ইমেইল থেকে
আসমা খাতুন
প্রকাশ : ০৩ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:৫৭ এএম
শীত মানেই প্রকৃতিতে এক অনন্য উৎসব অতিথি পাখির আগমন। প্রতিবছর শীত এলেই দেশের নদ-নদী, হাওর-বাঁওড়, বিল-ঝিল ও খোলা জলাশয়ে ভিড় জমায় নানা প্রজাতির রঙিন অতিথি পাখি। তাদের কিচিরমিচির শব্দে প্রকৃতি হয়ে ওঠে আরও প্রাণবন্ত ও সজীব। এই সময় প্রকৃতিপ্রেমী মানুষ ভিড় জমায় পাখি দেখার আনন্দে। অতিথি পাখিদের এ অবস্থান ক্ষণস্থায়ী। এদের মূল আবাসস্থল পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধের সাইবেরিয়া, ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন শীতপ্রধান অঞ্চল। শীতকালে সেখানে তাপমাত্রা যখন মাইনাস শূন্য ডিগ্রিতে নেমে আসে, তখন তীব্র শীত ও খাদ্যসংকটে জীবন রক্ষার তাগিদে শত শত মাইল পাড়ি দিয়ে তারা আশ্রয় নেয় আমাদের নাতিশীতোষ্ণ দেশের জলাভূমিতে।
কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, এই অতিথি
পাখিরা আমাদের দেশে এসে সব সময় নিরাপদ থাকে না। কিছু অসাধু মানুষ শীত মৌসুম এলেই
শিকারের প্রস্তুতি নেয়। হাজার টাকার জাল, ফাঁদ ও নানা কৌশল ব্যবহার করে রাতের
আঁধারে তারা নির্বিচারে পাখি শিকার করে। ফলে প্রতিদিনই হারিয়ে যাচ্ছে শত শত নিরীহ
প্রাণ। অতিথি পাখিরা আমাদের কাছে ঠিক অতিথির মতোই। শীত শেষে তারা আবার নিজ নিজ
আবাসস্থলে ফিরে যায়। কিছু প্রজাতি আবার এখানেই থেকে যায় এবং আমাদের দেশের
জীববৈচিত্র্যের অংশ হয়ে ওঠে। তারা শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য বাড়ায় না, পরিবেশের
ভারসাম্য রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণ, জলাভূমির
স্বাস্থ্য রক্ষা ও বাস্তুতন্ত্র সচল রাখতে অতিথি পাখির অবদান অপরিসীম। তাই অতিথি
পাখির বিলুপ্তি মানে শুধু একটি প্রজাতির হারিয়ে যাওয়া নয়; বরং পরিবেশগত ভারসাম্যের
মারাত্মক ক্ষতি।
অতিথি পাখির নিরাপত্তা ও স্বাধীনভাবে
বিচরণ নিশ্চিত করা আমাদের সকলের মানবিক দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে সর্বপ্রথম প্রয়োজন
সচেতনতা। কেউ যেন পাখি শিকার না করে, কোথাও ফাঁদ না পাতে এ বিষয়ে সামাজিক প্রতিরোধ
গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও সক্রিয় হতে হবে এবং
বিদ্যমান বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। প্রকৃতি
বাঁচলে আমরা বাঁচব। অতিথি পাখিকে বাঁচানো মানেই আমাদের পরিবেশ ও ভবিষ্যৎকে
সুরক্ষিত করা। তাই আসুন, শিকার নয় সংরক্ষণে এগিয়ে আসি। অতিথি পাখির জন্য নিরাপদ
বাংলাদেশ গড়ে তুলি।
আসমা খাতুন
শিক্ষার্থী, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও
প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়