× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

পর্যবেক্ষণ

শেষ মুহূর্তের হিসাব-নিকাশ

মহিউদ্দিন খান মোহন

প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:১৩ এএম

আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:১৪ এএম

শেষ মুহূর্তের হিসাব-নিকাশ

এই নিবন্ধটি যেদিন বেরোবে, তার তিন দিন পরেই অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। এতদিন যারা এই নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে সংশয়ের দোলাচলে দুলছিলেন, তারা এখন আশ্বস্ত দেশে রাজনৈতিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। দেশবাসী আশা করছে অতীত ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে পরবর্তী রাজনৈতিক সরকার তাদের কর্মকাণ্ড ও আচরণে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে সর্বোচ্চে স্থান দেবে। একটি রাজনৈতিক সরকারের টিকে থাকা এবং ভবিষ্যতে হারিয়ে না যাওয়ার প্রধান নিয়ামক গণতান্ত্রিক আচরণ। প্রয়াত মার্কিন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের অমর উক্তিÑ ‘দ্য গভর্নমেন্ট অব দ্য পিপল, বাই দ্য পিপল, ফর দ্য পিপল শ্যাল নট প্যারিসড ফ্রম আর্থ’ একটি গণতান্ত্রিক সরকারের গঠন, দায়িত্ব ও টিকে থাকার সংজ্ঞা হিসেবে স্বীকৃত। তিনি বুঝিয়েছেন, যে সরকার জনগণের দ্বারা নির্বাচিত এবং জনগণের জন্য কাজ করে, সে সরকার কখনোই হারিয়ে যেতে পারে না। এ ব্যাখ্যায় কিছুটা ভুল বোঝাবুঝির অবকাশ থাকতে পারে। প্রশ্ন উঠতে পারেÑ তাহলে কি একটি সরকার চিরদিন ক্ষমতায় থাকবে? না, মোটেও তা নয়। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সরকার বদল স্বাভাবিক। সরকার বলতে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলকেই বোঝায়। রাষ্ট্রক্ষমতা থেকে সরে গেলেই একটি রাজনৈতিক দল একেবারে হারিয়ে যাবে, এমন কোনো কথা নেই। ক্ষমতাসীন সরকার যদি রাষ্ট্র পরিচালনায় নিয়োজিত থেকে জনগণের কল্যাণে কাজ করে, তাহলে পুনরায় তাদের সরকারে ফিরে আসার সুযোগ ও সম্ভাবনা অবারিতই থাকে। আর যে দল ক্ষমতায় থাকতে দেশ ও জনগণের কথা চিন্তা না করে দলীয় সংকীর্ণতায় আচ্ছন্ন হয়ে গোষ্ঠীস্বার্থ চরিতার্থে ব্যাপৃত হয়, তাদের পুনরায় সরকারে ফিরে আসা এবং রাজনৈতিকভাবে টিকে থাকা দুষ্কর হয়ে পড়ে। আমাদের দেশের নিকট অতীতেই রয়েছে তার উদাহরণ।

আসন্ন নির্বাচনে কারা জয়ী হবে এখন সে জল্পনা-কল্পনা চলছে। বলার অবকাশ নেই, এবার নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে একসময়ের মিত্রদের মধ্যেই। অন্তর্বর্তী সরকারের নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশের অন্যতম রাজনৈতিক শক্তি আওয়ামী লীগ এবারের নির্বাচনী লড়াইয়ের মাঠে অনুপস্থিত। ফলে বিএনপি ও তাদের একসময়ের ভোট ও জোটসঙ্গী জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে মূল লড়াইটা হচ্ছে। যদিও সাংগঠনিক বিস্তৃতি ও জনসমর্থনে জামায়াতে ইসলামী বিএনপির তুলনায় অনেকটাই কৃশকায়। তবে কায়দা-কৌশলে তারা বিএনপির চেয়ে যে কম যায় না, তা ইতোমধ্যে স্পষ্ট হয়েছে। ফলে কোথাও কোথাও জামায়াতের প্রার্থীরা বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থীদেরও শিরোপীড়ার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

বর্তমান বাস্তবতায় বিএনপির জয়লাভের বিষয়ে কারও সংশয় থাকার কথা নয়। তবে অনেকের ধারণা এবারের নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী অতীতের তুলনায় অনেক ভালো ফল করায়ত্ত করবে। দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এর দ্বিতীয় জরিপেও তারই প্রতিফলন ঘটেছে। জরিপটি প্রকাশিত হয়েছে গত ৩ ফেব্রুয়ারি। এর আগে প্রতিদিনের বাংলাদেশ আরও একটি জরিপ প্রকাশ করেছিল ২৭ জানুয়ারি। দ্বিতীয় জরিপের ফলাফল অনুযায়ী বিএনপি এগিয়ে রয়েছে ১৭১টি আসনে। অপরদিকে জামায়াতে ইসলামী ৪৯টি আসনে এগিয়ে আছে। আর ৩৯টি আসনে হবে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। অন্যদিকে বিএনপির ৭১ জন বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে ১৫ জন এগিয়ে আছেন বলে জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিদিনের বাংলাদেশ তৃতীয় কোনো জরিপ চালাবে কি না জানি না। তবে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ভোটের মাঠের রঙ-রূপ বদলে যাওয়া বিচিত্র কিছু নয়। প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দল বা প্রার্থীর একটি সামান্য ভুল আচরণ কিংবা বক্তব্য-মন্তব্য ভোটের গণেশ উল্টে দিতে পারে। 

প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এর জরিপের ফলাফল বাস্তবতার খুব কাছাকাছি, এটা বলা অত্যুক্তি হবে না। বিএনপি এককভাবে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারলেও ‘বিদ্রোহী স্বতন্ত্র’ প্রার্থী যারা বিজয়ী হবেন, তাদের সমন্বয়ে দলটি দুই শতাধিক আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভের সম্ভাবনা প্রবল। জরিপে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ১৫টি আসনে এগিয়ে থাকার কথা বলা হলেও কারও কারও মতে এ সংখ্যা ৩৫ থেকে ৪০টিতে দাঁড়াতে পারে। তবে তাতে বিএনপির দুশ্চিন্তার কিছু নেই। কেননা, বিদ্রোহী-স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বিএনপিরই নিবেদিতপ্রাণ নেতা। বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন এবং সংসদে ভোটাভুটির প্রশ্নে তারা যে বিএনপিকেই দ্ব্যর্থহীন সমর্থন দেবে তা নিয়ে কারও সংশয় বা সন্দেহ নেই।

এদিকে এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ঐতিহ্যের অন্যতম অনুষঙ্গ কাদা ছোড়াছুড়ির সরব উপস্থিতি দেশবাসীকে অনেকটাই হতাশ করেছে। ৫ আগস্ট (২০২৪) পরবর্তী রাজনীতিতে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের যে প্রত্যাশা মানুষের মধ্যে জন্ম নিয়েছিল, এখন তা আইসিইউতে যেতে বসেছে। বরং আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধপক্ষের মধ্যে বিভক্তি ও পারস্পরিক দোষারোপের রাজনীতি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য-উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করবে, এমন আশঙ্কা করছে সচেতন মহল। একদিকে জামায়াতে ইসলামী বিএনপিকে চাঁদাবাজ-দখলবাজের ব্র্যান্ডিংয়ে তৎপর, অন্যদিকে বিএনপি রাজনীতিতে কথিত ‘গুপ্ত’দের আবিষ্কারে সময় ও মেধা ব্যয় করে চলেছে। এরই মধ্যে কারও কারও প্রগলভতা রাজনৈতিক সচেতন মহলে বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে। সমালোচনা করতে গিয়ে বিগত সরকারের আমলে নির্মিত ফ্লাইওভার-এক্সেপ্রেসওয়ে বা মেট্রোরেলের আবশ্যকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যে অনাকাঙ্ক্ষিত সমালোচনার জন্ম দিয়েছে তা অস্বীকার করা যাবে না। অনেকেই বলছেন, ওইসব প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিপুল পরিমাণ রাষ্ট্রীয় অর্থের তছরুপ হয়েছে এটা যেমন সর্বজনবিদিত, তেমনি জনগুরুত্বসম্পন্ন ওইসব স্থাপনার অপরিহার্যতাকেও আস্বীকার করা যাবে না। নির্বাচনকালে দলীয় প্রধান বা প্রার্থীদের সংযত কথাবার্তা যেমন ভোটার সাধারণকে আকর্ষণ করে, তেমনি অসংযত ও অপরিণামদর্শী বক্তব্য-মন্তব্য নেতিবাচক প্রতিক্রিয়াও সৃষ্টি করে। আর তা নির্বাচনী ফলাফল নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিরাট প্রভাব ফেলে। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার প্রগলভতা দলটির জন্য যে বিপর্যয় ডেকে এনেছিল, তা এখনও উদাহরণ হয়ে আছে। সে সময়ে তার ‘বিএনপি ১০টির বেশি আসন পাবে না’ এবং টেলিভিশন ভাষণে কদর্য ভাষায় সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের সমালোচনা ও কটূক্তি জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের জন্ম দিয়েছিল। ফলাফল কী হয়েছিল এখানে সবিস্তারে তার উল্লেখ নিষ্প্রয়োজন। 

একই রোগে আক্রান্ত জামায়াতে ইসলামীও। তারাও এবারের নির্বাচনে তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপিকে ঘায়েল করতে এমন সব বাক্যবাণ নিক্ষেপ করে চলেছে, যা বুমেরাং হয়ে তাদেরকেই বিদ্ধ করছে। জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বিএনপিকে কটাক্ষ করে বলেছেন, ওই দলটি ক্ষমতায় থাকতে বাংলাদেশ দুর্নীতিতে চারবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। এটা বলার সময় আমিরে জামায়াত বোধকরি বিস্মৃত হয়েছিলেন, তাদের দল ওই সরকারের অন্যতম অংশীদার ছিল এবং দলটির প্রধান দুই নেতা সে সরকারের মন্ত্রী ছিলেন। শুধু তাই নয়, ওয়ান-ইলেভেন সরকার কর্তৃক দায়ের করা একটি মামলায় মতিউর রহমান নিজামী জেলেও গিয়েছিলেন। সুতরাং চারদলীয় জোট সরকারের আমলে বাংলাদেশ দুর্নীতিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়ে থাকলে তার দায়ভার জামায়াতে ইসলামীর ওপরও বর্তায়। ডাক্তার শফিকের উক্তির জবাবে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রশ্ন রেখেছেন, চারদলীয় জোট সরকার দুর্নীতিবাজ হলে জামায়াতের দুই মন্ত্রী কেন পদত্যাগ করেননি? সংগত কারণেই জামায়াতের আমির এর কোনো জবাব দেননি। 

এদিকে সম্প্রতি একটি ভিডিও ক্লিপ ভাইরাল হওয়ায় জামায়াতে ইসলামী বেশ বেকায়দায় পড়েছে। ভিডিও ক্লিপটিতে দেখা য্য়া, ঢাকা-১৭ আসনে দলটির মনোনীত প্রার্থী ডাক্তার এসএম খালিদুজ্জামান ঢাকা সেনানিবাসের গেটে কর্তব্যরত মিলিটারি পুলিশ (এমপি) সদস্যদের সঙ্গে অসহিষ্ণু কণ্ঠে তর্ক করছেন। ঘটনা হলো, তিনি সেনানিবাসে প্রবেশ করতে চেয়েছিলেন তার গানম্যানকে সঙ্গে নিয়ে, যার কাছে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। সেনানিবাসে অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ কড়্কাড়িভাবে নিষিদ্ধ। কিন্তু ডাক্তার খালিদ তা মানতে চাচ্ছিলেন না। মিলিটারি পুলিশ সদস্যের বিনীত আচরণের বিপরীতে ডাক্তার খালিদের আচরণ ছিল ঔদ্ধত্যপূর্ণ, অসহিষ্ণু ও অভদ্রজনোচিত। তর্কাতর্কির সময় তিনি সেনাবাহিনী সম্পর্কে অত্যন্ত আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন, যা প্রচলিত আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ‘সেনাবাহিনী দেশটাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে’ এহেন বক্তব্য রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল বলে মনে করেন সচেতন ব্যক্তিরা। ডাক্তার খালিদ বারবার নিজের পরিচয় দিচ্ছিলেন, ‘আমি তারেক জিয়ার প্রতিদ্বন্দ্বী’ বলে। তিনি নিজের দলীয় পরিচয় না দিয়ে ‘আমি তারেক জিয়ার প্রতিদ্বন্দ্বী’ বলার মধ্যে তার উন্নাসিক মনোবৃত্তির পরিচয় মেলে। তবে তিনি বুঝতে ভুল করেছেন। একটি দলের শীর্ষনেতার বিরুদ্ধে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেই যে কেউ তার সমকক্ষ হয়ে যায় না, এটা তার বোধে আসেনি। যদিও পরবর্তী সময়ে তিনি তার আচরণের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছেন। তবে ক্ষতি যা হওয়ার তা হয়ে গেছে। প্রাক্তন সেনা সদস্যের পরিচিত কয়েকজন আমাকে বলেছেন, জামায়াত সম্পর্কে তাদের মধ্যে যে একধরনের মোহ তৈরি হয়েছিল, ডাক্তার খালিদুজ্জামানের অশোভন আচরণের পর তা কেটে গেছে। সেনা পরিবারের কেউ আর এই উদ্ধত ব্যক্তিকে ভোট দেবে বলে মনে হয় না। উল্লেখ্য, ঢাকা সেনানিবাস ও তৎসংলগ্ন এলাকা ঢাকা-১৭ সংসদীয় আসনের অন্তর্গত।

আমাদের দেশের নির্বাচনের একটি বৈশিষ্ট্য হলো, ভোটের তারিখ যত ঘনিয়ে আসে প্রতিদ্বন্দ্বী দল ও প্রার্থীদের মধ্যে অসহিষ্ণুতা ততই বৃদ্ধি পায়। ফলে শেষদিকে নির্বাচনের পরিবেশ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়। কখনও কখনও তা ভোটের হিসাব-নিকাশও পাল্টে দেয়। এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী দল ও প্রার্থীরা এ বিষয়ে সতর্ক থাকলে ভোটের পরিবেশ যেমন সুস্থ থাকবে, তারাও তেমনি উপকৃত হবেন।


মহিউদ্দিন খান মোহন

সাংবাদিক ও কলাম লেখক

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা