× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

পৃথিবী বাঁচাতে ওজোন স্তরের সুরক্ষা দরকার

মো. অহিদুর রহমান

প্রকাশ : ০৯ নভেম্বর ২০২৫ ১২:৪১ পিএম

পৃথিবী বাঁচাতে ওজোন স্তরের সুরক্ষা দরকার

অস্বাভাবিকভাবে ক্লোরোফ্লোরো কার্বন ও ওজোন স্তর ক্ষয়কারী গ্যাস উৎপাদন ও ব্যবহারের ফলে ওজোন স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে বিশ্বব্যাপী উষ্ণতা বৃদ্ধি এবং জলবায়ুর পরিবর্তন ঘটেই চলেছে। ভূপৃষ্ঠ এতটাই উত্তপ্ত হচ্ছে যে, সামগ্রিকভাবে বদলে গেছে আবহাওয়া, প্রকৃতি ও পরিবেশ। ১৯৮৫ সালে বিশ্বের সরকারগুলো ওজোন স্তর সংরক্ষণের জন্য ভিয়েনা কনভেনশন গ্রহণ করেছিল। এর দুই বছর পরে ১৯৮৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর কানাডার মন্ট্রিলে ২৪টি দেশ স্বাক্ষর করে ওজোন স্তর ধ্বংসকারী ক্লোরোফ্লোরো কার্বন নিঃসরণ সীমাবদ্ধ রাখার একটি আন্তর্জাতিক চুক্তিতে। চুক্তি অনুযায়ী ১৯৯৪ সালের মধ্যে তা শতকরা ২৯ ভাগ কমানো হবে, ১৯৯৯ সালের মধ্যে ৫০ ভাগ এবং ২০০০ সালের মধ্যে ক্লোরোফ্লোরো কার্বন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হবে। তারপর আরও আটবার চুক্তিটি সংশোধন করা হয়েছে। বর্তমানে ১৯৫ দেশই এই চুক্তি মেনে চলার ব্যাপারে অঙ্গীকারবদ্ধ। ২০১৬ সালের অক্টোবরে রুয়ান্ডার কিগলিতে মন্ট্রিল প্রটোকল ২৮তম সভার সংশোধনে হাইড্রোফ্লোরো কার্বনের ব্যবহার অস্থায়ীভাবে পরিচালিত হবে।

১৯৮৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর বায়ুমণ্ডলের ওজোন স্তর ক্ষয়ের জন্য দায়ী দ্রব্যগুলোর ব্যবহার নিষিদ্ধ বা সীমিত করার জন্য ভিয়েনা কনভেনশনের আওতায় ওজোন ধ্বংসকারী পদার্থের ওপর মন্ট্রিল প্রটোকল গৃহীত হয়। এই দিনের স্মরণে ১৯৯৪ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ১৬ সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক ওজোন স্তর সুরক্ষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। 

 ২০২৫ সালের ওজোন দিসবের প্রতিপাদ্য: বিজ্ঞান থেকে বিশ্বব্যাপী কর্মকাণ্ড : ২০২৪ সালের ওজোন স্তর সুরক্ষা দিবসের প্রতিপাদ্য : জীবনের জন্য ওজোন : বৈশ্বিক সহযোগিতার ৩৫ বছর, ২০২৩ সালে প্রতিপাদ্য ছিল মন্ট্রিল প্রটোকল : ওজোন স্তর ঠিক করা এবং জলবায়ু পরিবর্তন হ্রাস করা, ২০২২ বিশ্বব্যাপী সহযোগিতা : পৃথিবীতে জীবন রক্ষা করে, ২০২১ মন্ট্রিল প্রটোকল : আমাদের খাবার ও ভ্যাকসিনগুলোকে ভালো রাখে, ২০২০ জীবনের জন্য ওজোন : ৩৫ বছর ওজোন স্তর সুরক্ষা কর, ২০১৯ ৩২ বছরে ওজোন স্তর নিরাময়, ২০১৮ ঠান্ডা রাখুন এবং চালিয়ে যান! মন্ট্রিল প্রটোকল, ২০১৭ সূর্যের নিচে সমস্ত জীবনের যত্ন নাও, ২০১৬ ওজোন এবং জলবায়ু : বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সুরক্ষা করা, ২০১৫ একসঙ্গে ওজোন নিরাময়ের ৩০ বছর, ২০১৪ ওজোন স্তর সুরক্ষা : মিশন চলছে, ২০১৩ একটি সুস্থ পরিবেশ ও ভবিষ্যৎ আমাদের কাম্য, ২০১২ আগমী প্রজন্মের জন্য আমাদের পরিবেশ রক্ষা করা, ২০১১ এইচসিএফসি ফেজ আউট : একটি অনন্য সুযোগ, ২০১০ ওজোন স্তর সুরক্ষা : সর্বোত্তমভাবে শাসন ও সম্মতি, ২০০৯ সর্বজনীন অংশগ্রহণ : ওজোন সুরক্ষা বিশ্বকে একত্রিত করে, ২০০৮ মন্ট্রিল প্রটোকল : বৈশ্বিক সুবিধার বিশ্বব্যাপী অংশিদারত্ব। প্রতিবছরই এরকম সুন্দর সুন্দর প্রতিপাদ্য থাকে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। 

জলবায়ুর পরিবর্তনে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি পেলে অ্যান্টার্কটিকার বরফ গলে ২১০০ সাল নাগাদ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে দুই মিটারের কাছাকাছি। সে ক্ষেত্রে এশীয় অঞ্চলের নিম্ন এলাকা অস্তিত্ব সংকটে পড়বে। ওজোন গ্যাস সম্পর্কে সর্বসাধারণের খুব একটা ধারণা নেই। এ ছাড়াও অধিকাংশ মানুষ বিষয়টির বিপরীত বোঝেন। ওজোন স্তর তীব্র গন্ধযুক্ত হালকা নীল বর্ণের গ্যাসীয় পদার্থ। এটি ক্ষতিকর গ্যাস হলেও পৃথিবীর জীববৈচিত্র্য বাঁচিয়ে রাখতে সাহায্য করে। ফলে বলা যায়, এটি হচ্ছে প্রকৃতির পর্দা বা পৃথিবীর ছাদ। যে পর্দা বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে অথবা ভূপৃষ্ঠে বিকিরণ ঘটাতে বাধা সৃষ্টি করে। মোটকথা, ওজোন স্তর হচ্ছে পৃথিবীর ফিল্টার। সূর্যকে প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ছেঁকে বিশুদ্ধ করে পৃথিবীর জন্য প্রায ১০-৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পাঠায়, যা আমাদের কাছে সুষম তাপমাত্রা হিসেবে পরিচিত।

বায়ুমণ্ডলের ওজোন স্তর প্রতিনিয়তই ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মিগুলোকে প্রতিহত করে পৃথিবীর প্রাণিকুলকে রক্ষা করছে। ওজোন স্তর হচ্ছে, পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের একটি স্তর, যেখানে তুলনামূলকভাবে বেশি মাত্রায় ওজোন গ্যাস থাকে। এই স্তর থাকে প্রধানত স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের নিচের অংশে, যা ভূপৃষ্ঠ থেকে কমবেশি ২০-৩০ কিমি ওপরে অবস্থিত। ওজোন স্তরে ওজোনের ঘনত্ব কম হলেও প্রাণিজগতের জন্য এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মধ্যম তরঙ্গদৈর্ঘ্যের সূর্য্যের অতিবেগুনি রশ্মি মানবদেহের ত্বক, এমনকি হাড়ের ক্যানসারসহ অন্যান্য মারাত্মক ব্যাধি সৃষ্টি করে। এই ক্ষতিকর রশ্মি পৃথিবীর জীবজগতের সব প্রাণের প্রতি হুমকিস্বরূপ। কারণ বায়ুমণ্ডলে এখনও প্রচুর পরিমাণে সিএফসি গ্যাস রয়ে গেছে, যা শোষণ করে নিঃশেষ করতে হলে আমাদের প্রচুর বনায়ন সৃষ্টি করতে হবে। পাশাপাশি অবশ্যই সিএফসি গ্যাস নির্গমন পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে। বন্ধ করতে হবে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসের নির্গমন। অর্থাৎ কার্বন নিঃসরণ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে হবে। শিল্পোন্নত দেশগুলোর স্বেচ্ছাচারিতা, নির্বিচারে গাছপালা নিধন ও কালো ধোঁয়ার প্রকোপ বন্ধ করতে হবে। এসব নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ক্রমশ বৃদ্ধি পাবে। যার প্রমাণ বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি, খরা, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, ঘন ঘন বজ্রপাত এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিসহ নানান দুর্যোগের শিকার হচ্ছেন বিশ্ববাসী। বনায়ন সৃষ্টির ক্ষেত্রে তালগাছকে প্রাধান্য দিতে হবে। কারণ তালগাছ বজ্র নিরোধকের ভূমিকা রাখে। সুতরাং, আমরা বনায়ন সৃষ্টি করে বজ্রপাত ঠেকাই এবং কার্বন নিঃসরণ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে এনে বায়ুমণ্ডলে ওজোন স্তর রক্ষা করি। পাশাপাশি শিল্পোন্নত দেশগুলোর শুভবুদ্ধি কামনা করছি, যাতে সিএফসি গ্যাসের উৎপাদন বন্ধ করে ওজোন স্তরকে সুরক্ষা দিতে সাহায্য করে।


মো. অহিদুর রহমান

পরিবেশকর্মী ও আঞ্চলিক সমন্বয়কারী, বারসিক 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা