× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বরাদ্দ অর্থ লোপাট

জলবায়ু তহবিল হোক ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর

সম্পাদকীয়

প্রকাশ : ০৬ নভেম্বর ২০২৫ ১০:০৫ এএম

জলবায়ু তহবিল হোক ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর

বাংলাদেশ বিশ্বের জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরাÑ সব মিলিয়ে কোটি কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকা যেন হুমকির মুখে। এই বাস্তবতায় শেখ হাসিনার শাসনামলে জলবায়ু অর্থায়নের জাতীয় বরাদ্দ থেকে অর্থ লোপাটের অভিযোগ উঠেছে। দুর্নীতি হয়েছে তহবিলের (বিসিসিটি) বরাদ্দের ৫৪ শতাংশ। ২০১০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ১৪ বছরে এ খাতের ৮৯১টি প্রকল্পে দুর্নীতি হয়েছে ২৪৮.৪ মিলিয়ন ডলার, যা প্রায় ২ হাজার ১১০.৬ কোটি টাকাÑ এই তথ্য জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। টিআইবি বলছে, জলবায়ু অভিঘাত মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রতিবছর প্রয়োজন ১২ হাজার ৫০০ মিলিয়ন ডলার। প্রতিবছর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা এবং জাতীয় বাজেট থেকে এই তহবিল গড়ে ওঠে। কিন্তু সেই তহবিলের বড় অংশই আজ নানা প্রকল্পের নামে লুটপাট, অনিয়ম ও দুর্নীতির কবলে পড়েছে, যা দেশের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সঙ্গে এক ভয়াবহ বিশ্বাসঘাতকতা।

৪ নভেম্বর ‘বাংলাদেশে জলবায়ু অর্থায়নে সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক টিআইবির গবেষণা প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে। গবেষণায় বলা হয়, ২০১০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিসিসিটি থেকে মোট ৪৫৮.৫ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ অনুমোদিত হয়। এর মধ্যে ৫৪ শতাংশ বরাদ্দ দুর্নীতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে। ট্রাস্টি বোর্ড ও কারিগরি কমিটির সদস্যদের যোগসাজশে এবং রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রকল্প অনুমোদনের প্রবণতা লক্ষ করা গেছে। অথচ তহবিল ব্যবস্থাপক হিসেবে বিসিসিটির কর্মকর্তারা তা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেননি। জাতীয় তহবিলের প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা ও ব্যর্থতার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। দেখা গেছে, ৮৯১টি প্রকল্পের মধ্যে ৫৪৯টির (৬১.৬%) মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। গড়ে প্রকল্পের মেয়াদ ৬৪৮ দিন থেকে বেড়ে ১,৫১৫ দিনে পৌঁছেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৪ বছর মেয়াদের প্রকল্প বাস্তবায়নে সময় লেগেছে ১৪ বছরও। আন্তর্জাতিক তহবিলের প্রকল্পেও বিলম্বের চিত্র পাওয়া গেছে। আর এসব করার মূলে রয়েছে অর্থ লুটের বিষয়টি। 

প্রতিবেদনে লোপাট রোধে কয়েকটি সুপারিশের কথা বলা হয়েছে। বিসিসিএসএপি ২০০৯ এবং জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত জাতীয় পরিকল্পনাসমূহ হালনাগাদ করে যুগোপযোগী করা এবং জাতীয় পরিকল্পনাসমূহ বাস্তবায়নে ট্রাস্ট ফান্ড এবং উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় জলবায়ু সংশ্লিষ্ট অর্থ বরাদ্দ বৃদ্ধি করা। জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট আইন, ২০১০ সংশোধন; রাজস্ব বাজেটের বাইরে বিসিসিটিকে উদ্ভাবনীমূলক কার্যক্রমে উদ্যোগ গ্রহণ; থিম, বিপদাপন্নতা ও ঝুঁকির ভৌগোলিক বিন্যাসভিত্তিক এবং বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানভিত্তিক অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে বিসিসিটি প্রকল্প বাস্তবায়নে একটি সমন্বিত ‘পথনকশা’ প্রস্তুত করা; বিসিসিটির আওতায় স্বল্পমেয়াদি এবং টাকার অঙ্কে ক্ষুদ্র প্রকল্প বাস্তবায়ন পরিহার করা। তবে আমরা মনে করি, নিরীক্ষার জন্য একটি পৃথক, স্বাধীন তদারকি প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

এ কথা সত্য যে, জলবায়ু তহবিলকে কেন্দ্র করে একশ্রেণির প্রভাবশালী রাজনীতিক, আমলা ও ঠিকাদার চক্রের ‘ভুয়া প্রকল্প’ দেখিয়ে টাকা তছরুপের অভিযোগ বেশ পুরনো। এমনও হয়েছে বহু প্রকল্পের বাস্তবায়ন হয়নি, কিছু প্রকল্প কাগজে-কলমে শেষ দেখানো হয়েছে, আবার কিছু স্থানে নামমাত্র কাজ করে কোটি কোটি টাকা বিল তোলা হয়েছে। অথচ এই তহবিলের লক্ষ্যÑ উপকূলীয় অঞ্চলের সুরক্ষা, গ্রামীণ জীবিকা উন্নয়ন ও দুর্যোগ প্রশমন। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, প্রকল্পের সুবিধাভোগী হয়েছে রাজনৈতিকভাবে ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠী, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ নয়। প্রতিবেদনে এমন চিত্রটিও উঠে এসেছে যে, তহবিলের অর্থ ব্যয়ে কোনো সুশাসন, স্বচ্ছতা বা জবাবদিহিতা ছিল না। তদারকি কমিটি রাজনৈতিক প্রভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। প্রশাসন থেকেও কার্যকর নজরদারি ছিল না। ফলে জলবায়ু তহবিল পরিণত হয় এক ‘দুর্নীতির উপলক্ষ’Ñ যেখানে প্রকৃত উন্নয়ন নয়, বরং কমিশন বাণিজ্যই মুখ্য।

আমরা মনে করি, জলবায়ু তহবিলের মতো মানবকল্যাণভিত্তিক খাত যদি দুর্নীতির কবলে পড়ে, তবে সেটি যেকোনো দেশের জন্য ভয়াবহ বার্তা। এভাবে তহবিলের তছরুপ যেকোনো উন্নয়নশীল দেশের জন্য নৈতিক ও মানবিক বিপর্যয়। কারণ, জলবায়ুর অভিঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলবাসীর ঘরবাড়ি, কৃষিজমি, নিরাপদ পানি ও জীবিকার যে ক্ষতি, তা পুষিয়ে নিতে এই অর্থ ব্যয় হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এই অর্থ লোপাটের কারণে তারা আরও অসহায় হয়ে পড়েছে। 

এখন প্রয়োজন এই অর্থ লোপাট তদন্তে দ্রুত একটি কমিশন গঠন।যার মাধ্যমে তহবিলের টাকার প্রবাহ, প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়নের স্বচ্ছতা যাচাই করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা যায়। সরকারকে সঠিক তদন্ত ও দায়ীদের চিহ্নিত করার মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবেÑ জলবায়ু তহবিলের টাকা জনগণের, কোনো গোষ্ঠীর নয়। রাষ্ট্রীয় অর্থ তছরুপের এই চক্র ভাঙতে হবে। আমরা চাই, জলবায়ু তহবিল হোক ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর, দুর্নীতিবাজদের নয়।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা