× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

শতকোটি টাকার ল্যাব

রাষ্ট্রের অর্থ এভাবে অপচয় বন্ধ হোক

সম্পাদকীয়

প্রকাশ : ০১ নভেম্বর ২০২৫ ১১:০১ এএম

রাষ্ট্রের অর্থ এভাবে অপচয় বন্ধ হোক

দেশের বিভিন্ন সেক্টরে জনগণের কল্যাণে কোটি কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। এসব প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ অর্থের একটি বড় অংশ ব্যয় হয় অত্যাধুনিক ল্যাব স্থাপনে। এসব ল্যাবে গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের কথা বলা হয়। কিন্তু বেশিরভাগেরই বাস্তব চিত্র একেবারে ভিন্ন। দেশে এমন বহু ল্যাব রয়েছে, যেগুলো স্থাপনের পর আর কখনও কার্যকরভাবে চালু হয়নি। কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতি ধুলো জমে অকেজো অবস্থায় পড়ে থাকে। তেমন একটি ল্যাব প্রকল্পের কথা জানা গেল ৩১ অক্টোবর প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এ ‘শতকোটি টাকার ল্যাবে কোনো পরীক্ষা হয় না’ শীর্ষক প্রতিবেদনে। অভিযোগটি কেবল প্রশাসনিক অদক্ষতার পরিচায়ক নয় বরং রাষ্ট্রীয় অর্থের ভয়াবহ অপচয়ও বটে।

প্রতিবেদনে জানা যায়, দেশের পানির গুণগত মান নিশ্চিত করতে প্রায় ছয় বছর আগে ১৭৮ কোটি টাকার একটি উচ্চাভিলাষী প্রকল্প হাতে নিয়েছিল বিগত সরকার। উদ্দেশ্য সারা দেশে ৫২টি অত্যাধুনিক পরীক্ষাগার স্থাপন করে গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলের পানির নিরাপত্তা যাচাই করা। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও প্রকল্পের মূল লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। ৪১টি ল্যাবে আজও কোনো পরীক্ষা হয়নি। চালু আছে মাত্র ১২টি। ল‍্যাবের জন্য কেনা যন্ত্রপাতি পড়ে আছে অব্যবহৃত অবস্থায়, রাসায়নিক দ্রব্য মেয়াদ ফুরাবার পথে। প্রকল্পটি বারবার সময় বাড়ানোর মধ্যেই আটকে আছে। সম্প্রতি পরিকল্পনা কমিশনে অনুষ্ঠিত প্রকল্প মূল‍্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় এসব বিষয় উঠে আসে। 

উল্লেখ্য, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ডিপিএইচই) বাস্তবায়নাধীন ‘পানির গুণগত মান পরীক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ’ শীর্ষক প্রকল্পটি জুলাই ২০১৯ সালে শুরু হয়ে জুন ২০২৫-এ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ইতোমধ্যে দুই দফা মেয়াদ বাড়ানোর পর এবার আবারও এক বছর বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে প্রকল্পটি চলবে ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত। প্রকল্প পরিচালক বলছেন, ল্যাবগুলো চালু না হওয়ার মূল কারণ জনবল নিয়োগ সম্পন্ন না হওয়া। তাই শতকোটি টাকায় নির্মিত এই ল্যাবগুলো শুধু ভবন আর বাক্সবন্দি যন্ত্রপাতির স্তূপ হিসেবেই থেকে যাচ্ছে। অথচ ল্যাবগুলো চালু হলে সরকার নির্ধারিত ফি নিয়ে পানি পরীক্ষা করে রাজস্ব আয় করা সম্ভব।

যেকোনো ল্যাব স্থাপনে ব্যয় হয় বিপুল পরিমাণ অর্থ। এসব প্রকল্পের জন্য যন্ত্রপাতি কেনা হয় বিদেশ থেকে, বিলাসবহুল ভবন নির্মাণ করা হয়, আর উদ্বোধনের সময় হয় নানা আড়ম্বর। কিন্তু সেই ল্যাব চালানোর জন্য পর্যাপ্ত প্রশিক্ষিত জনবল নিয়োগ করা হয় না, গবেষণার তহবিল বরাদ্দ থাকে না, কিংবা বিদ্যুৎ ও রক্ষণাবেক্ষণের মতো মৌলিক ব্যবস্থা অপ্রতুল থাকে। ফলে বছরের পর বছর সেই ল্যাবগুলো অচল অবস্থায় পড়ে থাকে। কোনো কোনো স্থানে আবার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের উদাসীনতা ও দায়িত্বহীনতার কারণে যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যায়Ñ যেগুলো পরে আর মেরামত করা সম্ভব হয় না। এমন উদাহরণ রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কৃষি গবেষণা কেন্দ্র, স্বাস্থ্য খাত কিংবা শিল্প গবেষণাগারে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের অনেক ল্যাব শুধু দেখানোর জন্য তৈরি, যেখানে গবেষণা নয়, কেবল আনুষ্ঠানিক ব্যবহার হয় পরীক্ষামূলক ক্লাসে। সরকারি দপ্তরে স্থাপিত কিছু ল্যাব আবার বছরের পর বছর বন্ধ থাকে বিদ্যুৎ বিল না দেওয়া, জনবল না থাকা বা প্রশাসনিক অনুমতি না মেলার কারণে। অথচ এসব প্রকল্পের পেছনে গরিব দেশের জনগণের কষ্টার্জিত করের অর্থ ব্যয় হয়।

আমরা মনে করি, এখন সময় এসেছে এই ব্যর্থতার দায় নির্ধারণের। প্রতিটি ল্যাব প্রকল্পের কার্যকারিতা নিয়মিত পর্যালোচনা করতে হবে। যে ল্যাব চালু নয়, তা দ্রুত সক্রিয় করতে বা বিকল্প কাজে ব্যবহার করতে হবে। জনবল প্রশিক্ষণ, সরঞ্জাম রক্ষণাবেক্ষণ এবং গবেষণার ধারাবাহিক তহবিল নিশ্চিত করতে হবে। মনে রাখতে হবে, রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি ধাপেই জনগণের অর্থ ব্যয় হয়Ñ তা উন্নয়ন প্রকল্প হোক, প্রশাসনিক কাজে হোক কিংবা বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের দৈনন্দিন ব্যয়ে। এই অর্থ মূলত জনগণের ওপর চাপানো করের টাকা। তাই এর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা সরকারের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব। এই টাকার প্রতি দরদ থাকতে হবে। এর এক কানাকড়ির অপচয় হতে দেওয়া যাবে না। শতকোটি টাকার ল্যাব যদি অচল থাকে, তবে তা উন্নয়ন নয়Ñ এটি আমাদের পরিকল্পনা ও দায়িত্ববোধের ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি। রাষ্ট্রীয় এই অপচয় শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি নয়, এটি জাতির নৈতিক ব্যর্থতারও প্রতীক। এই ব্যর্থতা ঢাকতে সর্বস্তরে সাশ্রয়, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করে অপচয়মুক্ত রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হবে। আমরা চাই, রাষ্ট্রের অর্থ এভাবে অপচয় বন্ধ হোক।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা