ইমেইল থেকে
নুসরাত রুষা
প্রকাশ : ২২ নভেম্বর ২০২৫ ১০:৩৮ এএম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে যে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, তা আমাদের পুরো শিক্ষাব্যবস্থাকে গভীরভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে। বিভাগের শিক্ষার্থীরা তার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন এবং পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছেÑ এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ। কিন্তু মূল বিষয় হলো, এই অভিযোগগুলোর ন্যায়সংগত ও কঠোর বিচার যেন নিশ্চিত হয়। যে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেনÑ যৌন নির্যাতন, বলাৎকার, মানসিক ও শারীরিক হয়রানি এসব কোনোভাবেই ক্ষমার যোগ্য নয়। একজন শিক্ষকের হাতে এভাবে শিক্ষার্থীদের জীবন ক্ষতবিক্ষত হওয়া অপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে এক নির্মম আঘাত।
আমি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং স্পষ্টভাবে বলতে চাইÑ এই ঘটনায় যারাই জড়িত, যারাই ছাত্রদের ওপর এমন ভয়ংকর নির্যাতন চালিয়েছে, তারা কেউই ক্ষমার যোগ্য নয়। অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে অভিযুক্তকে অবশ্যই তার প্রাপ্য সর্বোচ্চ শাস্তি পেতে হবে। একটি নজিরবিহীন কঠোর শাস্তি ছাড়া ভবিষ্যতে এমন অপরাধ দমনের বিস্তৃত বার্তা পৌঁছানো সম্ভব নয়।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও মানসিক সুস্থতার বিষয়টি বিশেষভাবে দেখার অনুরোধ জানাচ্ছি। তাদের পরিচয় গোপন রাখা, প্রয়োজনে কাউন্সেলিং সুবিধা দেওয়া, মামলা পরিচালনায় আইনি সহায়তা প্রদানÑ এসব বিষয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সকলের গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত। একই সঙ্গে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ সেলকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করার সময় এখনই।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামোতে এমন ব্যবস্থা থাকা উচিত যেখানে শিক্ষার্থীরা ভয় ছাড়াই অভিযোগ জানাতে পারে এবং যেখানে কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি বিচার প্রক্রিয়া ব্যাহত করতে না পারে। শিক্ষক নিয়োগে নৈতিকতা ও আচরণ যাচাইয়ের প্রক্রিয়ার উন্নয়ন করাও জরুরি।
আমরা চাই, একটি নিরাপদ বিশ্ববিদ্যালয়, যেখানে কোনো শিক্ষার্থীকে নিজ বিভাগের শিক্ষকের ভয় বা জুলুমের মধ্য দিয়ে শিক্ষাজীবন কাটাতে না হয়। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হোকÑ এটাই আমাদের দাবি, এটাই প্রত্যাশা।
নুসরাত রুষা
শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়