× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

কিশোর অপরাধ

পরিবারেই নৈতিক শিক্ষা নিশ্চিত হোক

শেলী সেনগুপ্তা

প্রকাশ : ১৮ নভেম্বর ২০২৫ ১২:০৯ পিএম

পরিবারেই নৈতিক শিক্ষা নিশ্চিত হোক

বর্তমান বিশ্বে কিশোর অপরাধ একটি জটিল সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি দেশে কমবেশি কিশোর অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। আমাদের দেশও এর বাইরে নয়, বরং এ ধরনের অপরাধ একটু বেশিই হচ্ছে। প্রশ্ন আসতেই পারে, কিশোর অপরাধ কী? সাধারণভাবে বলা যায়, কিশোর বা কিশোরীদের দ্বারা সংঘটিত যেকোনো অপরাধকে কিশোর অপরাধ বলা যেতে পারে। বাংলায় যেটি কিশোর অপরাধ, ইংরেজিতে তাকে বলা হয় ‘জুভেনিল অফেন্স’ এবং যাদের দ্বারা এই সব অপরাধ সংঘটিত হয় তাদের বলা হয় ‘জুভেনিল অফেন্ডার’।

আমরা কিশোর বা কিশোরী বলতে কাদের বুঝি? শিশু আইন অনুযায়ী অনূর্ধ্ব ১৮ বছর বয়সের নিচে সবাইকে শিশু বলা যায়। ১৮ বছর বয়স হলেই আমাদের দেশে সাবালক বিবেচনা করা হয়। অর্থাৎ প্রাপ্তবয়স্ক বিবেচনায় ভোটাধিকার দেওয়া হয়। কিন্তু অপরাধবিজ্ঞান বলে ভিন্ন কথা, যেমন ১২ বছর থেকে শুরু করে ১৬ বছর পর্যন্ত বয়সিদের শিশু হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাই ১২ বছর থেকে ১৬ বছর বয়সি এবং কখনও কখনও ৯ বছর থেকে ১৬ বছর বয়সি কেউ যদি কোনো অপরাধ সংঘটিত করে তাকে কিশোর অপরাধ বলা যায়।

এ কথা ঠিক যে, জন্ম থেকে কেউ অপরাধী হয় না। জন্মের পর পরিবেশ ও পরিস্থিতির কারণে ভালোবাসাহীনতা, বিরূপ পারিপার্শ্বিক অবস্থা, সামাজিক অনাচার, শিশুদের প্রতি সহিংস আচরণ, অমানবিকতা প্রভৃতি কারণে শিশুরা বিষণ্নতায় ভোগে, একই সঙ্গে তাদের মধ্যে জন্ম নেয় হীনম্মন্যতাবোধ। এই বিষণ্নতা এবং হীনম্মন্যতাবোধ যখন চরম আকার ধারণ করে তখন কোনো কোনো ক্ষেত্রে শিশুর মনে প্রতিহিংসার ভাব জন্ম নিতে পারে। শিশু হয়ে উঠতে পারে প্রতিহিংসাপরায়ণ। যার ফলে শিশু জড়িয়ে পড়তে পারে নানা ধরনের অপরাধমূলক কাজে।

আমাদের দেশে শিশুদের একটি বড় অংশ ‘পথশিশু’। এদের অধিকাংশই পরিবার পরিত্যক্ত। কেউ কেউ পিতৃমাতৃহীন আবার কেউ কেউ দারিদ্র্যের কারণে পরিবার থেকে বের হয়ে এসেছে। এদের বেড়ে ওঠা রেলস্টেশন, ফুটপাত কিংবা পার্কে। রাত ও দিন সেখানেই কাটে। সেখানে তারা অপরাধে জড়িত মানুষের সান্নিধ্য লাভ করে। আবার কেউ কেউ এদের মাধ্যমে ছোট ছোট অপরাধমূলক কাজে নিয়োগ পায়। অল্প কিছুদিনের মধ্যে অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে শিশুটিই হয়ে ওঠে কিশোর অপরাধী। 

বর্তমান সময় হলো প্রযুক্তির। শিশুদের হাতে হাতে মোবাইল ইন্টারনেট। এর মাধ্যমে অনেকেই অপরাধমূলক ছবি দেখায় অভ্যস্ত হয়ে ওঠে। শিশুর মনে এর একটি নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তা ছাড়া এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করে শিশুরা নানা ধরনের অপরাধমূলক কার্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। সাধারণত শহর এলাকায় কিশোর অপরাধের প্রবণতা বেশি। কারণ শহরে কিশোর অপরাধীদের শনাক্ত করা কঠিন। তা ছাড়া প্রযুক্তিগত দিক থেকে শহর এলাকা অনেকটাই এগিয়ে। আমাদের দেশে কিশোর অপরাধের একটি অন্যতম কারণ দারিদ্র্য। দারিদ্র্যের কারণে ভিক্ষা থেকে শুরু করে চুরি, ডাকাতিসহ বিভিন্ন কাজে শিশুদের ব্যবহার করা হয়। তা ছাড়া শিশুরা অনেক সময় চারপাশের প্রভাবে নিজেই জড়িয়ে পড়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে। তা ছাড়া আমাদের সমাজব্যবস্থায় আছে নানা বৈষম্য। একই সমাজে দরিদ্র ও ধনী পরিবার বসবাস করে। একই সঙ্গে পড়াশোনা করে ধনী ও দরিদ্র পরিবারের সন্তানরা। অনেক সময় উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানদের জীবনযাত্রা মধ্যবিত্ত না নিম্নবিত্ত পরিবারের কিশোরদের প্রভাবিত করে। তারা নিজেদের জীবন নিয়ে হতাশা অনুভব করে এবং জীবন বদলের স্বপ্ন দেখে। এই আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবায়িত করার জন্য অপরাধ জগতের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। কিশোর অপরাধের আরও একটি কারণ মাদক। যে সমাজে মাদকের দৌরাত্ম্য থাকে, সে সমাজে কিশোরদের মধ্যে বিদ্রোহী মনোভাব জাগ্রত হতে পারে। এসব বিদ্রোহী, দলছুট কিশোর নিজেদের সংঘবদ্ধ করে ও গড়ে তোলে একটি দল এবং একসঙ্গে নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। 

রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পারিপার্শ্বিক যেকোনো কারণেই হোক না কেন, আমাদের দেশে দিন দিন কিশোর অপরাধ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই বলতে পারি, কিশোর অপরাধ রোধ করার জন্য সবার আগে দরকার পারিবারিক ও সামাজিক সচেতনতা। পরিবারই শিশুর প্রথম বিদ্যালয়, শুধু প্রথম নয়, প্রধান বিদ্যালয়ও বটে। তাই পরিবার থেকে শিশুকে সঠিক শিক্ষা দিতে হবে, সময় দিতে হবে, তাদের সঙ্গে গল্প করতে হবে। শিশুকে খেলাধুলার প্রতি উৎসাহিত করতে হবে। শিশুর ওপর যেন নেতিবাচক কোনো প্রভাব না পড়ে, পরিবারই সেদিকে বিশেষভাবে খেয়াল রাখবে। শিশু কার সঙ্গে মিশছে, সেদিকেও নজর রাখতে হবে। 

পরিবার থেকেই নৈতিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। মোবাইল ফোন থেকে যথাসম্ভব দূরে রাখতে হবে। মোবাইল ফোন বা প্রযুক্তি ব্যবহার করার দরকার হলে খেয়াল রাখতে হবে যেন নিষিদ্ধ কোনো অ্যাপস ব্যবহার না করে। আমাদের দেশে সব আইনে শিশুদের সব ধরনের শাস্তি মওকুফ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হবে। সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে শিশু-কিশোর অপরাধীকে সংশোধন করতে হবে। শিশু-কিশোররা আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের শিক্ষা-দীক্ষায় বড় করে তুলতে হবে। তাদের সব ধরনের অপসংস্কৃতির বাইরে রাখাও একান্ত জরুরি। শিশু-কিশোরদের জন্য সৃজনশীল কাজের পরিবেশ তৈরি করে দিতে হবে। তাদের এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে উন্নয়নমূলক কাজের দিকে। 

সর্বোপরি সমাজের দায়বদ্ধতাও অপরিসীম। সমাজের যেকোনো সন্তানের আচরণের মধ্যে কোনো অস্বাভাবিকতা পরিলক্ষিত হলে সঙ্গে সঙ্গে প্রতিরোধের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রয়োজনে রাষ্ট্র ও তার আইনি ব্যবস্থার সহযোগিতা গ্রহণ করা যেতে পারে। সঠিক দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে আমরা একটি সুন্দর ও কিশোর অপরাধী মুক্ত দেশের অধিবাসী হিসেবে গর্বিত হতে পারব।


শেলী সেনগুপ্তা 

কলাম লেখক

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা