× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

পর্যবেক্ষণ

আগমনে সাদৃশ্য, প্রস্থানে বৈপরীত্য

মহিউদ্দিন খান মোহন

প্রকাশ : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৩:২৭ পিএম

মহিউদ্দিন খান মোহন

মহিউদ্দিন খান মোহন

বিগত চার দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের রাজনীতির গতি-প্রকৃতির নিয়ন্ত্রক নেত্রীদ্বয় খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনার রাজনীতিতে আগমন ছিল প্রায় একইভাবে। দুই বছর আগে-পরে তারা রাজনীতিতে পদার্পণ করেছিলেন। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা তার পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের স্থলাভিষিক্ত হয়ে দলের হাল ধরেন ১৯৮১ সালে। আর বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া তার স্বামী তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদতবরণের পর দলের নেতৃত্বে আসেন ১৯৮৩ সালে। দুজনই দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন একাধিকবার। দলের মধ্যে তারা ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। তবে দুই নেত্রীর আগমনে সাদৃশ্য থাকলেও প্রস্থানে রয়েছে বিশাল বৈপরীত্য

খালেদা জিয়া পৃথিবীতে তার সফর শেষ করেছেন গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর। দীর্ঘ চার-পাঁচ বছর অসুস্থ থাকার পর তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি বিএনপির শীর্ষ পদে বহাল ছিলেন। অপরদিকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে গদি এবং দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন শেখ হাসিনা। তবে তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে বহাল আছেন; যদিও সরকারি আদেশে দলটির কার্যক্রম এখন নিষিদ্ধ। অনেকেরই ধারণা ছিল তিনিও আমৃত্যু আওয়ামী লীগের শীর্ষনেতা হিসেবে অধিষ্ঠিত থাকবেন। কিন্তু হাসিনাপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের একটি ভিডিও বার্তা রাজনীতি-সচেতন মহলে গুঞ্জনের জন্ম দিয়েছে। তিনি বলেছেন, বয়সের কারণে তার মা শেখ হাসিনা আর রাজনীতিতে সক্রিয় থাকছেন না। তবে কবে নাগাদ এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে, সজীব ওয়াজেদ জয় তা স্পষ্ট করেননি। প্রতিদিনের বাংলাদেশে খবরটি প্রকাশ করেছে ‘হাসিনা অধ্যায়ের ইতি’ শিরোনামে। (২৩ জানুয়ারি, ২০২৬)। সত্যি সত্যি বাংলাদেশের রাজনীতিতে হাসিনা অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটছে কি না তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তবে সজীব ওয়াজেদ জয়ের বক্তব্যকে তার মায়ের সিদ্ধান্তের প্রতিফলন ধরে নিলে এটা বলা অসমীচীন হবে না, শেখ হাসিনা হয়তো তার রাজনৈতিক ইনিংস অচিরেই শেষ করতে যাচ্ছেন। 

কথায় আছে, ‘শেষ ভালো যার সব ভালো তার’। কথাটি ঘুরিয়েও বলা যায়Ñ ‘সব ভালো যার, শেষ ভালো তার’। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার লোকান্তরের পর একটি বিষয় সবার কাছে প্রতিভাত হয়েছে, তিনি কতটা জনপ্রিয় ছিলেন। লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতিতে তার জানাজা ও দাফন ছিল এক অবিস্মরণীয় ঘটনা। খালেদা জিয়ার জীবনটাই ছিল সাফল্যে পরিপূর্ণ। স্বামী রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আকস্মিক মৃত্যুর পরে একরকম বাধ্য হয়েই তাকে রাজনীতির মতো চড়াই-উতরাই পথে পা বাড়াতে হয়েছিল। কঠিন সে পথ অতিক্রম করতে গিয়ে বহু লাঞ্ছনা-গঞ্জনা, নিপীড়ন-নির্যাতন তিনি সহ্য করেছেন। বিশেষ করে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত পনেরো বছর শেখ হাসিনার আমলটিতে তিনি ভোগ করেছেন অবর্ণনীয় নির্যাতন। বৃদ্ধ বয়সে অসুস্থ অবস্থায় তাকে কারা নির্যাতন ভোগ করতে হয়েছে। মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় তাকে সে সাজা দিয়েছিলেন তিনি, যিনি গত শতাব্দীর আশির দশকের পুরোটা সময় ছিলেন গণতন্ত্র উদ্ধারের আন্দোলনে তারই সারথি। 

খালেদা জিয়ার জীবনের একটি বিশেষ দিক হলো তিনি কখনোই প্রতিদ্বন্দ্বীকে প্রতিপক্ষ ভাবেননি। প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দল ও সেগুলোর নেতাদের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গী ও মনোভাব ছিল উদার। একজন গণতান্ত্রিক নেতার যেমনটি হওয়া উচিত। সুযোগ থাকা সত্ত্বেও প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে তিনি কারও প্রতি কোনো অন্যায় আচরণ করেননি। বরং সম্মানীয় কোনো ব্যক্তির সম্মান যাতে ক্ষুণ্ন না হয়, সেদিকে ছিল তার প্রখর দৃষ্টি। রাজনীতিকে তিনি দেখেছেন দেশ ও জনগণের সেবা করার দায়িত্ব অর্জনের প্রতিযোগিতা হিসেবে। আর এখানেই তিনি ছিলেন অনন্য। এ চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য তাকে নিয়ে গেছে ভিন্ন উচ্চতায়। ব্যক্তিগত ক্ষোভ কিংবা রোষকে রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করেননি খালেদা জিয়া। যেজন্য দীর্ঘ চার বছর পর শেখ হাসিনার কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে তিনি বলেছিলেন, কারও প্রতি আমার কোনো অভিযোগ নেই, ক্ষোভ নেই। 

পক্ষান্তরে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক জীবনে আমরা অর্জনের চেয়ে বিসর্জনের পাল্লা বেশি ভারী দেখতে পাই। ব্যক্তিগত আক্রোশে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীকে প্রতিপক্ষ-জ্ঞানে অশালীন ও অশ্রাব্য ভাষায় বাক্যবাণ নিক্ষেপে যেমন ঝাঁজরা করতে সবসময় সচেষ্ট থেকেছেন, তেমনি ক্ষমতা হাতে পেয়ে নির্যাতনেও পিছপা হননি। ভুয়া মামলায় খালেদা জিয়ার কারাবাসই তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। তাছাড়া ক্ষমতাকে নিষ্কণ্টক করতে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের হিটলার-মুসোলিনী কায়দায় নির্মূলের যে দৃষ্টান্ত তিনি সৃষ্টি করেছেন, তা তাকে বিশ্ব ইতিহাসের ফ্যাসিবাদী শাসকদের কাতারে স্থান করে দিয়েছে। 

রাজনীতির যারা দর্শক অর্থাৎ সাধারণ মানুষ এটা খেয়াল করেছেন যে, শেখ হাসিনা সবসময় খালেদা জিয়ার প্রতি ক্ষুব্ধ ছিলেন। কেন এ ক্ষুব্ধতা তার রহস্য উদঘাটন কারও পক্ষেই সম্ভব নয়। তবে এতটুকু ধারণা করা যায়, খালেদা জিয়ার বিপুল জনপ্রিয়তাই এর প্রধান কারণ। খালেদা জিয়া এতটাই জনপ্রিয় ছিলেন যে, তার রাজনৈতিক জীবনে পাঁচটি সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন স্থানে ২৩টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে কোনো আসনেই পরাজিত হননি। পক্ষান্তরে শেখ হাসিনা তার প্রথম নির্বাচনেই তিনটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দুটিতে পরাজিত হয়েছিলেন। 

খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতার অন্যতম একটি কারণ হলো তার বাকসংযম। রাজনৈতিক সমালোচনা করতে গিয়ে তিনি তার প্রতিদ্বন্দ্বী নেতা বা নেত্রীকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করে কখনও কথা বলেননি। অন্যদিকে শেখ হাসিনা তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী খালেদা জিয়াসহ সবাইকে অরুচিকর ভাষায় আক্রমণ করে কথা বলতেন। শেখ হাসিনার এই অসংযমী বাক্যবর্ষণই শেষ পর্যন্ত তার সিংহাসনচ্যুতিকে ত্বরান্বিত করে। জুলাই আন্দোলন চলাকালে ‘রাজাকারের নাতিপুতি’ স্মর্তব্য। 

বেগম খালেদা জিয়া সবসময় আমাদের জাতীয় নেতৃবৃন্দের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকেছেন। কন্যা শেখ হাসিনা তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও সে কারণে তিনি কখনোই পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি অশ্রদ্ধা প্রদর্শন করেননি, কটূক্তি তো দূরের কথা। আনুষ্ঠানিক বিভিন্ন ভাষণে জাতীয় নেতৃবৃন্দকে স্মরণ করতে গিয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের নাম শ্রদ্ধার সঙ্গেই উচ্চারণ করতেন। এমনকি তিনি শেখ মুজিবুর রহমানকে আমাদের স্বাধীনতার ‘অন্যতম স্থপতি’ বলেও সম্মান জানিয়েছেন। 

অপরদিকে খালেদা জিয়ার স্বামী বিধায় প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট শহীদ জিয়াউর রহমান ছিলেন শেখ হাসিনার চোখের বালি। এমন কোনো অপমানজনক শব্দ-বাক্য নেই, জিয়াউর রহমান সম্বন্ধে তিনি ব্যবহার করেননি। এমনকি আমাদের স্বাধীনতা অর্জনে মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণাদানকারী অকুতোভয় এই বীর সেনানায়কের অবদানকে অস্বীকার করার অপপ্রয়াসও পেয়েছেন। বলেছেন, জিয়া মুক্তিযুদ্ধই করেননি। শুধু তা-ই নয়, একবার তো হাস্যকর প্রশ্ন তুললেন, জিয়া মুক্তিযুদ্ধে কটা গুলি ছুড়েছে বলে! শহীদ জিয়াউর রহমানের ওপর শেখ হাসিনা এতটাই ক্ষিপ্ত ছিলেন যে, শেরেবাংলা নগরের ক্রিসেন্ট লেকের পার্শ্ববর্তী উদ্যান-চত্বর থেকে তার মাজার উচ্ছেদের উদ্যোগ পর্যন্ত নিয়েছিলেন। 

রাজনীতিবিদ হিসেবে খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনার মধ্যে সবচেয়ে বড় পার্থক্য হলো, গণতন্ত্রের প্রশ্নে তারা ছিলেন দুজন দুই মেরুর বাসিন্দা। খালেদা জিয়া ছিলেন আক্ষরিক অর্থেই গণতন্ত্রী। আর শেখ হাসিনা মৌখিক গণতন্ত্রী। খালেদা জিয়া রাষ্ট্রক্ষমতায় আরোহণ ও টিকে থাকার জন্য জনগণের রায়ের (ভোট) প্রতি আস্থা রেখেছেন সবসময়। অন্যদিকে শেখ হাসিনা মুখে জনগণের রায়ের কথা বললেও আস্থাশীল ছিলেন পেশিশক্তি ও ষড়যন্ত্র-চক্রান্তের ওপর। যেজন্য কূটকৌশলের একটি নির্বাচনে (২০০৮) ফলাফল করায়ত্ত করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার অস্ত্র ব্যবহার করে সুষ্ঠু নির্বাচনের রক্ষাকবচ তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতিকে জবাই করেছিলেন নিষ্ঠুরভাবে। শেখ হাসিনার এ নিষ্ঠুরতা শুধু শাসনতান্ত্রিক ক্ষেত্রেই নয়, তা বিস্তৃত ছিল রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও। রাজনীতিবিদ হিসেবে খালেদা জিয়া ছিলেন পরমতসহিষ্ণু। প্রতিদ্বন্দ্বী দল কিংবা সংবাদ মাধ্যমের সমালোচনাকে তিনি খুব সহজ ও স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করতেন এবং তার জবাবও দিতেন রাজনৈতিক ভাষায়। পক্ষান্তরে শেখ হাসিনা পরমতকে কিছুতেই সহ্য করতে পারেননি। বিরুদ্ধবাদী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের তিনি দমন করতে চেয়েছেন অত্যন্ত নিষ্ঠুর পন্থায়, খুন-গুমের আশ্রয় নিয়ে। সমালোচনা তার গায়ে বিচ্ছুটির জ্বালা ধরিয়ে দিত। তার জবাবও দিতেন অত্যন্ত কদর্য ভাষায়। 

দেশের দুটি বড় রাজনৈতিক দলের এই দুই শীর্ষ নেতার বৈপরীত্যের বর্ণনা দিতে গেলে একটি বড়সড় গবেষণাগ্রন্থ রচনা করা যাবে। খালেদা জিয়া জনমতের প্রতি সবসময় শ্রদ্ধাশীল থেকেছেন। অন্যদিকে শেখ হাসিনা জনমত নয়, আস্থাশীল ছিলেন রাষ্ট্রক্ষমতা ও অস্ত্রের ওপর। দুই নেত্রীর রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও অনুশীলনের বৈপরীত্যের মতোই তাদের প্রস্থানেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। একজন তার প্রিয় জনগণ ও পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন কোটি কোটি মানুষের অশ্রুসজল ভালোবাসা ও পুষ্পার্ঘ্যে আচ্ছাদিত হয়ে। আরেকজন দেশ থেকে বিতাড়িত হয়েছেন জনরোষের মুখে। এখন রাজনীতি থেকে বিদায় নিতে যাচ্ছেন দেশ থেকে বহু দূরে অবস্থান করেই। পৃথিবী থেকে তার প্রস্থান কীভাবে হবে, তা ভবিতব্যই বলতে পারে।

পবিত্র কুরআনের সূরা আল-ইমরানে আল্লাহতায়ালা স্বয়ং বলেছেন, তিনি যাকে ইচ্ছা সম্মান দান করতে পারেন, আবার যে কারও সম্মান কেড়েও নিতে পারেন। বস্তুত আল্লাহ তাকেই সম্মান দেন, যিনি অপরকে সম্মান করেন। আর যিনি ক্ষমতার দম্ভে ধরাকে সরাজ্ঞান করেন, আত্মম্ভরিতার কারণে যিনি মানুষকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেন, অসম্মানজনকভাবে তার প্রস্থানের ব্যবস্থাও আল্লাহই করে দেন। খালেদা জিয়া এবং শেখ হাসিনা এর বড় উদাহরণ।


মহিউদ্দিন খান মোহন

সাংবাদিক ও কলাম লেখক

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা