× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

খালেদা জিয়া

বাংলাদেশ প্রশ্নে আপসহীন নেত্রী

ড. মাহরুফ চৌধুরী

প্রকাশ : ০৭ জানুয়ারি ২০২৬ ১২:৫৭ পিএম

 বাংলাদেশ প্রশ্নে আপসহীন নেত্রী

বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের সূচনা কোনো পূর্বপরিকল্পিত ক্ষমতা লাভের অভিলাষ বা ব্যক্তিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার ফল নয়, বরং তা জন্ম নিয়েছিল এক রক্তাক্ত ইতিহাস, আত্মত্যাগ ও জাতীয় সংকটের ধারাবাহিকতা থেকে। ১৯৮১ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নির্মমভাবে নিহত হওয়ার পর বাংলাদেশ এক গভীর শোক, রাজনৈতিক শূন্যতা ও অনিশ্চয়তার ভেতর প্রবেশ করে। সে সময় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্র ছিল জনগণের হাতছাড়া, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ছিল প্রায় অকার্যকর, আর রাজনীতি বন্দি ছিল সামরিক শাসনের কঠোর ছায়ায়। এমন এক দুঃসময়েই বেগম খালেদা জিয়া দেশের মূলধারার রাজনীতির সম্মুখসারিতে আবির্ভূত হন। সেটা মূলত ক্ষমতার মোহে নয়, বরং একটি আদর্শিক উত্তরাধিকার রক্ষা ও রাষ্ট্রকে পুনরায় গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরিয়ে আনার ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা থেকে। এই প্রেক্ষাপটে তার রাজনৈতিক অভিযাত্রা ছিল ব্যক্তিগত শোককে জাতীয় সংগ্রামে রূপান্তরের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেতৃত্ব গ্রহণের পর তিনি কেবল একটি রাজনৈতিক দলের প্রধানই হননি, বরং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে পরিণত হন এক প্রতীকী শক্তিতে। দলীয় সংগঠনকে পুনর্গঠন, মাঠপর্যায়ের রাজনীতিকে সক্রিয় করা এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে ব্যক্তি-নির্ভরতা থেকে আদর্শ-নির্ভরতার দিকে নেওয়ার প্রচেষ্টাই হয়ে ওঠে তার নেতৃত্বের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এই সময় থেকেই বেগম খালেদা জিয়ার রাজনীতি স্পষ্টভাবে চিহ্নিত হয় একটি লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে আর সেটা হলো, রাষ্ট্রক্ষমতার উৎস জনগণ, আর সেই জনগণের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় কোনো আপস নয়। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে গণ-আন্দোলনের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচারী শাসনের পতনের পর বেগম খালেদা জিয়া প্রথমবারের মতো দেশের প্রধানমন্ত্রী (১৯৯১-১৯৯৬) হিসেবে রাষ্ট্রক্ষমতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

বাংলাদেশের ইতিহাসে তিনি ছিলেন প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। যা কেবল এক মাইলফলকই নয়, বরং সামরিক শাসন-পরবর্তী গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনের প্রতীকও বটে। এই সময় থেকেই তার রাজনৈতিক দর্শনে আধিপত্যবাদ-বিরোধী অবস্থান সুস্পষ্ট ও সুসংহত রূপ পেতে শুরু করে। রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি স্তরে তিনি একটি মৌলিক বার্তা প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন যে, বাংলাদেশ কারও করুণায় চলবে না, কোনো আঞ্চলিক বা পরাশক্তির ছায়াতলে নিজেকে সমর্পণ করবে না।

তার দ্বিতীয় দফা শাসনামলে (২০০১-২০০৬) এবং ক্ষমতার বাইরে থাকা দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের পর্যায়ে বেগম খালেদা জিয়া বারবার সিকিমের উদাহরণ টেনে একটি গভীর ঐতিহাসিক সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেন। তার বক্তব্যের সারকথা ছিল স্পষ্টÑ ইতিহাস অসতর্ক জাতিকে ক্ষমা করে না। বাংলাদেশে ভারতীয় আধিপত্যের নীলনকশা বাস্তবায়নের প্রচেষ্টায় তার এই তুলনা ছিল নিছক আবেগী বক্তব্য নয়, বরং উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস থেকে নেওয়া এক সচেতন রাজনৈতিক পাঠ। সিকিমের অভিজ্ঞতা তার কাছে ছিল একটি প্রতীক, যেখানে ভারত ধাপে ধাপে বন্ধুত্ব, নিরাপত্তা ও সহযোগিতার নামে একটি রাষ্ট্রের স্বাধীন ও সার্বভৌম রাজনৈতিক সত্তাকে সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত করে দেয়। এই প্রসঙ্গে তিনি কেবল ভারতীয় আগ্রাসী রাষ্ট্রনীতির সমালোচনাই করেননি, বরং বাংলাদেশি সমাজ, রাজনীতি ও নীতিনির্ধারকদের উদ্দেশে একটি স্পষ্ট সতর্কতা উচ্চারণ করেছিলেন যে, সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সামান্য অসতর্কতাও ভবিষ্যতে জাতির জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের পটভূমি স্বাধীনতার পর থেকেই বহুমাত্রিক ও জটিল। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতের সহায়ক ভূমিকা ইতিহাসে স্বীকৃত, সেই সহায়তা বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পথে একটি বাস্তব রাজনৈতিক সত্য। সেখানে নানা ‘তবে’ বা ‘কিন্তু’ থাকলেও ইতিহাস সেখানেই থেমে থাকেনি। স্বাধীনতা-উত্তর সময়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে ভারতের প্রভাব বিস্তার কিংবা প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ হস্তক্ষেপ নিয়ে নানা বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, যা সময়ের সঙ্গে আরও তীব্র হয়েছে। দেশপ্রেমী বাংলাদেশিদের ভাবিয়ে তুলেছে।

স্বাধীনতা যুদ্ধের সহযোগিতা ও পরবর্তী রাষ্ট্রীয় সম্পর্কÑ এই দুই বাস্তবতার মধ্যে বিবেকহীন বুদ্ধিজীবী ও স্বার্থান্ধ রাজনৈতিক নেতাদের পার্থক্য টানতে ব্যর্থতার কারণে বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই বিভ্রান্তি ও অসন্তোষ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষত, রাজনৈতিক দল হিসেবে ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ’-এর প্রতি ভারতের বিশেষ পৃষ্ঠপোষকতা ও রাজনৈতিক সমর্থন ও পক্ষপাতিত্ব জনমনে গভীর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে ভারতের ভূমিকা নিয়ে যে বিতর্ক উঠে এসেছে, তা কেবল বিরোধী দলের রাজনৈতিক বক্তব্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং নাগরিক সমাজ, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের আলোচনাতেও উঠে এসেছে। রাজনৈতিক ভাষ্যকারদের মতে, ভারতের কূটনৈতিক অবস্থান ও নীতিগত সমর্থন কখনও কখনও বাংলাদেশের সার্বভৌম নির্বাচনী ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার ওপর দৃশ্যমান কিংবা অদৃশ্য চাপ সৃষ্টি করেছে। তারই ফলে জনমনে ভারতীয় আধিপত্যবাদ বিরোধী তীব্র থেকে তীব্রতর হয়েছে ইতিহাসের পালাক্রমে।

তিনি বহুবার আন্তর্জাতিক পরিসরে ভারতের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বহিঃপ্রভাবের বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলের নজরে আনতে সচেষ্ট হয়েছেন। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে তার বক্তব্যের মূল সুর ছিল সুস্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন। আর তা হলো বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক অধিকার, রাজনৈতিক পথনির্দেশ ও রাষ্ট্রীয় ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে এ দেশের জনগণ; কোনো প্রতিবেশী রাষ্ট্র বা আঞ্চলিক কিংবা বৈশ্বিক শক্তি নয়। তার সেইসব বক্তব্যের ভাষ্য কেবল কূটনৈতিক অভিযোগ নয়, বরং একটি বড় রাষ্ট্রের পাশে আরেকটি ছোট রাষ্ট্রের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে আন্তর্জাতিক নৈতিকতার প্রশ্নে নীতিগত রূপান্তরেপ্রয়াস। আঞ্চলিক বাস্তবতায় ক্ষমতায় আরোহণ বা দীর্ঘস্থায়ী করতে যেখানে বহু রাজনৈতিক নেতৃত্ব নীরবতা বা সমঝোতার পথ বেছে নিয়েছে, সেখানে বেগম খালেদা জিয়া প্রকাশ্য উচ্চারণে প্রতিবাদের পথকে বেছে নেন। ফলে তিনি ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির ক্রীড়নকদের দৃষ্টিতে অস্বস্তিকর হয়ে ওঠেন, কিন্তু একই সঙ্গে জনগণের কাছে পরিণত হন আপসহীন রাষ্ট্রীয় জাতীয়তাবাদী নেতৃত্বের প্রতীকে।

খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন ও ধারাবাহিক বক্তব্যে বারবার প্রাধান্য পেয়েছে দেশপ্রেম এবং দেশের মানুষের অধিকার অর্থাৎ বাংলাদেশমুখী রাজনীতির পক্ষে তার একটি দৃঢ় অবস্থান। তার রাষ্ট্রীয় জাতীয়তাবাদ কখনোই সংকীর্ণ অর্থে নয়; বরং রাষ্ট্রের মর্যাদা, জনগণের সিদ্ধান্তগ্রহণ ক্ষমতা ও স্বাধীন ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকারের সঙ্গে গভীরভাবে সংযুক্ত। ব্যক্তিগত রাজনৈতিক আন্দোলের ইতিহাসও তার এই অবস্থানকে আরও অর্থবহ করে তোলে। তিনি ১৯৪৫ সালে ঔপনিবেশিক ভারতের জলপাইগুড়িতে জন্মগ্রহণ করলেও ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর তার পরিবার চলে আসে স্বাধীন বাংলাদেশের দিনাজপুরে। সেই সময় থেকেই ভৌগোলিক আত্মপরিচয়ের চেয়ে দেশের প্রশ্নে রাজনৈতিক, নৈতিক ও আদর্শিক পরিচয় তার কাছে মুখ্য হয়ে ওঠে। পরবর্তী জীবনে তিনি নিজেকে কখনোই সীমান্তের ওপারের কোনো স্মৃতির সঙ্গে সংজ্ঞায়িত করেননি, বরং সব সময় নিজেকে বাংলাদেশি নাগরিক ও বাংলাদেশি রাজনীতিক হিসেবেই প্রতিষ্ঠিত করেছেন। এই ধারাবাহিক আত্মপরিচয় ও রাজনৈতিক অবস্থানই প্রমাণ করে তার জাতীয়তাবাদ জন্মসূত্রে নয়, নির্বাচিত ও চর্চিত জীবনবোধের গভীরে প্রোথিত ছিল।

বেগম খালেদা জিয়ার রাজনীতির প্রেরণাকেন্দ্রে ছিল স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শিক উত্তরাধিকার। বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ, জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আপসহীনতা, আত্মনির্ভরশীল রাষ্ট্রচিন্তা এবং সর্বোপরি ‘সবার আগে বাংলাদেশ’Ñ এই দর্শন তিনি কেবল আবেগে ধারণ করেননি, বরং রাজনৈতিক জীবনে লালনপালনেচেষ্টা করেছেন এবং সক্ষমতার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সচেতনভাবে বহন করেছেন। সময়, ক্ষমতা কিংবা পরিস্থিতির চাপে এই আদর্শ থেকে তিনি কখনও একচুলও সরে আসেননি; এটাই তাকে সমসাময়িক বহু নেতার থেকে আলাদা করেছে। ব্যক্তিগত জীবনে সীমাহীন ত্যাগ, দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা, কারাবাস ও রাজনৈতিক নিঃসঙ্গতা সত্ত্বেও দেশ ও দেশের মানুষের অধিকারের প্রশ্নে তার অবস্থান ছিল অবিচল। তিনি বহুবার স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, তার নিজের পরিচয়, দায়দায়িত্ব এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের সঙ্গেই অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত।

তার রাজনীতিতে দেশপ্রেম কোনো মৌসুমি স্লোগানের বিষয় ছিল না, বরং তা ছিল একটি ধারাবাহিক নৈতিক অবস্থান। খালেদা জিয়া সব সময়ই দেশের সার্বভৌমত্ব, সাংবিধানিক গণতন্ত্র এবং জাতীয় স্বার্থকে বিন্দু পরিমাণ ছাড় দেওয়ার বিপক্ষে ছিলেন। ক্ষমতায় থাকুন বা না থাকুন, রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত-গ্রহণের ক্ষমতা, জনগণের ভোটাধিকার এবং সাংবিধানিক কাঠামোর প্রশ্নে তিনি আপসের পথ বেছে নেননি। রাষ্ট্রচিন্তার দৃষ্টিতে তিনি সেই ধারারপ্রতিনিধিত্ব করেছিলেন, যেখানে নেতৃত্ব মানে সুবিধাভোগ নয়, বরং দায়িত্ব বহনের সাহস ও নৈতিক-দায়। তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতি একজন দৃঢ়চেতা, স্পষ্টভাষী ও দেশপ্রেমিক নেত্রীকে হারাল, যার কণ্ঠ কখনও দ্বিধাগ্রস্ত হয়নি, দেশ ও জনগণের স্বার্থে যিনি নিজ স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিতে কুণ্ঠিত হননি, যার অবস্থান মানুষের কাছে কখনও অস্পষ্ট ছিল না।

অবিসংবাদিতভাবে বেগম জিয়া ছিলেন এমন এক আপসহীন নেত্রী, যিনি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে প্রতিষ্ঠা ও সংরক্ষণের জন্য দীর্ঘকাল দেশের রাজনৈতিক পরিসরে সক্রিয় থেকেছেন। তার সমগ্র রাজনৈতিক চর্চায় বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ এবং মানুষের মৌলিক অধিকারÑ এই তিনটি বিষয়ই কেন্দ্রীয় মূল্যবোধ হিসেবে প্রতিপালিত হয়েছে। ক্ষমতার কেন্দ্র বদলালেও তার অবস্থান বদলায়নি, বরং রাষ্ট্রচিন্তার মৌলিক প্রশ্নে তিনি ছিলেন আদর্শিক, ধারাবাহিক ও সুস্পষ্ট। তিনি সামরিক শাসন, স্বৈরাচার এবং একপাক্ষিক সিদ্ধান্তগ্রহণের রাজনীতির বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন এবং জনগণের ভোটাধিকার ও সাংবিধানিক গণতন্ত্রকে রাষ্ট্র পরিচালনার প্রধান ভিত্তি হিসেবে দেখেছেন।

বেগম জিয়ার দেশপ্রেমিক মনোবৃত্তি ও রাজনৈতিক আদর্শের স্থিতিশীলতায় দেশকে অটল রাখার প্রচেষ্টাই তাকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন প্রভাবশালী বিরোধী নেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। বিশেষ করে, এমন একসময়ে, যখন দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, আঞ্চলিক সম্পর্ক এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো জটিল ও সংকটপূর্ণ পর্যায়ে ছিল, তখন তার আপসহীনতা অনেকের কাছে বিব্রতকর হলেও দেশের আপামর জনগণের একটি বড় অংশের কাছে তা ছিল আস্থার উৎস। তিনি প্রমাণ করেছেন নারীর নেতৃত্ব কেবল প্রতীকী নয়, বরং রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত, জাতীয় স্বার্থ ও রাজনৈতিক সাহসের প্রশ্নে সমানভাবে প্রভাবশালী হতে পারে। এই কারণেই খালেদা জিয়া কেবল একটি সময়ের রাজনীতিক ননÑ তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অধিকার, মর্যাদা ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে দাঁড়িয়ে থাকা এক অনিবার্য নাম।


ড. মাহরুফ চৌধুরী

ভিজিটিং ফ্যাকাল্টিইউনিভার্সিটি অব রোহ্যাম্পটনযুক্তরাজ্য

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা