ইমেইল থেকে
এম মহাসিন মিয়া
প্রকাশ : ১০ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:১৪ এএম
শীতের সকাল মানেই কুয়াশার নরম আবরণে মোড়া প্রকৃতি। আর সেই কুয়াশা ভেদ করে নদীপথে লঞ্চ ভ্রমণ এক অনন্য অনুভূতির নাম। ভোরের আলো ফোটার আগেই যখন লঞ্চ ঘাট ছেড়ে যায়, তখন চারপাশে সাদা কুয়াশার পর্দা। নদী, আকাশ আর দিগন্ত যেন একাকার হয়ে যায়। দূরের কিছুই স্পষ্ট নয়, তবু সেই অস্পষ্টতার মাঝেই লুকিয়ে থাকে অন্য রকম সৌন্দর্য।
লঞ্চের
ডেকে দাঁড়িয়ে কুয়াশাভেজা হিমেল হাওয়া গায়ে লাগলে শরীরের ক্লান্তি মিলিয়ে যায়।
ইঞ্জিনের মৃদু শব্দ আর মাঝেমধ্যে ভেসে আসা হুইসেলের আওয়াজ ভ্রমণকে করে তোলে আরও
রোমাঞ্চকর। কুয়াশার আড়াল থেকে হঠাৎ ভেসে ওঠে কোনো নৌকা, নদীর তীরের তাল-খেজুর গাছ
কিংবা দূরের জনপদ দৃশ্যগুলো যেন মুহূর্তেই মিলিয়ে যায় আবার ফিরে আসে।
এই
ভ্রমণ শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য দেখার নয়, বরং জীবনের গতিকে নতুনভাবে অনুভব করার
সুযোগও দেয়। শীতের সকালে নদীপথে যাতায়াত করা মানুষগুলোর মুখে থাকে নীরব ব্যস্ততা,
আবার কারও চোখে জমে থাকে গভীর প্রশান্তি। চায়ের কাপে ধোঁয়া উঠতে উঠতে গল্প জমে ওঠে
অপরিচিত সহযাত্রীদের মাঝেও।
ঘন
কুয়াশার ভেতর দিয়ে ধীরগতিতে এগিয়ে চলা লঞ্চ যেন আমাদের শেখায় ধৈর্য আর স্থিরতা।
ব্যস্ত জীবনের কোলাহল থেকে কিছু সময়ের জন্য দূরে গিয়ে এমন একটি ভ্রমণ মনকে করে
তোলে শান্ত, সতেজ ও ভাবনাময়। শীতের সকালে কুয়াশামাখা লঞ্চ ভ্রমণ তাই শুধু যাত্রা
নয়, এক নিঃশব্দ কবিতার মতো স্মরণীয় অভিজ্ঞতা।
এম মহাসিন মিয়া
লংগদু, রাঙামাটি