× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড

রাজনৈতিক সমতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত হোক

সম্পাদকীয়

প্রকাশ : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:২৭ পিএম

লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বলতে কেবল ভোটের দিন ব্যালট বাক্সের নিরাপত্তা নয়; এর অর্থ হলো নির্বাচনের আগে ও পরের পুরো প্রক্রিয়াজুড়ে রাজনৈতিক সমতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করা।

লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বলতে কেবল ভোটের দিন ব্যালট বাক্সের নিরাপত্তা নয়; এর অর্থ হলো নির্বাচনের আগে ও পরের পুরো প্রক্রিয়াজুড়ে রাজনৈতিক সমতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করা।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের আর মাত্র ৫ দিন বাকি। নির্বাচনের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে নির্বাচন কমিশন। এমন বাস্তবতায় গত ৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচন কমিশনের সার্বিক প্রস্তুতিসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে বৈঠক করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পর্যবেক্ষক দল। বৈঠকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছে পর্যবেক্ষক দল। নির্বাচনে নারী, সংখ্যালঘুসহ সব সম্প্রদায়ের ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণের প্রত্যাশাও করে সংস্থাটি। 

এ কথা সত্য যে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে দেশি-বিদেশি আগ্রহ বাড়ছে। দীর্ঘদিন ধরে গণতান্ত্রিক চর্চার সংকট, বিগত কয়েকটি বিতর্কিত নির্বাচন, রাজনৈতিক সহিংসতা ও অংশগ্রহণহীন ভোটের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের নির্বাচনব্যবস্থার প্রতি আন্তর্জাতিক আস্থাকে নড়বড়ে করে তুলেছিল। এমন প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার আহ্বান কেবল একটি কূটনৈতিক বক্তব্য নয়Ñ এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি সুস্পষ্ট সতর্কবার্তা।

উল্লেখ করা প্রয়োজন, ২২ জানুয়ারি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার শুরুর পর থেকেই মাঠের লেভেল প্লেয়িং নিয়ে একাধিক রাজনৈতিক দল ও পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠে আসছে। বিশেষ করে, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে। প্রচারণা পর্বের শুরুটা শান্তিপূর্ণ হলেও গত কয়েক দিনের সহিংসতা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। এতে সারা দেশে বেশ কিছু হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে। বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনী প্রচারে বাধা দেওয়া, মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন, নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুরসহ বিভিন্ন সহিংসতার প্রবণতা বাড়ছে। এরকম সহিংসতা শেষপর্যন্ত ভোটারদের মধ্যে নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে ভয় ও শঙ্কার জন্ম দেয়। জানা গেছে, সারা দেশে এ পর্যন্ত ৩০টির বেশি সংসদীয় এলাকায় সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। বেশি সহিংসতা ঘটছে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে। নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে এ ধরনের সংঘর্ষ ও প্রাণহানি দুঃখজনক ও অপ্রত্যাশিত। দুঃখজনক সত্য, অনিয়ম ও সহিংসতা বন্ধে নির্বাচন কমিশন ও অন্তর্বর্তী সরকারকে এখন পর্যন্ত কঠোর অবস্থানে দেখা যায়নি। প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোও এ ক্ষেত্রে যথেষ্ট দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এসব ঘটনায় ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিতের বিষয়টি বারবার সামনে আসছে। 

আমরা মনে করি, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বলতে কেবল ভোটের দিন ব্যালট বাক্সের নিরাপত্তা নয়; এর অর্থ হলো নির্বাচনের আগে ও পরের পুরো প্রক্রিয়াজুড়ে রাজনৈতিক সমতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করা। ইইউসহ উন্নয়ন সহযোগী দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেখতে চায়। তাদের বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছেÑ সকল রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ, ভয়ের মুক্ত পরিবেশ, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ছাড়া কোনো নির্বাচনই আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, অতীতের কয়েকটি জাতীয় নির্বাচনে বিরোধী দলগুলোর ওপর দমন-পীড়ন, মামলা, গ্রেপ্তার, সভা-সমাবেশে বাধা এবং প্রশাসনের দলীয় আচরণের দৃষ্টান্ত বার বার উঠছে। ইইউর এই আহ্বান সেই তিক্ত অভিজ্ঞতারই প্রতিফলন।

আমরা আরও মনে করি, ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই অবস্থানকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। কারণ তারা বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার। বিশেষ করে পোশাক শিল্পে বাংলাদেশের রপ্তানি অনেকাংশেই তাদের বাজার-নির্ভর। গণতান্ত্রিক মানদণ্ড ও মানবাধিকার প্রশ্নে ইইউ সব সময়ই কঠোর। তাই একটি প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন শুধু রাজনৈতিক সংকটই নয়, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জও ডেকে আনতে পারে, যা দেশের গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক। মনে রাখতে হবে, নির্বাচন কারও দয়ায় নয়Ñ এটি জনগণের সাংবিধানিক অধিকার। সে কারণে আন্তর্জাতিক মহলের আগ্রহ মূলত বাংলাদেশের জনগণের ভোটাধিকার সুরক্ষার সঙ্গেই যুক্ত। তাই লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা মানে সরকারকে দুর্বল করা নয়; বরং রাষ্ট্রকে শক্তিশালী করা।

আমরা বিশ্বাস করি, একটি কার্যকর, স্বাধীন ও সাহসী নির্বাচন কমিশনই পারে আস্থার সংকট দূর করতে। এ ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিচারব্যবস্থাকে অবশ্যই নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক প্রভাবের ঊর্ধ্বে থাকতে হবে। সামনের কয়েকটি দিন অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলো যেন নির্বিঘ্নে প্রচার চালাতে পারে, সভা-সমাবেশ করতে পারে এবং গণমাধ্যম যেন ভয়মুক্তভাবে কাজ করতে পারে তা নিশ্চিত করাই লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের মূল শর্ত। 

আমরা মনে করি, আসন্ন নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য একটি মোড় ঘোরানো মুহূর্ত। এই নির্বাচন হতে পারে আস্থার পুনর্গঠনের সুযোগ, আবার হতে পারে সংকটকে আরও গভীর করার কারণ। ইইউর আহ্বান সেই সিদ্ধান্তের গুরুত্বই স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। এখন দায়িত্ব রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক নেতৃত্বেরÑ তারা কি ইতিহাসের এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবে, নাকি গণতন্ত্রের পথে আরও এক ধাপ পিছিয়ে পড়বে? সময় এখনও আছেÑ প্রয়োজন কেবল সদিচ্ছা, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা