× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

স্মরণ

ইতিহাসে মহানায়ক মওলানা ভাসানী

এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া

প্রকাশ : ১৭ নভেম্বর ২০২৫ ১৪:২৩ পিএম

ইতিহাসে মহানায়ক মওলানা ভাসানী

উপমহাদেশ তথা বাংলার কৃষক-শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে আজীবন গ্রাম-গঞ্জের সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের নয়নমণি মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী। সারা জীবনই যার সংগ্রাম ছিল মেহনতি মানুষের মুক্তির লক্ষ্যে। মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ছিলেন বাংলাদেশের একজন অনন্য রাজনীতিবিদ, সমাজ সংস্কারক, স্বাধীনতা সংগ্রামী। তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। তিনি বাংলার নিপীড়িত, বঞ্চিত এবং শোষিত মানুষের মুক্তির প্রতীক।

মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর জন্ম ১৮৮০ সালের ১২ ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জের ধানগড়া অঞ্চলে। বাল্যকালে পরিবারের সকলকে হারানোর পর তিনি কিছুদিন চাচা ইব্রাহিমের আশ্রয়ে ছিলেন। তিনি শিক্ষার উদ্দেশ্যে ১৯০৭ সালে দেওবন্দ যান, ১৯০৯ সালে তার কর্মজীবন শুরু হয় টাঙ্গাইলে কাগমারী স্কুলে শিক্ষকতার মধ্য দিয়ে। ১৯৭৬ সালের ১৭ নভেম্বর চলে গেছেন না ফেরার দেশে।

১৯১০ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড কেন্দ্রীভূত ছিল মূলত বাংলা এবং আসামের কৃষকদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের মধ্যে। তিনি কংগ্রেস নেতা দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাসের আদর্শে অনুপ্রাণিত হন ও ১৯১৯ সালে কংগ্রেসের প্রাথমিক সদস্য হন। আসামের ভাসানচরে কৃষক সম্মেলনের আয়োজন করে কৃষকদের ওপর অত্যাচার নিয়ে প্রতিবাদ জানান, সেখানেই তিনি ‘ভাসানী’ উপাধি পান ১৯২৯ সালে। ১৯৩৭ সালে কংগ্রেস ত্যাগ করে মুসলিম লীগে যোগদান করেন। ১৯৪৭ সালে গ্রেপ্তার হন, পরের বছর তিনি পূর্ববঙ্গ ব্যবস্থাপক সভার সদস্য নির্বাচিত হন।

পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার মাত্র এক দশকেরও কম সময়ের মধ্যেই তিনি পাকিস্তানের একটি বিশেষ গোষ্ঠী ও শ্রেণির রাজনীতি এবং শোষণ-শাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। প্রথমে লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতা এবং তার কিছুদিন পরই পূর্ব বাংলার পূর্ণ সার্বভৌমত্ব দাবি করে স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নের বীজ বপন করেছিলেন এ অঞ্চলের মানুষের মাঝে। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের নেতৃত্ব প্রদানের মাধ্যমে পাকিস্তানের ব্যর্থ শাসকগোষ্ঠী মুসলিম লীগের পরাজয় ঘটিয়েছিলেন। আবার সেই যুক্তফ্রন্টের সরকারের বিরুদ্ধেও বিদ্রোহ করেছিলেন আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন ও পূর্ব বাংলার জনগণের অধিকারের প্রশ্নে। আওয়ামী লীগ ত্যাগ করে গঠন করেছিলেন ন্যাশনাল আওয়ামি পার্টি- ন্যাপ।

১৯৭০ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে ঢাকাসহ পূর্ব পাকিস্তানের প্রায় সকল জায়গায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নৃশংস হত্যাকাণ্ড শুরু করে। মধ্যরাতের পর বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করে পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়। তখন মওলানা ভাসানী ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছিলেন এবং বাংলাদেশের প্রবাসী সরকারের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। মওলানা ভাসানী ছিলেন বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ সমন্বয় কমিটির সভাপতি। এদেশের রাজনীতিতে সাম্রাজ্যবাদকে চিনিয়েছেন মওলানা ভাসানী। সাম্প্রদায়িকতার আপসহীন ভূমিকা পালন করেন মওলানা ভাসানী, সমাজতন্ত্রকে এদেশের তরুণ সমাজের মধ্যে জনপ্রিয় করেছিলেন মওলানা ভাসানী।

বাংলাদেশের সঠিক ইতিহাসের আলোচনায় মওলানা ভাসানী নিশ্চিতই অনিবার্য উচ্চারিত নাম। মওলানা ভাসানী বেঁচে থাকবেন অনাদিকালজুড়ে। এই দেশ ও এই জাতি যতদিন টিকে থাকবে, মওলানা ভাসানীকে কেউ অবহেলা কিংবা অবজ্ঞা করতে পারবে না। তার সংগ্রামী আদর্শের কোনো মৃত্যু নাই। ইতিহাসই তার সঠিক মূল্যায়ন করবে, তাতে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই। মওলানা ভাসানী চিরকাল সংগ্রামের প্রেরণা হিসেবে থাকবেন। বিপ্লবী রাজনীতির সঙ্গে গণমানুষের দূরত্ব ঘুচিয়ে, একই সঙ্গে প্রবলভাবে দেশীয় চরিত্রের কিন্তু আন্তর্জাতিকতা বোধের সংগ্রামের দিশা তিনি দিয়ে গিয়েছেন। ষড়যন্ত্র করে এই মহান নেতাকে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে বহু সময় ধরেই। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও তার প্রতি যথাযথ মর্যাদা এখনও প্রদান করতে পারে নাই, অথবা দিতে অবহেলা করছেন। গত বছরও মওলানা ভাসানীর জন্ম ও প্রয়াণ দিবসে সরকারপ্রধানের কোনো বাণী চোখে পড়ে নাই। সবাইকে মনে রাখতে হবেÑ ইতিহাস ঘুরে দাঁড়ায়, সত্য কখনও চাপা থাকে না। বর্তমান প্রজন্মের কাছে মওলানা ভাসানীর মতো নেতাদের প্রাপ্য সম্মান ফিরিয়ে দেওয়ার সময় এসেছে। যার যা প্রাপ্য, তাকে তা দিতে হবে। দেশটা কারও বাপের না। ৪৯তম প্রয়াণ দিবসে মওলানার প্রতি সশ্রদ্ধ অভিবাদন। ভাসানী স্মৃতি অমর হোক।


এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া 

রাজনীতিক ও কলাম লেখক

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা