× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

২৮ অক্টোবর

লগি-বৈঠা ও আওয়ামী লীগের কালো অধ্যায়

এম. গোলাম মোস্তফা ভূইয়া, রাজনীতিক ও কলাম লেখক

প্রকাশ : ২৮ অক্টোবর ২০২৫ ১১:২২ এএম

লগি-বৈঠা ও আওয়ামী লীগের কালো অধ্যায়

২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর। লগি-বৈঠার পৈশাচিকতায় রাজপথ রক্তরঞ্জিত হওয়ার মধ্য দিয়ে রচিত হয় বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসের এক কালো অধ্যায়। সেদিন ঢাকার পল্টন-বায়তুল মোকাররম এলাকায় আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। যেখানে লগি-বৈঠার তাণ্ডব, প্রকাশ্যে অস্ত্র ব্যবহার ও মানুষ হত্যা করে লাশের ওপর পৈশাচিকতার নগ্ন বহিঃপ্রকাশ ঘটেছিল, যা ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। ঘটনাটি ‘লগি-বৈঠার পৈশাচিকতা’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে, কারণ এতে হিংস্রতা ও সহিংসতার চরম রূপ দেখা গিয়েছিল। ২০০৬ সালের এই দিনে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে লগি বৈঠা দিয়ে সাপ মারার মতো পিটিয়ে জামায়াত-শিবিরের ৬ নেতাকর্মীকে নৃশংসভাবে হত্যা করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। শুধু তাই নয়, মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর লাশের ওপর নৃত্য করে তারা, যা সভ্য দুনিয়ায় অকল্পনীয়। স্বাভাবিক কারণেই তখন ওই ঘটনায় নিন্দার ঝড় উঠেছিল দেশে-বিদেশে। আজ আওয়ামী লীগের লগি-বৈঠার সেই তাণ্ডবের ১৯ বছর হতে চলল।

১৭৫৭ সালে পলাশীর আম্রকাননে এক প্রহসনের যুদ্ধে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়েছিল। সেই থেকে শুরু হয় বাংলার স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম আর লড়াই। দীর্ঘ প্রায় দুশ বছরের সংগ্রাম আর লড়াইয়ের মাধ্যমে ১৯৪৭ সালে পৃথিবীর মানচিত্রে প্রতিষ্ঠিত হয় পাকিস্তান। কিন্তু ব্রিটিশ মুক্ত স্বাধীন দেশ অর্জন হলেও স্বাধিকার ও অধিকার অর্জন করতে পারেনি বাংলাদেশের জনগণ। আবারও শুরু হয় সংগ্রাম আর লড়াই। এবার স্বাধিকার-অধিকার ও স্বাধীনতা অর্জনের লড়াই।

’৫২ ভাষা আন্দোলন, ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ’৭০-এর নির্বাচন সর্বশেষ ১৯৭১ সালের রক্ষক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে পৃথিবীর মানচিত্রে প্রতিষ্ঠিত হয় স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পরও মুক্ত হলো না, আবারও শুরু হয় লড়াই ও সংগ্রাম। যে গণতন্ত্র ও বাক-ব্যক্তি স্বাধীনতার জন্য ১৯৪৭-এর পর থেকেই পাকিস্তানি শাসকদের বিরুদ্ধে আমাদের সংগ্রাম ছিল, যারই চূড়ান্ত পরিণতি হচ্ছে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, সেই আকাঙ্ক্ষা আবারও ভূলুণ্ঠিত হলো।

স্বাধীনতা-পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলার স্বপ্নদ্রষ্টা মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর একটি জাতীয় সরকার গঠনের আহ্বানকে পাশ কাটিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলো আওয়ামী লীগের দলীয় সরকার। সরকার গঠনের পর পরই শুরু হলো লুণ্ঠন আর একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার খেলা। স্বাধীনতার পর পরই ভারতীয় মিত্রবাহিনী যখন বাংলাদেশের সম্পদ লুণ্ঠন শুরু করল তখন তাদের এই অপকর্মের বাধা হয়ে দাঁড়ান মহান মুক্তিযুদ্ধের ৯ নং সেক্টর কমান্ডার মেজর এম. এ জলিল। দুঃখজনকভাবে তার এই প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের পুরস্কার হিসেবে তৎকালীন সরকার তাকে গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠাল। বঞ্চিত করল মুক্তিযুদ্ধের খেতাব বীর-উত্তম থেকে। স্বাধীনতার পর পরই স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম রাজবন্দি হলেন মেজর জলিল। আওয়ামী সরকার এখানেই ক্ষান্ত হলো না। একে একে কমরেড সিরাজ শিকদারসহ হাজার হাজার দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক নেতাকর্মীর রক্তে রঞ্জিত করল তাদের হাত। ৪টি সংবাদপত্র বাদে সকল সংবাদপত্র বন্ধ করা হলো, সকল রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ ঘোষণা করে ২৫ জানুয়ারি ’৭৫ মহান মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকার ও চেতনা বহুদলীয় রাজনীতিকে গলা টিপে হত্যা করে প্রতিষ্ঠিত করল একদলীয় বাকশাল।

আওয়ামী লীগ এমন একটি রাজনৈতিক চরিত্র বহন করে, যারা কখনও তাদের সমালোচকদের সহ্য করতে চায় না। তারাই তাদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী যখন রাজনৈতিক মতবিরোধের কারণে আওয়ামী লীগ ত্যাগ করে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি- ন্যাপ প্রতিষ্ঠা করতে গেলেন তখন এই সম্মেলনে আক্রমণ করতে দ্বিধা করল না। তৎকালীন সংসদের স্পিকার শাহেদ আলী পাটোয়ারীকেও সংসদের ভেতর হত্যা করল। এটাই হচ্ছে আওয়ামী চরিত্র। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর হচ্ছে আওয়ামী লীগের সেই পুরনো ফ্যাসিবাদী চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ মাত্র। ২০০৬ সালের এই দিনে রাজধানী ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে পল্টনে প্রকাশ্য দিবালোকে ইতিহাসের ঘৃণ্যতম ঘটনা ঘটেছে, যা জাতি হিসেবে সমগ্র বিশ্বে আমাদের করেছে লজ্জিত, অপমাণিত। বিশ্বের সভ্য মানুষের মনে আমাদের সভ্যতা ও মানবতা সম্পর্কে প্রশ্ন সৃষ্টি করেছে। পৃথিবীর কোনো আন্দোলনে লাশের ওপর দাঁড়িয়ে উল্লাসের ঘটনা অতীতে ঘটেছে কি না তা সচেতন মানুষই ভালো বলতে পারবেন। ২৮ অক্টোবর বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য একটি কলঙ্কিত অধ্যায়।

শান্তিকামী মানুষের জন্য এই দিনটি ছিল অনাকাঙ্ক্ষিত, বীভৎস ও নিন্দনীয়। এই ঘটনা ’৭২-৭৫-এর আওয়ামী দুঃশাসনই দেশবাসীকে মনে করিয়ে দেয়। সরকার পরিবর্তন কিংবা সরকারবিরোধী আন্দোলন কিংবা দাবি আদায়ের আন্দোলন, হরতাল-অবরোধ, অসহযোগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক পদ্ধতি অবশ্যই রয়েছে। কিন্তু দাবি আদায়ের নামে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের নির্মমভাবে হত্যা করে প্রকাশ্যে তাদের লাশের ওপর পৈশাচিক তাণ্ডব-নৃত্য পৃথিবীর কোনো সভ্য দেশে ঘটেছে বলে কোনো বিবেকবান মানুষ বলতে পারবে না। 

গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে তৎকালীন ৪ দলীয় জোট সরকারের ভুলত্রুটিগুলো জনসমক্ষে প্রচার করে তার মাধ্যমে ব্যালট বিপ্লব ঘটিয়ে মহাজোট ক্ষমতায় যাবে এটাই তো রাজনীতি হওয়া উচিত ছিল। তা না করে কেন এই পৈশাচিকতা? জনমনে তখন এই প্রশ্নগুলোর উদ্রেক হলেও উত্তর ছিল না। কিন্তু এখন মনে হয় উত্তর খোঁজার জন্য জনগণকে বেশি সময় অপেক্ষা করতে হলো না। উত্তর আজ দেশবাসীর সামনে স্পষ্ট। এই ঘটনার মাত্র এক দিন পরই তৎকালীন ৪ দলীয় সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করলেও আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট তা গ্রহণ করে নিতে পারেনি। তারা আবারও বিভিন্ন নন ইস্যুকে কেন্দ্র করে আন্দোলন অব্যাহত রাখে। সেই সময় একদিন দেশের প্রাজ্ঞ রাজনীতিবিদ ও সাংবাদিক মরহুম আনোয়ার জাহিদের বাসায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক মতবিনিময়কালে তিনি বলেছিলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য ১০০% গ্যারান্টি চায়। এ ছাড়া তারা দেশে কোনো নির্বাচন হতে দিবে না। আর অন্যদিকে সাম্রাজ্যবাদী ও আধিপত্যবাদী শক্তি তাদের পদলেহনকারী একটি সরকার প্রতিষ্ঠা করতে চায়। সেই ক্ষেত্রে তারা আওয়ামী লীগকেই বেশি পছন্দ করে। সেই শক্তি মনে করে দেশবাসীর জনমত দেশপ্রেমিক-জাতীয়তাবাদী শক্তির পক্ষে চলে যেতে পারে আর তাই আন্দোলন অব্যাহত রেখে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনার অনুকূল পরিশে সৃষ্টি করতে হবে।’ আজকে আমার কাছে মনে হয় মরহুম আনোয়ার জাহিদের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ বাস্তবায়ন হয়েছে মাত্র ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনের মাধ্যমে। ২৮ অক্টোবরের পরে প্রতিষ্ঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে অকার্যকর করার ফলে সাম্রাজ্যবাদী ও আধিপত্যবাদী শক্তি এবং আওয়ামী লীগের ষড়যন্ত্রের নীলনকশার অংশ হিসেবেই ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি দেশে জেনারেল মইন উ আহমেদ পরোক্ষ নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত হলো ড. ফখরুদ্দীন আহমদের তত্ত্বাবধায়ক সরকার। শুরু হলো সাম্রাজ্যবাদী ও আধিপত্যবাদী শক্তির নতুন নাটক। দুর্নীতি দমনের নামে শুরু হলো দেশকে রাজনীতি শূন্য করার প্রক্রিয়া, গ্রেপ্তার করা হলো দেশের প্রধান দুই দলের প্রধান ও সাবেক দুই প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও আজকের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে। বিভিন্ন অজুহাতে গ্রেপ্তার করা হলো  জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, বিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ান সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিলসহ বহু রাজনীতিবিদকে। সেই সময়কার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টাদের এবং সেনাপ্রধান জেনারেল মইন উ আহমেদের মুখ থেকে দেশবাসী নানা ধরনের নসিহত শুনতে থাকল জাতি। সৎ, যোগ্য নেতৃত্ব তৈরির কারখানার কথাও শুনতে পেয়েছিল দেশবাসী। তাদের এই নসিহতে অনেক বিজ্ঞ রাজনীতিকরাও বিভ্রান্ত হয়ে নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে কালিমালেপন করলেন। মাইনাস টু ফরমুলার কথাও প্রচারিত হলো দেশবাসীর নিকট।

মাইনাস টু ফরমুলার অংশ হিসেবেই নাকি আজকের শেখ হাসিনা সেই সময় প্যারোলে দেশের বাইরে চলে গিয়েছিলেন বলে সচেতন মানুষ মনে করে। অন্যদিকে এ বিষয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আপস করেননি বলেই নাকি আজকে তার এই পরিণতি। জেনারেল মইন উ আহমেদের শাসনামলেই সাম্রাজ্যবাদী-আধিপত্যবাদী শক্তির সঙ্গে আওয়ামী লীগসহ যে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছিল তারই সফল বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং মহাজোট সরকার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছে বলেই রাজনৈতিক অভিজ্ঞ মহল মনে করে।

নির্বাচনের পরপরই জাতীয় সংসদে মহাজোটের অন্যতম শরিক জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বক্তব্য, ‘সেনাবাহিনীর সহায়তা ছাড়া কখনও ক্ষমতায় আসা সম্ভব ছিল না।’ রাজনৈতিক অভিজ্ঞ মহলের ধারণা অনেকটাই পরিষ্কার করে দিয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিককালে আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, প্রবীণ রাজনীতিক আব্দুল জলিলের বক্তব্যে দেশবাসীর সামনে স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, ৪ দলীয় জোট সরকারের পতনের ট্রামকার্ড, ২৮ অক্টোবর নির্মম হত্যাকান্ড, মেয়াদ শেষে তত্ত্বাবধায়ক সরকার না মেনে আওয়ামী লীগসহ মহাজোটের আন্দোলন অব্যাহত রাখা, ১/১১-এর মাধ্যমে একটি অগণতান্ত্রিক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নামে জেনারেল মইন উ আহমেদের আশীর্বাদে ড. ফখরুদ্দীন আহমদের সরকার প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতির নামে দেশকে রাজনীতি শূন্য করার প্রক্রিয়া এবং পরিশেষে ২৯ ডিসেম্বরের ডিজিটাল কারচুপির মাধ্যমে মহাজোট সরকারকে ক্ষমতায় বসানো এক সুতোয় গাঁথা।

২৮ অক্টোবর পৈশাচিক, নারকীয় হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যারা ছিল তারা এদেশেরই মানুষ। আর যাদের হত্যা করা হয়েছিল তারাও এদেশের মানুষ। তারা একটি গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণের লক্ষ্যেই রাজনৈতিক দলের কর্মী হয়েছিল। তারপরও কেন তারা এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের শিকার তা তারা যেমন জানত না, তেমনই তাদের পরিবারও হয়তো জানে না। রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রতিপক্ষকে হত্যা করার এই সংস্কৃতি বন্ধ করতে না পারলে গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে না। বুলেট মানুষকে হত্যা করে আর ব্যালট মানুষের অধিকার আদায়ের সুষ্ঠু মাধ্যম।

আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালে ক্ষমতায় বসার পরপরই ২৮ অক্টোবর হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার করে সমগ্র জাতিকে হতবাক ও বিস্মিত করেছে। এই কর্মকাণ্ডে দেশবাসীর সামনে স্পষ্ট প্রমাণিত হয়েছে তারা মুখে আইনের শাসনের কথা বললেও বাস্তবে তারা তা বিশ্বাস করে না। তারা আইনকে তার নিজস্ব গতিতে চলতে বাধা সৃষ্টি করে আইনের গতিপথ ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করেছে বারবার। বাংলাদেশের জনগণ আর কোনো ২৮ অক্টোবর দেখতে চায় না। ২৮ অক্টোবরের পৈশাচিকতা বিশ্ববিবেককে আঘাত দিয়েছে। নাড়া দিয়েছে বিবেকবান সকল মানুষকে। রাজনৈতিক সমাবেশ ভণ্ডুল করার জন্য প্রকাশ্য দিবালোকে এভাবে সাপের মতো পিটিয়ে মানুষ হত্যার ঘটনা বিরল। যা এখনও হাজার হাজার মানুষকে কাঁদায়।

৫ আগস্ট ২০২৪-এ ফ্যাসিবাদী শাসকের পতনের পর জনগণ আশা করতেই পারে ২৮ অক্টোবরের হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটিত হবে এবং সেই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হবে বলে দেশবাসী আশা করলেও এখন অনেকটাই হতাশ হচ্ছে। ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণ আশায় বুক বাঁধলেও সেই আশার আয়নায় ধুলা পড়তে শুরু হয়েছে ইতোমধ্যে। জনগণ চায় গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা, যাতে আর কোনো ফ্যাসিবাদী শাসক প্রতিষ্ঠিত হতে না পারে বাংলাদেশে। ২৮ অক্টোবরের হত্যাকাণ্ডের বিচার করার একটি দায়বদ্ধতা বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারসহ আমাদের সকলেরই রয়েছে। রক্তের ঋণের দায় থেকে মুক্ত হতে প্রকৃত হত্যাকারীদের বিচারের উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে, শেখ হাসিনাসহ যেসব নেতা এই সন্ত্রাসীদেরকে লগি-বৈঠা নিয়ে ঢাকায় আসার হুকুম দিয়েছিলেন, তাদের হুকুমের আসামি হিসেবে অবিলম্বে বিচারের আওতায় আনতে হবে। তাহলেই ২৮ অক্টোবরের শহীদদের প্রতি এত বছরের দায় থেকে জাতি মুক্ত হতে পারবে। পতিত আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনে যেসব কালাকানুন ও আইন তৈরি করা হয়েছিল, সেই আইন দিয়েই ২৮ অক্টোবর পৈশাচিকতার কালো অধ্যায় রচনাকারী আওয়ামী লীগের বিচার নিশ্চিত করতে হবেÑ সেদিনের শহীদদের আত্মার শান্তির জন্য, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য। এই প্রত্যাশায় ২৮ অক্টোবরের শহীদদের রূহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে বিচার বিভাগীয় তদন্ত ও ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা