× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

প্রশাসনিক কাঠামো

প্রাতিষ্ঠানিক করা গেলে জাতীয় রাজনীতি শক্তিশালী হবে

ড. মোসলেহউদ্দিন আহমেদ

প্রকাশ : ০৬ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:২৫ এএম

প্রাতিষ্ঠানিক করা গেলে জাতীয় রাজনীতি শক্তিশালী হবে

দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০২৫ নানা কারণেই বৈচিত্র্যময় হয়েই টিকে থাকবে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ছিল দেশের রাজনীতির ইতিহাসে ঘটনাবহুল প্রেক্ষাপট। তারই ধারাবাহিকতায় বিগত বছরটিতে রাজনৈতিক, প্রশাসনিক, গণতান্ত্রিক এবং রাষ্ট্রের মূল চালিকাশক্তি জনগণও বৈচিত্র্যময় পরিস্থিতি পার হয়েছে। চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হয়েছে। আমরা দেখেছি, পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক দলগুলো নিজস্ব স্বকীয় পরিচয়ে রাজনীতি করতে পারেনি। যখন রাজনৈতিক দলগুলো স্বকীয়তা ছাড়া নিজস্ব কার্যক্রম পরিচালনা করে, তখন ভোটার কিংবা দেশের সাধারণ মানুষ এক ধরনের দ্বিধায় থাকে। ঠিক এ কারণেই আমরা বিগত কয়েকটি নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কম দেখেছি। জুলাইয়ের অভ্যুত্থানের পর নাগরিকরা যখন আবার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোকে স্বকীয়ভাবে রাজনীতি করতে দেখছে, তখন সংগতই তারা কাকে ভোট দেবেÑ এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারছে। এটি দেশের গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক একটি দিক। এই ইতিবাচক দিকটি রাজনৈতিক দলগুলোও অনুধাবন করতে পারছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকেই দেশজুড়ে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। রাষ্ট্রের রাজনৈতিক দলগুলো তো বটেই, ভোটাররাও চনমনে অবস্থায় রয়েছে। কিন্তু এই মুহূর্তে রাজনীতির সার্বিক পরিস্থিতি অনুধাবন করার জন্য আমাদের মোটাদাগে রাষ্ট্রীয় সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে হবে। আর এই চিহ্নিত করার কাজটি করতে গেলে প্রথমেই জাতীয় নির্বাচনে মোটাদাগে সক্রিয় রাজনৈতিক দলগুলোকে দেখতে হবে। আর বিষয়টি আরও স্পষ্টভাবে বোঝা সম্ভব ২ জানুয়ারি প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এর ‘তারেক যুগের শুরু’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি খুঁটিয়ে দেখলে।

প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এর বিশ্লেষণী প্রতিবেদনটি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে প্রাধান্য দিয়েছে। মূলত ডিসেম্বরেই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একদিকে অস্থিতিশীলতা যেমন দেখা গেছে, তেমনি ভোটার ও রাষ্ট্রকাঠামোতে আশা-ভরসার অবস্থানও দেখা গেছে। আর এই আশার জায়গাটুকুই মূলত নির্বাচনের আগ মুহূর্তে এক ধরনের ইতিবাচক দিক হিসেবেই আমরা দেখতে পারি। বিষয়টি একাডেমিয়ার ভাষায় বিশ্লেষণ করা যেতে পারে। দেশে এখন যে ধরনের রাজনৈতিক অবস্থা বিদ্যমান তাকে একাডেমিয়ার পরিভাষায় ‘ট্রানজিশনাল পলিটিক্স’ বলে আখ্যায়িত করা যায়। এ ধরনের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আশা ও উদ্বেগ দুটোই থাকে। ফলে রাজনৈতিক দল বড় নাকি ছোট তা বড় বিষয় হয় না। এমন রূপান্তরের সময় রাজনৈতিক দলগুলো ফাংশনাল রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা করার কথা ভাবে। ফলে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হয়। নির্বাচনের প্রচারণায় সব দলÑ এমনকি দলের জনপ্রিয় মুখও এই ফাংশনাল পলিটিক্স করার দিকেই ঝুঁকছেন। আর ফাংশনাল পলিটিক্সের জন্যই আমরা দেখছি, দলগুলো জোট করছে। আবার কোনো কোনো দলের পরিচিত রাজনৈতিক মুখ দল বদলাচ্ছেন মনোনয়নের প্রত্যাশায়। বিগত সরকারের আমলে আমরা যেমনটি দেখেছি, স্বতন্ত্র কোনো প্রার্থী নির্বাচন করলেও সেটি একটি রাজনৈতিক দলের দিকেই ঝুঁকে পড়েছে। অন্য দলগুলোকে সেভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হয়নি।

এ নিয়ে অতীতেও এই সম্পাদকীয় পাতাতে লিখেছিলাম, আলোচনার টেবিলে বসলেই অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব। কিন্তু যেহেতু প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে দলগুলো নিজস্ব স্বকীয়তায় রাজনীতি করতে পারেনি, তাই একটি বড় দলের পরিচয়েই বিলীন থাকতে হয়েছে। সেই সংকট থেকে মুক্ত ছিল না দেশের অন্যতম বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপিও। তাই চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর বিএনপি সংগঠিত থাকলেও রাজনৈতিকভাবে এক ধরনের নেতৃত্ব সংকটে ছিল। এই নেতৃত্বের সংকটটি মূলত দলের প্রতীকের। কিন্তু সংগঠিত দলটি এবার সঠিক দিকনির্দেশনায় আবার রাজনীতি করতে পারবেÑ এমনটিই প্রতীয়মান হচ্ছে। আর তা সম্ভব হয়েছে তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর। তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর সবকিছুই যেন রূপকথার মতো এগিয়েছে। অন্তত রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এভাবেই দেখবেন। তারেক রহমানের দেশে ফেরার প্রেক্ষাপটের ধারাবাহিকতাগুলো বিশ্লেষণ করলে তা স্পষ্টভাবে বোঝা সম্ভব।

আমরা দেখছি, এই মুহূর্তে দেশের রাজনীতিতে বিএনপি একটি শক্ত অবস্থানে রয়েছে। তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর অনেক সমীকরণই পালটে গেছে। বেগম খালেদা জিয়া এতদিন দলটিকে সাংগঠনিকভাবে একত্রিত রাখার অনুপ্রেরণা হিসেবে অবস্থান করছিলেন। তার মৃত্যুর পরও তিনি এই আবেগকে টিকিয়ে রেখেছেন। এজন্যই তিনি ইতিহাসের পাতায় স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তবে তার এই আবেগ টিকিয়ে রাখার বিষয়টিও একটি রাজনৈতিক দূরদর্শিতা স্মরণে আছে, ১৯৮১ সালে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পরও বিএনপি সাংগঠনিকভাবে জটিলতার মুখোমুখি হয়। ওই সময়ে গৃহবধূ বেগম খালেদা জিয়া সাংগঠনিক দক্ষতার মাধ্যমে বিএনপিকে ভূমিধ্স জয়ে নেতৃত্ব দেন। বিএনপির নেতাকর্মীরা এই সাংগঠনিক দক্ষতাতেই মুগ্ধ। এই দক্ষতা রাজনৈতিক পরিবারের অংশ হিসেবে তারেক রহমানও পেয়েছেন। ফলে তার সামনে এখন একটিই চ্যালেঞ্জ, দলকে সুসংগঠিত রাখা। আমরা দেখেছি, স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর তিন দিন যে রাজনৈতিক কর্মসূচি তারেক রহমান করেছেন, তা জনসংযোগের দারুণ কৌশল।

ভোটারদের বড় একটি অংশও এটিকে ইতিবাচক হিসেবেই বিবেচনা করেছেন। তাই বিভিন্ন জনসমাবেশেও মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। তারেক রহমান তার দক্ষ সাংগঠনিক কার্যক্রমের মাধ্যমে দলের জনমত গঠন করতে পারছেন। ফলে মনে হচ্ছে, এবারের নির্বাচনে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে এমন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে যে তারা ভূমিধ্স জয় পাবে। যখন একটি দলের মধ্যে এই আত্মবিশ্বাস থাকে, তখন তা জনকল্যাণমুখী হয়। কিন্তু আত্মবিশ্বাসের কারণে দলটির কার্যক্রম যেন জনভোগান্তি বা উদ্বেগমূলক না হয় সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে। সেটি বিএনপি সাংগঠনিক কার্যক্রমের মাধ্যমে কতটা দক্ষভাবে করবে তা এই কদিনেই আরও স্পষ্ট হবে।

তারেক রহমানের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বিএনপির বর্তমান রাজনৈতিক কাঠামো তাকে এই চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়েছে। অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষেত্রেও আমরা একই কথা বলতে পারি। কিন্তু এই মুহূর্তে রাজনীতির মোড় ঘুরানোর জন্য তারেক রহমানের সামনে একাধিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তারেক রহমানের পরিবারের যে রাজনৈতিক সংগ্রাম, সেটি দুটো রাজনৈতিক আবেগের ওপর ভর করে আছে। প্রথম খালেদা জিয়ার শূন্যতায়ও দলটিতে নিজেকে নতুন রাজনৈতিক প্রতীক হিসেবে গড়ে তোলার। আর দ্বিতীয়টি হলো, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের মতো কাঠামো গড়ে তোলার। এ কথা তাকে মনে রাখতে হবে, দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার উদ্যোগটি জিয়াউর রহমান নিয়েছিলেন। সেই কাঠামোগত বিষয়টিকেও রাজনৈতিক আবেগের সমন্বয়ে নিয়ে আসতে হবে। তবেই দেশের রাজনীতিতে আমরা আরও পরিশীলিত চর্চা দেখতে পারব।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে মোটাদাগে আমরা দুটো জোটকেই দেখতে পাচ্ছি। একটি বিএনপির জোট এবং অন্যটি জামায়াতে ইসলামীর জোট। এই মুহূর্তে ভোটের মাঠে আওয়ামী লীগ অনুপস্থিত। তারপরও এবারের নির্বাচন তুমুল প্রতিযোগিতা হবে, এমনটি সব দলই আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে অনুধাবন করতে পারছে। তাই দলগুলোর প্রথম লক্ষ্যইÑ জনমত গঠন করা। এ কাজটির জন্য দলগুলোকে ফাংশনাল পলিটিক্স করতে হবে। আমরা দেখেছি, দেশের রাজনীতিতে কোনো রাজনীতিবিদ যখন জনগণের আবেগকে পুঁজি করে নিজের রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন, তখন সবার মনে ইতিবাচক প্রভাব পড়বেই। ফলে আবারও সারা দেশের মানুষ দেশের রাজনীতিকে নিয়ে আশা দেখছে। কিন্তু কিসের আশা? এই আশা শুধু জনপ্রতিনিধির জন্য নয়। এই আশা দেশের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো সংস্কারেরও। মানুষ এখন বুঝতে শিখেছে, দেশের প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রশাসনিক কাঠামোর সংস্কার না হলে পুরনো অস্বস্তি কখনোই দূর হবে না। সাম্প্রতিক সময়ের উদাহরণ দিয়েই সংকটটি বোঝা সম্ভব। গত বছর ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগরে সন্ত্রাসীর গুলিতে গুরুতর আহত হন ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি। তার মৃত্যুর পর রাজনীতিবিদ তো বটেই, দেশের মানুষের মধ্যেও নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা বাড়ে। কিন্তু তারেক রহমান দেশে ফেরার পর আচমকা বিএনপির নেতাকর্মী এবং সমর্থকরা আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছেন। এই আবেগটুকুকে পুঁজি করেই তারেক রহমানকে তৃণমূলে দলটির মধ্যকার বিশৃঙ্খলা দূর করার পাশাপাশি রাজনৈতিক উগ্রবাদ দমনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। কাজটি যে তিনি পারবেন তা বিগত কয়েক দিন তার রাজনৈতিক কার্যক্রম দেখলেই বোঝা সম্ভব।

দেশে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বইছে নির্বাচনের হাওয়া। সেখানে এই দুটো জোটের রাজনৈতিক কার্যক্রমই নির্ধারণ করে দেবে ভবিষ্যৎ সংসদীয় কাঠামো। অর্থাৎ প্রাতিষ্ঠানিক এবং গণতান্ত্রিক আবেগ— এই দুটো ক্ষেত্রেই সমান মনোযোগ দিয়ে প্রতিটি রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। এই হিসেবে বিএনপিই এখন অনেক এগিয়ে আছে। দেশের মানুষের মনে একটি ধারণা, ভোটাররা ব্যালটে মার্কা দেখেই ভোট দিয়ে থাকেন।

তবে এ কথা ভুলে গেলে চলবে না, রাজনীতি মানুষের মনকে নিয়ন্ত্রণ করার মতোও মনোবৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া। রাজধানীর ভোটারের আচরণ এবং প্রান্তিক পর্যায়ে ভোটারের আচরণের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। প্রান্তিক পর্যায়ের ভোটারদের মধ্যে মৌলিক চাহিদা পূরণের তাগাদা থাকে বেশি। অর্থাৎ স্থানীয় পর্যায়ে কে তাকে বেশি সুবিধা দেবে সেটিই থাকে ভাবনায়। কিন্তু নগর কাঠামোতে মানুষের জীবন এত জটিল যে, ভোটাররা চায় নিরাপত্তা। ঢাকা, চট্টগ্রাম বা বড় নগরগুলোর ভোটাররা সব ক্ষেত্রেই নিরাপত্তা চায়। এজন্যই প্রান্তিক বা ক্ষুদ্র পর্যায়ে স্থানীয় সরকার প্রশাসন অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর স্থানীয় সরকার কাঠামো প্রায় অকেজো। এ বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ কিংবা সংস্কার কার্যক্রম নেই। আমরা জেনেছিলাম, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে। সেটি হয়নি। হয়নি বলেই দেশের মানুষ জাতীয় রাজনীতিতে কোন দল জয়ী হবে তা নিয়ে কিছুটা হলেও মানসিকভাবে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছে। আমি অতীতেও অনেকবার লিখেছি, দেশের রাজনীতিতে স্থানীয় সরকার প্রশাসনের গুরুত্ব অপরিসীম। এই প্রশাসনিক কাঠামোকে প্রাতিষ্ঠানিক করা গেলে জাতীয় পর্যায়ের রাজনীতি শক্তিশালী হবে।

রাজনৈতিক দলগুলো বুঝতে পেরেছে তাদের কীভাবে ইতিবাচক রাজনীতি করতে হবে। আর রাজনৈতিক কার্যক্রমকে প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা দেওয়ার কাজটি অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশনকেই নিতে হবে। ফাংশনাল পলিটিক্যাল প্রতিযোগিতাকে নির্বাচন কমিশন ও অন্তর্বর্তী সরকার প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কতটা সহযোগিতা করতে পারে। কারণ নির্বাচন ঘিরে যে উদ্বেগ, তা মূলত নিরাপত্তার। নিরাপত্তাটি কেমন? ভোটার যেন অবশ্যই স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটকেন্দ্রে এসে ভোট দেওয়ার মানসিক প্রশান্তি নিতে পারেন সেই আবহ তৈরি করা। ভোটার যেন এই আতঙ্কে না থাকে যে, ভোটের দিন রাস্তায় বেরোলে কী হবে। অর্থাৎ প্রশাসনিকভাবে নাগরিক প্রশান্তি নিশ্চিত করার কাজটি নিয়ে নির্বাচন কমিশন ও অন্তর্বর্তী সরকারকে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে শুধু ক্ষমতা হস্তান্তর নয়, এই ফাংশনাল পলিটিক্যাল প্রতিযোগিতায় রাজনৈতিক দলগুলো যেন জবাবদিহিতামূলক চর্চায় যুক্ত হতে পারে, সে কাঠামোগত প্রস্তাবনাও রাখতে পারে। ইতোমধ্যে সংস্কারের জন্য অন্তর্বর্তী সরকার কয়েকটি কমিশন গঠন করেছে। এই কমিশনের প্রস্তাবনাগুলো যেন অবশ্যই ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জয়ী দল বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়, সেই তাগাদামূলক পরিকল্পনাও রেখে যেতে হবে।


 

ড. মোসলেহউদ্দিন আহমেদ

স্থানীয় সরকার ও রাজনীতি বিশ্লেষক, অধ্যাপক, লোকপ্রশাসন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা