× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ভূমিকম্প

বাড়ছে আতঙ্ক, মোকাবিলায় প্রস্তুতি কোথায়

ড. আলা উদ্দিন, অধ্যাপক নৃবিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশ : ২৬ নভেম্বর ২০২৫ ১০:৪৫ এএম

আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০২৫ ১০:৫১ এএম

বাড়ছে আতঙ্ক, মোকাবিলায় প্রস্তুতি কোথায়

গত ২১ নভেম্বর সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অনুভূত ভূমিকম্পটি আবারও আমাদের সামনে তুলে ধরেছে যে- প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় আমরা কতটা অপ্রস্তুত। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৫ মাত্রার এই ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল নরসিংদী থেকে মাত্র ১৪ কিলোমিটার দূরে এবং এর গভীরতা ছিল মাত্র ১০ কিলোমিটার। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এর তীব্রতা ৫ দশমিক ৭ বলে জানিয়েছে এবং এটিকে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কয়েক সেকেন্ডের এই কম্পনে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক আর বিশৃঙ্খলা। লাখো মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় ছুটে আসে, যা প্রমাণ করে যে শুধু প্রকৃতির রোষ নয়, আমাদের অপ্রস্তুতিও সমান দায়ী বিপর্যয় সৃষ্টিতে।

ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট থেকে গোপালগঞ্জ, নড়াইল, নারায়ণগঞ্জ, রংপুর, সাতক্ষীরা, যশোর, জামালপুর, দিনাজপুর, কুমিল্লা, রাজশাহী, কুড়িগ্রাম, বাগেরহাট, মাদারীপুর, শেরপুর, ফেনী ও খুলনাÑ প্রায় সব জেলাতেই একই দৃশ্য দেখা গেছে। মানুষ আতঙ্কে অফিস-আদালত, স্কুল-কলেজ ও বাড়িঘর ছেড়ে খোলা জায়গায় দাঁড়িয়ে পড়েছে। ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম শক্তিশালী কম্পন। অন্তত দশজন নিহতসহ কয়েকশ মানুষ আহত ও বহু ভবন ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঘটনাটি আমাদের দুর্বল প্রস্তুতির বাস্তব চিত্র তুলে ধরে। বিষয়টি কেবল একটি প্রাকৃতিক ঝাঁকুনি নয়, বরং নগর পরিকল্পনা, ভবন নির্মাণব্যবস্থা ও জনসচেতনতার দীর্ঘদিনের দুর্বলতার স্পষ্ট সতর্কবার্তা।

মাঝারি মাত্রার এই ভূমিকম্প যদি এতটা আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পারে, তাহলে বড় মাত্রার ভূমিকম্প হলে কী হবে সেটি কল্পনা করাও ভয়াবহ। ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ নগরে লাখো মানুষ বসবাস করে বহুতল ভবনে, যার অনেকগুলোই পুরনো, ঝুঁকিপূর্ণ এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধী নয়। নির্মাণ কোড মানা হয় না, পরিকল্পনা ছাড়াই গড়ে ওঠে বহুতল, ভরাট করা জলাভূমির ওপর তৈরি হয় আবাসন। এসব কারণে একটি মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পও বিশাল ক্ষয়ক্ষতি ঘটাতে পারে। শহরাঞ্চলে নাগরিক সচেতনতার অভাব, নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা না থাকা, প্রাথমিক সতর্কীকরণ ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং জরুরি পরিকল্পনার অনুপস্থিতি প্রতিটি ভূমিকম্পকে সম্ভাব্য বিপর্যয়ে পরিণত করে। দেশের ভৌগোলিক অবস্থান ভূমিকম্পের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। দেশের পূর্ব এবং উত্তর অংশ বিশেষভাবে ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত। ভারতীয় টেকটোনিক প্লেট ইউরেশীয় প্লেটের দিকে বছরে প্রায় পাঁচ সেন্টিমিটার হারে সরে যাচ্ছে, যা ভূগর্ভে বিপুল চাপ সৃষ্টি করছে। এই চাপ যখন মুক্ত হয়, তখনই ঘটে ভূমিকম্প। বিশেষজ্ঞরা বারবার সতর্ক করেছেন যে ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং সিলেটের মতো দ্রুত বর্ধনশীল শহরগুলো বড় মাত্রার ভূমিকম্পের উচ্চঝুঁকিতে রয়েছে। অপরিকল্পিত নগরায়ণ, জনসংখ্যার চাপ এবং নির্মাণ মান না মানার কারণে এই ঝুঁকি দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমনকি ছোট মাত্রার ভূমিকম্পও এসব শহরে মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। ২১ তারিখের ভূমিকম্পকে অনেক বিশেষজ্ঞই সম্ভাব্য ফোরশক বলে মনে করছেন। তার পরদিন, ২২ তারিখ সন্ধ্যায়, ঢাকায় আবারও টানা তিনবার ভূকম্পন অনুভূত হয়। ভূমিকম্প হলেই বিশেষজ্ঞদের সতর্কবাণী শোনা যায়, ৬ বা ৭ মাত্রার একটি বড় ধাক্কা এলে ঢাকা ও চট্টগ্রামের অর্ধেকেরও বেশি ভবন সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসের আশঙ্কা অত্যন্ত বেশি। কিন্তু আতঙ্কের ঢেউ থেমে যেতেই সব যেন আগের মতো নিস্তেজ হয়ে যায়। সরকারি পর্যায়ে প্রয়োজনীয় কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগও চোখে পড়ে না।

ঢাকার ভূতাত্ত্বিক গঠন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। রাজধানী শহরের মাটি অত্যন্ত নরম এবং নদীবিধৌত পলিমাটি দিয়ে গঠিত, যা ভূমিকম্পের তরঙ্গকে বিবর্ধিত করে। এ কারণে নরসিংদীর মতো দূরবর্তী স্থানে কেন্দ্রবিন্দু থাকা সত্ত্বেও ঢাকায় তীব্র কম্পন অনুভূত হয়েছে। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে শুধু ভূমিকম্পের মাত্রা নয়, ভূমির ধরনও বিপর্যয়ের তীব্রতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ঢাকায় দুই কোটিরও বেশি মানুষের বসবাস, হাজারো বহুতল ভবন, শিশু, বৃদ্ধ, অসুস্থ মানুষÑ সবাই একই ঝুঁকিতে। গতকালের ঘটনায় দেখা গেছে সরু রাস্তায় মানুষের ভিড়, ধাক্কাধাক্কি এবং বিশৃঙ্খলা, যা প্রমাণ করে যে ন্যূনতম প্রস্তুতি ছাড়াই আমরা প্রতিটি ভূমিকম্পের মুখোমুখি হচ্ছি।

চট্টগ্রামের পরিস্থিতি আরও ভিন্ন ধরনের জটিলতা বহন করে। বন্দর নগরীর পাহাড়ের ঢালে গড়ে উঠেছে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা, রয়েছে বড় বড় শিল্পাঞ্চল এবং উপকূলীয় অবস্থানের কারণে সুনামির ঝুঁকিও উপেক্ষা করা যায় না। ভূমিকম্পের প্রভাব এখানে শুধু ভবন ধসে পড়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। পাহাড়ধস, শিল্পাঞ্চলে রাসায়নিক দুর্ঘটনা, যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং সমুদ্র উপকূলে সুনামির সম্ভাবনাÑ সবকিছু মিলিয়ে চট্টগ্রাম অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী দরিদ্র জনগোষ্ঠী বিশেষভাবে ঝুঁকিতে রয়েছে, কারণ তাদের বসতি অপরিকল্পিত এবং অনিরাপদ। এসব এলাকায় জরুরি সতর্কীকরণ ব্যবস্থা এবং দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করাও কঠিন হবে।

বাংলাদেশে দুর্যোগ প্রস্তুতির বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত হতাশাজনক। জনসচেতনতার অভাব, নিয়মিত মহড়ার অনুপস্থিতি, ভবন নির্মাণ কোড শিথিলভাবে মানা, প্রাথমিক সতর্কীকরণ ব্যবস্থার অপ্রতুলতা এবং কমিউনিটি পর্যায়ে প্রস্তুতির দুর্বলতা প্রধান সমস্যা। স্কুল এবং কলেজে দুর্যোগ শিক্ষাকার্যক্রম নেই বললেই চলে। শিক্ষার্থীরা জানে না ভূমিকম্পের সময় কী করতে হবে, কোথায় আশ্রয় নিতে হবে। অফিস-আদালত, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং আবাসিক ভবনে নিয়মিত ভূমিকম্প মহড়া করা হয় না। জাপানের সঙ্গে আমাদের তুলনা করলে পার্থক্যটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। জাপানে প্রতিটি শিশু প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকেই ভূমিকম্প মহড়ায় অংশ নেয়, যা তাদের মধ্যে দুর্যোগ মোকাবিলার সংস্কৃতি গড়ে তোলে। আমাদের এখানে এই ধরনের কোনো উদ্যোগ নেই। 

পুরাতন এবং ঝুঁকিপূর্ণ ভবন সংস্কার বা অপসারণের বিষয়টিও কার্যকরভাবে করা হচ্ছে না। ঢাকা শহরে শত শত ব্রিটিশ আমলের এবং স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ের ভবন রয়েছে যেগুলো মোটেই ভূমিকম্প প্রতিরোধী নয়। এসব ভবনে হাজারো মানুষ বসবাস করে এবং ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করে। জরুরি ভিত্তিতে এসব ভবনের মূল্যায়ন, সংস্কার অথবা প্রয়োজনে অপসারণ করা উচিত। প্রাথমিক সতর্কীকরণ ব্যবস্থাও পর্যাপ্ত নয়। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভূমিকম্পের কয়েক সেকেন্ড আগে সতর্কবার্তা পাঠানো সম্ভব, যা অনেক প্রাণ বাঁচাতে পারে। কিন্তু আমাদের দেশে এই ধরনের সিস্টেম নেই বললেই চলে। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জরুরি সতর্কবার্তা পাঠানোর ব্যবস্থাও কার্যকরভাবে চালু হয়নি।

কমিউনিটি পর্যায়ে স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন এবং মহল্লাভিত্তিক প্রস্তুতি কার্যক্রম প্রায় অনুপস্থিত। সাধারণ মানুষ জানে না কোথায় নিরাপদ আশ্রয় নিতে হবে, কীভাবে নিজেকে এবং পরিবারকে রক্ষা করতে হবে। মানসিক প্রস্তুতির অভাব আতঙ্ক এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, যা প্রকৃত ক্ষতির চেয়েও বিপজ্জনক হতে পারে। গতকালের ঘটনায় দেখা গেছে মানুষ দিশাহারা হয়ে এদিক-ওদিক ছুটছে, অনেকে লিফট ব্যবহার করছে, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক। যদি মানুষ জানত ভূমিকম্পের সময় টেবিলের নিচে, শক্ত দরজার ফ্রেমে অথবা কোনায় আশ্রয় নিতে হয়, লিফট ব্যবহার করা যাবে না, তাহলে অনেক দুর্ঘটনা এড়ানো যেত। শিশু এবং বৃদ্ধদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পরিবারের প্রতিটি সদস্যের ভূমিকা পরিষ্কার থাকা দরকার।

দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং নীতি প্রণয়ন এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি। বাধ্যতামূলক দুর্যোগ শিক্ষাকার্যক্রম চালু করতে হবে স্কুল-কলেজ থেকে শুরু করে সব পর্যায়ে। ভবন নির্মাণ কোড কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে এবং পুরাতন ভবনগুলোর মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রাথমিক সতর্কীকরণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যা মানুষকে কয়েক সেকেন্ড আগে সতর্ক করতে পারবে। কমিউনিটি পর্যায়ে সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে, স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন করতে হবে এবং নিয়মিত মহড়া পরিচালনা করতে হবে। নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দুর্যোগ মোকাবিলা অনেক সহজ হবে। জাপানের ‘বোসাই’ বা দুর্যোগ প্রস্তুতি সংস্কৃতি থেকে আমাদের শিক্ষা নেওয়া উচিত, যেখানে দুর্যোগ প্রস্তুতি শুধু সরকারি দায়িত্ব নয়, বরং সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক মূল্যবোধে পরিণত হয়েছে।

প্রতিটি নাগরিককে সচেতন হতে হবে এবং দুর্যোগ প্রস্তুতিকে ব্যক্তিগত দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। পরিবারে জরুরি পরিকল্পনা থাকতে হবে, জানতে হবে কোথায় মিলিত হতে হবেÑ যদি আলাদা হয়ে যাওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার বক্স, টর্চলাইট, পানি এবং শুকনো খাবার মজুদ রাখতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র এবং জরুরি যোগাযোগের নম্বর সহজলভ্য রাখতে হবে। প্রতিটি অফিস, স্কুল এবং আবাসিক ভবনে জরুরি পরিকল্পনা এবং নিয়মিত মহড়া করতে হবে। শুধু সরকারের ওপর নির্ভর না করে প্রতিটি ব্যক্তি, পরিবার এবং কমিউনিটিকে এগিয়ে আসতে হবে। মিডিয়া এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিয়মিতভাবে দুর্যোগ প্রস্তুতির তথ্য প্রচার করতে হবে, যাতে মানুষ ধীরে ধীরে সচেতন হয়ে ওঠে।

সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থা, গণমাধ্যম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে। বেসরকারি সংস্থাগুলো তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মহড়া পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। গণমাধ্যম দুর্যোগ প্রস্তুতির বিষয়ে নিয়মিত প্রতিবেদন এবং শিক্ষামূলক কর্মসূচি প্রচার করতে পারে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পাঠ্যক্রমে দুর্যোগ শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করতে পারে এবং নিয়মিত মহড়া পরিচালনা করতে পারে। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিতে পারে এবং জরুরি পরিকল্পনা তৈরি করতে পারে। এভাবে সমাজের সব স্তরে সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে একটি দুর্যোগ সহনশীল সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না, এটি সত্য। ভূমিকম্প কখন আসবে তা আগে থেকে জানাও সম্ভব নয়। কিন্তু সচেতনতা, প্রস্তুতি এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। ভূমিকম্প মানে শুধু আতঙ্ক নয়, এটি পরিকল্পনা এবং প্রস্তুতির চ্যালেঞ্জ। তবে ৫ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প আমাদের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করা উচিত। সময়মতো সচেতন এবং প্রস্তুত না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে পারে। দ্রুত সর্বাত্মক প্রস্তুতি শুরু করা জরুরি। প্রতিটি পরিবার, প্রতিটি কমিউনিটি এবং প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে দুর্যোগ প্রস্তুতির একটি কার্যকর সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে, ঠিক জাপানের বসাই সংস্কৃতির মতো। কারণ জীবন রক্ষার দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়; এটি আমাদের সবার যৌথ দায়িত্ব। আতঙ্কে থেমে থাকার সময় শেষ, এখন একমাত্র পথ প্রস্তুত হওয়া।

 

 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা