× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

কৃষি

কৃষক যেন তার পণ্যে ন্যায্য মূল্য পান

ড. মিহির কুমার রায়, কৃষি গবেষক ও অধ্যাপক

প্রকাশ : ০৫ নভেম্বর ২০২৫ ১২:৫৬ পিএম

কৃষক যেন তার পণ্যে ন্যায্য মূল্য পান

স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের ৫৪ বছরেও কৃষকের ভাগ্যের তেমন কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। ব্যবধান শুধু সেকালের শাসকগোষ্ঠী আর একালের ক্ষমতাধরদের কৃষির প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ। পুঁথিগত ইতিহাস বলছে, চর্যাপদে উল্লেখ রয়েছে সমাজ ব্যবস্থার বৈষম্যের কথা যেমন উচ্চশ্রেণি ও নিম্নশ্রেণি (কৃষক, তাঁতি, জেলে, মাঝি, শিকারি)। তারপর সুলতানি আমলটা কৃষিসমৃদ্ধ হলেও কৃষকের কোনো সমৃদ্ধি হয়নি, যার কারণ ছিল জমির অভাব, বগর্চাষিদেরও রাজস্ব দিতে হতো, ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হলে কর আদায়ে জুলুম চলত ইত্যাদি । ১৮৭৬ সালের মন্বন্তর, যা কোনো প্রাকৃতিক কারণে হয়নি। বরং অব্যবস্থা ও রাজস্ব নীতির নিপীড়নের কারণে হয়েছিল। যেখানে তখনকার সময়ে এক-তৃতীয়াংশ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। এর পর বেশ কিছু সময়ে অধিকাংশ কৃষিজমি পতিত ছিল- যা ছিল খাদ্য নিরাপত্তার জন্য হুমকি। ব্রিটিশ শাসকরা, পাঁচশালা, দশশালা, চিরস্থায়ী বন্দোবস্তসহ যত নীতিমালা গ্রহণ করেছিল সবই ছিল কৃষকের স্বার্থ পরিপন্থী। ১৯৫০ সালে জমিদারি প্রথার বিলুপ্তির পর বিশাল চাষযোগ্য সরকারের অধীনে চলে আসে। আর যা কিছু অবশিষ্ট জমি বগর্চাষিদের আওতায়। সময়ের হাত ধরে এভাবেই কৃষকের পথচলা।

পরিসংখ্যান বলছে, একসময় যেখানে কৃষিকাজে নিয়োজিত হাউজহোল্ডের সংখ্যা ছিল ৯০%, যা বতর্মানে এসে দাঁড়িয়েছে ৪৬%তে, যা খাদ্যনিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। চলতি বছরের বাজেটে কৃষিশস্য খাতের অংশ মাত্র ৩.৪ %, যা টাকার অঙ্কে দাঁড়ায় ২৭ হাজার ২২৪ কোটি। আবার কৃষিতে প্রবৃদ্ধির হার জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারের চেয়ে কম। কৃষি খাতের নিম্নগামী প্রবৃদ্ধির অন্যতম কারণ কৃষক তার পণ্যের নায্যমূল্য পায় না বিভিন্ন কারণে, যার জন্য কৃষককে লোকসান গুনতে হয়, যা তার অর্থনীতিকে দুর্বল করছে। কৃষি দেশের সর্ববৃহৎ কর্মসংস্থান খাত হলেও এখানকার উৎপাদকদের জন্য কোনো নির্ধারিত মূল্য নীতি নেই- যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। পণ্যের অস্থির বাজারমূল্য, উৎপাদন ব্যয় না ওঠা এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যে কৃষকদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। 

সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক কৃষকের আত্মহত্যার ঘটনাকে এই সংকটের চরম বহিঃপ্রকাশ হিসেবে চিহ্নিত করা যায়। এখানে উল্লেখ্য, সম্প্রতি মেহেরপুরের পেঁয়াজ চাষি সাইফুল শেখ মহাজনি ও এনজিও ‌ঋণ পরিশোধ করতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। এই কৃষক প্রতি মণ পেঁয়াজ ৬০০ টাকা দরে বিক্রি করার পর যখন দেখল যে সেই পেঁয়াজ বেপারী দুই সপ্তাহ পর ২০০০ টাকা প্রতিমণ দরে বিক্রি করছে তখন সে অনায়াসেই কাতর হওয়ার কথা। তারপর সাইফুল শেখের কন্যা রোফেজা বলেন, আমার বাবার মতো কৃষক যদি আত্মহত্যা করে, তা হলে মানুষের অন্ন জোগান দেবে কে? মাত্র ছয় হাজার টাকা কৃষিঋণ নিয়ে কৃষক জেলে গেছেÑ এরকম প্রমাণও রয়েছে। 

নেত্রকোণার বারহাট্টা উপজেলায় ঋণের টাকা পরিশোধ করতে না পেরে নিরুদ্দেশ হয়েছেন এক কৃষক। এ নিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। সেই জিডির সূত্র ধরে অবশেষে নিরুদ্দেশ সেই কৃষক আবদুর রাজ্জাককে উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঋণের বোঝা সামলাতে না পেরে আত্মগোপনে চলে যান আবদুর রাজ্জাক। জানা যায়, বারহাট্টা উপজেলার সাহতা ইউনিয়নের বড়গাওয়া গ্রামের মৃত ইছব আলীর ছেলে আব্দুর রাজ্জাক এলাকার লোকজনের কাছ থেকে প্রায় পাঁচ-ছয় লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। 

বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসের অনেক পরিবর্তন হয়েছে। বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করেছে। কিন্তু বাঙালি কৃষকের অসহায় ও দরিদ্র জীবনের তেমন কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটেনি। কৃষক আজও শিক্ষাহীন, বস্ত্রহীন, চিকিৎসাহীন জীবন-যাপন করছে। দেশের জনসংখ্যা বেড়েছে। কমেছে কৃষিজমির পরিমাণ। এ ছাড়াও অনাবৃষ্টি, অতিবৃষ্টি, বন্যা, খরা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগÑ কোনো কিছুই মোকাবিলা করার কৌশল ও সামর্থ্য কৃষকের প্রায় নেই। তাই কৃষকের শোচনীয় অবস্থার পরিবর্তন হয় না। তবু কৃষকরা বহুকাল ধরে অবহেলিত। বিশেষ করে, তাদের সামাজিক মর্যাদা এখনও নিম্নমানের। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতায় কৃষকের জীবনযাপন অনিশ্চিত ও স্থবির হয়ে পড়েছে। দীর্ঘ সময়ের পরিশ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত ফসলের দাম না পেয়ে কৃষকদের এখন পথে বসার উপক্রম। কৃষকের মধ্যে অনেকেই জড়িয়ে পড়েছেন ঋণের জালে। কেউবা জমি বর্গা নিয়ে জমি চাষ করেছেন। ফসল বিক্রি করে ঋণের কিস্তি দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এখন ঋণ শোধ তো দূরের কথা, সংসার চালানো দুরূহ হয়ে পড়েছে। 

এক সময় এদেশে জনসংখ্যা ছিল কম, জমি ছিল বেশি। উর্বরা জমিতে প্রচুর ফসল হতো। তখন শতকরা ৮৫ জনই ছিল কৃষক। তাদের গোলা ভরা ধান, গোয়াল ভরা গরু আর পুকুর ভরা থাকত মাছে। তাদের জীবন ছিল সুখী ও সমৃদ্ধ। তারপর এলো বর্গির অত্যাচার, ফিরিঙ্গি-পতুর্গিজ জলদস্যুদের নির্যাতন, ইংরেজদের খাজনা আদায়ের সূর্যাস্ত আইন, শোষণ ও নিপীড়ন। এলো মন্বন্তর, মহামারি। গ্রামবাংলা উজাড় হলো। কৃষক নিঃস্ব হয়ে গেল। সম্পদশালী কৃষক পরিণত হলো ভূমিহীন চাষিতে। দারিদ্র্য তাকে কোণঠাসা করল। কৃষকের জীবন হয়ে উঠল বেদনাদায়ক। বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান হওয়ায় কৃষকের অক্লান্ত পরিশ্রমে এদেশ ভরে ওঠে ফসলের সমারোহে। কৃষকের উৎপাদিত ফসল বিদেশে রপ্তানি করে দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ হয়। বলতে গেলে, কৃষকই আমাদের জাতীয় উন্নয়নের চাবিকাঠি। আমাদের জাতির প্রাণ। কবির ভাষায়Ñ ‘সব সাধকের বড় সাধক আমার দেশের চাষা,  দেশমাতারই মুক্তিকামী, দেশের সে যে আশা’। গোলা ভরা ধান, গোয়াল ভরা গরুর যে ঐতিহাসিক মিথ কোনো কালপর্বেই তার নজির খুব একটা পাওয়া যায় না। বরং চর্যাপদের ‘হাঁড়িত ভাত নাহি নিতি আবেশী’ কিংবা অন্নদামঙ্গলের ‘আমার সন্তান যেন থাকে দুধেভাতে’Ñ এ আকুতিই শোনা যায় শতাব্দীর পর শতাব্দীতে। কিন্তু কৃষকের উৎপাদিত ফসলের উদ্বৃত্ত নিয়েই পাল, সেন, খিলজি, মোগলদের শানশওকত বেড়ে উঠেছিল। 

কৃষকের এ দুর্দশা স্থায়ী রূপ পেয়েছিল ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক প্রভুদের হাতে চালু হওয়া চিরস্থায়ী বন্দোবস্তে। এর ফলে, ব্রিটিশ শাসক ও বাংলার কৃষকদের মাঝে কয়েক স্তরের মধ্যস্বত্বভোগী তৈরি হয়েছিল। ব্রিটিশ প্রভু, জমিদার, জোতদার, নায়েব, বরকন্দাজ সবার ‘খাই’ মেটাতে উৎপাদক শ্রেণি কৃষক হয়ে পড়েছিল নিঃস্ব থেকে নিঃস্বতর।

বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে শুরু করে সবখানেই যেন কৃষকরা অবহেলিত থেকে গেছেন। জাতীয় সংসদে তাদের পক্ষের প্রতিনিধি ছিল না। রাজনৈতিক দলগুলোর কৃষকদের জন্য আলাদা সংগঠন থাকলেও তাতে কৃষকদের প্রতিনিধিত্ব খুঁজে পাওয়া যাবে না। ফলে, কৃষকের কণ্ঠস্বর কোথাও শোনা যায় না। তরুণ কৃষক সিরাজুলের কাছে তার প্রত্যাশা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানালেন, লাভসহ নিজের উৎপাদিত ফসলের মূল্য চান (সহায়ক দাম)। প্রয়োজনের সময় কৃষি ব্যাংক থেকে চান ঋণ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) কৃষি শুমারি অনুযায়ী, বেশিরভাগ কৃষকের নিজস্ব জমি নেই, তারা অন্যের জমিতে কাজ করেন। সাম্প্রতিক কৃষি শুমারিতে দেখা যায় যে, বাংলাদেশে ৬০ শতাংশের বেশি কৃষক প্রান্তিক কৃষক বা ভূমিহীন। গ্রামীণ কৃষক পরিবারের আয় তুলনামূলকভাবে কম। তারা প্রায়ই দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করেন। দারিদ্র্যের হার কৃষকদের মাঝে বেশি, বিশেষ করে ছোট ও প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে। বেশিরভাগ কৃষক পরিবার খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে। মৌসুমের ওপর নির্ভরশীলতা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে তারা প্রায়ই খাদ্যের ঘাটতির সম্মুখীন হনÑ কথার সারাংশ হলো, কৃষকদের আর্থ-সামাজিক মানোন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। 

দ্বিতীয়ত, বাজার ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, যেন কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের নায্যমূল্য পায়। একই সঙ্গে বাজার ব্যবস্থায় বিদ্যমান সিন্ডিকেটকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে এবং দৈনন্দিন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য করতে হবে সহজলভ্য। এই দায়িত্ব সরকার সংশ্লিষ্ট সকলকেই নিতে হবে। নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে সকল প্রকার বৈষম্য দূর করতে হবে। সর্বস্তরের ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।

কৃষক যদি তার ফসলটা সংরক্ষণ করতে পারেন তাহলে তারা পরবর্তী সময়ে ন্যায্য দাম পাবেন। এর ফলে পরবর্তী সময়ে কৃষককে অন্যের হাতে চলে যেতে হবে না। এ জায়গাটায় আমার মনে হয়, সরকারের একটা বাজার ব্যবস্থাপনার ব্যাপার থাকা উচিত। এখানে আরেকটু নজর দিতে হবে, যাতে প্রান্তিক চাষিরা পণ্যগুলো স্টোর করতে পারেন এবং পণ্যের ন্যায্য দামটা ঠিকমতো রাখতে পারেন। গত কয়েক দশকে বাংলাদেশের উন্নয়নের গল্পে কেবল ম্যানুফ্যাকচারিং খাত কিংবা আরএমজির কথা উঠে এসেছে। কারণ, এর মাধ্যমে ৪০-৪৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স আসে প্রতিবছর। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের সামাজিক কাঠামোর কথা বললে দেশের প্রকৃত নায়ক হচ্ছেন কৃষক। ঠিকমতো দাম পাক আর না পাক তারাই দেশের প্রকৃত নায়ক।  সমন্বিত একটি কৃষিনীতি প্রণয়নে কাজ করা উচিত সরকারের। আমরা সব জায়গায় শুনি, পরিবহন ও সংরক্ষণের অভাবে ২৫ শতাংশেরও বেশি শাকসবজি ও ফল নষ্ট হয়ে যায়। এটা বড় অঙ্কের অর্থনৈতিক ক্ষতি। কৃষিপণ্য ঠিকমতো সংরক্ষণ ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া চাই। বাংলাদেশের ফলের যে সম্ভাবনা সেটা আসলে আমরা কিছুই কাজে লাগাতে পারিনি। আমরা ঠিকমতো ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মৌসুমি ফল প্রক্রিয়াজাত করে বড় অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা আয় করতে পারি। এখন অনেক উদ্যোগ চালু হয়েছে। হিমাগার থেকে শুরু করে পরিবহন সব জায়গাতেই হাত দেওয়া হচ্ছেÑ এটাকে সাধুবাদ জানাই। 

সবশেষে, কৃষিপণ্যের ক্ষেত্রে সরবরাহ চেইনে যদি কৃষকের নিয়ন্ত্রণ আরেকটু বাড়ানো যায় তাহলে তারা ন্যায্য দাম পেতে পারেন। এজন্য সংরক্ষণ, বিপণনে তাদের সামনে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা রাখতে হবে। এতে মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কমবে। আমরা চাই, আমাদের কৃষকরা যেন ন্যায্য দাম পান। একই সঙ্গে এটাও চাই, আমাদের ভোক্তারা ভালো পণ্য পাক।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা