× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ইমেইল থেকে

চাই নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থাপনা

তরিকুল ইসলাম

প্রকাশ : ১৫ নভেম্বর ২০২৫ ১০:৫৭ এএম

আপডেট : ১৫ নভেম্বর ২০২৫ ১০:৫৯ এএম

চাই নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থাপনা

সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের স্মরণে প্রতিবছর নভেম্বর মাসের তৃতীয় রবিবার বিশ্বব্যাপী ‘ওয়ার্ল্ড ডে অব রিমেমব্রেন্স ফর রোড ট্রাফিক ভিক্টিমস’ পালন করা হয়। সেই হিসেবে এ বছরও আগামী ১৬ নভেম্বর (রবিবার) দিবসটি পালিত হচ্ছে। এই দিবসটি ঘিরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার নানা কর্মসূচি থাকলেও রোধ করা যাচ্ছে না সড়ক দুর্ঘটনা। যার অন্যতম কারণ হলো নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থাপনা না থাকা। বর্তমানে দেশে সড়ক দুর্ঘটনা নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে নির্বিবাদে প্রাণ হারাচ্ছে অসংখ্য মানুষ। তারপরও নেই সঠিক ব্যবস্থাপনা বা জনসচেতনতা। বাংলাদেশের সড়ক ব্যবস্থা আজও আন্তর্জাতিক মানের হয়ে না ওঠার কারণে দুর্ঘটনার মাত্রা দিন দিন বেড়েই চলেছে। যার মাসুল দিতে হচ্ছে রাস্তায় চলাচলকারী জনসাধারণকে। প্রতিটি ক্ষণই তাদের থাকতে হয় আতঙ্কেÑ এই বুঝি গাড়ি উঠে গেল গায়ের ওপর! গাড়ি নেমে গেল রাস্তার পাশে! এই বুঝি আর বাড়ি ফেরা হলো না! তাই সড়ক দুর্ঘটনা রোধে প্রয়োজন ‘সড়ক নিরাপত্তা আইন’।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) হিসাবে, প্রতিবছর বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩১ হাজার ৫৭৮ জনের মৃত্যু হয়। অন্যদিকে বিআরটিএর হিসাব মতে, প্রতিবছর দেশে গড়ে প্রায় ৫ হাজার মানুষ মারা যায় ও ১০ হাজারের বেশি বিভিন্ন মাত্রায় আহত এবং পঙ্গুত্ব বরণ করে। বিআরটিএর তথ্য অনুসারে, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ৩ হাজার ৩৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ২ হাজার ৯৪৩ জন নিহত হয়েছে। গত বছর দেশে ৫ হাজার ৮৫৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ হাজার ৪৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিআরটিএর তথ্যমতে, দেশে প্রতিদিন ১২ থেকে ১৫ জন সড়কে নিহত হচ্ছে। তবে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী সড়ক দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি।

ওয়ার্ল্ড হেলথ র‌্যাঙ্কিং অনুসারে, সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনাকবলিত ১৮৩টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১০৬তম। সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন ও তার সঠিক প্রয়োগ ব্যতীত দেশে সড়ক দুর্ঘটনা কমানো বা রোধ করা সম্ভব নয়।

আমাদের বর্তমান সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ এবং সড়ক পরিবহন বিধিমালা-২০২২ মূলত সড়কে পরিবহনের জন্য আইন এবং সড়ক পরিবহন ব্যবস্থা সংক্রান্ত বিধিমালা। তাই পরিবহন ব্যবস্থাপনার জন্য তৈরি এ আইনে সাম্প্রতিক সংশোধনীর সময়ে গতি নিয়ন্ত্রণ, হেলমেট ও সিটবেল্টের মতো কিছু বিষয় সংযোজন করা হলেও তা সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু ও বড় ধরনের আঘাত থেকে রক্ষার করার জন্য পর্যাপ্ত নয়। সড়ক পরিবহন আইনে সড়ক নিরাপত্তার বিষয়টি অনেকটা উপেক্ষিতই থেকে গেছে। এ জন্য সড়কে প্রাণহানি কমাতে সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন জরুরি।

সড়ক দুর্ঘটনার অন্য কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে পরিকল্পনাহীনভাবে দেশে অনেক সড়ক-মহাসড়ক নির্মাণ, নির্দিষ্ট লেন ধরে গাড়ি না চালিয়ে সড়কের মাঝখান দিয়ে চালকদের গাড়ি চালানোর প্রবণতা, রাস্তায় বিপজ্জনক বাঁক বিদ্যমান থাকা, সড়ক-মহাসড়কে অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশা অনিয়ন্ত্রিতভাবে চলাচল করা, ফিটনেসবিহীন গাড়ি রাস্তায় চালানো, মাদক সেবন করে গাড়ি চালানো, চালকদের বেপরোয়া গতিসহ ভুল পথে গাড়ি চালানো, রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী যাত্রী বা পথচারীদের ট্রাফিক আইন না মানার প্রবণতা, ফুটপাত ব্যবহার না করে রাস্তার মাঝখান দিয়ে পথচারীদের চলাচল, রাস্তা পারাপারে ওভারব্রিজ থাকলেও তা ব্যবহার না করা, রাস্তার ওপর বা ফুটপাতে দোকানপাট সাজিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য করা, যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং করা, দুর্বল ও দুর্নীতিগ্রস্ত ট্রাফিক ব্যবস্থা এবং সর্বোপরি রাস্তায় চলাচলে বিদ্যমান নিয়ম-কানুন প্রতিপালনে যাত্রীদের অনীহা। 

বর্তমানে দেশে যে আইন ও বিধিমালা আছে সেটা যদি পরিপূর্ণভাবে প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন করা যায় তবে এর থেকে একটি আশানুরূপ ফলাফল পাওয়া যাবে। এর জন্য সরকারকে একটি বাস্তবায়ন গাইডলাইন বা নির্দেশিকা দ্রুত প্রণয়ন করতে হবে। 

চলতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসে মরক্কোতে অনুষ্ঠিত গ্লোবাল মিনিস্ট্রিরিয়াল কনফারেন্সে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধি দেশের সড়কে সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২০২৭ সালের মধ্যে সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নসহ ২০২৬ সালের মধ্যে গতিসীমা ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত নির্দেশিকা প্রণয়ন করার প্রতিশ্রুতি প্রদান করে। আমরা মনে করি, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বিষয়গুলো বাস্তবায়িত হলে সড়ক দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব।


তরিকুল ইসলাম

অ্যাডভোকেসি অফিসার, স্বাস্থ্য সেক্টর, আহ্ছানিয়া মিশন, ঢাকা

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা