পর্যবেক্ষণ
ড. মুনীরউদ্দিন আহমদ
প্রকাশ : ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ ১২:১০ পিএম
ইন্টারনেটের এক খবরে প্রকাশ, বিশ্বব্যাপী মানুষ অস্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে মোটা ও অসুস্থ হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো দেশের সরকার স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের জন্য অস্বাস্থ্যকর খাবার ও জাঙ্কফুড নিষিদ্ধ করতে বলেছে। আবার কোনো কোনো দেশের সরকার শিশু-কিশোরদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের নীতিমালা তৈরি করেছে। পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে, স্কুলে ছাত্রছাত্রীদের ওজন বাড়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ছাত্রছাত্রীরা স্কুল ক্যাফেটরিয়া থেকে অস্বাস্থ্যকর খাবার কিনে খাচ্ছে এবং এতে তারা মুটিয়ে যাচ্ছে। এটা পিতা-মাতা এবং অভিভাবকদের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ পিতা-মাতা ও স্কুল ক্যাফেটরিয়াগুলোকে পানি, দুধ, ফলের রসের মতো পানীয় এবং পুষ্টিকর স্বাস্থ্যসম্মত খাবার তৈরি, পরিবেশন ও বিক্রির জন্য বিস্তৃত নির্দেশনাবলি পাঠাচ্ছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ পুষ্টিবিদ এবং স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে ছাত্রছাত্রীদের স্বাস্থ্যসম্মত খাবার দেওয়ার জন্য অভিভাবকদের পরামর্শ দিতে বলেছে। কর্তৃপক্ষের অভিমত হলো, বাচ্চাদের কী খাবার খাওয়ানো হবে, মা-বাবাদের আমরা তা বলে দিতে পারি না। তবে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার সম্পর্কে তাদের পরামর্শ দিতে পারি।
বিশ্বায়নের কারণে সারাবিশ্বেই জাঙ্কফুড
শিশু-কিশোরদের জন্য এক মারাত্মক স্বাস্থ্যসমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে,
পশ্চিমা বিশ্বের সরকারগুলো শিশু-কিশোরদের ওপর এসব জাঙ্কফুডের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে
এবং এর ফলে উদ্ভূত স্বাস্থ্যসমস্যা নিয়ন্ত্রণে অগাধ অর্থ ব্যয় ছাড়াও পারিবারিক ও
সামাজিক সংকট মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছে। বাংলাদেশ দরিদ্র দেশ হলেও আমাদের সমাজে
বিশ্বায়নের হাওয়া পুরোপুরিই লেগেছে এবং তার খেসারতও পুরোদমেই দিতে হচ্ছে। দেশের
মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত শিশু-কিশোর এমনকি বয়স্কদের মধ্যেও ফাস্টফুড বা জাঙ্কফুডের
প্রতি আকর্ষণ দিন দিন বাড়ছে। আর সে কারণে অভিজাত এলাকায় ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে
উঠেছে হরেকরকমের ফাস্টফুড বা জাঙ্কফুডের দোকানপাট। এসব দোকানপাটে ভিড় ও বেচাকেনা
দেখার মতো।
এবার জাঙ্কফুড সম্পর্কে একটু বলি। কারণ অনেকের কাছেই
হয়তো জাঙ্কফুড কথাটি অপরিচিত ঠেকতে পারে। ‘জাঙ্ক’ শব্দের আভিধানিক অর্থ জঞ্জাল আর
ফুড মানে খাবার। তবে জাঙ্কফুডকে জঞ্জাল খাবার বললে বেমানান ঠেকতে পারে। অনেকেই
আমার সঙ্গে একমত নাও হতে পারেন বলে আমি এখানে জাঙ্কফুডকে অস্বাস্থ্যকর খাবার
হিসেবেই অভিহিত করব। খাবারের মাননিয়ন্ত্রণ প্রতিনিধি বা বিশেষজ্ঞদের মতে, জাঙ্কফুড
হলো স্বল্প পুষ্টিসম্পন্ন অস্বাস্থ্যকর খাবার। প্রচুর চর্বি, লবণ, চিনি এবং
মনোসোডিয়াম গলুটামেট, টাট্রাজিন জাতীয় বিতর্কিত খাদ্য উপকরণসমৃদ্ধ খাবারকে সাধারণত
জাঙ্কফুড বলা হয়। অন্যান্য দরকারি খাবারের মতো এসব খাবারে প্রোটিন, ভিটামিন, খনিজ
পদার্থ এবং আঁশজাতীয় খাবারের পরিমাণ কম থাকে। বিশ্ববিখ্যাত ম্যাকডোনাল্ড, বার্গার
কিং, কেন্টাকি ফ্রাইড চিকেন (কেএফসি) পিৎজাহাটের হ্যামবার্গার, ফ্রাইড চিকেন, পিৎজা,
ফ্রেঞ্চ ফ্রাইকে জাঙ্কফুড হিসেবে অভিহিত করা হয়। তবে অনেক সমালোচক এ সংজ্ঞার সঙ্গে
একমত নন। অনেকেই মনে করেন, সীমিত পরিমাণে এসব খাবার খেলে শরীরের তেমন ক্ষতি হয় না।
আবার অনেকেরই ‘জাঙ্ক’ শব্দটি ব্যবহারে অনীহা রয়েছে।
অনেকগুলো কারণে মানুষ বিশেষ করে, শিশু-কিশোররা
জাঙ্কফুডের প্রতি অতিমাত্রায় আকৃষ্ট হয়ে পড়ে। জাঙ্কফুড বা ফাস্টফুড খেতে বেশ
সুস্বাদু। এসব খাবার প্রস্তুতে বেশি সময় লাগে না বলে অর্ডার দিলেই অল্প সময়ে
সরবরাহ করা সম্ভব। পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের দ্রব্যসামগ্রী কিনতে বাজারে
বা দোকানে যেতে হয় এবং রান্না বা প্রস্তুতে সময়ের প্রয়োজন। অনেকেরই এত সময় থাকে
না। অল্প বয়সি তরুণ-তরুণীরা রেডিমেড খাবারেই বেশি অভ্যস্ত। এ কারণে পশ্চিমা বিশ্বে
দুপুরের খাবারের সময় অসংখ্য মানুষকে জাঙ্কফুড বা ফাস্টফুড খেয়ে দায় সারতে হয়। ওসব
দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্যাফেটরিয়াগুলোতে জাঙ্কফুডের কোনো স্থান নেই।
ছাত্রছাত্রীদের স্বাস্থ্যের কথা ভেবে পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার পরিবেশন করা
হয়। কোনো কোনো সময় জাঙ্কফুড তুলনামূলক সস্তা দামে পাওয়া যায়। সারাদিন অক্লান্ত
পরিশ্রম বা ক্লান্তির পর অনেকের কাছে প্রচুর চিনিসমৃদ্ধ কোমল পানীয়সহ ফাস্টফুড বা
জাঙ্কফুড পাওয়া এক অপরিসীম আত্মতৃপ্তির ব্যাপার।
আমাদের দেশেও আজকাল বিভিন্ন অনুষ্ঠান, সভা-সমিতি বা
সেমিনার-সিম্পোজিয়ামে জাঙ্কফুডের প্রচলন বাড়ছে। ফাস্টফুডের জনপ্রিয়তার পেছনে
বিজ্ঞাপনেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে মুটিয়ে যাওয়া-সংক্রান্ত
স্বাস্থ্যসমস্যা মোকাবিলায় ২০০৩ সালে ১১৭ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হয়। প্রতিবছর
অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ক্যানসারে মারা যায় ৫ লাখ মানুষ।
অতিমাত্রায় চর্বিসমৃদ্ধ খাবার খেয়ে প্রতিবছর মারা যায় ৩ লাখ মানুষ। ২০০০ সালে
আমেরিকানরা ফাস্টফুড বা জাঙ্কফুডের পেছনে ১১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় করেছে। এক
পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, আমেরিকানরা এখন জাঙ্কফুডের পেছনে যা ব্যয় করে, তা সে দেশের
উচ্চশিক্ষা, পার্সোনাল কম্পিউটার, কম্পিউটার সফটওয়্যার অথবা নতুন গাড়ির জন্য
ব্যয়ের চেয়ে বেশি। প্রতিবছর আমেরিকানরা খাবার নিয়ন্ত্রণ এবং ওজন কমানোর পেছনে ৫০
বিলিয়ন ডলার খরচ করে। এসব কোম্পানি প্রতিবছর তাদের খাবারের বিজ্ঞাপনের পেছনে ৩০
বিলিয়ন ডলার ব্যয় করে। ম্যাকডোনাল্ড তাদের একটি বিজ্ঞাপন প্রচারে ৫০০ মিলিয়ন ডলার
খরচ করে, যেখানে ন্যাশনাল ক্যানসার ইনস্টিটিউট প্রতিদিন ফল ও সবজির ৫টি সার্ভিং
গ্রহণের কথা অ্যাড প্রমোশনে প্রতিবছর ব্যয় করে মাত্র ১ মিলিয়ন ডলার। এমনও দেখা
গেছে, জাঙ্কফুডের প্রতি আকর্ষণ বাড়ানোর জন্য ৩ বছরের শিশুদের পর্যন্ত টার্গেট করা
হয়েছে। ২০০২ সালে শিশুদের জন্য জাঙ্কফুড বিপণনে ব্যবসায়ীরা ১৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়
করেছিলেন।
এবার জাঙ্কফুড বা ফাস্টফুডের ক্ষতিকর প্রভাব
সম্পর্কে একটু আলোচনা করা যাক। আগেই বলা হয়েছে, প্রচুর চর্বি ও চিনিসমৃদ্ধ খাবার
খেলে শরীরের ওজন বেড়ে যায়। বাড়তি ওজন শরীরের জন্য ভালো নয়। পশ্চিমা বিশ্বে
ক্যান্ডি, আইসক্রিম, প্রচুর চিনিসমৃদ্ধ কোমল পানীয়, তেল ও চর্বিসমৃদ্ধ খাবার
খাওয়ার কারণে মানুষের, বিশেষ করে অপ্রাপ্ত বয়স্কদের ওজন বৃদ্ধি একজাতীয় সমস্যারূপে
আবির্ভূত হয়েছে। শরীরের মাত্রাতিরিক্ত ওজনের সঙ্গে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ,
ডায়াবেটিস, আথ্রাইটিস জাতীয় বহু রোগের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। এসব ভয়ংকর প্রাণঘাতী
রোগের কথা ভেবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা স্থূলকায় ব্যক্তিদের ওজন কমিয়ে স্বাভাবিক
মাত্রায় নিয়ে আসার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। অতিরিক্ত চর্বি বা চর্বিজাতীয় খাবার শরীরের
জন্য মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। কোলেস্টেরল এক সুপরিচিত লিপিড। শরীরের
শিরা-উপশিরার অভ্যন্তরীণ দেয়ালে কোলেস্টেরল, লিপিড বা চর্বিজাতীয় দ্রব্য এবং
লাইপোফেজ পুঞ্জীভূত হওয়ার কারণে শিরা মোটা হয়ে যায় এবং সম্প্রসারণ-সংকোচন ক্ষমতা
বিলুপ্ত হয়। ফলে উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রোক এবং হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়া অস্বাভাবিক নয়।
শুধু ফাস্টফুডের কথাই-বা বলি কেন!
আমাদের দেশে বিয়েশাদি বা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আমরা
যেসব খাবার পরিবেশন করি বা খাই তা ফাস্টফুডের চেয়ে কম ক্ষতিকর নয়। বরং আমি বলব
বেশি ক্ষতিকর। পোলাও, বিরিয়ানি, রোস্ট, গরু বা খাসির মাংসে যে পরিমাণ তেল, চর্বি,
ঘি ব্যবহার করা হয়, তা কোনোমতেই স্বাস্থ্যসম্মত নয়। গরু বা খাসির মাংসে এমনিতেই
প্রচুর চর্বি এবং কোলেস্টেরল থাকে। তার ওপর আরও বাড়তি তেল, চর্বি, ঘি দিয়ে খাবারকে
সুস্বাদু করা হয় বটে কিন্তু তা কোনোভাবেই স্বাস্থ্যসম্মত হয় না। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে
এ-জাতীয় খাবার খাওয়ার কারণে দেশে উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রোক, হৃদরোগ, ডায়াবেটিসের
প্রবণতা মারাত্মক হারে বেড়ে যাচ্ছে। আমাদের খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের কথাটি এ
প্রসঙ্গে অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। সুষম স্বাস্থ্যকর খাবার শরীরকে সুস্থ রাখতে
বিশেষ অবদান রাখে। পরিমিত কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা, প্রোটিন বা আমিষ, লিপিড,
ভিটামিন, খনিজ পদার্থ, বিশুদ্ধ পানীয়, আঁশজাতীয় খাবার স্বাস্থ্যকর খাবারের
অন্তর্ভুক্ত।
উল্লিখিত খাবারের মধ্যে শাকসবজি-ফলমূলের আধিক্য থাকা
অবশ্য বাঞ্ছনীয়। শাকসবজি-ফলমূল হলো ভিটামিন, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, খনিজ পদার্থ এবং
আঁশজাতীয় দ্রব্যের অফুরন্ত ভান্ডার। শিশু-কিশোররা শুধু মাংস এবং তেল-চর্বিজাতীয়
খাবার খেতে চায়। ফলমূল, শাকসবজির প্রতি তাদের প্রচণ্ড অনীহা। এ প্রবণতা
স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। শাকসবজি-ফলমূল, আঁশসমৃদ্ধ সুষম খাবার শরীরের ওজন, হৃদরোগ,
রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। সারাবিশ্বে
মানুষের মধ্যে অন্য আরেকটি অশুভ প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়। আমরা ওষুধ কোম্পানিগুলোকে
ভিটামিন, অ্যান্টি অক্সিডেন্ট, খনিজ পদার্থের একমাত্র উৎস হিসেবে বিবেচনা করি এবং
এসব কেনার জন্য প্রচুর অর্থকড়ি ব্যয় করি। মনে রাখা উচিত, প্রাকৃতিক উৎস থেকে
প্রাপ্ত ভিটামিন, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট বা খনিজ পদার্থ কোম্পানি কর্তৃক কৃত্রিম
উপায়ে প্রস্তুত পিল বা ট্যাবলেটের চেয়ে বেশি কার্যকর। স্থূলকায় শিশু-কিশোরদের
আইসক্রিম, ক্যান্ডি বা ফাস্টফুডের অপকারিতা সম্পর্কে জ্ঞানদান অত্যন্ত প্রয়োজন।
কালেভদ্রে দুয়েকবার খাওয়া গেলেও জাঙ্কফুডের প্রতি আসক্তি এবং প্রতিনিয়তই এসব খাওয়া
সবার জন্য সমূহ বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই সময় থাকতেই অস্বাস্থ্যকর খাবার
পরিহার করে সুষম, পুষ্টিকর স্বাস্থ্যসম্মত খাবার গ্রহণ করে স্থাস্থ্য ভালো রাখুন।
স্বাস্থ্যসম্মত খাবার বলতে দামি খাবার বোঝায় না। আপনি
যদি উচ্চ রক্তচাপের রোগী হন, আপনার যদি হৃদরোগ থাকে, তবে বিয়েশাদি বা বিভিন্ন
অনুষ্ঠানে পরিবেশিত তেল, চর্বি, ঘিসমৃদ্ধ খাবার পরিহার করুন। বিয়েতে একান্তই যেতে
হলে এবং খেতে হলে সাদা ভাত বা আটার রুটির ব্যবস্থা রাখুন। দরকার হলে বাসা থেকে ভাত
বা রুটি সঙ্গে নিয়ে যান। আপনি ডায়াবেটিসে ভুগলে প্রচুর চিনিসমৃদ্ধ কোমল পানীয়
বর্জন করুন। পানীয় হিসেবে বিশুদ্ধ পানির কোনো বিকল্প নেই। চাইলে কৃত্রিম চিনি বা
মিষ্টি দিয়ে তৈরি কোমল পানীয় পান করুন। যদি পারেন এসব পানীয় না খাওয়া আরও উত্তম।
অনেকেই রাস্তাঘাট, দোকানপাটে দূষিত ও অস্বাস্থ্যকর
পচা-বাসি পানীয় ও খাবার খেয়ে টাইফয়েড, হেপাটাইটিস, ডায়রিয়া, আমাশয়ের মতো জটিল রোগে
আক্রান্ত হন। সুস্বাস্থ্যের জন্য এসব খাবার সম্পূর্ণ বর্জন করতে হবে। সামনে রোজা
আসছে। স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনায় নিয়ে রোজার সময় খাবারদাবার গ্রহণে অত্যন্ত সচেতন
হতে হবে। ইফতার ও সেহরিতে ভাজা-পোড়া, তেল ও চর্বিসমৃদ্ধ খাবার পরিহার করে শাকসবজি,
ফলমূল এবং ঘরে তৈরি পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করা বাঞ্ছনীয়। রোজার মাসে
প্রচুর পানি বা পানীয় গ্রহণ করা দরকার। না হলে পানিশূন্যতায় শরীর আক্রান্ত হতে
পারে।
সব সময় মনে রাখা উচিত, অসুস্থ হওয়াটা এক বিরাট অভিশাপ। সুস্বাস্থ্যই সুখের মূল। সুস্থ থাকার জন্য সদা সচেষ্ট থাকা দরকার। কোনোমতেই শরীরের ওপর অত্যাচার করবেন না। যারা বলেন, ‘শরীরের নাম মহাশয়, যা সওয়াবে তাই সয়’Ñ কথাটি ঠিক নয়। পুষ্টিগুণ এবং স্বাস্থ্যকর খাবার সম্পর্কে জানার জন্য আমাদের সবার একটু পড়াশোনা করা দরকার। আপনি এবং আপনার পরিবারের সব সদস্যের জন্য একটি স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলুন। সুস্বাস্থ্য আমাদের জীবনে শুধু আনন্দই বয়ে আনে না, সুস্বাস্থ্য উপহার দেয় অফুরন্ত কর্মচাঞ্চল্য, উৎসাহ-উদ্দীপনা, শক্তি, যা আপনার জীবনে বয়ে আনে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য। তাই আসুন, আমরা সবাই সুস্থ থাকতে সচেষ্ট হই।
ড. মুনীরউদ্দিন আহমদ
প্রফেসর, ফার্মেসি বিভাগ, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এবং সাবেক অধ্যাপক ও ডিন, ফার্মেসি অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়