ই-মেইল
আল শাহারিয়া
প্রকাশ : ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ০৯:৫৭ এএম
শীতের রাতে খোলা আকাশের নিচে ঘুমানো এই শিশুগুলোর কষ্ট বর্ণনাতীত। কনকনে ঠান্ডা বাতাস তাদের হাড় পর্যন্ত কাঁপিয়ে দেয়। তাদের শরীরে থাকে না পর্যাপ্ত গরম কাপড়, অনেকের গায়ে থাকে কেবল পাতলা একটি সুতির জামা। কেউ কেউ আবার খালি গায়েই রাত পার করে দেয়। তীব্র শীতে তাদের হাত-পা অসাড় হয়ে আসে এবং দাঁতে দাঁত লেগে শরীর কাঁপতে থাকে। তবুও ক্লান্তি একসময় তাদের ঘুমাতে বাধ্য করে। কিন্তু সেই ঘুম কি আর শান্তির হয়? সেই ঘুমে থাকে আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তা। রাস্তার ধারের কুকুরগুলোর সঙ্গে গা ঘেঁষাঘেঁষি করে একটু উষ্ণতা পাওয়ার চেষ্টা করে তারা। আবর্জনা পুড়িয়ে আগুন জ্বালিয়ে শরীর গরম করার দৃশ্য প্রায়ই চোখে পড়ে, যা তাদের কাছে বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন হয়ে ওঠে। কেবল পথশিশুরাই নয়, গ্রামের হতদরিদ্র মানুষের অবস্থাও অত্যন্ত শোচনীয়। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে শীতের প্রকোপ থাকে অনেক বেশি এবং সেখানে দারিদ্র্যের হারও তুলনামূলকভাবে বেশি। গ্রামের বয়স্ক এবং অসুস্থ মানুষরা শীতে সবচাইতে বেশি কষ্ট পায়।
শীতের কারণে খেটে খাওয়া মানুষের জীবিকা হুমকির মুখে পড়ে।
রিকশাচালক, ভ্যানচালক বা দিনমজুরেরা ভোরে কাজে বের হতে পারে না। ঘন কুয়াশা আর
তীব্র ঠান্ডায় হাত-পা জমে যাওয়ার উপক্রম হয়। তবুও পেটের দায়ে তাদের বের হতে হয়,
কিন্তু রাস্তায় মানুষ কম থাকায় তাদের আয় কমে যায়। যারা দিন আনে দিন খায়, তাদের
জন্য এক দিন কাজ না থাকা মানেই অনাহারে থাকা। শীত তাদের জন্য দ্বিগুণ শাস্তি নিয়ে
আসে। একদিকে শীতের কষ্ট আর অন্যদিকে ক্ষুধার যন্ত্রণা। এই দুইয়ের জাঁতাকলে পিষ্ট
হয়ে তাদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে।
আমাদের সমাজব্যবস্থায় বৈষম্য কতটা প্রকট তা শীতকালে স্পষ্ট
বোঝা যায়। একদল মানুষ শীতকে বিলাসিতা হিসেবে দেখে, অন্যদল মানুষ শীতকে যমদূত মনে
করে। এই বৈষম্য কি আমাদের মানবিকতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে না? আমরা কি কেবল নিজেদের
আরাম-আয়েশ নিয়েই ব্যস্ত থাকব? আমাদের কি কোনো দায়বদ্ধতা নেইÑ এই অসহায় মানুষগুলোর
প্রতি। আসুন আমরা মানবিক হই, লোক দেখানো দাতা না হয়ে প্রকৃত বন্ধু হই। শীতার্ত
মানুষের পাশে দাঁড়াই এবং তাদের শরীরে উষ্ণতার পরশ বুলিয়ে দেই।
আল শাহারিয়া
শিক্ষার্থী, রংপুর