× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

রাজনীতি

ভোটের মাঠে জনগণের প্রত্যাশা

মেশকাত সাদিক

প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:২৮ এএম

ভোটের মাঠে জনগণের প্রত্যাশা

ভোটের মাঠে বিএনপি বনাম জামায়াতের প্রচার জমে উঠেছে। বিএনপি বলতে এখন তারেক রহমানকে বোঝালেও জামায়াত বলতে শুধু শফিকুর রহমান নয়। যদিও দুজনই দুই জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এনসিপিকে জোটে ভেড়াতে না পারায় বিএনপি জোট বলতে মূলত বিএনপিকেই বোঝালেও জামায়াত জোট বলতে শুধু জামায়াতকে বোঝায় না। জামায়াত জোটে এখন এনসিপি ও মুফতি মামুনুল হকের দলসহ মোট দশটি দল। তবে এসব হিসাব-নিকাশ ভোটের মাঠে কতটা প্রভাব ফেলবে তা সময়ই বলে দেবে। বিএনপির রয়েছে ব্যাপক জনসমর্থন। পক্ষান্তরে জামায়াতের রয়েছে ভুক্তভোগীদের পাশে থাকার নজির ও ক্ষেত্রবিশেষে প্রবল আশ্বাস। তবে তা ভোটে জয়লাভ করে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য যথেষ্ট নয় কি না, এজন্য অপেক্ষা করতে হবে। 

বহু বছর পর দেশে ভোট হতে যাচ্ছে। দেশে উৎসবমুখর পরিবেশ। তবে আওয়ামী লীগ এখনও অপ্রাসঙ্গিক হয়নি। কারণ আওয়ামী লীগের বড় ভোটব্যাংক শুধু এই ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ তাই নয়, বরং আওয়ামী লীগের শোচনীয় বিদায়ের পর বর্তমান সরকারও মূলত আওয়ামী লীগের অ্যানেক্সার হিসেবেই রাষ্ট্র পরিচালনা করছে। গত দেড় বছরে উল্লেখ করার মতো জনহিতকর কোনো সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন দেখা যায়নি। সর্বত্র উন্নয়ন কার্যক্রম স্থবির। বিদেশি বিনিয়োগ নেই বললেই চলে। শিক্ষা-স্বাস্থ্য খাতের অবস্থা রীতিমত ভগ্ন-দশা ও সীমাহীন জরাজীর্ণ। পরিবেশ বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ। আইনশৃঙ্খলার অবস্থাও আশানুরূপ নয়। 

তাই সামনে নির্বাচনী পরিবেশ কেমন হবে তা বলা এখনও মুশকিল। প্রচার জমছে। ভোটযুদ্ধ ও জোটযুদ্ধ সমভাবে চলমান। দুই জোটের প্রচারের ভাষা উত্তেজনা সৃষ্টি করছে। মুক্তিযুদ্ধ, যুদ্ধাপরাধের বিচার, ধর্ম বনাম রাষ্ট্র, রাজনীতি বনাম ধর্ম, সংখ্যালঘু ও নারী অধিকার, গণতন্ত্র বনাম আদর্শিক শাসন, এসব নিয়ে অমীমাংসিত বিতর্ক চলমান। এই বক্তব্যগুলো দলগুলোর রাজনৈতিক বিশ্বাসের প্রতিফলন হলেও, বাংলাদেশের ইতিহাস, সংবিধান ও সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে সংঘর্ষে গিয়ে জাতীয় বিতর্ক ও জনমনে অনাস্থা তৈরি করেছে।

আমরা এখনও সহায়তানির্ভর রাষ্ট্র বা আরও স্পষ্ট করে বলা যায় বাংলাদেশ তার অর্থনীতির জন্য উন্নত রাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল। উন্নত বিশ্ব রাষ্ট্রক্ষমতায় কাদের চায়, সেটি সবিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। তবে বাস্তবতা হলো উন্নত বিশ্ব ব্যক্তি বা দলের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্ব দেয় একটি দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাকে। উন্নত বিশ্ব মূলত রাষ্ট্রকে দেখে স্বার্থ, স্থিতিশীলতা ও লাভালাভের দৃষ্টিকোণ থেকে। তাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলো হলোÑ আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুসরণ, স্থিতিশীল সরকার ব্যবস্থা, বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের নিরাপত্তা, মানবাধিকার সংক্রান্ত বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা। এই সমস্ত দর্শনকে সামনে রেখেই তারা গণতন্ত্রের কথা বলে। কিন্তু তারা গণতন্ত্রকে দেখে একটি বাস্তবভিত্তিক ও প্রায়োগিক প্রক্রিয়া হিসেবে, কোনো দলের স্লোগান হিসেবে নয়। তাদের প্রত্যাশা, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। বিরোধী দলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ সৃষ্টি। মতপ্রকাশ ও গণমাধ্যমের ন্যূনতম স্বাধীনতা প্রদান। গণতন্ত্র না থাকলে তারা অস্বস্তি বোধ করে, কারণ এতে রাষ্ট্র অস্থিতিশীল হয় এবং দীর্ঘমেয়াদে তাদের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ছাড়াও মানবাধিকার উন্নত বিশ্বের জন্য একদিকে নৈতিক ইস্যু, অন্যদিকে রাজনৈতিক হাতিয়ার। গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, বিরোধী মত প্রকাশ দমন, সংখ্যালঘু নিপীড়নের মতো বিষয় তাদের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করে। কারণ অভ্যন্তরীণ জনমত চাপে পড়ে। আন্তর্জাতিক ফোরামে প্রশ্ন ওঠে। নিষেধাজ্ঞা ও কূটনৈতিক টানাপড়েন তৈরি হয়। তাই তারা এমন শাসন ব্যবস্থা চায়, যেখানে মানবাধিকার ইস্যুতে সরকার থাকবে আপসহীন ও কঠোর। বাংলাদেশে কিছু কিছু ছোট গোষ্ঠী চরমপন্থার কথা বলেন। তারা ‘সবার সাথে বন্ধুত্ব কারও সাথে শত্রুতা নয়’ এই মূলনীতিকে ভুল প্রমাণ করার প্রচেষ্টা চালায়। এতে বিদেশিদের সঙ্গে পারস্পরিক সম্পর্ক বিনষ্ট হয়। তাই উন্নত বিশ্ব চরমপন্থা ভয় পায়। ধর্মীয় উগ্রতা, একদলীয় বা একমাত্রিক সত্যের দাবি বস্তুত আতঙ্কের জায়গা। কারণ এসব রাজনীতি অনিশ্চয়তা তৈরি করে। আঞ্চলিক অস্থিরতা বাড়ায়। মারাত্মক নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করে। তাই তারা মধ্যপন্থী, হিসাবি ও কূটনৈতিক শক্তিকে বেশি গ্রহণযোগ্য মনে করে।

সবশেষে বলা যায়, তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে মানুষের ধ্যান-ধারণা, বিবেক-বুদ্ধি, বিচার-বিশ্লেষণ আর কোনোভাবেই একটি সীমানার মাঝে বদ্ধ নেই। তাই মানুষের মনোভাব গোপন রয়েছে। ভোটের মাঠে একটি নীরব ব্যালট বিপ্লবের সম্ভাবনা আছে। সেই বিপ্লব যে কোন পক্ষে সংঘটিত হবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে যারাই নির্বাচিত হোন তারা যেন, কার্যকর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, স্থিতিশীল সরকার, বিনিয়োগবান্ধব অর্থনীতি, মানবাধিকার লঙ্ঘন না করে এবং আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য আচরণ করেন, জনগণ তাই-ই চায়। 


মেশকাত সাদিক

কলাম লেখক ও রাজনীতি বিশ্লেষক

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা