× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

গণভোটের জন্য আইন

মাইলফলক হয়ে উঠুক দেশের রাজনীতিতে

সম্পাদকীয়

প্রকাশ : ২৩ নভেম্বর ২০২৫ ১১:৩৩ এএম

মাইলফলক হয়ে উঠুক দেশের রাজনীতিতে

গণভোটের আইনি ভিত্তি তৈরির জন্য ‘উপযোগী’ আইন প্রণয়ন করতে যাচ্ছে সরকার। সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ বরাবর পাঠিয়েছে। ১৯ নভেম্বর পাঠানো ওই চিঠিতে দ্রুত ‘যথোপযুক্ত আইন’ প্রণয়নের অনুরোধ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, কয়েক মাস আগে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ জারি করেন। ওই আদেশের ধারা-৬ অনুযায়ী গণভোটের জন্য নির্বাচন কমিশনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সহায়ক আইন প্রণয়ন করতে হবে। সেই কারণে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এই চিঠি প্রেরণ করা হয়।

বলে রাখা ভালো, গণভোট পরিচালনার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ ও সুস্পষ্ট আইন অপরিহার্য। কেননা ভোটে ব্যালট পদ্ধতি, পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা, প্রচারের বিধি এবং ফলাফল চূড়ান্ত করার নিয়ম সবকিছু আইনেই নির্ধারিত হতে হবে। বাংলাদেশে এখনও গণভোট বিষয়ক কোনো আইন নেই। সংসদ বিলুপ্ত থাকায় আইন প্রণয়নের জন্য বিকল্প সাংবিধানিক কাঠামো ব্যবহার করতে হচ্ছে। তাই এই উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী।

কিন্তু সময়ই এখানে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ আইন প্রণয়ন, বিধিমালা তৈরি, মাঠ প্রশাসনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং ভোটকেন্দ্র প্রস্তুত করা সময়সাপেক্ষ। উল্লেখ্য, আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে দেশে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা। সংসদ নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। অধ্যাদেশ না থাকায় নির্বাচন কমিশনও গণভোটের প্রস্তুতি নিতে পারছে না। সম্প্রতি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে গণভোটের প্রস্তুতি নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন বলেছেন, অধ্যাদেশ হলেই তারা কার্যক্রম শুরু করবেন। 

আমাদের দেশে গণভোটের ইতিহাস খুবই কম। তাই এই নতুন আইন। এতে জনগণের যেমন প্রত্যাশা রয়েছে; তেমনি স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়টি এখন আলোচনার কেন্দ্রে। এ প্রসঙ্গে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গণভোট আইন প্রণয়ন করা যেমন জরুরি, তেমনি এই আইন যেন জনগণের কাছে বোধগম্য হয়, সেদিকেও লক্ষ রাখা দরকার। ফলে গণভোট আয়োজনের পথে ‘আইন প্রণয়ন’ ধাপটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা মনে করি, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের চিঠির মাধ্যমে সেই ধাপটি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো। আইনজ্ঞরা বলছেন, নির্বাচন কমিশন ও সরকারকে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে গণভোট কীভাবে হবে, ভোটগ্রহণ ও ফলাফল চূড়ান্তকরণের নিয়ম কী, পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা কেমন থাকবে, প্রচার-প্রচারণার সীমাবদ্ধতা কী হবে। আইন প্রণয়ন হওয়ামাত্রই এসব বিষয় স্পষ্ট করা প্রয়োজন। এক কথায় আইনটি বাস্তবায়নযোগ্য, বোধগম্য এবং অংশগ্রহণমূলক হতে হবে। তারা বলছেন, স্বচ্ছতা না থাকলে গণভোটের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।

এ কথা সত্য যে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন আলোচনায় গণভোট। গণভোট গণতন্ত্রের একটি স্বীকৃত উপায়, যেখানে জনগণ সরাসরি নীতিনির্ধারণে মত দেয়। গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় কোনো প্রশ্নে মানুষের অভিমত জানতে এই প্রক্রিয়া কার্যকর ভূমিকা রাখে। তবে গণভোটের পথ একদিকে যেমন নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেয়, অন্যদিকে নানা জটিলতা এবং সমস্যারও ইঙ্গিত দেয়। তাই বিষয়টি অত্যন্ত সাবধানে, স্বচ্ছতা ও আস্থার ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়া জরুরি।

গণভোটের মাধ্যমে সবচেয়ে বড় অর্জন হবে নাগরিক অংশগ্রহণের বিস্তার। গণতন্ত্রে ভোটাররা সাধারণত পাঁচ বছরে একবার মতামত দেওয়ার সুযোগ পান। কিন্তু গণভোট তাদের সরাসরি রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে যুক্ত করে, যা রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। এতে দায়িত্বশীল রাজনীতি, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহির নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী বিতর্কের অবসান ঘটানোর ক্ষেত্রেও গণভোট কার্যকর হতে পারে। তবে তা অবশ্যই সকলের সম্মতিতে এবং স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে আয়োজন হতে হবে। তবে বাস্তব সমস্যাগুলোও উপেক্ষা করা যাবে না। দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক কাঠামো এখনও পুরোপুরি আস্থার জায়গায় পৌঁছেনিÑ এটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। নির্বাচন কমিশনের ওপর জনগণের আস্থা দুর্বল হলে গণভোটের ফলাফল নিয়ে সন্দেহ বা বিতর্ক তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক। গণভোটের প্রক্রিয়ায় সরকার বা কোনো পক্ষ যদি প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করে, তবে এর উদ্দেশ্য প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যাবে এবং গণতান্ত্রিক চর্চা আরও দুর্বল হবে। 

আরেকটা বিষয়, জনগণের মধ্যে পর্যাপ্ত রাজনৈতিক সচেতনতা ছাড়া গণভোটের সঠিক মতামত প্রতিফলিত নাও করতে পারে। প্রশ্নের ভাষা, ব্যাখ্যা এবং প্রচারণা যদি পক্ষপাতমূলক হয়, তবে একপাক্ষিক কাঠামো তৈরি হবে। সেখানে জনগণ বিভ্রান্ত হতে পারে। অর্থনৈতিক ব্যয়ও একটি বড় প্রশ্নÑ সারা দেশে গণভোট আয়োজন করতে বিপুল অর্থ, জনবল ও প্রযুক্তি প্রয়োজন, যা সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ছাড়া বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে। সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো, গণভোটকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা হলেÑ এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই সরকারের উচিত এই প্রক্রিয়ায় সর্বদলীয় পরামর্শ, বিশেষজ্ঞ মতামত, নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। 

সহজ করে বললে, গণভোট দেশের আগামীর রাজনীতির জন্য যেমন ইতিবাচক মাইলফলক হতে পারে, তেমনি ভুল ব্যবস্থাপনার কারণে এটি সংকটও বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই সমস্যা ও সম্ভাবনা দুটিকে সামনে রেখে দায়িত্বশীলভাবে আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে হবে। আমরা মনে করি, জনগণের আস্থা, স্বাধীন নজরদারি এবং সত্যিকারের গণতান্ত্রিক চেতনাÑ এই তিন উপাদান নিশ্চিত করতে পারলেই গণভোট বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি নতুন অধ্যায় খুলে দিতে পারে। আমরা চাই, গণভোটের জন্য আইনটি মাইলফলক হয়ে উঠুক দেশের রাজনীতিতে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা