× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বিশ্বব্যাংক

জিডিপি প্রবৃদ্ধির সংকটেই কাটবে চলতি বছর

‎ড. মিহির কুমার রায়

প্রকাশ : ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:৪৩ এএম

জিডিপি প্রবৃদ্ধির সংকটেই কাটবে চলতি বছর

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মহলে অনেক আলোচনার ক্ষেত্র সৃষ্টি হয়েছে। বলা হয়, উচ্চ প্রবৃদ্ধির দেশ বাংলাদেশ। একটি দেশ উন্নয়নের কোন স্তরে রয়েছে তার একটি নিয়ামক হলো মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) হার, যা অর্থনৈতিক উন্নয়নের অনেক স্তর বিবেচনা করে তা নির্ধারণ করা হয়। তবে প্রবৃদ্ধি মানে উন্নয়ন নয়। কোনো দেশের অথনৈতিক অবস্থার গাণিতিক সূচক হিসাবে জিডিপির ধারণার প্রথম প্রস্তাব করেন আমেরিকান অর্থনীতিবিদ সায়মন কুজনেট। ১৯৩৭ সালে যেখানে তিনি দেখাতে চেষ্টা করেন জিডিপি কীভাবে একটি দেশের সার্বিক অর্থনীতির উন্নতি ও অবনতি নির্দেশ করে। তার মতে, একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো জিডিপি শুধু আর্থিক অবস্থার সূচক উন্নয়নে নয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক একযোগে জিডিপিকে উন্নয়নের সূচক হিসাবে ব্যবহার করতে শুরু করে, পরবর্তীতে এটাকেই উন্নয়নের পরিমাপ বলে গ্রহণ করে নেয়। তবে অনেক গবেষকই উন্নয়ন পরিমাপের ভ্রান্ত ধারণার সীমাবদ্ধতার ব্যাপারে সোচ্চার ছিলেন, যার মধ্যে সর্বাগ্রে ছিলেন মোজেস আব্রামোভিজÑ যিনি ১৯৫৯ সালেই এর সমালোচনা করেছেন। আর ২০১৯ সালে অর্থনীতিতে নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক জোসেফ স্টিগলিতজ জিডিপিকে বাতিল করার আহ্বান জানান। তবে পঞ্চাশ দশকের ধ্রুপদি উন্নয়ন নিয়ে অর্থনীতিবিদরা বলেন, টেকসই উন্নয়ন প্রবৃদ্ধির জন্য অর্থনৈতিক বিকাশ শ্রমসাধ্য অথচ দেশীয় সঞ্চয় বৃদ্ধি অপরিহার্য এবং অর্থনীতিবিদ পেইকাং, রয় এফ হ্যারোড, ইজি ডমার ও রবার্ট সলো দেখিয়েছেন দরিদ্র দেশগুলোর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য দেশীয় সঞ্চয় বৃদ্ধি কতটা জরুরি। তাদের বক্তব্য ছিল, কৃষিকাজের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করা। কৃষকও জানেন ভবিষ্যতে উন্নতির জন্য, যা দিয়ে জমি, কৃষি উপকরণ, যন্ত্রপাতি ক্রয় করা যায়Ñ যেখান থেকে বেশি ফসল উৎপাদন সম্ভব হয়। পঞ্চাশের দশকের প্রথম দিকে চীনদেশীয় সঞ্চয় বৃদ্ধির মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহ শুরু করে, যার ফলে সত্তর দশকের শেষ দিক থেকে চীনের জিডিপি কখনও বিশ শতাংশের নিচে নামেনি, যা ২০০৮ সালে ৫২ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছানোর ঘটনা ঘটে।

এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অবস্থাটা অনেকটা সুবিধাজনক পর্যায়ে থাকলেও দীর্ঘমেয়াদি টেকসই নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায় বিষেশত বৈশ্বিক পরিস্থিতির বিবেচনায়। তারপরও আলোচনায় আসে বাংলাদেশ এখন এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ১৩তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ। মোট দেশজ উৎপাদনের জিডিপি আকারে গত দুই যুগে সিঙ্গাপুর ও হংকংকে ছাড়িয়ে বাংলাদেশ এই অবস্থানে উঠেছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ২০১৮ সালের এক হিসাব মতে, বাংলাদেশে মোট ৭০ হাজার ৪১৬ কোটি ডলার সমপরিমাণ পণ্য উৎপাদন ও সেবা সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশকে এখন আর কৃষিপ্রধান দেশ বলা য়ায় না, তা এখন সেবাপ্রধান দেশ হিসেবে পরিচিত যেখানে এই খাতের অবদান জিডিপির ৫৫ শতাংশ, শিল্প খাতের অবদান ৩৫ শতাংশ এবং কৃষি খাতের অবদান ১০ শতাংশ। যদিও এখন পর্যন্ত ৪৬ শতাংশ লোক প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল।

উল্লেখ্য, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার চেয়ে কম থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, এ বছর দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে আসতে পারে। তবে সাময়িক এই মন্থরতার পর আগামী অর্থবছরে অর্থনীতি কিছুটা গতি পাবে বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৬ দশমিক ১ শতাংশে পৌঁছবে বলে ধারণা সংস্থাটির। বিশ্বব্যাংকের গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্টসের জানুয়ারি সংস্করণে বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে এই মূল্যায়ন তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ের চাপ সত্ত্বেও ভোক্তা ব্যয় বাড়া, মূল্যস্ফীতির চাপ ধীরে ধীরে কমে আসা এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কমলে প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধারের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বিশ্বব্যাংকের এই পূর্বাভাস এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ধারণার কাছাকাছি। এডিবি আগেই জানিয়েছে, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪ থেকে ৫ শতাংশের মধ্যে থাকবে। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকার সংশোধিত বাজেটে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ৫ শতাংশ। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, এই প্রবৃদ্ধি অর্জন করাও সহজ হবে না।

পাঁচ মাস ধরে তৈরি পোশাক খাতে রপ্তানি আয় নেতিবাচক ধারায় রয়েছে, নতুন কর্মসংস্থান বাড়ছে না এবং বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ ও ঋণপ্রবাহ দুর্বল অবস্থায় আছে। এই অবস্থা থেকে বেরোতে না পারলে প্রবৃদ্ধি বাড়ানো কঠিন হয়ে পড়বে। রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের (র‍্যাপিড) চেয়ারম্যান অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের লক্ষণ দেখা গেলেও চাপ এখনও বড় আকারেই রয়ে গেছে। তার মতে, এই পরিস্থিতির মধ্যেও জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশ হওয়া উচিত ছিল। তবে প্রবৃদ্ধি বাড়াতে হলে রিজার্ভ শক্তিশালী করা, মূল্যস্ফীতি এবং ব্যাংকিং খাতের ঝুঁকি কমানোর দিকে সরকারকে গুরুত্ব দিতে হবে।

বিশ্বব্যাংকও মূল্যস্ফীতি ও আর্থিক খাতের চাপে থাকার বিষয়টি তুলে ধরেছে। সংস্থাটির মতে, লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় মূল্যস্ফীতি বেশি থাকায় মুদ্রানীতি কঠোর করা হয়েছে। এতে ঋণের প্রবাহ কমেছে। এর প্রভাব পড়ছে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্কনীতি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলেও সতর্ক করেছে সংস্থাটি। তবে বিশ্বব্যাংক মনে করছে, ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কিছুটা কমবে। নির্বাচনের পর নতুন সরকার কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়নে এগোলে শিল্প খাত ও বিনিয়োগ পরিবেশ শক্তিশালী হতে পারে। এই বিবেচনায় আগামী অর্থবছরের জন্য প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস তুলনামূলক বেশি রাখা হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার প্রেক্ষাপটে চলতি অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হতে পারে ভুটানে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ। ভারতের প্রবৃদ্ধি সাড়ে ৬ শতাংশ, শ্রীলঙ্কায় সাড়ে ৩ শতাংশ, মালদ্বীপে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ এবং নেপালে ২ দশমিক ১ শতাংশ হতে পারে বলে বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস। পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের জন্য কোনো নির্দিষ্ট পূর্বাভাস দেয়নি সংস্থাটি।

এদিকে বিবিএসের সাম্প্রতিক হিসাবেও কিছুটা ইতিবাচক ইঙ্গিত মিলেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) জিডিপি প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে সাড়ে ৪ শতাংশ, যেখানে আগের অর্থবছরের একই সময়ে তা ছিল ২ দশমিক ৫৮ শতাংশ। এতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ধীরে ধীরে গতি ফেরার আভাস পাওয়া যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বৈশ্বিক অর্থনীতির চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, বাণিজ্য উত্তেজনা ও নীতিগত অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও বৈশ্বিক অর্থনীতি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা দেখাচ্ছে। ২০২৬ সালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ৬ শতাংশে নামলেও ২০২৭ সালে তা বেড়ে ২ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছতে পারে। বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রধান অর্থনীতিবিদ ইন্দরমিত গিলের মতে, স্থবিরতা ও বেকারত্ব এড়াতে সরকারগুলোকে বেসরকারি বিনিয়োগ, বাণিজ্য উদারীকরণ এবং প্রযুক্তি ও শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।

আবার বাংলাদেশের উন্নয়ন অভিজ্ঞতায় আরও একটি সীমাবদ্ধতা হলো দীর্ঘমেয়াদি আয়বৈষম্য ক্রমেই বাড়ছে। এখানে উল্লেখ্য, প্রবৃদ্ধি যদি উন্নয়নের সূচক হয় তবে বিগত বছরগুলোতে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি বাড়ালেও কর্মসংস্থান কমেছে সাধারণ গতিতে যেমন বিবিএসের পাঁচটি শ্রম জরিপে দেখা যায় ২০০৩ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত ৯৮ লাখ নতুন কর্মসংস্থান হয়েছে অর্থাৎ গড়ে প্রতিবছর ১৪ লাখ কর্মসংস্থান হয়েছে। আবার ২০১০ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ৬৭ লাখ নতুন কর্মসংস্থান হয়েছে। এই সময়ে বছরে গড়ে ৯ দশমিক ৫০ লাখ নতুন কর্মসংস্থান হয়েছে। এমতাবস্থায় কর্মসংস্থানবিহীন প্রবৃদ্ধির ব্যাপারে পরিকল্পনা কমিশন মনে করেনÑ অবশ্যই প্রবৃদ্ধির ধরন বদলাতে হবে। কারণ এসডিজি অর্জনে সবার জন্য শোভন কাজ সৃষ্টি করতে হবে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দেশে ২৭ লাখ মানুষ বেকার। গত বছরে যা ছিল ২৪ লাখ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে দেশে বেকার বেড়েছে ৩ লাখের বেশি। শহরাঞ্চলে এই হার আরও বেশি। প্রতিবছর প্রায় ২০ লাখ নতুন তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করে কিন্তু তাদের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয় না। আরও ভয়াবহ তথ্য হলো, যারা কর্মরত তাদের মধ্যেও বিপুলসংখ্যক আংশিক বেকার বা অপ্রতুল কর্মসংস্থানে নিযুক্ত। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) তথ্য বলছেÑ বাংলাদেশের প্রায় ৪০ শতাংশ তরুণ তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ পাচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক শেষ করার পরও অনেকেই মাসের পর মাস, এমনকি বছরের পর বছর চাকরির অপেক্ষায় থাকেন। হতাশা, মানসিক চাপ, অপরাধপ্রবণতা ও অভিবাসনের অন্ধ আকাঙ্ক্ষা সবই এই বেকারত্বের ফলাফল হিসেবে দেখা দিচ্ছে। প্রতিবছর প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ বাংলাদেশি কর্মসংস্থানের জন্য বিদেশে যাচ্ছে। যাদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতির একটি বড় ভিত্তি। কিন্তু প্রশ্ন হলোÑ এই অভিবাসন কি প্রকৃত সমাধান? বিদেশগামী শ্রমিকদের বড় অংশই অদক্ষ বা অল্প দক্ষ। ফলে তারা স্বল্প-বেতনের কাজেই সীমাবদ্ধ থাকছেন। আবার মধ্যপ্রাচ্য ও মালয়েশিয়ার মতো শ্রমবাজারগুলোতে অস্থিরতা দেখা দিলে দেশে ফিরে আসেন হাজার হাজার কর্মী, যাদের পুনর্বাসন কঠিন হয়ে পড়ে। অর্থাৎ, বিদেশে শ্রম রপ্তানি সাময়িক স্বস্তি দিলেও এটি কোনো দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থান নীতি নয়। বৈষম্যবিরোধী চেতনার মধ্য দিয়ে দেশে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান হয়েছে। এই অভ্যুত্থানের ফসল যদি পিছিয়ে পড়া মানুষের উপকারে না আসে, কৃষক যদি ন্যায্যমূল্য না পায় এবং শ্রমিকের বেতন বৃদ্ধি যদি মূল্যস্ফীতির চেয়ে কম থেকে যায়, তাহলে খুবই পরিতাপের বিষয় হবে।

সর্বশেষে বলা যায়, বাংলাদেশ ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশের কাতারে পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই লক্ষ্য অর্জনে বিদেশি বিনিয়োগের ভূমিকা অপরিসীম। দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন যাত্রা এখন বৈশ্বিক অঙ্গনে প্রশংসিত। বিনিয়োগবান্ধব অবকাঠামো, দক্ষ শ্রমশক্তি ও ভৌগোলিক অবস্থান আমাদের সামনে এক সুবর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে। আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে কোনো আপস করা যাবে না, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আইনের শাসনই হতে হবে সর্বোচ্চ শক্তি। সরকার যদি এতে সক্ষম হয়, তবে দেশে বিদেশি বিনিয়োগ প্রবাহ বাড়বে। অর্থনীতি আরও শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে এবং উন্নত দেশের লক্ষ্যে যাত্রা হবে অনেক বেশি নিশ্চিত। ২০২৫ সালেও প্রবাস আয় জাতীয় অর্থনীতির একটি শক্ত ভিত হিসেবে কাজ করেছে। লাখো প্রবাসী বাংলাদেশির শ্রম, ঝুঁকি ও ত্যাগ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ টিকিয়ে রাখতে সহায়ক হয়েছে। তবে এই অবদানের পাশাপাশি প্রবাসী কর্মীদের অধিকার, নিরাপত্তা ও সামাজিক মর্যাদার প্রশ্ন বছরজুড়ে আলোচনায় ছিল।


‎ড. মিহির কুমার রায়

অর্থনীতিবিদ, গবেষক ও সাবেক ডিন, সিটি ইউনিভার্সিটি

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা