× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

রাজনীতি

ঝড়শেষে আপন বন্দরে তারেক রহমান

আবু জুবায়ের

প্রকাশ : ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ১০:০৩ এএম

ঝড়শেষে আপন বন্দরে তারেক রহমান

তারেক রহমান ফিরছেন। এই একটি বাক্য এখন কেবল আর কোনো সংবাদ নয়, এটি এখন বাংলাদেশের রাজনীতির এক বিমূর্ত মানচিত্রের ওপর নতুন করে রঙ চড়ানোর আয়োজন। ২০০৮ সালের সেই ধূসর সেপ্টেম্বরে, যখন তিনি দেশ ছেড়েছিলেন, তখন তার শরীর ছিল ভগ্ন, মেরুদণ্ড ছিল জরাজীর্ণ, আর ললাটে ছিল দুর্নীতির অসংখ্য মিথ্যা অভিযোগের তিলক। তিনি দেশ ছেড়েছিলেন চিকিৎসার জন্য, কিন্তু আদতে সেটি ছিল এক অলিখিত নির্বাসন। সেই যাওয়ার দৃশ্য আর আজকের ফিরে আসার প্রেক্ষাপটের মধ্যে যে ব্যবধান, তা কেবল সময়ের নয়, রাজনৈতিক ইতিহাসে অনন্য অধ্যায়।

২০০৭ সালের এক-এগারোর পটভূমি মনে পড়ে? ফখরুদ্দীন-মঈনউদিনের তত্ত্বাবধায়ক সরকার, মাইনাস টু ফর্মুলা, আর রাজনীতির মাঠ থেকে প্রভাবশালী চরিত্রদের মুছে ফেলার সেই বিরাজনীতিকীকরণের খেলা। সেই ঝড়ের রাতে বাংলাদেশের রাজনীতিতে অন্যতম জনপ্রিয় নেতা তারেক রহমানকে যখন গ্রেপ্তার করা হলো, তখন ঢাকার আকাশে ছিল অনিশ্চয়তার মেঘ। রিমান্ড, নির্যাতন, আর ভাঙা পিঠ নিয়ে যখন তিনি পিজি হাসপাতাল থেকে প্যারোলে মুক্তি পেয়ে বিমানবন্দরের দিকে রওনা হলেন, তখন অনেকেই ভেবেছিলেন এই বুঝি শেষ। বিএনপি নামক বটবৃক্ষটির মূল শেকড় বুঝি উপড়ে ফেলা হলো। কিন্তু রাজনীতি বড় অদ্ভুত এক দাবার বোর্ড। এখানে রাজা বা মন্ত্রীকে সরিয়ে দিলেই খেলা শেষ হয় না, বরং সেখান থেকেই কখনও কখনও নতুন চালের শুরু হয়। লন্ডনের নিভৃত জীবনে থেকেও তারেক রহমান গত দেড় দশকে নিজেকে এবং দলকে যেভাবে পরিচালনা করেছেন, তা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছে এক বিস্ময়কর কেস স্টাডি। স্কাইপ বা জুমের পর্দায় ভেসে ওঠা তার মুখ, আর সেখান থেকে আসা নির্দেশনাই হয়ে উঠেছিল তৃণমূলের কর্মীদের একমাত্র সঞ্জীবনী সুধা।

এই সতেরো বছরে পদ্মা-মেঘনা দিয়ে অনেক জল গড়িয়েছে। তারেক রহমান যখন লন্ডনে, তখন দেশে তার মা, আপসহীন নেত্রী খালেদা জিয়া কারান্তরীণ, অসুস্থ, গৃহবন্দি। মায়ের এই ধুকপুক করতে থাকা অস্তিত্ব আর দলের ছন্নছাড়া অবস্থার মধ্যেও তারেক রহমান সুতোর টান আলগা করেননি। অনেকে তাকে ব্যঙ্গ করে বলেছেন ‘লন্ডন প্রবাসী নেতা’, কেউ বলেছেন ‘পলাতক আসামি’। কিন্তু বাস্তবতা হলো, প্রযুক্তির কল্যাণে তিনি ছিলেন দলের প্রতিটি ইউনিটের সঙ্গে সংযুক্ত। হাজার হাজার মাইল দূর থেকে তিনি দলের কমিটি ভেঙেছেন, গড়েছেন, আবার ভেঙেছেন। ক্ষোভ ছিল, হতাশা ছিল, কিন্তু তার নেতৃত্বের প্রতি এক ধরনের অন্ধ আনুগত্যও তৈরি হয়েছিল দলের ভেতরে।

কিন্তু এবারের ফেরাটা অন্য রকম। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার যে অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থান দেখল বাংলাদেশ, তা পাল্টে দিয়েছে সব হিসাবনিকাশ। শেখ হাসিনা সরকারের পতন কোনো সাধারণ ঘটনা ছিল না, এটি ছিল এক প্রবল ভূমিকম্প, যা ক্ষমতার মানচিত্রকে তছনছ করে দিয়েছে। এই ভূমিকম্পের পর সৃষ্ট যে রাজনৈতিক শূন্যতা, যে নতুন আকাঙ্ক্ষা, তারেক রহমান ফিরছেন ঠিক সেই মাহেন্দ্রক্ষণে। তবে এই ফেরা কি কেবলই ফুলের পাপড়ি বিছানো পথে? মোটেই না। সতেরো বছর আগের বাংলাদেশ আর আজকের বাংলাদেশের মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাত। তখন ফেসবুক থাকলেও আজকের মতো এত জনপ্রিয় ছিল না, তখন জেনারেশন জেড বা ‘জেন-জি’র জন্মই হয়নি বা তারা ছিল শিশু। আজ যারা রাজপথ কাঁপাচ্ছে, যারা বুকের ভেতর বারুদ নিয়ে রাষ্ট্র সংস্কারের স্লোগান দিচ্ছে, তারা দেখেছে গত পনেরো বছরের স্বৈরাচার, তারা দেখেছে আয়নাঘর। ফলে তারেক রহমানের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এই নতুন প্রজন্মের মনস্তত্ত্ব বোঝা। সতেরো বছর আগে তিনি ছিলেন বিএনপির নেতা, আর আজ তাকে হতে হবে এক উদার, গণতান্ত্রিক ও সংস্কারমনা রাষ্ট্রনায়ক। অতীতের ছায়া থেকে বের হয়ে এসে তাকে প্রমাণ করতে হবে যে, তিনি কেবল বিএনপির নেতা নন, তিনি এই নতুন বাংলাদেশের স্পন্দন বুঝতে পারা জননেতা।

তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটটি বড়ই জটিল। একদিকে দীর্ঘদিনের মামলা, হুলিয়া আর সাজার খড়গ ছিল, অন্যদিকে জনতার বিপুল সমর্থন। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের প্রধান এজেন্ডা রাষ্ট্র সংস্কার। বিএনপিও বলছে সংস্কারের কথা, কিন্তু সেই সংস্কারের রূপরেখা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতভেদ থাকাটা অস্বাভাবিক নয়। তারেক রহমান জানেন, দেশে ফিরেই তাকে নামতে হবে ভিন্ন ধাচের নির্বাচনে। যে নির্বাচনে প্রতিপক্ষ হিসেবে আওয়ামী লীগ হয়তো মাঠে থাকবে না, কিন্তু প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকবে মানুষের আকাশচুম্বী প্রত্যাশা। আর প্রত্যাশার চাপ সামলানো পুলিশের জলকামান সামলানোর চেয়েও কঠিন। মানুষ এখন আর কেবল ভোট দিয়ে সরকার পরিবর্তন চায় না, তারা চায় পুলিশিব্যবস্থার সংস্কার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, আর দুর্নীতির করাল গ্রাস থেকে মুক্তি। লন্ডনে বসে তারেক রহমান যে ৩১ দফার সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তা বেশ আধুনিক এবং যুগোপযোগী। সেখানে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের কথা বলা হয়েছে, ক্ষমতার ভারসাম্যের কথা বলা হয়েছে। এখন দেশে ফিরে সেই তাত্ত্বিক কথাগুলোকে বাস্তবে রূপ দেওয়াই হবে তার অ্যাসিড টেস্ট।

বিমানবন্দরের রানওয়েতে যখন তার বিমানটি চাকা ছোঁয়াবে, তখন হয়তো লাখো-জনতা হুমড়ি খেয়ে পড়বে। স্লোগানে স্লোগানে প্রকম্পিত হবে ঢাকার বাতাস। কিন্তু এই স্লোগানের আড়ালে লুকিয়ে থাকতে পারে গভীর ক্ষত। গত সতেরো বছরে বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মী গুম হয়েছেন, খুন হয়েছেন, পঙ্গু হয়েছেন। তারেক রহমানের দিকে তাকিয়ে তারা খুঁজবে তাদের হারানো স্বজনদের প্রতিচ্ছবি। তিনি নিশ্চয় পারবেন তাদের চোখের জলের মর্যাদা দিতে? মানুষ বিশ্বাস করে ক্ষমতার মসনদে বসলেও তিনি ভুলে যাবেন না সেই ত্যাগের ইতিহাস?

ভৌগোলিক রাজনীতির খেলাতেও তারেক রহমানের অবস্থান এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে খুব একটা মসৃণ নয়। গত পনেরো বছর ভারত একচেটিয়াভাবে আওয়ামী লীগ সরকারকে সমর্থন দিয়ে এসেছে। এখন পটপরিবর্তনের পর দিল্লিও তাদের নীতি পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হচ্ছে। তারেক রহমান কি পারবেন প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে একটি ভারসাম্যপূর্ণ এবং মর্যাদাপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করতে? অন্যদিকে পশ্চিমা বিশ্ব, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য, যারা সব সময় গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের কথা বলে এসেছে, তাদের সঙ্গে তারেক রহমানের সম্পর্ক কেমন হবে, তার ওপর নির্ভর করবে বাংলাদেশের আগামী দিনের অর্থনীতি ও কূটনীতি। লন্ডনে দীর্ঘ বসবাসের সুবাদে পশ্চিমা রাজনীতির আদব-কায়দা তার নখদর্পণে। এই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি যদি বাংলাদেশকে বিশ্বমঞ্চে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারেন, তবেই তার এই দীর্ঘ প্রবাস সার্থক হবে।

ফেরা মানেই কি কেবল ঘরে ফেরা? নাকি ফেরা মানে নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করা? তারেক রহমান যখন দেশে ফিরবেন, তখন তিনি আর সেই তারুণ্যদীপ্ত ‘ভাইয়া’ নন, তিনি এখন প্রৌঢ়ত্বের দোরগোড়ায় দাঁড়ানো এক অভিজ্ঞ রাজনীতিক। তার শরীরে বয়সের ছাপ, চোখেমুখে দীর্ঘ সংগ্রামের ক্লান্তি, কিন্তু অন্তরে হয়তো নতুন প্রতিজ্ঞা। যে প্রতিজ্ঞা প্রতিশোধের নয়, বরং পুনর্গঠনের। দেশের মানুষ এখন আর হানাহানি চায় না, তারা চায় শান্তি। তারা চায় এমন এক বাংলাদেশ, যেখানে মতপ্রকাশের জন্য কাউকে জেলে যেতে হবে না, যেখানে ভিন্নমতের জন্য কাউকে লাশ হতে হবে না। তারেক রহমান যদি এই বার্তাটি স্পষ্টভাবে দিতে পারেন, তবেই তার প্রত্যাবর্তন ঐতিহাসিক হয়ে উঠবে। আর যদি আওয়ামী লিগের মতো পুরনো প্রতিহিংসার রাজনীতিতে ফিরে যান, তবে এই গণঅভ্যুত্থানের সব অর্জন ধূলিসাৎ হয়ে যাবে।

তারেক রহমানের এই ফেরা যেন এক দীর্ঘ উপন্যাসের ক্লাইমেক্স। উপন্যাসের নায়ক দীর্ঘ বনবাস শেষে রাজ্যে ফিরে আসছেন, কিন্তু রাজ্য তখন আর আগের মতো নেই। রাজপ্রাসাদের দেয়ালগুলো ধসে পড়েছে, প্রজাদের চোখেমুখে নতুন স্বপ্নের ঝিলিক। এই নতুন বাস্তবতায় নায়ককে মানিয়ে নিতে হবে। তিনি যদি দেশে ফিরে দলের ভেতরে গণতন্ত্র চর্চা শুরু করতে পারেন, যদি মেধাবী ও সৎ মানুষদের রাজনীতিতে আসার সুযোগ করে দিতে পারেন, তবেই মানুষ বিশ্বাস করবে যে বিএনপিই আমাদের শেষ আশ্রয়স্থল।

দীর্ঘ সতেরো বছর তিনি দেশের মাটিতে পা রাখেননি, ঘাসের গন্ধ নেননি। এই মানবিক যন্ত্রণার কি কোনো পরিমাপ হয়? রাজনীতিকরা রক্ত-মাংসের মানুষ, তাদেরও আবেগ আছে, কান্না আছে। লন্ডনের ব্যস্ত রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে হয়তো তার মনে পড়েছে বগুড়ার কোনো জনসভার কথা, অথবা শৈশবের কোনো স্মৃতির কথা। এই নস্টালজিয়া, এই হাহাকার তাকে হয়তো আরও বেশি দেশপ্রেমিক করে তুলেছে। দূর থেকে দেশকে দেখলে নাকি ভালোবাসা বাড়ে। তারেক রহমানের ক্ষেত্রেও হয়তো তাই হয়েছে। তিনি দেখেছেন কীভাবে তার দেশে লুটপাট করা হয়েছে, কীভাবে ব্যাংকগুলোকে ফোকলা করে দেওয়া হয়েছে। এই ক্ষোভ, এই বেদনা যদি তিনি শক্তিতে রূপান্তর করতে পারেন, তবে বাংলাদেশ পাবে এক নতুন রাষ্ট্রনায়ককে। কিন্তু যদি তিনি পুরনো বলয়ের মধ্যে আটকে থাকেন, তোষামোদকারীদের দ্বারা পরিবেষ্টিত হয়ে থাকেন, তবে তা হবে জাতির জন্য দুর্ভাগ্যজনক।

গত সতেরো বছর দেশের মূলধারার গণমাধ্যমে তারেক রহমান ছিলেন এক নিষিদ্ধ নাম। তার বক্তব্য প্রচারের ওপর ছিল আদালতের নিষেধাজ্ঞা। আজ সেই বাঁধ ভেঙে গেছে। এখন প্রতিদিন খবরের কাগজে, টেলিভিশনের টকশোতে তাকে নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। কিন্তু এই আলোচনা যেন কেবল বন্দনা না হয়। গণমাধ্যমকে তার সমালোচকের ভূমিকাও পালন করতে হবে। গণতন্ত্রে কোনো নেতাই ভুলের ঊর্ধ্বে নন। তারেক রহমানের প্রতিটি পদক্ষেপ, প্রতিটি সিদ্ধান্তকে আতশ কাঁচের নিচে ফেলতে হবে। এটিই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। তিনি যদি সমালোচনার জবাব যুক্তিতে দেন, তবে বোঝা যাবে তিনি পরিণত। আর যদি তিনি সমালোচকদের কণ্ঠ রোধ করার চেষ্টা করেন, তবে বুঝতে হবে আমরা আবার সেই পুরনো অন্ধকারেই ফিরে যাচ্ছি।

একটি বিষয় পরিষ্কার তারেক রহমানের হাতে কোনো জাদুর কাঠি নেই। তিনি দেশে ফিরে নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় গেলে রাতারাতি দ্রব্যমূল্য কমবে না, বেকার সমস্যার সমাধান হবে না বা যানজট নিরসন হবে না। এগুলোর জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং কঠোর পরিশ্রম। জনগণকে এই সত্যটি বোঝাতে হবে। অতিরিক্ত প্রত্যাশা অনেক সময় হতাশার জন্ম দেয়। তাই বিএনপিকে এখন থেকেই সতর্ক হতে হবে, যাতে তারা জনগণকে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি না দেয়। সতেরো বছর ক্ষমতার বাইরে থাকা একটি দল যখন ক্ষমতায় ফেরার স্বপ্ন দেখে, তখন তাদের মধ্যে এক ধরনের অস্থিরতা কাজ করে। এই অস্থিরতা যেন অরাজকতায় রূপ না নেয়, সেদিকে তারেক রহমানকে কড়া নজর রাখতে হবে। তার দলের ছাত্র সংগঠন, যুব সংগঠনগুলোকে নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে তার জন্য এক হার্কিউলিস টাস্ক। ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর মানুষ আর কোনো ‘হেলমেট বাহিনী’ বা ‘হাতুড়ি বাহিনী’ দেখতে চায় না।

আন্তর্জাতিক মহলে তারেক রহমানের গ্রহণযোগ্যতা তৈরির বিষয়টিও উপেক্ষা করার মতো নয়। তাকে প্রমাণ করতে হবে যে, বিএনপি কোনো কট্টরপন্থী দল নয়, বরং একটি উদার মধ্যপন্থী গণতান্ত্রিক দল। জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে তার অবস্থান হতে হবে জিরো টলারেন্স। বাংলাদেশ একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ, এখানে উগ্রবাদের কোনো ঠাঁই নেইÑ এই বার্তাটি তাকে বিশ্ববাসীকে দিতে হবে।

জিয়াউর রহমানের শাহাদতের পর খালেদা জিয়া যেমন দলের হাল ধরেছিলেন, তেমনি খালেদা জিয়ার অসুস্থতার সময় তারেক রহমান হাল ধরেছেন। এই যে ব্যাটন হাতবদল, এর মধ্যে আছে করুণ ট্র্যাজেডি এবং অদম্য সাহসের গল্প। সতেরো বছর আগে তিনি যখন প্লেনের সিটে বসেছিলেন, তখন হয়তো জানালা দিয়ে নিচের ঢাকাকে দেখে কেঁদেছিলেন। আজ যখন আবার সেই একই জানালা দিয়ে ঢাকাকে দেখবেন, তখন তার অনুভূতি কেমন হবে? হয়তো চোখে জল আসবে না, কিন্তু বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠবে। কারণ, এই শহর তাকে অনেক কিছু দিয়েছে, আবার অনেক কিছু কেড়েও নিয়েছে।


আবু জুবায়ের

কবি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা