× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ফুটবলে অনুপস্থিত পেশাদারত্ব

ইকরামউজ্জমান

প্রকাশ : ২৫ নভেম্বর ২০২৫ ১০:১৪ এএম

ফুটবলে অনুপস্থিত পেশাদারত্ব

দেশে ফুটবলে নতুন জাগরণ হয়েছে। গত এক বছরে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত হামজা চৌধুরী, ফাহমিদুল হক, শমিত সোম, জায়ান আহমদ, কিউবা মিসেলের মতো কৃতী খেলোয়াড়দেরকে জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্ত করাতে ‘হাইপ’ সৃষ্টি হয়েছে। এটি ইতিবাচক। অনেক বেশি মানুষ এখন ফুটবল নিয়ে কথা বলছেন, ভাবছেন, উৎসাহ দেখাচ্ছেন। তা সত্ত্বেও খেলাটি ঘিরে আশঙ্কা, উদ্বেগ এবং অস্থিরতা দূর হচ্ছে নাÑ এটি বাস্তবতা।

পেশাদারত্ব বিষয়টি ফুটবলে অনুপস্থিত। ভীষণভাবে অনুপস্থিত নৈতিক ভিত্তি এবং সুস্থ জীবনবোধ! ফুটবল ব্যবস্থাপনায় আস্থার ঘাটতি এবং বিভিন্ন ধরনের দুর্বলতা সব সময় স্পষ্ট। ফুটবলে নেই সঠিক চিন্তাভাবনার মাধ্যমে ‘রোডম্যাপ’। নিজেদের মধ্যে বিভাজন, ঘৃণা, বিভ্রান্তি, উস্কানিমূলক কথাবার্তা এবং ফুটবলকে পুঁজি করে স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা খেলার উত্তরণে বড় চ্যালেঞ্জ। ফুটবলে বৈষম্য একটি বড় অমীমাংসিত বিষয়! মানুষের অংশগ্রহণের বিষয়টি ফুটবলে গুরুত্ব পাচ্ছে না। জনস্বার্থ সব সময় উপেক্ষিত। মানবিক ফুটবলের চিন্তা এখনও অনেক দূরে। ফুটবল এখনও আবেগের ঝুড়ি থেকে বের হতে পারেনি। 

‘টেকসই’ ফুটবল উন্নয়নের বিষয়টি হালে পানি পাচ্ছে না। বর্তমান নিয়ে সবাই ব্যস্ত। চাটুকাররা চায় যেকোনো মূল্যে অবস্থান ধরে রাখতে। এতে করে সব সময় দেখতে হচ্ছে ‘শাক দিয়ে মাছ ঢাকা’র কৌশল। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কিছু সংগঠক নিজ স্বার্থে ফুটবলকে ব্যবহার করছেন। ফুটবল ঘিরে তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য এখন সাধারণেরও মুখে মুখে। এটি সম্ভব হচ্ছে ফুটবল সংশ্লিষ্ট মহলে ঐক্যবদ্ধ অবস্থানে অনুপস্থিতির জন্য।

ফুটবলে অগ্রাধিকার বিষয়টি কখনও গুরুত্ব পায়নি। ফুটবল বের হতে পারছে না পুরনো চিন্তাভাবনা থেকে। এই ক্ষেত্রে ঝুঁকি নেওয়া এবং ‘উদ্ভাবনীতে’ বিশ্বাসী মানুষের বড় অভাব। ফুটবলকে নতুন করে সাজাতে না পারলে ভবিষ্যতে টেকসই উন্নতির পথ ধরে চলা সম্ভব হবে না। একসময় যারা আমাদের সঙ্গে লড়ার আগে দশবার চিন্তা করতÑ এখন তাদের সঙ্গে লড়ার আগে আমরা দশবার চিন্তা করি। ভাবতে হয় কি জানি কি হয়। এই মানসিকতা আর অবিশ্বাসের অভাব তো আর এমনি এমনি হয়নি, এটি পরিস্থিতির সৃষ্টি। আর এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বছরের পর বছর ধরে ফুটবলকে প্রতারিত করার জন্য। ফুটবল চত্বরে মানুষ দেখেছে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মানুষের রূপ। তারা বদলে গেছেন, পল্টি দিয়েছেন সময়ের সঙ্গে সঙ্গে। 

ফুটবল ঘিরে যে কাজটি সময়ের দাবিতে করা উচিত ছিল সেটি করা হয়নি। অন্যরা কিন্তু ঘুমিয়ে থাকেনি। চিন্তা করুন নেপালের সঙ্গে আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়টি কোন অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে। ভারতের বিপক্ষে জয়ের মুখ দেখার জন্য কেন বাইশ বছর অপেক্ষা করতে হলো। জয় অনেক বড় স্বস্তি দেশের মানুষের জন্য। বলা হচ্ছে, বর্তমান ফুটবল ফেডারেশনের এক বছরের সঠিক উদ্যোগের জন্যই মাঠে দেখা মিলছে কাঙ্ক্ষিত জয়ের। ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ের কার্যনির্বাহী পরিষদের বেশ কয়েকজন সদস্য বিগত দিনগুলোতে ফুটবল ফেডারেশনে ভালো অবস্থানে ছিলেন তখন তারা কী করেছেন। তারা যদি ঐক্যবদ্ধভাবে ফুটবল উন্নয়নের জন্য উদ্যোগ নিতেন তাহলে তো মাঠে আরও ভালো অবস্থা দেখার সুযোগ মিলত। মাঠের খেলা ঘিরে এত অনিশ্চয়তায় ভুগতে হতো না।

সত্যি কথা বলতে কি পরিবর্তনের জন্য সময় এবং সুযোগকে তো কাজে লাগানো হয়নি। অধিকাংশ সময় অনেকেই ব্যস্ত থেকেছেন ক্লাব এবং ফুটবল ফেডারেশনের অভ্যন্তরীণ নোংরা রাজনীতি নিয়ে। একের বিরুদ্ধে অপরের বিরুদ্ধাচরণ, অপরের ভালো উদ্যোগ এবং কার্যকলাপকে নেতিবাচকভাবে দেখা ফুটবলকে পিছিয়ে রেখেছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো দূরদৃষ্টি পরিকল্পনা, সমন্বয় ও ফলাফলে স্বচ্ছতা। তা সেটি স্বল্প মেয়াদি হোক বা মধ্যমেয়াদি। 

আগামী পাঁচ বছরে ফুটবল কোথায় যাবে, কোথায় যাওয়া উচিতÑ এই বিষয়ে তো কোনো প্রস্তুতি নেই। নেই সমন্বিত পরিকল্পনা। ঐতিহাসিকভাবে সব সময় মনে করা হয়েছে একসময় সব ঠিক হয়ে যাবে কিন্তু সেটি তো হওয়ার নয়। সাময়িক সাফল্যে অতৃপ্তিতে ভোগা দেশের ফুটবলকে পিছিয়ে রেখেছে। পিছিয়ে রেখেছে চিন্তাভাবনা না করে কাজ করা এবং বারবার ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণ। এই যে বিদেশি কোচ নিয়ে এখন এত কথাবার্তা, বর্তমান দলের কোচ হওয়ার মতো তার যোগ্যতা নেই বলা হচ্ছে তবে ম্যাচ পরিকল্পনা, দল গঠন, সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে খেলোয়াড় পরিবর্তন নিয়েÑ এসব তো উৎসাহিত করেছে ফুটবল ফেডারেশন। খুব সহজ বিষয় হলো যে কোচ দিয়ে কাজ চলবে না, যিনি রেজাল্ট দিতে পারবেন না তাকে ধরে রাখা হবে কেন। বুঝতে হবে ৪৭ মাসে এই কোচ জাতীয় দলকে কী দিয়েছেন। চুক্তি শেষ হওয়ার আগে যদি কোচকে ব্যর্থতার জন্য বিদায় করতে হয় তাহলে প্রচুর অর্থ দিয়েই চুক্তি অনুযায়ী বিদায় দিতে হবে এটি তো খুব সাধারণ কথা। সব দেশই প্রয়োজনে এ ধরনের উদ্যোগ নেয়। যেটি ভাবার কথা সেটি ভাবা হয়নি কোচ নিয়োগের সময়। আর বর্তমানে দলের যে অবস্থান সেখানে তো অনেক সতর্কতার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এই কোচ আগামী মার্চে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে এশিয়ান কাপে ‘অ্যাওয়ে’ ম্যাচে ডাগ আউটে দাঁড়াবেন কি না এটি জানা নেই। সবকিছু নির্ভর করছে ফুটবল ফেডারেশনের সিদ্ধান্তের ওপর। 

বাংলাদেশ এশিয়ান কাপের খেলায় হোম ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে জিতেছে। এই জয়টি ভীষণ প্রয়োজন ছিল। তবে একটি প্রশ্ন থাকবেই সেটি হলো বাংলাদেশ কীভাবে খেলে শেষ পর্যন্ত জয়ী হয়ে মাঠ ছেড়েছে। শিলংয়ে বাংলাদেশ দল কিন্তু এর চেয়ে অনেক ভালো এবং গুছিয়ে ফুটবল খেলেছে। অনেকে হয়তো বলবেন এশিয়া কাপে বাংলাদেশের সঙ্গে ভাগ্য ছিল না। খেলায় অবশ্যই ভাগ্যের সাহায্যের প্রয়োজন আছে। তবে এটি তো ঠিক যোগ্যতা, সামর্থ্যের প্রতিফলন, অবিশ্বাস, মানসিক শক্তি এবং নিজের খেলার ওপর শতভাগ আস্থা না থাকলে মাঠ থেকে হতাশার ছবি নিয়ে ফিরে আসতে হবে। ভারতের বিপক্ষে এই জয় যেন আবার অনেক দিনের জন্য ভয় না হয়ে দাঁড়ায়। শুধু ভারত কেন অন্যান্য দেশের বিপক্ষে এবং আসন্ন সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য এখনি সঠিক উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত। বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো জিততে হবে মানসিকতার উজ্জীবিত হওয়া। জয়ের ক্ষুধায় ভোগা। ফুটবল ফেডারেশনের উচিত ফুটবল চেতনাকে সঠিকভাবে ব্যবহার করা। মানুষের আকাঙ্ক্ষার বিপরীতে দাঁড়ানো দিন শেষ হতে চলেছে। মানুষ জেগে উঠেছে। ফুটবলে গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণ এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। স্বপ্ন দেখতে হবে। স্বপ্ন বাস্তবায়নে বাধা আসবে। কিন্তু তা অতিক্রম করা যায়। এর অনেক প্রমাণ ক্রীড়াঙ্গনে আছে। মানুষের সঙ্গে প্রতারণার খেলা এবং নিজেদের মধ্যে একে অপরকে দোষারোপ করা অভ্যাস পরিত্যাগ করতে পারলে অনেক সমস্যার সমাধান খুব সহজ হবে। 

নতুন প্রজন্ম ফুটবল দেখতে চাচ্ছে ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে। তারা দেশকে দেখতে চায় ফুটবলের জয়ের মাধ্যমে। মাঠে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ে দেখতে চায় খেলোয়াড়দের মধ্যে জাতি চরিত্রের প্রতিফলন। তারা চাইছে ফুটবল হোক নতুন রোমাঞ্চকর গল্প। 

শমিত সোম কিছুদিন আগে একটি দৈনিকের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বলেছেন, বাংলাদেশ দলে এখন সাতজন প্রবাসী ফুটবলার। দেশি-বিদেশি প্রসঙ্গ তাই উঠতেই পারে। আমাদের দল ১১ জনের। দেশি-বিদেশি কোনো বিষয় নয়। আমাদের সবার একসঙ্গে ভাবতে হবে যে ম্যাচটা আমরা কীভাবে জিতব। আমরা কোনো দিন চিন্তা করিনি যে বিদেশের খেলোয়াড় দেশি খেলোয়াড় ওভাবে তো বাংলাদেশ জিততে পারবে না। আমাদের সবাইকে একসঙ্গে থাকতে হবে।


ইকরামউজ্জমান

কলাম লেখক, সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি, এআইপিএস এশিয়া এবং প্যানেল রাইটার, ফুটবল এশিয়া

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা