× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

মাঘী পূর্ণিমা

বুদ্ধের পরিনির্বাণ ঘোষণার দিন

সুবল বড়ুয়া

প্রকাশ : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:৩২ এএম

আপডেট : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:৪৯ এএম

বুদ্ধের পরিনির্বাণ ঘোষণার দিন

শুভ মাঘী পূর্ণিমা তিথি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ দিন। এই দিনেই তথাগত বুদ্ধ তারই শিষ্যমণ্ডলীর (ভিক্ষুসংঘ) কাছে বৈশালীর চাপাল চৈত্যে স্বীয় মহাপরিনির্বাণ (মৃত্যু) দিবসের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তাই সারা বিশ্বেই বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা এই দিবসটি খুব তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে পালন করে থাকে।

৮০ বছর বয়সে বুদ্ধ যখন রাজগৃহের বেণুবনে ৪৫তম বর্ষা, অর্থাৎ অন্তিম বর্ষা অধিষ্ঠান করেছিলেন তখন বর্ষাব্রত পালনের সময় তিনি বেশ অসুস্থ হয়ে পড়েন। সেই বর্ষাব্রত শেষে বুদ্ধ বেণুবন থেকে দেশভ্রমণে বেরিয়ে পুনরায় বেণুবন বিহার হয়ে বৈশালীর চাপাল চৈত্যে যান। সেখানে বুদ্ধের প্রধান সেবক আনন্দকে তিনি বললেন ‘হে আনন্দ! এই বৈশালীর উদয়ন চৈত্য, গৌতম চৈত্য, সপ্তআম্র চৈত্য, বহুপুত্রক চৈত্য, সারন্দন চৈত্য, চাপাল চৈত্য বড়ই মনোরম। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর। হে আনন্দ! চলো আমরা চাপাল চৈত্যে গিয়ে বিহার করি।’ তখন প্রধান সেবক আনন্দসহ চাপাল চৈত্যে যান।

এ সময় বুদ্ধ; আনন্দকে ইঙ্গিত করে বললেন, ‘হে আনন্দ! তথাগতগণ ইচ্ছা করলে স্বকীয় ঋদ্ধি বলে এক কল্পকাল বর্তমান দেহে অবস্থান করতে পারেন। হে আনন্দ! তথাগতের চার ঋদ্ধিপাদ ভাবিত, বহুলিকৃত, রথগতিসদৃশ, অনর্গল, অভ্যন্তর, বাস্তুভূমিসদৃশ, সুপ্রতিষ্ঠিত, পরিচিত ও সম্যক নিষ্পাদিত হয়েছে। সেজন্য তথাগত ইচ্ছা করলে কল্পকাল অবস্থান করতে পারেন।’

তথাগত বুদ্ধ ‘মারদ্বারা আকৃষ্ট’ প্রধান সেবক আনন্দকে সুস্পষ্ট ইঙ্গিত দেওয়া সত্ত্বেও বুদ্ধের এই কথার তাত্পর্য বুঝতে পারেননি। বুদ্ধ এরূপ দ্বিতীয় ও তৃতীয়বার ইঙ্গিত দিলেও আনন্দ মারদ্বার অধিকৃত হয়ে তথাগত বুদ্ধের ইঙ্গিতের তাত্পর্য উপলব্ধি করতে পারেননি।

পরবর্তীতে বুদ্ধ বৈশালীর চাপাল চৈত্যে গিয়ে শুভ মাঘী পূর্ণিমা তিথিতে স্মৃতিমান ও সম্প্রযুক্ত অবস্থায় স্বীয় আয়ুসংস্কার বর্জন করেন। বুদ্ধ সংকল্পবদ্ধ হলেন ‘এখন থেকে তিন মাস আমার প্রাণবায়ু চলতে থাকুক, সজীব, সচেতন থাকুক, তত্পর নিরুদ্ধ হো।’ তখন আকস্মিক বড় ধরনের ভূমিকম্প শুরু হলো, মুহুর্মুহু প্রলয়ঘোর দেবগর্জন শ্রুত হতে লাগল।

এই আকস্মিক ভূমিকম্প ও বজ্রধ্বনিতে আনন্দের মনে ভীষণ ভয় ও বিস্ময়ের সঞ্চার হলো। তিনি তথাগত বুদ্ধের কাছে এর কারণ জিজ্ঞেস করলে তদুত্তরে তথাগত বুদ্ধ বললেন, ‘শোন আনন্দ! বোধিসত্ত্ব যখন মাতৃকুক্ষি থেকে ভূমিষ্ঠ হন তখন তার পুণ্যতেজে ভূমিকম্প হয়। যখন বোধিসত্ত্ব সম্যক সম্বোধি লাভ করেন তখন তার জ্ঞানতেজে ভূমিকম্প হয়। যখন তথাগত বুদ্ধ ধর্মচক্র প্রবর্তন করেন তখন পৃথিবী সাধুবাদ প্রদানে ভূমিকম্প হয়। যখন তথাগত আয়ুসংস্কার পরিত্যাগ করেন তখন পৃথিবী কারুণ্যে কম্পিত হয়। আর যখন তথাগত পরিনির্বাণ প্রাপ্ত হন তখন পৃথিবী রোদনধ্বনিতে কম্পিত হয়।’

অতঃপর বৈশালীর চাপাল চৈত্যে অবস্থানরত ভিক্ষু সংঘ ও বৈশালীবাসী শুভ মাঘীপূর্ণিমার জ্যোত্স্নাময়ী রাতে তথাগতের সমীপে সমবেত হলেন। তিনি ভিক্ষু সংঘের কাছে আপন আয়ুষ্কাল নির্ধারণপূর্বক পরিনির্বাণের দিন-তারিখ ঠিক করলেন, ‘এই মাঘীপূর্ণিমার তিন মাস পর শুভ বৈশাখী পূর্ণিমা তিথিতে পরিনির্বাণ লাভ করবেন।’

গুরুদেব তথাগত বুদ্ধের কাছে তার স্বীয় আয়ুষ্কাল পরিত্যাগের বার্তা শুনে আনন্দ একান্ত শোকাকুল হয়ে কাতর কণ্ঠে প্রার্থনা করলেন, ‘প্রভু! জগতের কল্যাণে আরও কল্পকাল অবস্থান করুন।’ তখন দৃঢ়তার সঙ্গে আনন্দের প্রার্থনা প্রত্যাখ্যান করে শোকবিহ্বল আনন্দকে সান্ত্বনা প্রদানে উপদেশ দিয়ে বুদ্ধ বললেন, ‘হে আনন্দ! আমি তোমাকে পূর্বেই বলেছি আমরা প্রত্যেকেই সব প্রিয়বস্তু, সব মনঃপূত বস্তু থেকে বিচ্ছিন্ন হতে হবে, বিরূপ অবস্থার সম্মুখীন হতে হবে। কোনো মতেই তার ব্যত্যয় হবে না।

তথাগতের যা জাত, ভূত, সংস্কৃত বিপরিণামশীল পঞ্চস্কন্ধ, তা নষ্ট হবে না, তা তো হতে পারে না। হে আনন্দ! তথাগত কর্তৃক যে অবশিষ্ট আয়ুষ্কাল পরিত্যক্ত হয়েছে, তিনি তিন মাস পর দেহত্যাগ করবেন বলে যে সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন তথাগত তা কোনোমতেই প্রত্যাখ্যান করতে পারে না। এটা কিছুতেই সম্ভব নয়।’ অতঃপর তথাগত বুদ্ধ আনন্দকে সঙ্গে নিয়ে মহাবনে কুঠাগার শালায় গমন করলেন। তথা সমবেত ভিক্ষুসংঘকে তথাগত ৩৭ প্রকার বোধিপক্ষীয় ধর্মের উপদেশ প্রদান করলেন। সংঘের উদ্দেশে এটা তথাগত বুদ্ধের অন্তিম দেশনা, যা বৌদ্ধধর্মের সারমর্ম এতে নিহিত রয়েছে।

হে ভিক্ষুগণ! তোমাদের যে ধর্মসমূহ আমি অভিজ্ঞানে দেশনা করেছি, সে সমুদয় তোমরা উত্তমরূপে আয়ত্ত করে সুন্দররূপে আচরণ করো। সে বিষয়ে গভীরভাবে চিন্তা করো, তৎসমুদয় সর্বত্র বিস্তার করো যেন এই ব্রহ্মচর্যমূলক ধর্ম স্থায়ী হয়। চিরদিন বিদ্যমান থাকে এবং বহুজনের হিত ও সুখ হয়। দেবমানবের হিত সুখ সম্পাদিত হয়। ভিক্ষুগণ তোমাদের প্রকাশ করছি যে বয়োধর্ম্মা সঙ্খরা অপ্পমাদেন সম্পাদেথÑ ’সংস্কারসমূহ ক্ষয়শীল অপ্রমাদের সঙ্গে নির্বাণ সাধনায় ব্রতী হও।’

মূলত, মাঘী পূর্ণিমা বৌদ্ধদের কাছে কষ্টের দিন। কেননা, এই তিথিতেই আয়ু বিসর্জন দিয়ে তথাগত বুদ্ধ পরিনির্বাণ বা মৃত্যু দিবস ঘোষণা করেন। মাঘীপূর্ণিমায় ঘোষণা দিয়ে বৈশাখী পূর্ণিমা তিথিতে পরিনির্বাপিত হন বুদ্ধ। 


সুবল বড়ুয়া

সংবাদকর্মী

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা