× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

তারেক রহমান

প্রত্যাবর্তন যেন নতুন ভোরের সূচনা হয়

সম্পাদকীয়

প্রকাশ : ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫ ১১:৫৬ এএম

 প্রত্যাবর্তন যেন নতুন ভোরের সূচনা হয়

২৫ ডিসেম্বর শুধু একটি তারিখ নয়, বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক আলোকিত অধ্যায়ের সূচনা ঘটাল। এ দিন দীর্ঘ ১৭ বছর লন্ডনে নির্বাসন জীবন শেষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন। তার এই ফিরে আসা বহু মানুষের চোখে জল, হৃদয়ে আশা আর রাজনীতিতে নতুন প্রাণ সঞ্চার করেছে। এই ফেরা প্রতিহিংসার নয়, সহনশীলতা ও ধৈর্যের বিজয়।

উল্লেখ্য, এদিন সকাল ১১টা ৩৯ মিনিটে তারেক রহমানকে বহনকারী বিমানটি হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণ করে। দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটে তিনি ভিআইপি গেট দিয়ে বের হন। বাসের সামনে থেকে তারেক রহমান নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে হাত নাড়েন। তাদের সালাম দেন। এর আগে বিমানবন্দর লাগোয়া বাগানে খালি পায়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় তিনি একমুঠো মাটি হাতে তুলে নেন। তারপর পূর্বনির্ধারিত বাসে চড়ে পূর্বাচলের ৩০০ ফিট এলাকায় গণসংবর্ধনা সভায় যোগ দেন। বলা যায়, তার এই প্রত্যাবর্তন কঠিন একসময়ে এবং আত্মবিশ্বাসে অটল থেকে, যা গণতন্ত্রপ্রত্যাশীদের জন্য প্রেরণা। দেশের মাটিতে পা রাখার এই মুহূর্ত নতুন স্বপ্ন, নতুন প্রত্যাশাÑ একটি শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের পথে এগিয়ে যাওয়া।

তারেক রহমান একজন ধৈর্যশীল, সংযত ও দৃঢ়চেতা মানুষ। শহীদ জিয়ার রক্ত ও আদর্শের উত্তরাধিকার, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ লড়াইয়ের সমান্তরালে তারেক জিয়া নিজেকে গড়ে তুলেছেন মাটির কাছাকাছি একজন নেতা হিসেবে। একসময় টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া চষে বেড়িয়েছেন, মানুষের দুঃখ-দুর্দশার কথা শুনেছেন। ২০০৮ সালে এক গভীর রাজনৈতিক চক্রান্তের শিকার হয়ে তাকে নির্যাতিত হতে এবং দেশ ছাড়তে হয়েছিল। প্রবাসে দীর্ঘ সময় অবস্থান করেও তিনি এক মুহূর্তের জন্য দেশের মানুষের কথা ভুলে যাননি। প্রযুক্তির মাধ্যমে তিনি প্রতিনিয়ত দলের তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেছেন এবং শত প্রতিকূলতার মাঝেও কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা রেখেছেন। দীর্ঘ প্রবাসেও তিনি আত্মমর্যাদা ও বিশ্বাস হারাননি। তিনি রাজনৈতিক বিশ্বাসেও অবিচল থেকেছেন। সাংগঠনিক দক্ষতা, কৌশলী নেতৃত্ব ও ভবিষ্যৎমুখী চিন্তায় তিনি অনেকের কাছে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রতীক হয়ে উঠেছেন।

১৭ বছর। একটি মানুষের জীবনে যেমন দীর্ঘ সময়, একটি জাতির রাজনীতিতে তেমনি গভীর ক্ষতের নাম। বিশেষ করে পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনার সাড়ে ১৫ বছরে অসংখ্য অপবাদ, মামলা, বিদ্বেষ আর নীরব সহনশীলতার বোঝা বয়ে অবশেষে তার প্রত্যাবর্তন কেবল একজন রাজনৈতিক নেতার দেশে ফেরা নয়, দেশের রাজনীতিতে এক আবেগঘন অধ্যায়ের সূচনা। মানুষের চোখে এই প্রত্যাবর্তন আশার আলো, স্বস্তির স্মৃতি।

বলে রাখা ভালো, ১৭ বছরে বাংলাদেশ অনেক বদলেছে। বদলেছে সমাজ, অর্থনীতি, প্রজন্মের ভাবনা। কিন্তু একই সঙ্গে জমে উঠেছে অসন্তোষ, ক্ষোভ আর গণতান্ত্রিক অধিকার হারানোর বেদনা। এই প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানের দেশে ফেরা অনেকের কাছে প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির। যারা তাকে ভালোবাসেন, তাদের চোখে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উত্তরাধিকার বহনকারী, আপসহীন নেতৃত্বের প্রতিচ্ছবি। ভুলে গেলে চলবে না, তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী তরুণ প্রজন্মের কৌতূহল। আজকের তরুণরা তাকে সরাসরি দেখেনি ক্ষমতার কেন্দ্রে। তাই তারা দেখতে চায়Ñ এই নেতা আগামীর বাংলাদেশে কর্মসংস্থান, ন্যায়বিচার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবেন।

এই প্রত্যাবর্তন বিএনপির জন্যও এক বড় পরীক্ষা। দীর্ঘদিন সরাসরি নেতৃত্বশূন্যতায় ভোগা দলটি নতুন করে সংগঠিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। একই সঙ্গে রাজনীতিতে ভারসাম্য ফেরার সম্ভাবনাও তৈরি হচ্ছে। শক্তিশালী বিরোধী দল ছাড়া গণতন্ত্র অসম্পূর্ণÑ এই সত্য বহুবার প্রমাণিত। তারেক রহমানের দেশে ফেরা যদি রাজনৈতিক সহিংসতার নয় বরং সংলাপ, নির্বাচন ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পথ খুলে দেয়, তবে তা হবে দেশের জন্য আশীর্বাদ।

এ কথা সত্য যে, বাংলাদেশের রাজনীতি আজ গভীর আস্থার সংকটে। দীর্ঘদিনের অগণতান্ত্রিক সরকারের কারণেÑ সংঘাত, দমন-পীড়ন ও বিভক্তির রাজনীতি মানুষকে ক্লান্ত করেছে। এই প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানের সামনে চ্যালেঞ্জ হলো নিজেকে কেবল একটি দলের নেতা নয়, বরং জাতীয় রাজনীতিতে বিশ্বাসযোগ্য বিকল্প হিসেবে উপস্থাপন করা। এজন্য প্রথম করণীয়, আবেগনির্ভর বক্তব্যের বাইরে এসে দায়িত্বশীল ও সংযত রাজনৈতিক ভাষাচর্চা করা। দলের ভেতরে গণতন্ত্র ও সংস্কার জোরদার করা। বিএনপির তৃণমূল থেকে শীর্ষ পর্যায় পর্যন্ত নেতৃত্বের নবায়ন, বিতর্কিত ও সুবিধাবাদী মুখগুলোকে দূরে রাখা এবং ত্যাগী ও যোগ্য নেতৃত্বকে সামনে আনা। এতে দল যেমন শক্তিশালী হবে, তেমনি সাধারণ মানুষের আস্থাও বাড়বে।

সবচেয়ে জরুরি তরুণ সমাজকে রাজনীতির মূলস্রোতে যুক্ত করা। কর্মসংস্থান, শিক্ষা, প্রযুক্তি ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের স্পষ্ট রূপরেখা তুলে ধরে তরুণদের সঙ্গে সরাসরি সংলাপ গড়ে তুলতে হবে। অতীতের স্মৃতির বদলে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখাতে পারলেই তরুণ প্রজন্ম তারেক রহমানের নেতৃত্বকে গ্রহণ করবে। আমরা মনে করি, প্রতিহিংসার রাজনীতির বদলে জাতীয় স্বার্থে ন্যূনতম ঐকমত্য তৈরি করতে পারলে প্রত্যাশিত গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে আসবে। গণসংবর্ধনার জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে তারেক রহমান জনতার উদ্দেশে বলেছেন, ‘নিরাপদ ও প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়তে চান’। আমরা বিশ্বাস করি, তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন একটি মানবিক, গণতান্ত্রিক, নিরাপদ ও প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়তে সক্ষম হবে। সবার প্রত্যাশা, এই প্রত্যাবর্তন যেন নতুন ভোরের সূচনা হয়।

 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা