ইমেইল থেকে
কাজী আশফিক রাসেল
প্রকাশ : ০৩ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:২২ এএম
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে আপসহীনতার বাতিঘর, আপসহীন দেশনেত্রী ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দেশ আজ গভীর শোক ও শ্রদ্ধায় নীরব। ৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ সালে তিনি তার জীবনের এক করুণ অধ্যায়ের কথা দেশবাসীকে জানিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘আমি কম বয়সে স্বামী হারিয়েছি। কারাগারে থাকতে আমি আমার মাকে হারিয়েছি। অফিসে অবরুদ্ধ থাকা অবস্থায় আমি ছোট ছেলেকে হারিয়েছি। আরেকটি সন্তান নির্যাতনে পঙ্গু হয়ে দূরদেশে। আমার এই স্বজনহীন জীবনে দেশবাসী আমার স্বজন।’
সারা জীবন দুঃখকষ্টের সঙ্গে যে মহান মানুষটি সংগ্রাম করেছেন, তিনি হাসপাতালের বিছানায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। অতীতের বিভিন্ন অভিজ্ঞতায় এই বিষয়টি স্পষ্ট যে, বেগম খালেদা জিয়া ও বাংলাদেশ একে অন্যের প্রতিশব্দ। মা যেমন তার সন্তানকে গভীর মমতায় আগলে রাখেন, তিনিও তেমন পরম মমতায় সবকিছুর ঊর্ধ্বে দেশ ও জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েছেন। দমন-পীড়ন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার নির্মমতা বা ব্যক্তিগত জীবনের রোগ-শোক-দুঃখ কোনোকিছুই দমিয়ে দিতে পারেনি তাকে।
আমরা শুধু ইতিহাসের পাতায় তাকে দেখতে চাইনি; বাস্তবেও ওনার পদাচারণা, বক্তব্য ও দিকনির্দেশনা আশা করেছিলাম। কিন্তু মহাবিশ্বের অমোঘ সত্য ‘মৃত্যু’ তাকে আমাদের কাছ থেকে কেড়ে নিল। তবে এটাকে আমরা কখনোই সাধারণ মৃত্যু বলব না, কারণ তিনি শাহাদতের সুধা পান করেছেন। আমৃত্যু তিনি ছিলেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে বজ্রকণ্ঠ, আপসহীন লড়াই-সংগ্রামের প্রতীক। দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে আপসহীনতার যে পিদিম তিনি জ্বালিয়েছিলেন, সারাবিশ্ব দেখেছে তারই প্রজ্বলিত পিদিমের সূত্র ধরে কীভাবে এদেশে ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছে।
পরম করুণাময়ের নিকট ফরিয়াদ জানাই, হে মহামহিম আপনি আমাদের এই দুঃখিনী দেশমাতাকে একজন শহীদ হিসেবে কবুল করে জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকাম দান করুন।