× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

জাল টাকা

অর্থনীতি বিনাশের চক্রান্ত রুখতে হবে

সম্পাদকীয়

প্রকাশ : ১১ নভেম্বর ২০২৫ ১১:৩৪ এএম

অর্থনীতি বিনাশের চক্রান্ত রুখতে হবে

দেশে জাল টাকা তৈরির নেটওয়ার্ক ভয়াবহ মাত্রায় বিস্তার লাভ করেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে মিলছে উন্নত প্রযুক্তিতে তৈরি নকল মুদ্রা, যা সহজে চেনা যাচ্ছে না সাধারণ মানুষের পক্ষে। এই জাল টাকার পেছনে কেবল অসাধু ব্যক্তি নয়, বরং একটি সুপরিকল্পিত অর্থনৈতিক চক্রান্ত কাজ করছেÑ যার লক্ষ্য দেশের অর্থনীতি বিনাশ করা, বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করা এবং জনগণের ক্রয়ক্ষমতার ওপর আঘাত হানা।

সম্প্রতি গোয়েন্দা সংস্থার পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, দেশের অর্থনীতি ধ্বংসের নীলনকশা নিয়ে নানা তথ্য। সীমান্তবর্তী কয়েকটি জেলার মাঠে পর্যায়ে জাল টাকার অনুসন্ধানে পার্শ্ববর্তী একটি দেশের উৎস খুঁজে পেয়েছে। সেখানে ছাপানো জাল টাকা বাংলাদেশের বাজারে সুপরিকল্পিতভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। দেখতে হুবহু আসল নোটের আকৃতির এই জাল টাকা ইতোমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে। জানা গেছে, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে অন্তত কয়েকশ হাজার কোটি জাল নোট দিয়ে বাজার ছেয়ে ফেলার চক্রান্ত এঁটেছে। বিষয়টি আমলে নিয়ে এরই মধ্যে সীমান্তসহ সবখানে কঠোর নজরদারি বাড়িয়েছেন বিজিবিসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। 

১০ নভেম্বর প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এ ‘জাল টাকার নীলনকশা’ শিরোনামের প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। গোয়েন্দা সূত্র আরও বলছে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই বড় অঙ্কের জাল নোট বাজারে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে তৈরি করা হচ্ছে ২০০, ৫০০ ও ১ হাজার টাকার জাল নোটÑ  যার সঙ্গে দেশের টাকশালে ছাপা ও বাজারে প্রচলিত নোটের নিখুঁত মিল রয়েছে। এ কাজে ব্যবহার করা হয়েছে সামঞ্জস্যপূর্ণ কাগজ ও ম্যাটেরিয়াল। র‌্যাবের দেওয়া পরিসংখ্যান বলছে, গত বছরের ৫ আগস্ট থেকে চলতি বছরের ৬ নভেম্বর পর্যন্ত ২০টি অভিযান পরিচালনা করে ১৭ কোটি ৪৭ লাখ ৭৩ হাজার ৬৩৫ টাকা, ১৭ হাজার ৪০০ ডলার, ২০ হাজার ইউরো, ১৯ হাজার ৯০০ দিরহাম ও ২৯ হাজার ৬০০ সৌদি রিয়ালের জাল নোট উদ্ধার করা হয়। এ সময় ৪৫ জনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

দেশে জাল নোটের এমন বিস্তারে সতর্কতা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গণমাধ্যমে এক সার্কুলারে কেন্দ্রীয় এই ব্যাংকটি জাল টাকা তৈরি, বহন ও লেনদেন দেশের প্রচলিত আইনে গুরুতর অপরাধ বলে জানায়। জানা গেছে, জাল নোটের প্রচলন রোধে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং জাল নোটের উৎস, প্রবাহ ও ব্যবহার রোধে কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে। জাল টাকার ঝুঁকি এড়াতে জনগণকে সতর্ক থাকতে বলেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। 

এ কথা সত্য যে, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে জাল টাকার প্রভাব অতীতেও ছিলÑ  তবে এখন ভয়াবহ। বাজারে নকল টাকা প্রবেশ করলে মুদ্রার প্রতি মানুষের আস্থা কমে যায়। ফলে প্রকৃত মুদ্রা ব্যবস্থায় ভারসাম্য নষ্ট হয়, দ্রব্যমূল্য অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। ব্যবসায়ী থেকে সাধারণ ক্রেতা সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়ে অবিশ্বাস ও আতঙ্ক। এর ফলে বাজারে বৈধ লেনদেন বাধাগ্রস্ত হয়, ব্যাংকিং খাতে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। অর্থনীতির এই অস্থিরতা আসলে দেশের উন্নয়নকে শ্লথ করে দেয়। প্রসঙ্গত, মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময়েও দেশে জাল নোটের আতঙ্ক দেখা দিয়েছিল। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ১৯৭৩ সালের ১ মে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নোট বাতিল করা হয়। ১৯৭৪ সালের ৩০ মার্চ প্রতিবেশী একটি দেশ থেকে মুদ্রিত ১ টাকার মানচিত্র সিরিজের নোটটিও অচল ঘোষণা করা হয়। এ ছাড়া ১৯৭৪ সালে জাতীয় সংসদে জাল মুদ্রা প্রতিরোধে বিশেষ ক্ষমতা আইন-১৯৭৪ পাস করা হয়। ২০২০ সালে ‘জাল মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ আইন’ নামে একটি আইনের খসড়া তৈরি করা হয়েছিল। এই খসড়া অনুযায়ী জাল মুদ্রা তৈরি, সরবরাহ, বা লেনদেনের সঙ্গে জড়িতদের জন্য সর্বনিম্ন ২ বছর থেকে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং এক লাখ থেকে এক কোটি টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছিল। বর্তমানে জাল মুদ্রা-সংক্রান্ত অপরাধের বিচার দণ্ডবিধি ১৮৬০ এবং বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪-এর অধীনে করা হয়। 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিবেশী দেশগুলো থেকেও এ ধরনের জাল টাকা পাচারের প্রমাণ মিলেছে বহুবার। লক্ষ্য একটাইÑ আর্থিক স্থিতিশীলতা ভেঙে দেওয়া। তাদের ষড়যন্ত্রের সঙ্গে অভ্যন্তরীণ অসাধু চক্রের যোগসাজশে অর্থনীতি যেন এক গভীর ফাঁদে পড়ছে। এদিকে প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে জালিয়াতরাও আধুনিক হচ্ছে। উন্নত প্রিন্টার, সফটওয়্যার এবং নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য নকল করার কৌশলে তারা দক্ষ হয়ে উঠছে। অথচ অনেক ক্ষেত্রেই আইন প্রয়োগে দুর্বলতা, তদারকির অভাব এবং জনসচেতনতার ঘাটতি এই অপরাধকে বাড়তে দিচ্ছে।

আমরা মনে করি, সরকারকে এখনই কঠোর অবস্থান নিতে হবে। সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো, উন্নতমানের কারেন্সি নোট চালু করা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিরাপত্তা প্রযুক্তি আরও জোরদার করা জরুরি। এক্ষেত্রে জনগণকে সচেতন করতে হবেÑ কীভাবে জাল টাকা চেনা যায়, কোথায় অভিযোগ করতে হবে ইত্যাদি বিষয়ে।

মানতেই হবে, বাংলাদেশের অর্থনীতি আজ একটি রূপান্তরের পর্যায়ে রয়েছে। এই সময় জাল টাকার মতো ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ড দেশের অগ্রগতিকে থামিয়ে দিতে পারে। তাই রাষ্ট্রের প্রতিটি দায়িত্বশীল সংস্থাকে ঐক্যবদ্ধভাবে এই চক্রান্ত মোকাবিলা করতে হবে। আমরা মনে করি, জাল টাকা শুধু অর্থনৈতিক ষড়যন্ত্রই নয়, এটি জাতির নিরাপত্তার প্রশ্নও বটে। অতএব এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নিলে এই জাল টাকার নীলনকশা আমাদের পরিশ্রমে গড়া অর্থনীতিকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা