ইমেইল থেকে
সফিউল্লাহ আনসারী
প্রকাশ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:১১ এএম
সামর্থ্যের মধ্যে ভাড়াবাড়িতে থাকলেও বছর শেষে আতঙ্কের বিষয় হয়ে দাঁড়ায় বাড়িভাড়া বৃদ্ধি।
শহর এবং শিল্পাঞ্চলগুলোতে সবচেয়ে বেশি বাড়িভাড়ার চাপ থাকে। এ ছাড়াও জেলা ও মফস্বল এলাকায়ও ভাড়াবাড়িতে লাখ লাখ মানুষ বসবাস করে থাকে। লেখাপড়া, চাকরির সুবাদে এবং জীবিকার তাগিদে মানুষ বাড়িভাড়া নিয়ে বসবাস করে থাকে।
আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সবাই ভাড়াবাসার খোঁজ করেন। সামর্থ্যের মধ্যে ভাড়াবাড়িতে থাকলেও বছর শেষে আতঙ্কের বিষয় হয়ে দাঁড়ায় বাড়িভাড়া বৃদ্ধি। বাড়ির মালিকরা নানা অজুহাতে বাড়িভাড়া বৃদ্ধি করেন। শহরে বসবাসকারী বিশেষ করে রাজধানীর বাসিন্দাদের কাছে বাড়িভাড়া এখন যন্ত্রণার আরেক নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনিয়ন্ত্রিত বাড়িভাড়ার কারণে নাগরিক জীবনে নাভিশ্বাস চরমে। ডিসেম্বর মাস এলেই আতঙ্কে থাকেন ভাড়াটিয়ারা, কারণ একটাই বাড়িভাড়া বৃদ্ধি। জানুয়ারিতে ভাড়াটিয়াদেরকে অতিরিক্ত বাসাভাড়ার চাপ নিতে হয় প্রতিবছর। বাসাভাড়া বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় নিম্ন আয়ের মানুষের। ভাড়াবৃদ্ধির লাগাম টানতে আইনের প্রয়োগ, নিয়মিত মনিটরিং, শাস্তির ব্যবস্থা করা অতীব জরুরি।
১৯৯১ সালের বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইনের তোয়াক্কা না করে বা আইনকে উপেক্ষা করে ইচ্ছামতো ভাড়া বৃদ্ধি করা, যা ভাড়াটিয়াদের ওপর চরম চাপ সৃষ্টি করে, বিশেষত ঢাকা ও অন্যান্য বড় শহরে যেখানে চাহিদা বেশি। চাপিয়ে দেওয়া ভাড়াবৃদ্ধির ভারসাম্যহীনতার ফলস্বরূপ ভাড়াটিয়াদের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়ে। আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে ভাড়া বাড়ানোর নিয়ম থাকলেও মানা হয় না। অতিরিক্ত, অগ্রিম নেওয়া বে-আইনি, কিন্তু বাস্তবে এর প্রয়োগ কম দেখা যায়। বাড়িভাড়া বৃদ্ধি রোধে ভাড়াটিয়ার অধিকার আইন সম্পর্কে জানাও জরুরি।
অনিয়ন্ত্রিত বাড়িভাড়া এখন কেবল অর্থনৈতিক সমস্যা নয়, এটি নীরব সামাজিক-নাগরিক নির্যাতন। আইন আছে ভাড়া বাড়ানোর নিয়ম আছে, নোটিসের বিধান আছে, কিন্তু প্রয়োগ নেই। ফলে আইন কাগজেই সীমাবদ্ধ থাকে, আর ভাড়াটিয়ারা থাকে আতঙ্কে। মাস শেষের আগেই শুরু হয় হিসাব– খাবার কমবে, চিকিৎসা পিছাবে, না কি বাসা ছাড়তে হবে।
মালিক এবং ভাড়াটিয়ার সম্পর্ক এখন আর মানবিক নয়, এটি একতরফা ক্ষমতার চুক্তি। প্রশাসন জানে, সমাজ জানে তবু সবাই চুপ। এই চুপ থাকা আসলে অন্যায়ের-ই পক্ষ নেওয়া। বাড়ি শুধু ইট-পাথরের কাঠামো নয়, এটি মানুষের নিরাপত্তা, বসবাসের অধিকার। সেই নিরাপত্তা যখন বাড়িওয়ালার ইচ্ছায় হয় তখন আইন থাকাও এক ধরনের ভন্ডামির নামান্তর।
অনিয়ন্ত্রিত বাড়িভাড়া কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটি নীতির ব্যর্থতাও। আইন থাকা সত্ত্বেও তার প্রয়োগ না হওয়া মানে ভাড়াটিয়াদের অনিশ্চয়তার মানসিক চাপের দিকে ঠেলে দেওয়া। একটি বাসা শুধু মাথা গোঁজার জায়গা নয়, এটি মানুষের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও স্বস্তির বিষয়, তাই এই সমস্যা সমাধানে প্রয়োজন কঠোর আইন প্রয়োগ, কার্যকর নজরদারি এবং সঠিকভাবে ভাড়াটিয়াদের অধিকার নিশ্চিত করা। নয়তো শুধু শহর বড় হবে, দালান উঁচু হবে, কিন্তু মানুষের জীবন ক্রমেই ছোট হয়ে আসবে, বাড়বে মানসিক চাপ। তবে যৌক্তিক কারণে বাড়িভাড়া বৃদ্ধি হতে পারে আইন মেনে। বাড়িভাড়া আলোচনার মাধ্যমে করা উচিত, চাপিয়ে দিয়ে নয়। অনিয়ন্ত্রিত বাড়িভাড়া বন্ধে সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগ গ্রহণ সময়ের দাবি।
সফিউল্লাহ আনসারী
কবি, গণমাধ্যমকর্মী