× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

পর্যবেক্ষণ

‘কী শোনার কথা, কী শুনছি’

মহিউদ্দিন খান মোহন

প্রকাশ : ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ ১১:৩৫ এএম

আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ ১২:৩৬ পিএম

‘কী শোনার কথা, কী শুনছি’

‘কী দেখার কথা, কী দেখছি/ কী শোনার কথা, কী শুনছি/ কী ভাবার কথা, কী ভাবছি/ কী বলার কথা, কী বলছি/ তিরিশ বছর পরেও আমি স্বাধীনতাটাকে খুঁজছি…।’ কণ্ঠশিল্পী হায়দার হোসেনের গাওয়া একটি দেশভাবনার গান। এই গানটি প্রথম গীত হওয়ার পর কেটে গেছে আরও পঁচিশ বছর। কিন্তু গানটির বাণী আজও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। বিজয়ের এই পঞ্চান্ন বছর পরে একটি কথা ভাবছি, কতদূর এলাম আমরা? যতদূরই এসে থাকি, সঠিক পথে এসেছি তো? ১৯৭১-এ আমাদের অগ্রজরা যে পদযাত্রা শুরু করেছিলেন, আমরা কি সে পথ ধরে সঠিক গন্তব্যে উপনীত হতে পেরেছি? পেরেছি কি আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের গৌরবগাথা নতুন প্রজন্মের কাছে ঠিকঠাক তুলে ধরতে? মনে হয় না। যদি পারতাম, তাহলে এ প্রজন্মের কারও কারও মুখে অশ্লীল শব্দ সহযোগে বিজয় দিবসের কথা উচ্চারিত হতে পারত না। যদি আমরা নতুন প্রজন্মকে এটা জানাতে পারতাম, বাংলাদেশ নামের এই দেশটি অর্জন করতে কী অপরিসীম মূল্য দিতে হয়েছে আমাদের, তাহলে আজ একশ্রেণির কুলাঙ্গারের মুখে শুনতে হতো না, একাত্তরের যুদ্ধ ছিল ‘ভাইয়ে-ভাইয়ে গণ্ডগোল’! এই ব্যর্থতা ব্যক্তি বা গোষ্ঠীবিশেষের নয়, আমাদের সবার। 

আজ থেকে চল্লিশ বছর আগে, ১৯৮৫ সালে সাহিত্যিক বশীর-আল-হেলাল বাংলা একাডেমির এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, ‘মা-বাবারা এখন তাদের সন্তানদের মুক্তিযুদ্ধের কথা শোনান না, এর ফলে এমন একদিন আসবে, যেদিন নতুন প্রজন্ম জানবে, ১৯৭১-এ মুক্তিযোদ্ধা নামের দুষ্কৃতকারীরা দেশের স্বাধীনতা বিনষ্ট করতে চেয়েছিল।’ (হুবহু মনে নেই, তবে এমনটিই বলেছিলেন)। বশীর-আল-হেলালের সেদিনের আশঙ্কা যে অমূলক ছিল না, আজ তা প্রমাণিত। আজ এ কথাও শুনতে হচ্ছেÑ‘একাত্তরে যারা মুক্তিযুদ্ধ করেছে তারা নিকৃষ্টতম!’ এসব বলে আজ নতুন প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করে ইতিহাস বিকৃতির অপচেষ্টা চলছে। আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতাকে নতুন প্রজন্মের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলার ধৃষ্টতা দেখাচ্ছে একটি বিশেষ মহল। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা ছিল শত্রুবাহিনীর সহযোগী। 

আজ যখন পঞ্চান্ন বছর পেছনের দিকে তাকাই মনের সেলুলয়েডে ভেসে ওঠে নানা চিত্র। সেখানে রয়েছে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বরোচিত গণহত্যা, নারীর সম্ভ্রমহানি, অসংখ্য মানুষের বাড়িঘর সহায়-সম্পদ আগুনে ভস্মীভূত করে দেওয়ার ভীতিকর চিত্র। যে চিত্র তৎকালীন সারা বিশ্বের বিবেককে স্তম্ভিত করে দিয়েছিল। পাশাপাশি দেখি সাহস-জাগানিয়া সেই চিত্রও। যেখানে দেখা যায় এদেশেরই সাহসী সন্তানরা শির উঁচিয়ে অস্ত্র হাতে লড়াই করছে একটি দানবীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে। তারপর ছিনিয়ে এনেছে এদেশের স্বাধীনতা। উড্ডীন করেছে আমাদের লাল-সবুজের পতাকা। বিশ্ব মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটেছে বাংলাদেশ নামের রাষ্ট্রটির। 

আজকের এই স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ কেউ আমাদের হাতে তুলে দিয়ে যায়নি। গণশিল্পী ফকির আলমগীরের গাওয়া গানের পঙ্‌ক্তিÑ ‘আমি দাম দিয়ে কিনেছি বাংলা/ কারও দানে পাওয়া নয়/ দাম দিছি প্রাণ লক্ষ-কোটি/ জানা আছে জগতময়’ যেন এদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সমগ্র ইতিহাসের সারমর্ম। কারণ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পেছনে রয়েছে এক মর্মন্তুদ ও গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। সে ইতিহাস দীর্ঘ সংগ্রামের, অকাতর আত্মদানের। মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষার জন্য ১৯৫২ সালে যে আত্মদানের শুরু, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের সিঁড়ি পেরিয়ে ১৯৭১-এ এসে মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের মধ্য দিয়ে তার সফল সমাপন সম্পন্ন হয়। 

জাতি হিসেবে আমাদের সবচেয়ে বড় দুর্ভাগ্য হলো, আমরা স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে সঠিকভাবে পরিচর্যা করতে পারিনি। এ না পারার প্রধান কারণ, রাজনৈতিক সংকীর্ণতা। রাজনৈতিক দলগুলো স্বাধীনতার কৃতিত্বকে বগলদাবা করতে কখনও মনগড়া ইতিহাস জাতিকে গেলানোর চেষ্টা করেছে, কখনও আবার ইতিহাসকে বিকৃত করে পরিবেশন করেছে। আর এক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দলটি সবচেয়ে বেশি সংকীর্ণতা প্রদর্শন করেছে। ঐতিহাসিক সত্যকে স্বীকার করার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর এই দ্বিধা পুরো ইতিহাসকেই দাঁড় করিয়ে দিয়েছে প্রশ্নের মুখে। দেখা গেছে, সরকার পরিবর্তন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্কুল-কলেজের পাঠ্যবইয়ে ইতিহাসও বদলে যায়। ইতিহাসের সত্যকে ঝেড়ে ফেলে দিয়ে নতুন কাহিনী ঢুকিয়ে দেওয়া হয়, যার বৃহদাংশই কাল্পনিক। এই দলীয় সংকীর্ণতা আমাদের ইতিহাসচর্চাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর এ ‘টাগ অব ওয়ার’ সাধারণ মানুষকে করে তুলেছে ইতিহাসবিমুখ। 

এখানে যখন যে দল সরকারে থাকে, সে দল তাদের নেতার বন্দনায় এমনভাবে নিমগ্ন হয়, সেখানে ঐতিহাসিক সত্য গৌণ হয়ে পড়ে। আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দল এটা ঐতিহাসিক সত্য। কেননা, একাত্তরে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার গঠিত হয়েছিল আওয়ামী লীগেরই নেতৃত্বে। আর সে সময়ের অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের নেতা; যদিও তিনি সশরীরে উপস্থিত থাকতে পারেননি। কিন্তু দুঃখজনক হলো, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতাকে শেখ মুজিবুর রহমানের একক কৃতিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে আওয়ামী লীগ আমাদের সুদীর্ঘ স্বাধীনতা সংগ্রামের বাঁকে বাঁকে যারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন, সে জাতীয় নেতাদের অবদানকে প্রকারান্তরে অস্বীকার করার প্রয়াস পেয়েছে। কিন্তু তারা এটা হিসাব করে দেখেনি, একাত্তরের শেখ মুজিব এক দিনে তৈরি হননি। একাত্তরে যে শেখ মুজিবুর রহমান ঐক্যের প্রতীক ছিলেন, সে যুদ্ধের পটভূমি তৈরি হয়েছিল সুদীর্ঘ চব্বিশ বছরে। সে পটভূমি তৈরিতে প্রভূত অবদান ছিল শেরেবাংলা একে ফজলুল হক, মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, হাজী মোহাম্মদ দানেশ, মাওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীসসহ বহু প্রাতঃস্মরণীয় রাজনীতিবিদের। বলা যায়, তাদের মিলিত সংগ্রামই উনিশশ একাত্তরে শেখ মুজিবুর রহমানের মধ্যে মূর্ত হয়ে উঠেছিল। এটাও স্বীকার্য যে, আমাদের দীর্ঘ স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতিটি ধাপেই শেখ মুজিবুর রহমান সংশ্লিষ্ট ছিলেন। তারপরও একাত্তরের চূড়ান্ত মুহূর্তে তিনি তার দায়িত্বের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। বরং হিংস্র হায়েনার থাবার মুখে হরিণ শাবকের মতো গোটা জাতিকে পাকিস্তানি বর্বর বাহিনীর বন্দুকের নলের সামনে অসহায় অবস্থায় ফেলে গ্রেপ্তারবরণ করেছিলেন শত্রুবাহিনীরই হাতে! 

সেদিন যে কাজটি তার করার কথা ছিল, সে কাজটিই করেছিলেন এমন একজন ব্যক্তি, যাকে কেউ চিনত না। তিনি মেজর জিয়াউর রহমান। বলা যায়, সেদিন শেখ মুজিবুর রহমানের গুরুদায়িত্বটি পালন করেছিলেন মেজর জিয়াউর রহমানই। স্বাধীনতা বা মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা নিয়ে শেখ মুজিব বা জিয়া কী ভাবতেন বা ভেবেছিলেন, তা জানার উপায় এখন আর নেই। তবে জিয়াউর রহমান তার ভাবনার কথা এক নিবন্ধে লিখে গেছেন। ‘একটি জাতির জন্ম’ শীর্ষক নিবন্ধে জিয়াউর রহমান লিখেছেন, ২৬ মার্চ বিদ্রোহ ও ২৭ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার যে ঘোষণা তিনি দিয়েছিলেন, তার মানসিক প্রস্তুতি গ্রহণের সবুজ সংকেত পেয়েছিলেন বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ থেকে। 

এটা স্বীকার করতেই হবে, স্বাধীনতার ঘোষণা বা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের বিষয়ে বিএনপি আওয়ামী লীগের চেয়ে অনেক উদার। তারা তাদের নেতাকে সম্মানিত করার চেষ্টা করলেও মুক্তিযুদ্ধে বা স্বাধীনতা সংগ্রামে শেখ মুজিবের অবদানকে কখনোই অস্বীকার করেনি বা তাকে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টাও করেনি। এখানে বিএনপি ইতিহাসের প্রতি যতটা বিশ্বস্ত, আওয়ামী লীগ তা একেবারেই নয়। তারা স্বাধীনতাযুদ্ধে জিয়ার অবদান স্বীকার তো করতেই চায় না, উল্টো তাকে ‘পাকিস্তানের চর’, ‘তিনি মুক্তিযুদ্ধ করেননি’ ইত্যাদি অপবাদ দিয়ে খাটো করার অপচেষ্টা চালিয়ে এসেছে। এমনকি স্বয়ং শেখ হাসিনা একবার প্রশ্ন করলেন, ‘জিয়া মুক্তিযুদ্ধে কয়টা গুলি ছুড়েছে!’ কী উদ্ভট মানসিকতা! একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে জনসমক্ষে হেয়প্রতিপন্ন করার এ ন্যক্কারজনক অপচেষ্টা দেশবাসী ভালোভাবে নেয়নি। 

স্বাধীনতার কৃতিত্ব নিয়ে দুপক্ষের রশি টানাটানির ফলে একাত্তরের পরাজিত শক্তিটি মওকা পেয়েছে ঐতিহাসিক সত্যকে মুছে ফেলতে চেষ্টা করার। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সহযোগী হয়ে যারা সেদিন গণহত্যা, নারী ধর্ষণে লিপ্ত হয়েছিল, আজ তারা গলা উঁচিয়ে বলতে চেষ্টা করে, একাত্তরে তারা কোনো ভুল করেনি। এমনকি তারা এটাও বলতে চায় যে, আসলে একাত্তরে তারা স্বাধীনতার বিরোধিতা করেনি। সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হলো, দেশের এক অখ্যাত সাংবাদিক ‘জামায়াত স্বাধীনতার বিপক্ষে ছিল না’ নামে একটি বইও লিখে বাজারে ছেড়েছেন। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তির বিভক্তিই যে একাত্তরের পরাজিতদের বিষধর সাপের মতো ফণা তোলার সুযোগ করে দিচ্ছে, এটা অস্বীকার করা যাবে না।

আগে-পরে বিএনপি-আওয়ামী লীগের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের কৃতিত্ব নিয়ে বাকযুদ্ধ চললেও ২০২৪-এর ৫ আগস্টের পর একটি মহল একাত্তরকে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলতে উদ্যত হয়। তারা জুলাই গণআন্দোলনকে ‘দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধ’, ৫ আগস্ট ‘দ্বিতীয় বিজয় দিবস’, আওয়ামী লীগের পতন ও পলায়নকে ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা’ হিসেবে প্রচারে ব্যাপৃত হয়। এই সুযোগে কিছু লোক আমাদের জাতীয় সংগীত ও জাতীয় পতাকা পরিবর্তনের দাবি তোলে।  কোথাও কোথাও তারা জাতীয় সংগীত পরিবেশনে বাধা দিয়েছে, বিভিন্ন স্থানে মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য-ম্যুরাল ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের দ্বারা তারা চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানকে মুক্তিযুদ্ধের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে পঞ্চান্ন বছর আগের করুণ পরাজয়ের বিকৃত প্রতিশোধ নিতে চেয়েছে। তবে তারা সফল হতে পারেনি। আর তা সম্ভব হয়নি মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপির অনমনীয় ভূমিকার কারণেই। 

আমার মতো একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যক্ষদর্শী যারা আজও বেঁচে আছেন, তারা স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিটির অপতৎপরতা দেখে নিশ্চয়ই বিস্ময়ে বাকরুদ্ধ। হয়তো তারাও হায়দার হোসেনের কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে স্বগতোক্তি করছেনÑ ‘কী শোনার কথা, কী শুনছি, কী দেখার কথা, কী দেখছি’!


মহিউদ্দিন খান মোহন

সাংবাদিক ও কলাম লেখক

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা