× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বিএডিসির উদ্যোগ

কৃষি-অর্থনীতির জন্য হোক নতুন সম্ভাবনা

সম্পাদকীয়

প্রকাশ : ০৫ নভেম্বর ২০২৫ ১২:৫৯ পিএম

কৃষি-অর্থনীতির জন্য হোক নতুন সম্ভাবনা

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) দেশের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে নানা সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। এবারও সংস্থাটি কৃষকের জীবনমান উন্নয়নে হাতে নিয়েছে আরও একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগÑ দীর্ঘ ১৬ কিলোমিটার খাল পুনর্খনন প্রকল্প। প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো, প্রাকৃতিক পানি প্রবাহ পুনরুদ্ধার ও সেচব্যবস্থার আধুনিকায়ন। উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে প্রায় দুই হাজার একর জমি নতুনভাবে আবাদযোগ্য হয়ে উঠবে, যা সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে। স্থানীয় কৃষকদের জমির জলাবদ্ধতা নিরসন হবে, সেচের সুযোগ তৈরি হবে এবং উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। 

৪ নভেম্বর প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এ ‘১৬ কিমি খাল খননে বাড়বে দুই হাজার একর জমির আবাদ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের বিভিন্ন অঞ্চলে বর্ষায় সৃষ্ট জলাবদ্ধতা এবং সেচ সুবিধা না থাকায় হাজার হাজার একর কৃষিজমি অনাবাদি থেকে যায়। এসব জমিতে আবাদ এবং ফলন বাড়াতে অনন্য উদ্যোগ নিয়েছে কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন। তারা ইতোমধ্যে ভূ-উপরিস্থ পানির মাধ্যমে সেচ উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে প্রাথমিক পর্যায়ে হারবাংছড়া খাল, দমদম খাল, ফাঁড়ি খাল ও সিকদার খাল খনন করছে। হারবাংছড়া খালটি খননের ফলে হারবাং বড় বিলের বেশিরভাগ অংশ এবং বরইতলী ইউনিয়নের সিকদার খাল, বাইন্যার বিল খাল, পহরচাঁদা বিললাগোয়া ছড়াখালে পানির গতিপথ সচল হয়েছে। ইতোমধ্যে জলাবদ্ধতা সমস্যা অনেকটা কেটেও গেছে। কৃষকরা আগাম সবজি চাষ শুরু করেছেন। বিএডিসির তথ্যানুসারে, ৩৬ দশমিক ৪০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নটি কৃষির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই ইউনিয়নের খালগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় প্রতিবছর ভোগান্তিতে পড়তে হয়। খালগুলোর খনন কাজ শুরু হওয়ার খবরে কৃষকরা নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন। 

উল্লেখ্য, হোয়াংহো নদী ছিল এককালে ‘চীনের দুঃখ’। ভরাট হয়ে যাওয়া সেই নদী খরা, শুষ্কতা ও দু’কূলপ্লাবি বন্যায় বিপুল ক্ষয়ক্ষতির উৎস হয়ে উঠে ছিল।নদী খননের মতো ড্রেজারও ছিল না চীনের।এ অবস্থায় গণচীনের রাজনৈতিক নেতৃত্ব বিপুলসংখ্যক মানুষের হাতকে ড্রেজারে রূপান্তরিত করে খননের মাধ্যমে হোয়াংহো চীনের আশীর্বাদে পরিণত করেন। চীনের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশের গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষি পুনরুজ্জীবনের উদ্দেশ্যে স্বেচ্ছাশ্রমে ‘খাল কাটা’ কর্মসূচি চালু করেছিলেন। লক্ষ্য ছিল বর্ষাকালে অতিরিক্ত পানি ধরে রাখা এবং শুষ্ক মৌসুমে কৃষিকাজে সেচব্যবস্থা নিশ্চিত করে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ একটি মডেল দেশ গড়ে তোলা। যাকে ‘জিয়া মডেল’ও বলা হতো।গ্রাম বা গণমানুষকে ভিত্তি করে তার ‘খালকাটা’ কর্মসূচি ব্যাপকতা পায়। এতে পানি সংরক্ষণ, সেচ ও কৃষিতে ব্যাপক সুফল আমে। পরবর্তী শাসকরা সেই সুফলটি আর ধরে রাখেননি। রাখলে আজ এই ধরনের প্রকল্পের প্রয়োজননীয়তার বোধ হতো না।

উল্লেখ্য, দীর্ঘ সময় ধরে পলি পড়ে ও দখলের কারণে খালগুলো প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়েছিল। ফলে শুষ্ক মৌসুমে সেচের অভাবে বহু জমি অনাবাদি থেকে যেত, বর্ষায় হতো জলাবদ্ধতা। নতুন করে খনন করা হলে এই খালগুলো বৃষ্টির পানি ধরে রাখতে পারবে, যা কৃষকরা রবি মৌসুমে সেচ হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন।

এ কথা সত্য যে, দেশের কৃষিনির্ভর অর্থনীতিতে পানি ব্যবস্থাপনা সব সময়ই একটি বড় চ্যালেঞ্জ। দেশের দক্ষিণাঞ্চলে বছরের অর্ধেক সময় পানি সংকট আর বাকিটা সময় জলাবদ্ধতাÑ এই দুই চরম অবস্থার মধ্য দিয়েই কৃষককে ফসল ফলাতে হয়। এমন বাস্তবতায় ১৬ কিলোমিটার খাল খনন প্রকল্পটি নিঃসন্দেহে এক যুগান্তকারী উদ্যোগ। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এ প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে এলাকার সেচ খরচ ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমবে। পাশাপাশি উৎপাদন বাড়বে অন্তত ২৫ শতাংশ। শুধু তাই নয়, আগে যেখানে এক মৌসুমে মাত্র একটি ফসল হতো, সেখানে এখন বছরে দুই থেকে তিনটি ফসল তোলা সম্ভব হবে। এতে শুধু কৃষকের আয় বাড়বে না, গ্রামীণ অর্থনীতিতেও নতুন প্রাণ সঞ্চার করবে। 

আমরা মনে করি, বিএডিসিসহ স্থানীয় প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সমন্বয়ে স্থানীয় কৃষককে যুক্ত করে খালগুলোকে রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবহার করা গেলে প্রকল্পটি টেকসই হবে। এ ছাড়া খালের দুই তীরে বৃক্ষরোপণ এবং দখলমুক্ত রাখার ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। আমরা আরও মনে করি, বিএডিসির এ উদ্যোগ শুধু একটি অঞ্চলের উন্নয়ন নয়, এটি দেশের অন্যান্য এলাকায় পানি ব্যবস্থাপনা সংস্কারের অনুপ্রেরণা হতে পারে। তবে খাল খননের কাজ শুধু মাটি কাটার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা ঠিক হবে না। খাল পুনর্খননের পর সেগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, দখলমুক্ত রাখা এবং পাশে বৃক্ষরোপণ জরুরি। এই ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন, ইউনিয়ন পরিষদ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সমন্বয়ে একটি স্থায়ী মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। একই সঙ্গে খালের আশপাশের কৃষকদের নিয়ে ‘সেচ কমিটি’ গঠন করা যেতে পারে।

বাস্তবতা এই যে, দেশের কৃষি পুনরুজ্জীবনে পানি ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন অন্যতম চাবিকাঠি।সেই বিবেচনায় বিএডিসির এই ১৬ কিলোমিটার খাল খননের প্রকল্প একদিকে যেমন কৃষকের আশা জাগাচ্ছে, অন্যদিকে দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতে রাখবে বড় ভূমিকা। এই ধরনের কার্যকর উদ্যোগ আরও সম্প্রসারিত হলে বাংলাদেশ অচিরেই টেকসই কৃষি অর্থনীতির এক উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে উঠবে। আমরা মনে করি, যথাযথ পরিকল্পনা ও বাস্তব প্রয়োগ থাকলে কৃষি সম্পদই দেশের উন্নয়নের চাকা ঘুরিয়ে দিতে পারে। খাল খননের মাধ্যমে ‘সফলতা’ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে কৃষি উন্নয়নের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করুকÑ এটাই প্রত্যাশা।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা