ইমেইল থেকে
ডা. মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ
প্রকাশ : ০৬ ডিসেম্বর ২০২৫ ১২:১৫ পিএম
সাধারণত বর্ষা মৌসুমকে ডেঙ্গুর প্রকোপের সময় ধরা হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অক্টোবর-নভেম্বর এমনকি শীতের শুরুতেও ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে। জলবায়ু পরিবর্তন, উচ্চ তাপমাত্রা ও পরিবেশগত অব্যবস্থাপনার কারণে শীতেও এডিস মশার প্রজনন ব্যাহত হয় না। ফলে বছরজুড়েই ডেঙ্গুর ঝুঁকি বজায় থাকে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য (২৩ নভেম্বর ২০২৫) : শেষ ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু : ৮ জন, নতুন ভর্তি : ৭৭৮ জন, চলতি বছরের মোট আক্রান্ত : ৯০, ২৬৪ জন, মোট মৃত্যু : ৩৬৪ জন, সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৮৭,৪৪২ জন। আগের বছরের তুলনায়ও সংক্রমণ উদ্বেগজনক। ২০২৪ সালে আক্রান্ত ছিল ১,০১,২১৪ জন; মৃত্যু ৫৭৫। ২০২৩ সালে দেশে সর্বোচ্চ ১,৭০৫ জনের মৃত্যু হয় ডেঙ্গুতে।
ডেঙ্গু বিস্তারের প্রধান কারণÑ প্লাস্টিকের বোতল, টায়ার, ভাঙারি, নির্মাণস্থলে জমে থাকা পানিÑ সবই এডিস মশার আদর্শ প্রজননস্থল। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় মশা দ্রুত ছড়ায়। নর্দমা, খাল ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতা মশার জন্ম বাড়ায়। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাব ও মশা দমন কার্যক্রমে ঘাটতি পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করছে। সংক্রমিত ব্যক্তি বা মশার মাধ্যমে রোগ দ্রুত ছড়ায়।
ডেঙ্গুর লক্ষণ : ডেঙ্গুর লক্ষণ সাধারণত সংক্রমণের ৪-১০ দিনের মধ্যে প্রকাশ পায়।
হঠাৎ উচ্চজ্বর (১০২–১০৪°F)। তীব্র মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা। শরীর ও জয়েন্টে প্রচণ্ড ব্যথা। ত্বকে লাল র্যাশ। বমি ও বমিভাব। অতিরিক্ত দুর্বলতা।
প্রতিরোধই সেরা সুরক্ষা। ঘর-আঙিনায় পানি জমতে না দেওয়া। ফুলের টব, ড্রাম, টায়ার নিয়মিত পরিষ্কার রাখা । নর্দমা ও ড্রেনেজ চলমান রাখা। মশারি ব্যবহার। পুরো হাত-পা ঢেকে রাখে এমন পোশাক ব্যবহার করা। মশা প্রতিরোধক লোশন/স্প্রে ব্যবহার করা।
শীতকালেও ডেঙ্গুর বিস্তার আমাদের জন্য নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে। মশা নিয়ন্ত্রণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, ব্যক্তিগত সচেতনতা ও সময়মতো চিকিৎসাÑ এই চারটি দিকেই নজর দিতে পারলে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা অনেকটাই কমানো সম্ভব। ডেঙ্গুর প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দিলেই পরীক্ষা ও চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। পরিবার, সমাজ ও সরকারের সমন্বিত উদ্যোগেই ডেঙ্গুর সংক্রমণ রোধ সম্ভব।
ডা. মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ
চিকিৎসক, কলাম লেখক ও গবেষক