ইমেইল থেকে
আব্দুল কাদের জীবন
প্রকাশ : ০১ নভেম্বর ২০২৫ ১১:০৭ এএম
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়Ñ একটি জাতির মেরুদণ্ড, জ্ঞান উৎপাদনের মূল কারখানা। এই প্রতিষ্ঠানগুলো থেকেই তৈরি হয় একটি দেশের আগামী দিনের স্থপতি ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম। বাংলাদেশে বর্তমানে ৫৪টি পাবলিক এবং ৪টি স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। কিন্তু আফসোস এবং গভীর উদ্বেগের বিষয় হলোÑ এই সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠগুলো তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে কতটা সফল? নতুন জ্ঞান উৎপাদন, সৃজনশীলতা আর মুক্তচিন্তার পরিবেশ তৈরি করতে আমরা কি পেরেছি? প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক, একটি দেশ তার জ্ঞান উৎপাদন কারখানা নিয়ে এতটা উদাসীন কেন? দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আজও যেন চিরায়ত মুখস্থ-নির্ভরতার বেড়াজালে আবদ্ধ। এখানে ‘বিদ্যা গেলানো’ হয়, কিন্তু নতুন জ্ঞান সৃষ্টির আনন্দময় পরিবেশ তৈরি হয় না। যে তারুণ্য স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে সর্বশেষ ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান সবখানে নেতৃত্ব দিয়েছে, সেই শিক্ষার্থীরাই আজ শিক্ষাজীবনে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি সেক্টর যেন নানা সমস্যায় জর্জরিত।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দিকে লক্ষ করলে প্রথম ও প্রধান যে সমস্যাটি চোখে পড়ে, তা হলো সেশনজট। এটি শিক্ষার্থীদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়কে ধ্বংস করে দিচ্ছে। ৪ বছরের একটি কোর্স শেষ করতে যেখানে ৫-৬ বছর লেগে যায়, সেখানে একজন শিক্ষার্থীর হতাশা ছাড়া আর কিই-বা অবশিষ্ট থাকে? একটি দেশের সর্বোচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো যখন তাদের শিক্ষার্থীদের সঠিক সময়ে ডিগ্রি দিতে পারে না, তখন চাকরির বাজারে প্রবেশের আগেই তারা পিছিয়ে পড়ে সেশনজটের পাশাপাশি আরেকটি ভয়াবহ সমস্যা হলো আবাসন সংকট।
খাবারের মান নিয়েও অভিযোগের শেষ নেই। হলের ডাইনিং থেকে শুরু করে ক্যান্টিন পর্যন্ত খাবারের মান অত্যন্ত নিম্নমানের। পচা বা নিম্নমানের জিনিস দিয়ে খাবার পরিবেশন, এমনকি কখনও কখনও খাবারে পোকা পাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটে। এটি সরাসরি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যকে হুমকির মুখে ফেলছে। ‘স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল’Ñ এই প্রবাদকে যেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনগুলো থোড়াই কেয়ার করে। এ ছাড়াও, নতুন জ্ঞান সৃষ্টির জন্য অপরিহার্য গবেষণার উপযুক্ত পরিবেশের তীব্র অভাব। অত্যাবশ্যকীয় সরঞ্জামের অভাবে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা যাচ্ছে না। গবেষণাগার সংকট তীব্র, যা শিক্ষকদের গবেষণা ও শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে শিক্ষার সুযোগকে সীমিত করে দিচ্ছে। অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়েই রয়েছে শ্রেণিকক্ষ স্বল্পতা। একটি মাত্র কক্ষে একাধিক ব্যাচকে পাঠদান দেওয়া হচ্ছে। যা মানসম্মত শিক্ষা প্রদানের পথে বড় বাধা।
বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর এই দুর্দশা দেখে মনে হয়, প্রতিষ্ঠানগুলো যেন তলাবিহীন ঝুড়ির মতো। একটি দেশের সর্বোচ্চ শিক্ষা অর্জনের প্রতিষ্ঠানগুলোর এমন করুণদশা সত্যিই আমাদের ব্যথিত করে এবং এটি দেশের উন্নয়নের জন্য স্পষ্টতই হুমকিস্বরূপ। আগামীর তারুণ্যকে সৃজনশীল ও মননশীল করে গড়ে তুলতে হলে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মান উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই।
আব্দুল কাদের জীবন
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়