ইমেইল থেকে
জয়নুল আবেদিন
প্রকাশ : ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ১১:০৬ এএম
২০০৭ সালে ভারতের মদদপুষ্ট ১/১১ এর জরুরি সরকারের কথা মনে করে দেখুন এবং আজকের তারেক রহমানের দেশে ফিরে আসা নিছক একজন মানুষের ঘরে ফেরা নয়। এটা প্রেসিডেন্ট জিয়ার পরিবারকে এলিমিনেট করে পুরো দেশটাকে কুক্ষিগত করার মহাপরিকল্পনার অংশ ছিল বলেই মনে করি। বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারের অন্ধকার হত্যা করে এবং তারেক রহমানকে বিদেশ থেকে আসতে না দিয়ে বাংলাদেশকে সিকিম বানানোর সকল চেষ্টা অব্যাহত ছিল। বিফলে যায় বেগম খালেদা জিয়ার দৃঢ় অবস্থান আর তার হায়াত ও জুলাই অভ্যুত্থানের কারণে। যাইহোক, এখনও দেশের বাহিরে ও অভ্যন্তরে অনেক কুচক্রী আছে বৈকি।
এই আগমনে নির্বাচন
বিরোধী গ্রুপটি হিংসায় জ্বলে পুড়ে ছাই। দেশি বিদেশি দুই চক্রই এখানে জড়িত। আর দলের
চাটুকার গ্রুপগুলো নিজেদের অস্তিত্ব নিয়ে শংকায়! এতদিন দলের দন্ড মুন্ডের ধারক বাহকদের
কুকর্মের হিসেব দেবার ভয়ে! তবে মনে রাখতে হবে আরো নতুন নতুন চাটুকার গ্রুপ তৈরি হবে।
জিয়াউর রহমান
দেশের ইতিহাসে স্থান করে নেওয়া এক অলংঘনীয় নাম। বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের মেরুদণ্ড
যিনি দিয়েছেন। যিনি ছিলেন বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ভরসা। বেগম খালেদা জিয়া-স্বামীর নামে
রাজনীতি করতে আসলেও নিজের আলাদা সত্তার পরিচয় উর্ধে তুলে এমনভাবে উপস্থাপন করেছেন
যার ফলে পুরো জাতির অভিভাবকে পরিণত হতে পেরেছেন।
তারেক রহমান-বাংলাদেশের
এই দুই মহান দেশ গড়ার কারিগরদের সন্তান হিসেবে রাজনীতিতে এসেছেন এটা সত্য কিন্তু সুদুর
আটলান্টিক মহাসাগরের পার থেকে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে এক জগদ্দল পাথর বিদেশি মাফিয়া চক্রকে
সফলভাবে উৎখাত করতে পেরেছেন। দলকে অটুট রাখতে পেরেছেন হাজার রকম অপশক্তির বিরুদ্ধে
লড়াই করে।
ভারতীয় মাফিয়া
চক্র তাকে রাজনৈতিক ভাবে ধ্বংস করতে না পেরে ১/১১ নামক বাংলাদেশ বিরোধী চক্রান্ত করে
শারীরিকভাবে ধ্বংস করতে চেয়েছিল।এখনও তাদের খেলা শেষ হয়নি।
যেসব স্কাউন্ড্রেল
জিয়া-খালেদার সন্তানকে ভারতের সাথে আপোষের কথা বলে তারাই সেদেশের দালাল। জিয়া পরিবারকে
যারা ডাইনেস্টি বলেন তাদের কোন দোষ দেইনা কিন্তু এই জিয়া পরিবারের হাতেই এখনও বাংলাদেশের
অস্তিত্ব অনেকাংশে নির্ভরশীল। প্রেসিডেন্ট জিয়া এবং প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পর
তারেক রহমানের বাইরে একজন নেতার নাম বলতে পারবেন না যার কাছে দেশ নিরাপদ।
এখন দেশে ফিরে
তার আসল নেতৃত্ব প্রমাণ করতে হবে। একটা সফল নির্বাচন করতে তার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শুধু নিজের দল বিএনপি নয় বরং অন্য সকল রাজনৈতিক দলগুলোকেও তিনি কগনিজেন্সে নিতে হবে।গণতন্ত্রের
যে বেহাল দশা সেখান থেকে উত্তরণের উপায় বের করতে সকলের সহযোগিতা অপরিহার্য। তাই নির্বাচনে
গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং সর্বোপরি দেশের অস্তিত্বের লড়াইয়ের প্রধান ও এক নম্বর নেতা
হিসাবে তার যে ভূমিকা জাতির দরকার সেই লড়াইয়ের নেতৃত্ব দেবার মত মানসিক এবং পারিপার্শিক
অবস্থান কি তিনি তৈরি করতে পেরেছেন? ভবিষ্যত কর্মকান্ডে এর প্রতিফলন দেখা যাবে।
দেশের তরুন শক্তির
ব্যবহার,আধুনিক প্রযুক্তি এবং শিক্ষা-স্বাস্থ্য-দারিদ্র্য বিমোচন-এন্ট্রাপ্রিউনারশিপ-জব
এবং কৃষি উৎপাদন এবং শিল্প ডাইভারসিফাই করা এবং সর্বোপরি দেশের ফিজিক্যাল উন্নয়নে
আগামী দুদশক বাংলাদেশ সরকারের ভূমিকা এতই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে যেটা জাতি হিসেবে
বিশ্ব দরবারে আমাদের স্হান করার বুনিয়াদ তৈরি করবে।
জয়নুল আবেদিন