ইমেইল থেকে
আল শাহারিয়া
প্রকাশ : ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ১০:২৫ এএম
প্রকৃতিতে ঋতুচক্রের আবর্তনে শীত আবারও ফিরে এসেছে। কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে ভোরের আকাশ। নগরের ইট-পাথরের দালানে কিংবা গ্রামের মেঠোপথে শীতের আমেজ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিত্তবানদের কাছে শীত মানেই উৎসবের আগমন, পিঠা-পুলির আয়োজন আর ফ্যাশনের নতুন অনুষঙ্গ। তারা আলমারি থেকে দামি জ্যাকেট আর শাল বের করে শীতকে বরণ করে নেয়। কিন্তু মুদ্রার উল্টো পিঠে রয়েছে এক করুণ বাস্তবতা। এই সমাজেই এমন হাজারো মানুষ আছে, যাদের কাছে শীত মানেই অভিশাপ, শীত মানে বেঁচে থাকার এক কঠিন লড়াই। বিশেষ করে পথশিশু এবং প্রান্তিক মানুষের জন্য শীতকাল যেন মৃত্যুদূত হয়ে দরজায় কড়া নাড়ে।
রাতের নিস্তব্ধতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যখন তাপমাত্রার পারদ নামতে থাকে, তখন শহরের অভিজাত এলাকার মানুষ লেপ-কম্বলের উষ্ণতায় গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন থাকে। ঠিক সেই সময়েই ফুটপাতের চিত্রটা বড়ই নির্মম হয়ে ওঠে। সেখানে কোনো উৎসবের আমেজ থাকে না, থাকে কেবল বেঁচে থাকার আর্তি। রাজধানীর ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার কিংবা কমলাপুর স্টেশনের দিকে তাকালে দেখা যায়, এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। জরাজীর্ণ বস্তা কিংবা ছেঁড়া কাঁথা গায়ে জড়িয়ে কুণ্ডলী পাকিয়ে শুয়ে আছে অসংখ্য মানুষ। তাদের মধ্যে শিশুর সংখ্যাই বেশি, যারা আমাদের সমাজের তথাকথিত পথশিশু। এদের নেই কোনো নির্দিষ্ট ঘরবাড়ি, নেই বাবা-মায়ের স্নেহ বা শাসন। দিনের বেলা তারা আবর্জনা কুড়িয়ে কিংবা ভিক্ষা করে পেট চালায়, আর রাতে তারা লড়াই করে প্রকৃতির এই রুদ্ররূপের সঙ্গে। এই একই চিত্র দেশের অন্যান্য শহরেও।
কেবল পথশিশুরাই নয়, গ্রামের হতদরিদ্র মানুষের অবস্থাও অত্যন্ত শোচনীয়। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে শীতের প্রকোপ থাকে অনেক বেশি এবং সেখানে দারিদ্র্যের হারও তুলনামূলকভাবে বেশি। গ্রামের বয়স্ক এবং অসুস্থ মানুষরা শীতে সবচাইতে বেশি কষ্ট পায়।
শীতকাল আমাদের বিবেকের পরীক্ষা দেওয়ার সময়। এই পরীক্ষায় আমাদের উত্তীর্ণ হতে হবে। পথশিশু ও হতদরিদ্র মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে আমাদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
আল শাহারিয়া
শিক্ষার্থী, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর