× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বড়দিন

অনুশোচনার দিন, পরিত্রাণের দিন

রেভা: জেমস জীপু রায়

প্রকাশ : ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ ১০:৫৪ এএম

অনুশোচনার দিন, পরিত্রাণের দিন

কুমারী মরিয়মের গর্ভ থেকে যেদিন যিশুখ্রিস্ট ভূমিষ্ঠ হয়েছিলেন, সেই দিনকে আমরা বড়দিন বলে থাকি। সমগ্র বিশ্বের প্রায় সকল খ্রিস্টান এই দিনে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা, আনন্দ-ফুর্তি ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে এই দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে উদযাপন করে থাকে। বড়দিনকে আনন্দময় করার জন্য মণ্ডলী নানা ধরনের প্রাণবন্ত অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকেন। বড়দিনের উৎসব ছাড়িয়ে যায় সকল আনন্দকে।

শতাব্দী থেকে শতাব্দী ধরে খ্রিস্টান সম্প্রদায় বড়দিন পালন করছে। সারা বছর যারা উপাসনায় নিয়মিত বা অনিয়মিত থাকেন তাদের প্রত্যেককেই অন্তত বড়দিনের বিশেষ উপাসনায় যোগদান করতে দেখা যায়।

এটাই বড়দিনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দৃশ্য। তাই বড়দিন হলো সুযোগের দিন, পরিত্রাণের সুখবর শোনার দিন, প্রভু যিশুকে গ্রহণ করার দিন। কেননা তিনি কহেন, ‘আমি প্রসন্নতার সময়ে তোমার প্রার্থনা শুনিলাম এবং পরিত্রাণের দিবসে তোমার সাহায্য করিলাম। দেখ, এখন সুপ্রসন্নতার সময়; দেখ, এখন পরিত্রাণের দিবস।’ গীত ১১৮ :২৪

বাইবেলে বড়দিন পালন করার কথা কোথাও বলা হয়নি তবে বিশ্বাস করি প্রভুকে গৌরব দেওয়ার জন্য এই দিনটাকে পবিত্রভাবে পালন করলে দোষের কিছু নেই বরং আশীর্বাদের। যিশুর জন্ম ছিল পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন, কারণ ঈশ্বর যিনি সৃষ্টিকর্তা তিনি স্বয়ং মানুষ হয়ে এই ধরাতে এলেন যেন জগতের মানবজাতি পাপ থেকে পরিত্রাণ পায়। এর চেয়ে ঐতিহাসিক ঘটনা আর কি হতে পারে! ক্রিস্টের জন্মকে কেন্দ্র করে অনেক অপূর্ব ঘটনা বাইবেলে দেখতে পাই, আর এসবঘটনা বিশ্লেষণ করে দেখা যায় যে, সবকিছুর পিছনে ঈশ্বরের পরিকল্পনা ছিল, ছিল অনুগ্রহের পরিত্রাণ।

যদিও-বা আমদের সময়ে যিশুর জন্মদিনকে বড়দিন বলে থাকি কিন্তু প্রকৃতপক্ষে খ্রিস্টের জন্ম ছিল পাপ থেকে মানুষ যেন উদ্ধার পায়, সেই উদ্ধার বা মুক্তির আনন্দকে আমরা বলতে পারি পরিত্রাণের বড়দিন।

যিশুর জন্মের সময়কালে শিমিয়ন নামে একজন ধার্মিক ব্যক্তি ছিলেন, তিনি পবিত্র আত্মায় চলতেন, পবিত্র আত্মা প্রকাশ করেছিলেন যেÑ যিশুকে না দেখা পর্যন্ত তিনি মরবেন না । আর তাই যিশুর জন্মের পর যখন জোসেফ আর মরিয়ম ধর্মধামে নিয়ে আসলেন, তখন শিমিয়ন সেই আত্মার বশে যিশুকে কোলে নিয়ে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিতে দিতে বলেছিলেন, হে স্বামিন্, এখন তুমি তোমার বাক্যানুসারে তোমার দাসকে শান্তিতে বিদায় করিতেছ, কেননা আমার নয়নযুগল তোমার পরিত্রাণ দেখিতে পাইল, যাহা তুমি সকল জাতির সম্মুখে প্রস্তুত করিয়াছ, পরজাতিগণের প্রতি প্রকাশিত হইবার জ্যোতি ও তোমার প্রজা ইস্রায়েলের গৌরব। লুক ২:২৫-৩৩

সেই দিনই ছিল শিমিয়নের মুক্তির বড়দিন।

সেই সময় ধর্মধামে হান্না নামেও একজন ভাববাদিনী উপস্থিত ছিলেন, যিশুখ্রিস্টের আগমন হেতু ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিলেন আর সঙ্গে সঙ্গে সবার কাছে পরিত্রাণের বাণী প্রচার করতে লাগলেন। কারণ তিনি জানতেন, যিশুই এই পৃথিবীর একমাত্র মুক্তিদাতা। সেই দিনটি ছিল হান্নার জীবনে সুসমাচার প্রচারের বড়দিন ।

যিশুকে দেখবার পর স্বর্গীয় আনন্দের সঙ্গে সঙ্গে কৃতজ্ঞতায় মন পূর্ণ হতে থাকে, তাই হৃদয় থেকে প্রশংসা বেরিয়ে আসে, আর এই হলো বড়দিনের প্রকৃত অর্থ। পূর্ব দেশের পণ্ডিতরা যিশুর জন্মকে মহান রাজার জন্ম হিসেবে প্রণাম দিতে এসে স্বর্ণ- কুন্দুরু-গন্ধরস উপহার দিল। সেই ক্ষণটি পণ্ডিতদের জন্য যিশুর প্রতি সম্মান ও উপহার দেওয়ার বড়দিন দিন ছিল।

মরিয়ম যখন গর্ভবতী তখন ইলিশাবেতও গর্ভবতী ছিলেন। যিশুখ্রিস্ট ভূমিষ্ঠ হওয়ার আগে একদিন মরিয়ম ইলশাবেতের বাড়িতে বেড়াতে এলেন। ঘরে ঢুকে যখন মরিয়ম ইলশাবেতকে মঙ্গলবাদ দিলেন তখন ইলশাবেতের জঠরে থাকা যোহন নেচে উঠেছিলেন এবং ইলশাবেত পবিত্র আত্মায় পূর্ণ হয়েছিলেন। সেই ঘরে সেদিন বড়দিনের পবিত্র আনন্দে পূর্ণ হয়েছিল। পিতা যোষেফ মা মরিয়মের সেই দিন বড়দিন ছিল যেদিন ছোট গোয়ালঘরে যিশু জন্মগ্রহণ করছিল।

একজন বিশ্বাসীর জীবনে সবচেয়ে আনন্দের দিন হলো, যেদিনে তিনি যিশুকে প্রভু হিসেবে গ্রহণ করেন। তাই সেই পরিত্রাণ গ্রহণের দিনকে বড়দিন বললে মোটেও ভুল হবে না, বরং বড়দিনে জাগতিক উৎসব পালন করলে প্রভু কতটুকু খুশি হন সে বিষয়ে সন্দেহের অবকাশ থাকলেও কিন্তু যখন একজন পাপী মন ফেরায় তখন স্বর্গে প্রচুর আনন্দ হয় - লুক ১৫ : ১০ ।

হারানো পুত্রের ঘটনায় আমরা দেখি, অবাধ্য ছেলেটি বাবার কাছ থেকে দূরে গিয়ে ক্ষণিকের আনন্দে মেতে ছিল আর যখন সব আনন্দ ফূর্তি ফুরিয়ে গেল তখন তীব্র অনুশোচনা নিয়ে ফিরে এলো, আর অপেক্ষায় থাকা পিতা বুকে টেনে নিল হারানো ছেলেটিকে, সেই দিন অবাধ্য ছেলেটির জীর্ণশীর্ণ মলিন বস্ত্র খুলে নতুন জামাকাপড় পরিয়ে দিয়ে বড় ভোজের আয়োজন করেছিলেন পিতা, এই অতুলনীয় আনন্দ বড়দিনের আনন্দের চেয়ে ঢের বেশি ছিল। তাই আমরা বলতে পারি, যেদিন একজন পাপী মন ফেরাল সেদিন স্বর্গে বড়দিন পালিত হয়।

বাইবেলে সক্কেয়ের গল্প আমরা ছোটবেলা থেকে শুনেছি, খর্বকায় লোকটি যিশুকে দেখার জন্য শেষ পর্যন্ত সুকোমর গাছে উঠেছিল, আর যিশু তাকে বলেছিলেন, সক্কেয় গাছ থেকে নেমে এসো, আজ তোমার বাড়িতে আমি অতিথি হব, অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনা সক্কেয়ের জীবন উলটপালট করে দিয়েছিল, কারণ যিশু সক্কেয়ের সত্যিকার অনুতাপের ফলস্বরূপ ঘোষণা দিয়ে বলেছিলেন, এই ঘরে আজ পরিত্রাণ উপস্থিত হলো। সেই দিনই ছিল সক্কেয়ের জন্য বড়দিনের আনন্দ, কারণ সে পাপ থেকে মুক্তি পেয়েছিল।

যেদিন কুষ্ঠরোগী, অন্ধ বর্তলময়, লাসার, অবশ রোগী অথবা যারা প্রভুর স্পর্শ পেয়েছিল, সেদিন তাদের জীবন পরিবর্তন হয়েছিল পুরাতন জীবন হতে নতুন জীবনে প্রবেশ করেছিল। মুক্তির স্বাদে পরম শান্তি ও আনন্দে পূর্ণ হয়েছিল।

বড়দিন তাই পৃথিবীর জন্য সত্যিকার অর্থে একটি বিশেষ দিন। এই দিন আমাদের জন্য বারবার ফিরে আসার মানে হলো, পিতা ঈশ্বর আমাদেরকে আরেকটিবার সুযোগ দেন যেন আমরা প্রভুর দেওয়া সুসমাচারের মধ্য দিয়ে পরিত্রাণ গ্রহণ করি। সেই সুসমাচার হলো, যিশু আমদের পাপের প্রায়শ্চিত্তস্বরূপ ক্রুশে মরেছেন, কবরে গিয়েছেন, তৃতীয় দিনে আবার তিনি পুনরুত্থিত হয়েছেন, যিশু আবার ফিরে আসবেন। এইতো বড়দিনের মূল বাণী।

যিশুকে বাদ দিয়ে আমরা বড়দিন পালন করতে পারি না, যিশুকে গ্রহণ না করে বড়দিনের আনন্দ উপভোগ করতে আমরা ব্যর্থ হই। অনেকেই আমরা আছি, যারা বছরের পর বছর ধরে বড়দিনকে অন্য সবার মতো ধর্মীয় উৎসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখি। আবার অনেকেই যিশুর সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই অথচ বড়দিনে ভালো খ্রিস্টান সাজতে দেখা যায়। এই ধরনের লোকদের জন্য বাইবেলে অশনিসংকেত দেওয়া আছে। যিশুর জন্মের ঘটনার মধ্যে, হেরোদ রাজা যিশুকে প্রণাম দেওয়ার কথা বলেছিল, কিন্তু অন্তরে যিশুকে মেরে ফেলার চিন্তা করেছিল, কিন্তু রাজা হেরোদ ব্যর্থ হয়ে অনন্ত মৃত্যুর কাছে চলে গেছে। প্রভুর শ্বাশত বাণী প্রতিটি বড়দিনের জন্য হলো, মন  ফেরাও কেননা স্বর্গরাজ্য সন্নিকট, আমি ধার্মিকদের জন্য নয় কিন্তু পাপীদের ডাকতে এসেছি। তাই বড়দিন যেন আপনার আমার জীবনে পরিত্রাণের দিন হয়।

বড়দিন হলো অনুশোচনার দিন, প্রভুকে গ্রহণ করার দিন, পরিত্রাণের দিন। বড়দিন তো প্রতিদিন যদি প্রভুর বাক্যের প্রতি বাধ্যতা থাকে। প্রভুর দ্বিতীয় আগমনের জন্য প্রস্তুতি থাকাই পরিত্রাণের বড়দিন ।


রেভা: জেমস জীপু রায়

হাউস চার্চ অব বাংলাদেশ

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা