× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ইমেইল থেকে

নিরাপদ শিশু খাদ্য চাই

মোছা. শাকিলা খাতুন

প্রকাশ : ০১ নভেম্বর ২০২৫ ১১:০৯ এএম

নিরাপদ শিশু খাদ্য চাই

একটি শিশুর জন্ম কেবল একটি পরিবারে নয়, গোটা জাতির হৃদয়ে আনন্দের সঞ্চার ঘটায়। শিশুর হাসি, শিশুর কণ্ঠ, শিশুর প্রাণচাঞ্চল্যে নতুন করে প্রাণ ফিরে পায় সমাজ, রাষ্ট্র, সভ্যতা। কিন্তু সেই শিশুই যখন জন্মের পর থেকেই অনিরাপদ খাদ্য, বিষমিশ্রিত দুধ বা ভেজাল পুষ্টির শিকার হয়, তখন এই আনন্দ এক ভয়াবহ উদ্বেগে রূপ নেয়। আজকের পৃথিবীতে শিশুদের খাদ্য নিয়ে যে সংকট, তা কেবল দরিদ্র দেশের নয়, ধনী রাষ্ট্রেও রয়েছে কিন্তু বাংলাদেশের মতো দেশে তা এখন এক ভয়াবহ জনস্বাস্থ্য সংকট। ‘নিরাপদ শিশু খাদ্য চাই’Ñ এই দাবি এখন সময়ের সবচেয়ে মানবিক ও জরুরি উচ্চারণ। কারণ, একটি শিশুর স্বাস্থ্য নিরাপত্তা মানে শুধু তার পুষ্টি নয়, এটি জাতির ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার প্রশ্ন।

বাংলাদেশে নিরাপদ খাদ্য আইন রয়েছে, আছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, বিএসটিআই, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর এবং জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এই প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয়হীনতা, জনবল সংকট, রাজনৈতিক প্রভাব এবং দুর্নীতিÑ সব মিলিয়ে শিশু খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন সুপারশপে এখনও এমন অনেক ব্র্যান্ড বিক্রি হচ্ছে যেগুলোর কোনো মান নিয়ন্ত্রণ সনদ নেই। গ্রামীণ বাজারে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। নাম না জানা চীনা বা ভারতীয় ব্র্যান্ডের শিশু খাদ্য, আমদানিকারকের নাম ছাড়াই, এমনকি স্থানীয়ভাবে তৈরি অজানা পাউডারও ‘বেবি মিল্ক’ নামে বিক্রি হচ্ছে। কেউ জানতে চায় না এগুলো কোথায় তৈরি, কীভাবে সংরক্ষিত, আর কোন উপাদান ব্যবহার করা হচ্ছে।

এমন বাস্তবতায় শিশুর খাদ্য নিরাপত্তা এখন একটি নৈতিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় প্রশ্নে পরিণত হয়েছে। একটি শিশুর খাদ্য যতটা বিজ্ঞানভিত্তিক বিষয়, ততটাই মানবিক দায়িত্বের ক্ষেত্র। জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদ (CRC)-এ বলা হয়েছে, প্রতিটি শিশুর পুষ্টিকর ও নিরাপদ খাদ্য পাওয়ার অধিকার রয়েছে। কিন্তু আমাদের দেশে এই অধিকার এখনও কাগজে সীমাবদ্ধ। শিশুদের খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়ে কার্যকর কোনো জাতীয় নীতি বা বার্ষিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা নেই। প্রশ্ন হচ্ছেÑ এই অনিরাপত্তার দায় কার? উৎপাদক না সরকার।

বাংলাদেশে এখন প্রতিদিন জন্ম নিচ্ছে প্রায় ৮ হাজার শিশু। এদের অর্ধেকের বেশি জন্মের প্রথম এক বছরেই নানা পুষ্টিহীনতা, অ্যালার্জি বা হজমজনিত সমস্যায় ভোগে। এর বড় অংশই অনিরাপদ খাদ্য গ্রহণের ফল। শিশুদের জন্য নির্ধারিত পুষ্টির ঘাটতি এখন একপ্রকার জাতীয় সমস্যা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বাংলাদেশের প্রায় ৩০ শতাংশ শিশু স্টান্টিংয়ে ভুগছে, অর্থাৎ বয়স অনুযায়ী তাদের বৃদ্ধি থেমে গেছে। এটি কেবল দারিদ্র্যের কারণে নয়, বরং খাদ্যের মান ও নিরাপত্তাহীনতার ফলাফল।

শিশুর নিরাপত্তা মানে কেবল দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা নয়; এটি তার প্রথম চুমুক, প্রথম আহার, প্রথম পুষ্টির সঙ্গে সম্পর্কিত। একটি শিশুর শরীরে যে খাদ্য প্রবেশ করে, তার প্রতিটি কণা যেন জীবনের উৎস হয়, মৃত্যুর নয়Ñ এই নিশ্চয়তাই আমাদের দিতে হবে। শিশুর নিরাপদ খাদ্য মানে নিরাপদ জাতি, নিরাপদ ভবিষ্যৎ ও নিরাপদ মানবতা।

আমরা যদি সত্যিই আমাদের সন্তানদের ভালোবাসি, তবে আজই আমাদের এক কণ্ঠে বলতে হবেÑ নিরাপদ শিশু খাদ্য চাই, এখনই চাই।


মোছা. শাকিলা খাতুন

তেকানীচুকাইনগর, সোনাতলা, বগুড়া

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা