী যাত্রায় অনেক দূর এগিয়ে এসেছি। তবে সব ভালো তার, শেষ ভালো যার। তাই আমাদের প্রত্যাশা শেষটা হোক ভালো, হোক শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু, নিরাপদ ও উৎসবমুখর।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা